ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ এএম

রাজধানী কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের কোনো লেইনে যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে; একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু তারা মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন। দিন কয়েক আগেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেইন আটকে আরেকটি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা দেখা যেত ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না।


এদিন লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল সব ধরনের বাহন। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলে কোনো যানবাহন চলছিল না। এ সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই পাল্টে গেছে আগের হ-য-ব-র-ল চিত্র; বিপরীতে দেখা যাচ্ছে এমন শৃঙ্খলা।


ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভয়ে বাহনের চালকরা আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না।


যদিও কোনো যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট কিংবা নম্বর প্লেট না থাকার কারণে জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কেননা অস্পষ্ট নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা।


শুধু এ মোড় নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ।


সোনারগাঁও মোড়ে সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একজন বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার বলেন, ক্যামেরার ভয়ে কেউ সিগন্যাল ভাঙছে না।


সোনারগাঁও হোটেলের সামনের ‘স্টপ লাইন’ দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখেন কেউ লাইনই ক্রস করছে না। বেশির ভাগই সিগন্যাল মানছে। আমরা সিগন্যাল মতো গাড়ি ছাড়ার বা থামার ইশারা দিচ্ছি দাঁড়িয়ে থেকে।”


এআই ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট কমেছে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ বেশি মনোযোগ দিতে পারছে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ হোসেন।


পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।


সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে।


এ ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই যানবাহনগুলোর সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ পাওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।


ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।


‘পিটিজেড ক্যামেরা’


আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বলছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো ও জুম করা যায়।


বড় এলাকা বা জনসমাগমপূর্ণ জায়গা পর্যবেক্ষণের জন্য এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুরে চিত্র ধারণ করতে পারে। চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে। এটি ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুম’ এর মাধ্যমে অনেক দূর থেকে স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।


ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ক্যামেরাগুলোতে দেওয়া সফটওয়্যারে ছয়টি ‘লজিক’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছয় ধরনের আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা করছে।


এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে নিমিশেই মিলছে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য।


টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্য করা গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের’ মাধ্যমে মালিক/চালকদের রেজিস্ট্রি করা ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব মামলার কপি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


৪ শতাধিক মামলা


এ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার শুরুর প্রথম আট দিনে সার্ভারে ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে। সেগুলো টিটিইউ ইউনিটের সদস্যরা যাচাইবাছাই করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী মামলা দিচ্ছেন।


ডিএমপি ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “হিউজ ভিডিও পাচ্ছি। যেমন ধরেন সফটওয়্যারকে ‘লেইন ভায়োলেশনের’ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে ‘ভায়োলেশন’ হিসেবে ধরে ফুটেজ দিচ্ছে।


“কিন্তু যেহেতু এই ব্যবস্থাপনাটা নতুন, তাই আমরা ছোটোখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। বিবেচনায় নিচ্ছি, তার ওই ভায়োলেশনটার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে কিনা, স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিনা। এসব ফুটেজ যাচাইবাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি ‘প্রসিকিউশন’ (মামলা) প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে অনেগুলোই (মালিক/চালকদের) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”


প্রতিদিন কী পরিমাণ আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, এ ব্যাপারে শারমিন বলেন, “গত বুধবার আমরা ৭৪৮টি ভিডিও পেয়েছি। বৃহস্পতিবার একটু কম পেয়েছি।”


কোন ধরনের আইন অমান্যের প্রবণতা বেশি, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বেশির ভাগই বাম লেইন দখল করে রাখা আর ‘স্টপ লাইন’ না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন ‘স্টপ লাইন’ মানার প্রবণতা বাড়ছে। বেশির ভাগই সিগন্যাল অনুযায়ী স্টপ লাইনটা মানছেন।”


ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার বলেন, “আমাদের লোকজন কাজ করতেছে, ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়ত ১ হাজার মামলা হবে।”


যেসব যানবাহন শনাক্ত করছে ক্যামেরা


বর্তমানে বাম লেইন বন্ধ করা, অবৈধভাবে লেইন পরিবর্তন বা বারবার পরিবর্তন, সিগন্যাল লাইট অমান্য বা স্টপ লাইট অমান্য বা জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা রাস্তায় বা ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, অবৈধ পার্কিং করা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালালে এ মামলা হবে।


গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তির সিগন্যাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সরওয়ার বলেন, “আরো অনেকগুলো লজিক দেওয়া হবে। এই লজিক যত বাড়ানো হবে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী আইনের আওতা আরো বাড়বে।”


মামলার কপি যাচ্ছে ডাকযোগে


ডিএমপি বলছে, বর্তমানে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত আইন ভঙ্গকারী মালিক/চালকদের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড নোটিস’ ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর মালিক/চালকরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।


নোটিস পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মালিক/চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা।


তবে মামলার তথ্য চালক/মালিকের মোবাইলে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও বলছে পুলিশ।


ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, “বর্তমানে চিঠি পাঠিয়ে ট্রাফিক মামলা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে বা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানাবে পুলিশ।”


মোবাইল ফোনের বার্তায় অভিযোগ লিংকও পাঠানো হবে, যেখানে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি প্রসিকিউশনের চিঠি এবং নিজের আইন ভঙ্গের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সরাসরি দেখতে পারবেন। এতে ‘স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়বে’ বলে মনে করেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।


ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একসময় কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়।


তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরো বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় মামলা কার্যক্রমের দিকে যাওয়ায় সেই সমস্যা কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে।


যেসব পয়েন্টে বসেছে ক্যামেরা


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সাতটি, গুলশান-১ নম্বর ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় হাই কোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি এবং ডিএমপির ব্যবস্থাপনায় ১৫টিসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট চালু রয়েছে।


এই ৩০টি পয়েন্টেই এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল লাইটের খুঁটিতেই এ ক্যামেরা বসানো হবে।


সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “বর্তমানে শতাধিক পিটিজেড ক্যামেরার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনা চলছে। পর্যায়ক্রমে আরো ক্যামেরা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”


জটিলতা কোথায়?


ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ ব্যবস্থায় প্রধান যে জটিলতা দেখা গেছে সেটি হচ্ছে, অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট। আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেট নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না।


ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপন করা আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে।


সে কারণে চলতি সপ্তাহ থেকেই অভিযানে নামার কথা গত ১১ মে গণবিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরে ডিএমপি।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রং, ডিজাইন এবং সাইজের নাম্বার প্লেট যথাযথ স্থানে লাগানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “কয়েকদিনের মধ্যে যদি বিআরটিএ নির্ধারিত নম্বর প্লেট না লাগায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


গত কয়েকমাসে এক্সপ্রেসওয়েতে অনিয়ন্ত্রিত গতির গাড়ি শনাক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। এর বাইরে বিভিন্ন ক্যামেরায় ভুল পার্কিং, রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ বিভিন্ন আইন ভঙ্গকারীর ভিডিও সংগ্রহ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এর ভিত্তিতে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।


ডিএমপি বলছে, ‘হ্যালো ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কেউ ওই অ্যাপে কোনো যানবাহনের আইন অমান্যের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। এরপর সেটি যাচাইবাছাই করে মামলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।



সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর রোজ গার্ডেন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

ঢাকা শহরকে মাদক, ময়লা, মশা ও যানজটমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‌‘পদে থাকা না থাকা বড় বিষয় নয়; জনগণের সন্তান, ভাই ও সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে চাই। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’




বুধবার রাজধানীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ওয়ারী থানা বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।



বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবা করাই তাঁদের প্রধান কাজ। মাদক, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায় কিংবা অন্যের জমি দখলের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।




নিজের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাঁর আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছে। আগামী দিনে আরও ভালো করার জন্য তিনি সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।




ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লং মার্চের নামে কয়েক শ গাড়ি নিয়ে রোডশো করা হয়েছে। এতে জনগণের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমদানি করা জ্বালানির অপচয় হয়েছে। লং মার্চ করতে হলে একটা পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়। দেশে একটা সেই ধরনের সংকটের প্রয়োজন হয় এবং সেখানে গণমানুষের পার্টিসিপেশনের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার, শত শত কিলোমিটার গিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করা হয়, সেটিকে বলে লং মার্চ।’




তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম তারা বেশ কিছু ভাড়া গাড়ি নিয়ে দামি দামি গাড়ি নিয়ে এসি গাড়িতে করে একটা পিকনিকে গেল, একটা রোডশো করল। এই রোডশো করার মাধ্যমে তারা আসলে কী অর্জন করতে চেয়েছে, সেটি তো আমি জানি না। তবে অবশ্যই তারা জনগণের কষ্টে অর্জিত যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমরা আমদানি করে থাকি, সেই আমদানিকৃত জ্বালানির অপচয় করেছে, অপব্যয় করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ তারা নষ্ট করেছে এটাই বাস্তব, প্রকৃত সত্য।’




গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন বড় গ্রুপকে সিলিন্ডার গ্যাসের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এবং ওই ব্যবসার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করা হয়েছে।




বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, তারা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে পারত। কিন্তু তারা নানা ধরনের অভিযোগের তীর ছুড়ে চলেছে। গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপি আন্দোলন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করে চলে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দুবাইয়ের একটি  ল ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে। বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হবে।



ইশরাক আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতারাতি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।




আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ দল হলেও তাদের সমর্থকদের বাংলাদেশের জনগণের বাইরে বের করে দেওয়া হয়নি। নিরীহ আওয়ামী লীগ সমর্থক বা ভোটার পরিবারের ওপর জোর-জবরদস্তি, অর্থ আদায় কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য থাকে না। তিনি বলেন, যারা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল, বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য লুটপাট ও দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিরীহ সমর্থকদের হয়রানি করা যাবে না।




অনুষ্ঠানে বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন, ওয়ারী থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মুক্তা, গোলাম মোস্তফা সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুকিতুল আহসান রঞ্জু, ওয়ারী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাসুদ রেজা সুমন ও তবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ারী থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বুলবুল।


সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর ও সংযোগের (টাই-ইন) কাজের কারণে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


আজ বুধবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাসাবো, খিলগাঁও, মাদারটেক, শাহজাহানপুর, সিপাহীবাগ, তিলপাপাড়া, মালিবাগ, শান্তিবাগ ও তালতলা মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং অংশে রেললাইনের দুই পাশে ভালভ স্থাপন এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিতরণ লাইন স্থানান্তরের কাজের টাই-ইনের জন্য এ সাময়িক সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে।


সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ সব খবর

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দল।


এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।


এনসিপির সূত্র আরও জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।


এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।



এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।


  ঢাকা সিটিসহ স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা ভোট করবে এনসিপি


এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।



প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।



জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।


৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।



জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তাঁর নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।


গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।


জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।


আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।



জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।


জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্য শরিকেরাও মনে করে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগত নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করলেও রাজনৈতিকভাবে ১১–দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এর মধ্যে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।


এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেবে তারা।


জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগোবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরা আলাদাভাবে ভোট করবেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রচারের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

রাজধানীর কদমতলী থানার শনির আখড়ায় দোকানে ঢুকে মো. আসলাম খান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে এক অভিযুক্তকে আটক করেছে। তাঁর কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।


শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে শনির আখড়া রয়্যাল হাসপাতালের সামনে ‘লাকীজ কুকারিজ’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আসলাম খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।


আহত আসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তাঁর বন্ধু মনোয়ার হোসেন জানান, তাঁরা দোকানের ভেতরে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত যুবক দোকানে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসলামকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। এতে আসলাম রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।


মনোয়ার হোসেন আরও জানান, গুলিতে আসলামের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে এবং কপালের ডান পাশে আঘাত লাগে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধাওয়া করে আটক করেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা এর পেছনে পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, তা তিনি জানেন না।


ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, গুলিবিদ্ধ আসলামের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি কদমতলী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।


ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, শনির আখড়ায় গুলির ঘটনায় দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তির নাম মনজুরুল ইসলাম বলে জানা গেছে। তবে কী উদ্দেশ্যে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

নিহত পুলিশ সদস্য মো. আলতাব হোসেন

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর ছোট ছেলেকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আলতাব হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।


আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা আছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে তাঁদের কারখানাসংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে আলতাবের পরিবারের ভাষ্য।


আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকেরা ওই গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হলে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। এরপরও তাঁকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।


আলতাবের কাছে তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এ সময় তাঁর বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কারখানায় ছিলেন না। এরপর আরিফুল ও তাঁর বাবা কারখানার বাইরে বের হন। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের ভাষ্য, গাড়িটিতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।


পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।


আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল শনিবার ছুটি থাকায় তাঁর বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখানে থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার আছে, যেটা তাঁদের কারখানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। গাড়িতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকেন। তাঁদের কারখানার বাম পাশে একটা জায়গায় বালু ফেলায় একটা মাঠের মতো হয়েছে। সেখানে তাঁরা নেশা করেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।


সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজার বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ সব খবর

দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে পাওয়া ৮০টি স্বর্ণের বার যার ওজন ৯ কেজি ৩৩১ গ্রাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। 


বুধবার রাতে উড়োজাহাজটির একটি সিটের নিচ থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বুধবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস, ঢাকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে উড়োজাহাজটিতে বিশেষ তল্লাশি বা রামেজিংয়ের জন্য উপস্থিত হন। এ সময় উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ যাত্রীবিহীন অবস্থায় ছিল। 



পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৯এ নম্বর সিটের নিচ থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কতিপয় বস্তু উদ্ধার করা হয়।  পরে কাস্টমস হলে এনে সকলের উপস্থিতিতে ইনভেন্ট্রি করে ওই মোড়ক থেকে ৮০ পিস স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজার মূল্য ২০ কোটি টাকা।


উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলোর কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। শুল্ক-করাদি ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে এগুলো দেশে আনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আটককৃত স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তা বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে। অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক পণ্যের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এসব স্বর্ণের বার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশীয় অর্থনীতি রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস হাউস, ঢাকা সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগামীতেও এ ধরনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।






সর্বশেষ সব খবর