রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পল্লবী থানায় কর্মরত এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং মো. ওয়াসিম (২৪)। সোমবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে প্রথমে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিমকে আটক করা হয় এবং তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে তাদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও এর আশপাশের এলাকায় তারা খুচরা বিক্রি করতেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারের খবর তারা পেয়েছেন।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। এসব সিগন্যালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।
চালকদের মধ্যেও এআই ক্যামেরা নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআইয়ের মাধ্যমে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন চালকরা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।
ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, মানুষকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে বের করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যত্রতত্র পথচারী পারাপার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রযুক্তিটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনায় অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ইউনিটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে পরিচ্ছনতা অভিযান
রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূররানী খাল ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন। শুক্রবার সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর পূর্বের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ে।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর পরবর্তী সময়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।
বর্তমানে চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকার জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। ফলে একদিকে জলধারাটির পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরবে, অন্যদিকে এলাকাটি একটি নান্দনিক ও জনবান্ধব স্থানে পরিণত হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল ভোগ করবেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটি তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকে স্বস্তি মিলবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল রাখতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ ও বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমীর খসরু স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ট্রাফিক নির্দেশনার বিষয়টি জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। অতিথিদের বহনকারী যানবাহনের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের যানবাহনকে নির্ধারিত ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে আমন্ত্রিত অতিথিদের যানবাহনের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, মতিঝিল শাপলা চত্বরের অ্যালিকো গ্যাপ থেকে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা (বঙ্গভবন রোড) এবং রাজউক ক্রসিং (ডিআইটি রোড) পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।
পাশাপাশি শাপলা চত্বর ও দৈনিক বাংলা থেকে রাজউক ও গুলিস্তান অভিমুখী যাত্রীবাহী বাসগুলোকে দৈনিক বাংলা-ইউবিএল-প্রেসক্লাব হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে বাসগুলোকে অন্য যেকোনো সুবিধাজনক বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দৈনিক বাংলা থেকে রাজউকমুখী কোনো ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
অন্যদিকে হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে আসা যানবাহনগুলোর ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, সেগুলো জিরো পয়েন্ট থেকে কোনোভাবেই ইউটার্ন নিতে পারবে না। এসব গাড়িকে বাঁয়ে মোড় নিয়ে ফুলবাড়িয়া অথবা ডানে মোড় নিয়ে ইউবিএল ক্রসিং হয়ে দৈনিক বাংলা ও শাপলা চত্বরের দিকে যেতে হবে।
বিকল্প পথ হিসেবে জিরো পয়েন্ট থেকে ইউবিএল ক্রসিং, নাইটিঙ্গেল ক্রসিং, ফকিরাপুল ক্রসিং, শাপলা চত্বর হয়ে ইত্তেফাক রুট ব্যবহারের কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সাময়িক এই ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় সাময়িক যানজট বা চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে উল্লেখ করে নগরবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে ডিএমপি। একই সঙ্গে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নগরবাসীকে এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলার এবং সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো এড়িয়ে বিকল্প পথে যাতায়াতের জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে
সম্প্রতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটাতে রাজি হলে ২২০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাবে সরকার। একইসঙ্গে এ প্রস্তাব আমলে নিলে তা তামাক করনীতির ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে। যা তামাক কোম্পানিকে লাভবান করবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব আয় উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) বিকালে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএটিবি তাদের ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ব্র্যান্ডের দাম ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক) এবং সাধারণ আদেশ নং ০২/ভ্যাট/২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রস্তুতকারকরা মূল্য নির্ধারণের ‘স্বাধীনতা’ পায়। তামাক কোম্পানিকে এই ধরণের স্বাধীনতা প্রদান করা হলে তা একটি আত্বঘাতি সিদ্ধান্ত হবে যা রাজস্ব আয় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিএটিবির প্রস্তাবে রাজি হলে নিম্ন স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে সরকার রাজস্ব হারাবে প্রায় ৭ টাকা ৪৭ পয়সা এবং মধ্যম স্তরের প্রতি প্যাকেটে রাজস্ব হারাবে ১৩ টাকা ২৮ পয়সা। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ব্রান্ড-ভিত্তিক বিক্রির তথ্য অনুসারে বিএটিবি’র ডারবি, পাইলট ও হলিউড সিগারেরেট সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি শলাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ১৮০ কোটি শলাকা। নিম্নস্তরে ১০ শলাকার দাম ৯ টাকা কমিয়ে ৭২ থেকে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইকের দাম ১৬ টাকা কমিয়ে ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকা করার সুযোগ দিলে সরকার ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি (নিম্ন স্তরে ১৯৭২ কোটি ও মধ্যম স্তরে ২৩৯ কোটি টাকা) রাজস্ব হারাবে।
বিএটিবির আবেদনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুন ২০২৬ জারি করা এসআরও নং ১২৯-আইন/২০২৬/৩৩৪-এর ৩ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বাজারে ইতোমধ্যে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমানো যাবে না। প্রতিষ্ঠিত এই নীতিগত সুরক্ষা একটিমাত্র বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসায়িক পূর্বাভাস ও মুনাফার স্বার্থে শিথিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো একক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কৌশলের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় করনীতি পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্প-প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করার সুযোগ পাবে, যা সামগ্রিক কর কাঠামোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে এনবিআর নিম্ন স্তরের সিগারেটের এমআরপি ৬০ টাকা থেকে ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করলেও বিএটিবি গত দুই বছর ধরে এই স্তরের সিগারেটের মূল্য ৭২ টাকা নির্ধারণ করে বাজারজাত করে আসছে। অনুমান নির্ভর রাজস্ব বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে তারা দাম কমানোর যে আব্দার করেছে তা অযৌক্তিক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নীতি ও অবস্থানের সথে সাংঘর্ষিক। এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষার প্রস্তাব। একদিকে তারা সিগারেরটর মূল্য নির্ধারণে বাজেট প্রস্তাবে সরকারের ব্যবহৃত ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দের সুযোগ নিয়ে সিগারেটের উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে আসছে; অন্যদিকে তারা দাম কমিয়ে বাজার দখলের কৌশল হিসেবে সরকারের নীতির পরিবর্তন চাইছে। কেবল মাত্র নিজেদের বানিজ্যেক স্বার্থেই তারা এই স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
বিএটিবি চিঠিতে অনুমান করেছে, দাম কমালে বিক্রি বেড়ে রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে কোনো নিশ্চয়তা নেই যে বাড়তি বিক্রির পুরোটাই অবৈধ বাজার থেকে বৈধ বাজারে স্থানান্তরিত হবে। বাস্তবে অধিক সম্ভাবনা হলো বৈধ বাজারের মধ্যেই ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ডের দিকে সরে যাবে, যার ফলে মোট বিক্রি বাড়লেও সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আরও কমে যাবে। একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য প্রণোদিত বাজার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা শিথিল করা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব নীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং একইসঙ্গে আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনটিটিপি চলতি অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর প্রস্তাব দিয়েছিল। যা মূল্যস্তর সরলীকরণের পাশাপাশি রাজস্ব ও জনস্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলত। কিন্তু এনবিআর সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করে, যা মাত্র ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। অথচ দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৮.৬৬ শতাংশ। ফলে প্রকৃত অর্থে সিগারেটের ক্রয়ক্ষমতা কমেনি, বরং তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় সস্তা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দাম আরও কমানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব নীতির লক্ষ্যের পরিপন্থী।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার আওতায় পুরো ঢাকা শহরকে আটটি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে এসব রিকশা পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জোনভেদে রিকশায় আলাদা রং এবং প্রতিটি যানে কিউআর কোডসংবলিত ডিজিটাল নিবন্ধন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় এক জোনে অনুমোদিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ যান সহজে শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে ব্যাটারি চার্জের জন্য সৌরবিদ্যুৎনির্ভর চার্জিং স্টেশন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অনেক চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বৈধ লাইসেন্স না থাকায় এসব যান দুর্ঘটনা ও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ গ্যারেজে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুই সিটি করপোরেশন জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা একেবারে বন্ধ না করে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। আটটি জোনে ভাগ করা হলে কোনো এলাকায় নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি রিকশা চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি বা বাণিজ্যিক সংযোগের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দেওয়াও কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে সোলার চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চালকদের জীবিকা ধ্বংস করতে চাই না। তবে সড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি জোনের পৃথক রং ও কিউআর নিবন্ধনের ফলে অবৈধ ও বহিরাগত রিকশা সহজে শনাক্ত করা যাবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, দক্ষিণ সিটিতে এলাকাভিত্তিক জরিপ ও জোন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে পুরো ঢাকা শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি জোনের রিকশায় নির্দিষ্ট রং থাকবে। কোনো এলাকার রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল করা হবে। প্রতিটি রিকশায় স্থায়ী কিউআর কোড থাকবে। সেটি স্ক্যান করলেই চালক ও মালিকের তথ্য পাওয়া যাবে। এতে রিকশা চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া সোলার চার্জিং হাব স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
নগর পরিকল্পনাবিদরা সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন। তাদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা মূল সড়কের পরিবর্তে ভেতরের সড়কে সীমাবদ্ধ রাখা এবং জোনের সীমানায় নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সোলার চার্জিং স্টেশন দ্রুত স্থাপন করতে হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এসব যান নিবন্ধন এবং নামমাত্র ফিতে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হলে সরকার বছরে বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরবে।
ছবি : সংগৃহীত
নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ উদ্বোধনের প্রথম দিনেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর নতুন বিমানবন্দর সড়কে নারীদের জন্য চালু হওয়া নতুন এই যানবাহনকে ধাক্কা দেয় বলাকা পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বলাকা বাসটিকে জরিমানা করেছে।
এদিকে মহিলা বাসটিকে ধাক্কা দেওয়ার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর বনানী এলাকায় পিংক বাসটি পৌঁছানোর পরপরই বলাকা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বলাকা বাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হয়।
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘মহিলা বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব ও নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এর অংশ হিসেবে মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল।
নারী বাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় বাসগুলো চলবে নাতুন বাজার (কোকা-কোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর ১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর ১২-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-এবিআর-এর কর্মকর্তারা।
অন্য রুটগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা।