ছবি : সংগৃহীত
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। পরীক্ষা চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। সোমবার দুপুরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। তবে নতুন বছরের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ এপ্রিল।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি এখন পর্যন্ত থমকে আছে। এর মধ্য দিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের টানাপোড়েনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এই টানাপোড়েন চলছে। ওই অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।
গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারেক রহমানের সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েছে। তবে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি ঢাকায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা বলছে, ৫ আগস্টের ওই সংবাদ সম্মেলনের কারণে নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারেক রহমানের সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য সমাধান বের করতে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করছেন।
সফর ঘিরে কী হচ্ছে?
আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের সম্মেলন হবে। এর আগে চলতি মাসে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি।
গত মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি একটি আহ্বান জানান। তিনি শেখ হাসিনার নির্বাসনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ভারতীয় মিশন অতীত ভুলে যেতে বলছে না। অতীতকে সঙ্গে রেখে মতপার্থক্যগুলো মিটিয়ে ফেলুন। সামনে এগিয়ে যান। স্থবির হয়ে থাকবেন না।
হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ত্রিবেদী জানান, তারেক রহমানের ভারত সফরকে নরেন্দ্র মোদি ‘স্মরণীয়’ করে রাখতে চাইছেন।
তবে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার পর সফরের পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করলে দিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই আয়োজনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল না। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
দুই দেশ কী বলেছে?
সফরটি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলার নেই।’
আর শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হতে হবে। জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘তাদের স্বার্থকে যেমন যথেষ্ট পরিমাণে সম্মান করতে হবে, তেমনি আমাদের স্বার্থের ক্ষেত্রেও একই বিষয় আশা করি।’
তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী) হুমায়ুন কবির সম্প্রতি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আয়োজনের ক্ষেত্রে ঢাকার কোনো তাড়া নেই। নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লি কী ধরনের সম্পর্ক চায়, সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘ভারতকে অবশ্যই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা যথাযথভাবে বুঝতে হবে। এই অভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগ আছে।’
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধে ভারত এখনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। এ প্রসঙ্গকে ইঙ্গিত করে হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। তবে তাতে রাজনৈতিক মামলাকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে নয়াদিল্লি জানায়, প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বিবেচনা করা হচ্ছে।
উত্তেজনার ক্ষেত্রগুলো কী?
শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতি নয়াদিল্লির সমর্থন, বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি করেছিল। গত বছরের নভেম্বরে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায়ে পর বাংলাদেশ প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটিকে নয়াদিল্লি কূটনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে ১৬ আগস্ট একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, সবার আগে বাংলাদেশ নীতি অনুসরণ করে প্রতিবেশীসহ অন্যদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে। এ সম্পর্ক হবে সমতা, জাতীয় মর্যাদা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।
কয়েক দশকের টানাপোড়েনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এটি ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক ধাক্কা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
শাকিল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ চায়, ভারতের সঙ্গে যেকোনো সম্পর্ক আত্মমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাড়িয়ে তারেক রহমানের সরকার পররাষ্ট্র নীতিতে বৈচিত্র্য আনছে।
একটা সময় নয়াদিল্লি বাংলাদেশকে ভারতের পররাষ্ট্র নীতির অনুসারী হিসেবে দেখতো। তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে বলেও জানান শাকিল আহমেদ।
এদিকে বাংলাদেশ সীমান্তে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়া দেওয়ার উদ্যোগও দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়িয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও তিক্ত করেছে।
এছাড়া, সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের সীমান্তে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ঢাকার অভিযোগ, কূটনৈতিক যাচাই ছাড়াই মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে দিল্লি।
এরপর কী?
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজের মতে, ‘সফর পিছিয়ে দিয়ে তারেক রহমান জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।’
তাঁর দাবি, ‘ঢাকার সঙ্গে দিল্লি উন্নয়নমূলক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়। অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতেও আগ্রহী। কিন্তু তারেক রহমানের আগ্রহ রাজনীতিতে।’
সঞ্জয় ভরদ্বাজ বলেন, ‘হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বিতর্কিত ইস্যু। কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে দুই দেশকে এই ইস্যুর বাইরে যেতে হবে।’
আর ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়নের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কারণ এর কোনো বিকল্প নেই।
শ্রীরাধা আরও বলেন, ভারত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু সংলাপ ও যোগাযোগ না থাকলে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে কীভাবে? দিল্লিকে নতুন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। কেবল অভিন্ন লক্ষ্য ও স্বার্থ এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। সেটি ঠিক থাকলে অন্যান্য সম্পর্কগুলোও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে। আজ সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনীতির বিষয়ে কিছু ইস্যু থাকবে। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষগুলো কিন্তু উন্নয়ন চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। সেজন্য উভয়ের উন্নয়নে আমরা কাজ করবো। এইটা আমাদের সবারই দায়িত্ব।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, দু’দেশের একটা জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রোডাকশনও দরকার। এখানকার গার্মেন্টস তো সবচেয়ে ভালো। আমরা যদি জিপার, মেশিনারি, বোতাম সাপ্লাই করতে পারি, তাহলে একটা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি হবে।
তিনি বলেন, আমি যখন আমেরিকান মার্কেট, ইউরোপ মার্কেটে যাই। একটা শার্ট কিনি কিংবা টি-শার্ট কিনি, আর লেবেল দেখি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, খুব ভালো লাগে। খুবই ভালো লাগে যে আমাদের একটা নেইবার, সব গার্মেন্টস ওখানটা আছে। এইটা আমাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারেও করতে পারি। মূলত একই জিনিস আমরা একসঙ্গে থাকলে অনেক এগিয়ে যেতে পারবো।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। বৈঠকে কিছু বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে আগামী দিনে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সহজ ও ভালো করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম, চীনের পরে। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত ল্যান্ড বর্ডারগুলো পুরোপুরি ফাংশনাল করা, বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালু করা এবং ল্যান্ড বর্ডার দিয়ে সুতা আমদানি যেটা এখন প্রহিবিটেড—সেটাকে আবার পুনরায় চালু করার ব্যাপারে আমাদের নজরে এনেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, ভারতের হাইকমিশনারের উদ্যোগে এবং তার অবস্থানকালে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া কয়েকদিন আগে ভারতীয় একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তারাও দু’দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা টাস্কফোর্স করার প্রস্তাব দিয়েছে। তো এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে গতি আনা, ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এবং ক্ষেত্র খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটি চলতে থাকবে।
বিআরটিএ’র লোগো
মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য আরও সময় দিয়েছে সরকার। জরিমানা ছাড়াই মূল কর ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।
রোববার (২৩ আগস্ট) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অর্থ বিভাগের ২৩ আগস্টের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সকল প্রকার মোটরযানের কাগজপত্র—ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শেষবারের মতো বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটিতে আরও বলা হয়, নতুন সময়সীমা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলামের দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছে সরকার। রোববার (২৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই কার্যবণ্টন করা হয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে নিজেদের দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কার্য সম্পাদনে সহায়তা করবেন:
ক) প্রতিমন্ত্রী-১: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়াবলী, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিতব্য অন্য যেকোনো বিষয়।
খ) প্রতিমন্ত্রী-২: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা এবং উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্র সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।
উপর্যুক্ত দায়িত্ব বণ্টনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদয় অনুমোদন রয়েছে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে প্রবল অবস্থায় রয়েছে মৌসুমি বায়ু। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার যেসব এলাকায় বেশি বৃষ্টি
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ সময় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
মঙ্গলবারও থাকবে বৃষ্টির প্রবণতা
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের কোথাও কোথাও এ সময় মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির আভাস
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ দিন দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।
এ দিনও তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
শেষের দিকেও থাকতে পারে বৃষ্টির প্রবণতা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্বাভাসকাল শেষের দিকেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
অর্থাৎ, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ছবি : সংগৃহীত
ভারত থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। আমদানি করা বিদ্যুতে নতুন চার্জ চেয়েছে দেশটি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানিতে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি দাবি করেছে ভারত। এটি যুক্ত করা হলে বিদ্যুৎ আমদানির খরচ বাড়বে।
তবে এ চার্জ নিয়ে চুক্তি করতে দেরি হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ব্যাহত হতে পারে।
নতুন করে চুক্তি করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে একটি চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বলা হয়, ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করতে হবে। চুক্তি করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিঠিতে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরে পিডিবির আবেদনের পর তা আধা পয়সা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের কোনো দাম নয়; এটি আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ-বাণিজ্যের গ্রিড অপারেশন ও আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ। এতে খুব বেশি খরচ বাড়বে না। আর এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে লেনদেন সহজ হয়ে যাবে। এরপর আর সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলাদা করে বিল শোধের বিষয় থাকবে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ-বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তি সহজ করতে ভারতের সিইআরসি এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছে। ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।
পিডিবি সূত্র বলছে, আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে কোন সময়ে কত বিদ্যুৎ যাবে, তার শিডিউল করা, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য নেওয়া, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মেলানো এবং গ্রিড পরিচালনার মতো কাজের খরচ মেটাতেই এই চার্জ নেওয়ার কথা বলেছে ভারত। বর্তমানে একাধিক চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট দুই হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন ও পিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি আছে। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি রয়েছে। ফলে এ বিদ্যুতের জন্য আলাদা করে এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।