বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : শনিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৪:১২ এএম

লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


মহাসচিব বলেন, ‘একটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছি। আমি আপনাদের অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আমাদের কোটি কোটি মানুষের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, যিনি প্রায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্বাসিত অবস্থায় বিদেশে রয়েছেন এবং বিগত প্রায় একযুগ ধরে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমাদের গণতন্ত্র উত্তরণের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের সফলের দারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন, আমাদের সেই সংগ্রামে নেতা, এদেশের গণমানুষের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ তারেক রহমান, তিনি আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে আমাদের মাঝে এসে পৌঁছাবেন।’


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে এবং সবার পক্ষ থেকে আমরা তার এই আগমনকে শুধু স্বাগত নয়, আমরা আনন্দের সঙ্গে সমগ্র জাতিকে জানাতে চেয়েছি। গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যে সমস্ত বাধাগুলো সৃষ্টি হয়েছিল, আমরা মনে করি- আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে এসে পৌঁছালে সেসমস্ত বাধা দূর হয়ে যাবে।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, লন্ডনে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের যতটুকু একটা শঙ্কা ছিল, সেটা চলে গিয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্যদিয়ে নির্বাচনের যে রেল চলতে শুরু করেছে, সারাদেশের মানুষের মধ্যে যে আশা-প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে- সেটা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে যেন হতে পারে, গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।


এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে উনি ২৫ তারিখে এসে ঢাকায় পৌঁছাবেন, ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এর পর থেকে সেখানেই আছেন তিনি।


চব্বিশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। আওয়ামী আমলে তারেক রহমানকে বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়। বিভিন্ন মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত, বানোয়াট বলে দাবি করেছিল বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন। তাকে তার অনুপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি মামলায় সাজার রায় দেয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়ায় সাজার রায় বাতিল এবং কোনো কোনো মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পান।


সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’


ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘স্পর্শকাতর বিষয়টির বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এ পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’


এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান এর স্বদেশে আশা নিয়ে ব্রিফ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের অতি দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়, যেসব অপশক্তি এই দেশে নির্বাচন বানচাল করার জন্য কাজ করছে, নির্বাচন যাতে না হয়, সেই চেষ্টা করছে, এটি তাদেরই একটি চক্রান্ত হতে পারে।


মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ঢাকাু৮ আসনের প্রার্থী। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি সহানুভূতি দেখানোর জন্য হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি, সমর্থক এবং আরও কিছু চক্রান্তকারী সমবেত হয়ে উত্তেজনামূলক স্লোগান দেয় এবং মব সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়েছে। বিএনপি এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং হুঁশিয়ার করে দিচ্ছে, এ ধরনের আচরণ করতে গেলে বিএনপি বসে থাকবে না। বিএনপি তার জবাব সঙ্গে সঙ্গে দেবে।


বিএনপি কোনো গোলযোগ ও সন্ত্রাস চায় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তবে বিএনপির ওপর কোনো আঘাত এলে সেটি বিএনপি সহজভাবে নেবে না। এর জবাব কীভাবে দিতে হয়, সেটি বিএনপি জানে।


মব সৃষ্টি না করে, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট না করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নইলে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ ব্যাহত হবে। সব মহল যাতে এ বিষয়কে গুরুত্ব দেয়।


ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন।




লঞ্চের ভাড়া বাড়লো

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া বাড়ছে গণপরিবহনের। এরই ধারাবাহিকতায় ঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। প্রথম ১০০ কিলোমিটারের প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। 


এ ছাড়া ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ২০ পয়সা। এছাড়া, লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 


আজ বুধবার লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নৌ পথের ভাড়া বৃদ্ধির কথা জানান।


এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয় বাসের ভাড়া। দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা।


যদিও বিআরটিএ যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া দূরপাল্লার পথে কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাস মালিকদের সংগঠনগুলো।


নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের বৈঠক হয়

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।


স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।


সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।


তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।


লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে চান মালিকরা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন মালিকরা। প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থা। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 


নৌমন্ত্রীর কাছে নতুন বর্ধিত ভাড়া নির্ধারণের এই প্রস্তাব দিয়ে  মঙ্গলবার চিঠিটি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান দুই টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ৫২ পয়সার স্থলে চার টাকা দুই পয়সা নির্ধারণ করার কথা বলেছে। তা না হলে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে নৌমন্ত্রী জানিয়েছেন, লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


চিঠিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থার সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর উল্লেখ করেন, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ভাড়া ৫১ শতাংশ এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে একই হারে বাড়ালে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 


চিঠিতে বলা হয়, সোমবার সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহণে নিয়োজিত লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়বে।


সংগঠনটির দাবি, এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং (ঘাটে ভেড়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ-কে প্রদত্ত) চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। 


এছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ফি এবং আয়কর ও ভ্যাটের ব্যয়ও বেড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ পরিচালন ব্যয়ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের দাবি।


চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে যাত্রীভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন বা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে যাপ। লঞ্চ মালিকদের দাবি মানা হলে ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ডেক শ্রেণির ভাড়া ৪২৯ থেকে বেড়ে ৬৬০ টাকা হবে। কেবিন শ্রেণির যাত্রীর ভাড়া হবে ডেকের চারগুণ।


৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪১ এএম

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। আজ বুধবার সকাল ৬টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।


গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।


এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে নিম্নচাপের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।


এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ এএম

আমদানি পর্যায়ে একক পণ্য হিসেবে সরকারের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে ডিজেল থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, গত অর্থবছরে শুধু ডিজেল আমদানিতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকারকে ১১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে অঙ্কটি আরও বড়। 


বিপিসির হিসাবে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে শুল্ক-কর বাবদ সরকারকে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে সংস্থাটি।


এই বিপুল শুল্ক-কর দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মুনাফায় ছিল বিপিসি। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নিরীক্ষিত হিসাবে মাত্র এক বছর লোকসান হয়েছে তাদের। সেই লোকসান বাদ দিয়ে বাকি ১০ বছরে সংস্থাটির নিট মুনাফা টিকেছে ৫৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।


১০ বছরের শুল্ক-কর ও মুনাফার দুই অঙ্ক যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। এই অর্থ এসেছে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে জ্বালানি বিক্রির আয় থেকেই।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে তেলের দাম সেভাবে না কমানো হয়নি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। 


গত রোববার তা আরও ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।


এ বিষয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এত দিন দাম বাড়াতে চায়নি। কিন্তু বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, নিয়মিত সরবরাহ ধরে রাখা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দামের ব্যবধান থেকে পাচারের ঝুঁকি-সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।


কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তেলের ওপর সরকার কেন এত বেশি হারে শুল্ক-কর আরোপ করে রেখেছে।


লোকসান এক বছর


বিপিসির নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে শুধু ২০২১-২২ অর্থবছরে সংস্থাটি ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা লোকসান করেছে। অন্য বছরগুলোতে মুনাফা হয়েছে।


সদ্য বিদায়ী অর্থবছরেও লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি, যদিও নিরীক্ষিত হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি। সংস্থাটির প্রাথমিক হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যে তেল কিনে দেশে নিয়ন্ত্রিত দামে বিক্রি করায় প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে।


বিপিসি জানিয়েছে, আগের মুনাফার পুরো অর্থ তাদের হাতে নেই। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত মুনাফার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিচালন ব্যয়েও অর্থ গেছে।


বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১ মার্চ সংস্থাটির হাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ছিল। এরপর জ্বালানি আমদানির বিলসহ বিভিন্ন দায় পরিশোধ করতে হয়েছে। বিপিসির কিছু অর্থ দুর্বল ব্যাংকে আটকে আছে, আর কিছু অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত। বর্তমানে জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহারযোগ্য অর্থ প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা। ৪০টি ঋণপত্রের অর্থের ব্যবস্থা করতে গিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে।


ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ ১৭৭ টাকা


চলতি মাসে প্রায় ১৩ কোটি ১৩ লাখ লিটার ডিজেল খালাস করেছে বিপিসি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও বাংলাবান্ধা স্থল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার ডিজেলের গড় আমদানি ব্যয় ছিল ১২৬ টাকা ৪১ পয়সা।


এর ওপর লিটারে প্রায় ৩৩ টাকা শুল্ক-কর দেওয়ায় ব্যয় দাঁড়ায় ১৫৯ টাকা ৪১ পয়সা। বন্দর থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পরিচালন, পরিবহন, ডিলার কমিশন, উন্নয়ন তহবিলসহ আরও ১৭ টাকা ২৭ পয়সা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি লিটারে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৭৬ টাকা ৬৮ পয়সা। বর্তমান বিক্রয়মূল্য ১৩৫ টাকা ধরে এই চালানগুলোতে বিপিসির ঘাটতি লিটারে প্রায় ৪২ টাকা। 


তবে এর মধ্যে সরকারের শুল্ক-করই প্রায় ৩৩ টাকা। শুল্ক-কর বাদ দিলে আমদানি ও অন্যান্য ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থাকে প্রায় ৯ টাকা।


তবে বিপিসির চেয়ারম্যান বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর, শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয় প্রায় ২০৫ টাকা। দাম বাড়ানোর আগে তা বিক্রি করা হচ্ছিল ১১৫ টাকায়। অর্থাৎ তখন প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা ঘাটতি হচ্ছিল। এর মানে, এখনো প্রতি লিটারে ঘাটতি ৭০ টাকা।


এখন ভর্তুকি চায় বিপিসি


বিপিসির মুনাফার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা গত এক দশকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন আর্থিক চাপের মধ্যে সংস্থাটি উল্টো সরকারের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়ার আশা করছে।


বিপিসির চেয়ারম্যান জানান, জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে প্রয়োজনীয় ভর্তুকির পরিমাণ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ নতুন আমদানির অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।


চাপ কমানোর সুযোগ কতটা


দাম না বাড়িয়ে শুল্ক-কর কমানোর সুযোগ ছিল কি না, এ প্রশ্নও উঠেছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই কর কমাত। তা না হওয়ায় ধরে নিতে হচ্ছে সেই সুযোগ ছিল না।


নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিপিসির মুনাফার বড় অংশ সরকারি কোষাগারে নেওয়া হয়েছে। সংকটের সময়ে তার একটি অংশ ফেরত দিলে ভোক্তার ওপর চাপ কমানো যেত।


খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, বিপিসিকে মূলত সেবাদানকারী সংস্থা হিসেবে ‘না লাভ, না ক্ষতি’ কাঠামোয় পরিচালনা করা উচিত। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন নিরীক্ষা প্রয়োজন। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পরিবহনে সীমাবদ্ধ থাকে না; উৎপাদন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চাপ পড়ে ভোক্তার ওপর।


প্রায় চার দশক পর এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ পিএম

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবছরই বিশ্বনেতাদের এই সমাবেশ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 


তবে এবার বাংলাদেশের গুরুত্বের জায়গাটি কিছুটা আলাদা। কারণ, এই অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন এবং আগামী এক বছর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।  এটি অবশ্য বাংলাদেশের জন্য প্রথমবারের ঘটনা নয়। 



প্রায় চার দশক আগে, ১৯৮৬–৮৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন। ফলে খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কোনো বাংলাদেশি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরলেন।



জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের দায়িত্বের মূল জায়গা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নয়, বরং সব সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা, সমঝোতা ও ঐকমত্য তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, সব সদস্যরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করে আস্থা পুনর্গঠন এবং আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন জায়গা খুঁজে বের করাই তার অন্যতম লক্ষ্য। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যও ‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন সামলানো এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।



এই দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে কিছু বাড়তি সুযোগ তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি রোহিঙ্গা সংকট। খলিলুর রহমান নিজেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরাসরি কাজ করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি সংকটটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। 



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন অর্থায়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খলিলুর রহমান তার মেয়াদের অগ্রাধিকার হিসেবে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন। 



এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও স্বার্থ আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সভাপতির পদকে বাংলাদেশের জন্য সরাসরি কোনো বিশেষ সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। খলিলুর রহমান নিজেও বলেছেন, তিনি সব সদস্যরাষ্ট্রের সভাপতি এবং তার দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পুরো সাধারণ পরিষদ। তাই বাংলাদেশের জন্য এবারের বিশেষত্ব মূলত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতার চেয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রস্থলে থাকার সুযোগে। 



প্রায় চার দশক পর আবার একজন বাংলাদেশি যখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল আন্তর্জাতিক ফোরামটির সভাপতির আসনে, তখন এবারের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য যে বাড়তি দৃশ্যমানতার সুযোগ তৈরি করেছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।