ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। রোববার (৮ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধরে ধরে জেলে ভর’ এবং ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।


মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওন। মিছিলটি শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে টিএসসিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাছির উদ্দিন শাওন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করব।’


তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অপশক্তিকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আপসহীন।’ এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ছয়টি স্থানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় দুই স্থান থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ছয়টি স্থানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই স্থান থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। 




  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ পিএম

সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক নাজমুল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।


এর আগে ৪ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে ওই তারিখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৮ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অধ্যাপক নাজমুল হোসেন বলেন, সব দিক বিবেচনায় ১৮ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


 চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ১ ডিসেম্বর থেকে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কিনা, জানতে চাইলে অধ্যাপক নাজমুল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। ১৫ থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী, যা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ৬ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩।


এদিকে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে। গত বছরের ১০ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর আসন পুনর্বিন্যাস করে। এতে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ১০০টি। আগে এসব কলেজে আসন ছিল ৫ হাজার ৩৮০টি। অর্থাৎ সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন কমেছে ২৮০টি।


অন্যদিকে দেশের ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আগে আসন ছিল ৬ হাজার ২৯৩টি। এর মধ্যে ১০টি কলেজে আসন কমানো হয়েছে, দুটি কলেজে বাড়ানো হয়েছে। বাকি কলেজগুলোর আসন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন কমেছে ২৯২টি।


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নামে অধিগ্রহণ করা ১০০ একর জমির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা ১ দশমিক ৩৩ একর জমি পুনরুদ্ধারের পথ খুলেছে। জমিটি উদ্ধার এবং সেখানে গড়ে ওঠা অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া তাঁর আইনগত মতামতে জমির দখল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়া এবং সেখানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণকাজ শুরুর ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত অনুযায়ী, নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ মামলা নম্বর ০২-এর আওতায় নোয়াখালী সদর উপজেলায় মোট ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে চর সল্লা মৌজায় ৪৯ দশমিক ৮২ একর এবং নোয়াখালী মৌজায় ৫০ দশমিক ১৮ একর জমি রয়েছে। চর সল্লা মৌজার ৭৬ নম্বর দাগের ১ দশমিক ৮২ একর জমির মধ্য থেকে ১ দশমিক ৩৩ একর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।


মতামতে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ৫ মার্চ অধিগ্রহণ করা জমির দখল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। তবে অধিগ্রহণের পরও ১০০ একর জমির অন্তর্ভুক্ত ওই ১ দশমিক ৩৩ একর জমি এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাস্তব দখলে আসেনি।

জানা যায়, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আলী কবির ওরফে আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন ২০১৮ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ১০৩৪৭/২০১৮ দায়ের করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন এবং পূর্বের স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করেন।


পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নম্বর ৩২১১/২০২২ দায়ের করেন। এ আবেদন এখনো বিচারাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট জমির ওপর কোনো স্থগিতাদেশ কিংবা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ কার্যকর নেই বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন বিচারাধীন থাকার কারণে জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠা বা তা ভোগের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না বলেও মতামতে বলা হয়েছে।

আইনগত মতামতে আরও বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় অধিগ্রহণের মাধ্যমে জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। তাই জমিতে থাকা অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জমির দখল হস্তান্তর এবং সেখানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু করতে বর্তমানে কোনো আইনগত জটিলতা নেই।


এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য ওই জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ১৮ মাস। এর মধ্যে আট মাস ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জমির সংকট থাকায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিকল্প জমি নির্ধারণ করাও বাস্তবসম্মত নয় বলে মতামতে উঠে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় নির্ধারিত স্থানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা আশীষ শীল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বিরুদ্ধে আব্দুস সাত্তারসহ অন্যরা রিট করেছিলেন। তবে সেই রিটের রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এসেছে। জমির ওপর বর্তমানে কোনো স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট জমির ওপর বর্তমানে কোনো স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ নেই। দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে তাঁর আইনগত মতামত দিয়েছেন। ফলে এখানে কোনো আইনগত জটিলতা নেই। আমরা আগামীকাল প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব।’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিস্ফোরিত একটি ককটেলের অংশবিশেষ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুটি, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছে একটি এবং সিনেট ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।  

রোববার সন্ধ্যায় পৃথক সময়ে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর  সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা কোনো দলের বা সংগঠনের কিনা জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।     

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, আটকরা হলেন, রেজাউল করিম (৪২)। তার বাড়ি নাটোরে। অপর দুজনের মধ্যে সোহেল রানার (৩৩) বাড়ি রাজশাহী এবং নাজমুস সাদের (৩৩) বাড়ি গোপালগঞ্জে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিএসসি এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাদের মারধর করেন।

ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, সংঘবদ্ধভাবে আট থেকে নয়টা ককটেল ফোটানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, নীলক্ষেত, সিনেট ভবনের গেটে, বাংলাদেশ কুয়েত–মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের মাঝখানের রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে পৌনে সাতটার মধ্যে এসব ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাঁদের মারধর করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরে আরও একজনকে আটক করা হয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, ‘৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ করা করা হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি জানান, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রথমে দুজনকে আটক করে। একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। অন্য একজন সরাসরি জড়িত থাকায় তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস—২০২৬ উপলক্ষে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সরওয়ার জাহান, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ সহ কর্মকতার্রা।


বক্তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস মূলত জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সিপাহি—জনতার ঐক্যের প্রতীক। ঐতিহাসিকভাবে, ৭ নভেম্বরের এই সিপাহি—জনতার বিপ্লবই মেজর জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্বে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যায়।


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এছাড়া দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মাহবুব ।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

আসন্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম, বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স গেট টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এ্যাব'র সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার শোয়েব বশরী হাবলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।


এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ, প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস. এম. মোমিনুল আলম, প্রকৌশলী এ. কে. এম. মহসিন আহমেদ এবং আয়োজক কমিটির পক্ষে প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীনুল হক ও আশিক ইসতিয়াক লিখন।


অনুষ্ঠানে বক্তারা টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন, পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ এবং আইইবি নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস এম মমিনুল আলম বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে হলুদ প্যানেলের প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিসিএস (টেক্সটাইল) ক্যাডার চালু, পদোন্নতি জটিলতা নিরসন এবং অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁরা কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।


এ্যাব'র সদস্যসচিব প্রকৌশলী শোয়েব বশরী হাবলু বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অনেক দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, আইইবি'র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী এ কে এম মহসিন আহমেদ বলেন, আগামী ১২ নভেম্বরের আইইবি নির্বাচনে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ প্যানেল হিসেবে হলুদ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ প্যানেলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, বিগত নির্বাচন সুশৃঙ্খল, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। আসন্ন নির্বাচনও একইভাবে সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের সমস্যা, সরকারি চাকরিতে পদ বৃদ্ধি, পরিবেশগত সংকট ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাব'র আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্বন ফাইবারের মতো আধুনিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আইইবি'র ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের সদস্যপদ অর্জনেও টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অবদান উল্লেখযোগ্য, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের পেশাগত স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রকৌশলীদের পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আগামী নির্বাচনে প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হলুদ প্যানেলকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।


সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর আইইবি'তে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ক্যাডার প্রতিষ্ঠা, আইটিইটি'র নিজস্ব ভবন নির্মাণসহ পেশাজীবীদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী ১২ নভেম্বরের নির্বাচনে হলুদ প্যানেলের সকল প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সঠিক নিয়মে ভোট প্রদানের পরামর্শ দেন।


অনুষ্ঠানে আইইবি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিভিন্ন পদের প্রার্থীদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত ভোটারদের কাছে ভোট ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অভ্যন্তরে পকেট গেটের মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।


রোববার (৮ নভেম্বর) রাত ১২টা ৩৪ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।


পকেট গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ইউসুফ জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে ককটেল দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ছুড়ে মারা হয়। পরে সেগুলো পকেট গেটের প্রাচীরের ওপর দিয়ে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পড়ে বিস্ফোরিত হয়।


ঘটনার বিষয়ে শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর বলেন, ছাত্রলীগ ও ক্যাম্পাসের ভেতরের লোকজনের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের লাইট বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাকতালীয় হতে পারে না। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, 'ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সকালে ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।’


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।