সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবিপ্রধান) শফিকুল ইসলাম

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪০ পিএম

সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য-বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়-সংগ্রহ করত চক্রটি। পরে তাদের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না দেওয়ায় আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। এই চাঁদা না দেওয়ায় অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।


গ্রেপ্তার সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিব


তিনি জানান, হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। সাত সদস্যের এই চক্রের চারজন এখন গ্রেপ্তার। ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও ডা. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের জন্য চক্রটি সানি নামে একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিল। হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব ফাতিন ইসরাক লাবিবকে দেন সানি।


সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি চক্র সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালের অন্তত পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে টার্গেট করেছিল। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড–নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক ছিলেন। চক্রটি চিকিৎসকদের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না দেওয়ায় আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। 


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কে পাঁচজন দুষ্কৃতকারী গাড়ি আটকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হককে হুমকি দেয়। এরপর গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান।


পুলিশ জানায়, চিকিৎসককে বহনকারী সিএনজির গতিরোধ করে হামলাকারীরা। এর কারণ জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে সিএনজি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল চিকিৎসকের ডান চোখে গুরুতর আঘাত করে। অন্যরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয়।


এ ঘটনায় ডা. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে চিকিৎসকের মোবাইলে ফোন করে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।


হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত শুরু করে ডিবি। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে শনির আখড়ার গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে সানি সাহাকে এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।


ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সানি সাহা জানিয়েছেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সময় ২০২৩ সালে জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে আলমগীর তাকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দেন। এতে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়েন সানি। পরে তিনি বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে ডিবি জানিয়েছে।


ডিবি আরও জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফিরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জান্নাত আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন সানি। এ সময় সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য-বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়-সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। পরে ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও ডা. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের জন্য সানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব ফাতিন ইসরাক লাবিবকে দেন সানি।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ফাতিন ইসরাক লাবিব জানান, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে ফুড ডেলিভারির মাধ্যমে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সানি সাহার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের কয়েক দিন পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের সরাসরি দেখা হয়।


পরে ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) ও সাব্বিরকে (১৮) এক লাখ টাকার বিনিময়ে তার সঙ্গে কাজ করতে বলেন ফাতিন।


ডিবি জানায়, এ ঘটনায় ইবান ও জীবনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তার সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০১ পিএম

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে।


ডিবি সূত্র বলছে, বাড়িটিতে ডিজে পার্টি চলতো এবং মাদকের আসর বসত। সেখান থেকে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই ২৬ জন নারী।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এজন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ম্যান্টেনেইন্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তার বাড়িতে মাদকের কারবারের অভিযোগে ডিবির অভিযানের বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।



পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে কখনও তান্ত্রিক, কখনও কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের খাদেম- এভাবে নানা পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণার ফাঁদ পাততেন মো. মিজানুর রহমান (২৫)। পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 


গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। পিবিআইয়ের ঢাকার দক্ষিণ কল্যাণপুর এসআইঅ্যান্ডও (অর্গানাইজড ক্রাইম-উত্তর) আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   


পিবিআই জানায়, ১৬ অক্টোবর সকালে জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর ভাটিপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দিতে তিনি এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের নামও উল্লেখ করেছেন।


এতে বলা হয়, ভুক্তভোগী নুসরাত মরিয়ম (ছদ্মনাম) টিকটকে ‘তান্ত্রিক গুরু জীবন কবিরাজ’ নামের একটি আইডির ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পারিবারিক সমস্যার সমাধান চেয়ে তিনি ইমু ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তাঁকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে কবিরাজির বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে বিকাশের মাধ্যমে মোট ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান ভুক্তভোগী। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে বিভিন্ন অলৌকিক শক্তির ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।


মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪১৯, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় ৪ জুলাই অভিযোগ দায়ের করা। পরে অক্টোবর মাসে পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডও (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক। 


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মিজানুর বিভিন্ন টিকটক আইডি ব্যবহার করে নিজেকে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত পাগলা মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি প্রাচীন কবিরাজির উপকরণ হিসেবে হাড়, মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন। এসব ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন তিনি। 


পিবিআইয়ের দাবি, ভুক্তভোগীও তাঁর ভিডিও দেখে বিশ্বাস স্থাপন করেন। পরে কথিত কবিরাজির উপকরণ কেনার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডওর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে প্রতারণাকারী সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা করে আসছে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ বা অলৌকিক সমস্যা সমাধানের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকুন এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন।’


পিবিআই জানিয়েছে, সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল (বিপিএম-সেবা) এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত চলছে। অভিযানে ও তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন সার্বিক সহযোগিতা করেন। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। 


মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।


আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৮ পিএম

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাটির তদন্ত করছে পুলিশ। ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 


ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেছেন। রোববার বেলা ১২টায় মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্তে আইনের ব্যত্যয়ের তথ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয়ের তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


শনিবার বিকেলে ইশরাক তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘটনার একটি ভিডিও আপলোড করেন। আইন ভেঙে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইনজ্ঞরা এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। 


ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী যে ভিডিও আপলোড করেছেন তার শিরোনাম– ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। এতে দেখা যায়, ইশরাক অস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নামার পর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ প্রতিমন্ত্রী তখন বলেন, ‘পুলিশ আসবে, তারপর কথা হবে।’


এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু ছিলেন। পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষী ছিলেন। নিজের নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায়।


এলাকার লোকজন জানান, শনিবার ইশরাক হোসেন রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান । এ সময় মাদক ব্যবসায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এর আগেও এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। 


গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন। ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। 


প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ কিনা? পাশাপাশি বৈধ হলেও এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা আইনসম্মত হয়েছে কিনা? আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক মাত্র। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি পুলিশি অভিযান পরিচালনা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধি তাদের দেয়নি। 


এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০১৬’ অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অপরাধী ধরার জন্য বা কোনো আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত অস্ত্র প্রকাশ্যে উঁচিয়ে অভিযান চালানো এই নীতিমালার পরিপন্থি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। 


উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৩ পিএম

চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে একের পর এক সফল অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালানের নতুন রুট ও কৌশলের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পরিচালিত ধারাবাহিক পৃথক অভিযানে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মদ জাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।


​অভিযানগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভায়াগ্রাসহ সংবেদনশীল ওষুধ আনা এবং বিমানবন্দর থেকে ডাক বাছাই কেন্দ্র হয়ে রেলপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম জিপিওতে পণ্য পাঠানোর নতুন একটি চোরাচালান কৌশল প্রকাশ পেয়েছে।


​বিমানবন্দরে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিন উদ্ধার (জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ) 


১৪ অক্টোবর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ আটক করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভায়াগ্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ইনসুলিনের মতো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের কোল্ড চেইন না মেনে পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে।


​কমলাপুরে ডাক ও রেলপথের নতুন রুট শনাক্ত


১৩ অক্টোবর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭,৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আকাশপথে দেশে আসার পর পণ্যগুলো বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের আরএমএস সেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই ঘটনায় বিমান, ডাক ও রেল পরিবহন শৃঙ্খলে সমন্বিত কাস্টমস নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।


​অন্যান্য উদ্ধার ও ব্যাগেজ তল্লাশি


​১৩ অক্টোবর : বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ২৮৮ কার্টন সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১৭ লিটার মদ আটক করা হয়।


​১৪ অক্টোবর : থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার ও অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রী এবং পরিত্যক্ত কার্টন থেকে উদ্ধার করা হয় যৌথভাবে মোট ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি কসমেটিকস ও ১৮.১৮ কেজি গৌরি ক্রিম।


​দুই দিনের অভিযানের মোট হিসাব


- বিদেশি সিগারেট ৫৩১ কার্টন;


- আমদানি-নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম (কমলাপুর)৭,৭৮৭ পিস;


- নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম (বিমানবন্দর)৬৪.১৮ কেজি;


- অন্যান্য কসমেটিকস ৬৮ কেজি;


- ওষুধ (ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ)৫৫.৮ কেজি;


- স্বর্ণালংকার১০০ গ্রাম;


- ৩২টি ল্যাপটপ এবং ৩টি মোবাইল;


- মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়১৭ লিটার।


এক নজরে মোট জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য: ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।


​এই ধারাবাহিক সফল অভিযান কেবল শুল্ক ও রাজস্ব সুরক্ষাই করেনি, বরং ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলে এই সমন্বিত নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩১ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৯ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩১ পিএম

রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরের স্বর্ণ চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহবাগ থানা পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত ৩ জনকে চোরাই স্বর্ণ সহ গ্রেফতার করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। লিপি কর্মকার (২৯) ২। অর্ণব রায় দীপ্ত (৩০) ও ৩। মোঃ মুহিন (৩৭)।


শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা চোর শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরের অনুমান ৬ আনা ওজনের স্বর্ণ যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চোর শনাক্তকরণে মাঠে নামে।


সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএমপির উত্তরখান থানাধীন দোবাদিয়া এলাকায়  রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে চুরির সাথে সরাসরি জড়িত আসামি লিপি কর্মকার ও তার স্বামী অর্ণব রায় দীপ্ত-কে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ।


পরবর্তীতে আসামীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানাধীন সাদিয়া জুয়েলার্সে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় দোকান মালিক মুহিনকে গ্রেপ্তার করে তার হেফাজত থেকে ২ আনা ১ রতি ৪ পয়েন্ট স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।


গ্রেফতারকৃত লিপি কর্মকার ও অর্ণব রায় দীপ্ত বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় চুরির দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।


গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।


সোমবার (৫ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের সি-শিফটের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, মহাপরিচালকের কাছ থেকে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন কর্মকর্তারা। এ সময় শারজাহ থেকে ঢাকাগামী G9 571 ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়।


তল্লাশির সময় যাত্রী মোহাম্মাদ শাহিনের ব্যাগেজ থেকে ৩২০ কার্টন সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ আটক করা হয়। কে এম ফজল হকের ব্যাগেজ থেকে ১২৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ এবং বেলায়েত হোসেনের এর ব্যাগেজ থেকে ১৮৬ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।


সব মিলিয়ে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ আটক করা হয়েছে। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, যাত্রী প্রোফাইলিং ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে বিমানবন্দরে চোরাচালান এবং ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।