বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৬ এএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে সমাবেশ, আলোচনা সভা ও মুনাজাতের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছোট ভাই দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।গত বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে উপজেলা সদরের হাসপাতাল এলাকায় নিজস্ব কার্যালয়ে এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করা হয়।


উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস. এম. হান্নান এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুনুর রশিদ রাজু এতে সভাপতিত্ব করেন। 


সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল কায়েস সাজুর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুরে এমপির রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাফ্ফর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি এফআই সবুজ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদস্য সচিব রিপন মাহমুদ, কৃষক দল নেতা আবুল বাশার প্রমুখ।


এসময় অন্যদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও নওগাঁ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান, এনায়েতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিবুল আলম লিটন, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা বেগম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাবলু প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।


শেষে মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।




নিজ বাসায় প্রবীণ ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ড

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২০ পিএম

সিলেট নগরির রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার নিজ বাসায় প্রবীণ ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে এ হত্যাকাণ্ডের পর বিকেলে বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। 


পুলিশের দাবি, ওই বাসার খুন হওয়া গৃহকর্মীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে ব্যর্থ হয়েই বাবুল মিয়া একাই তিনজনকে খুন করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশ এমনটি দাবি করলেও এ ঘটনা নিয়ে আরও কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যার উত্তর মিলছে না। ফলে পুলিশের 'রহস্য উদঘাটনের' দাবি নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। বুধবার সকালে নিজ বাসায় খুন হন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক, ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০) তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (২৫)। সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির চার সন্তানই ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় থাকেন।

 

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ জানায়, নিহত দম্পতির বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রব খোলা রয়েছে। স্বর্ণালংকারসহ জিনিসপত্র খোয়া যায়। এছাড়া বাসার মেঝেতে জমির একটি দলিল পড়ে থাকার কথা জানা যায়। প্রশ্ন ওঠেছে, কেবল শারীরিক সম্পর্কে বাধার কারণে তিনজনকে খুন করা হলে বাসার জিনিসপত্র লুট করল কে? জমির দলিলই বা মেঝেতে কেন? একজন অপেশাদার 'খুনির' দ্বারা কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সকালে একা তিন জনকে খুন করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। খুন হওয়া গৃহকর্মী আর আটক বাবুল মিয়ার বয়সের পার্থক্যের কারণেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হওয়া কতটুকু বাস্তবসম্মত এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।


এছাড়া আব্দুস সাত্তারের জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। বিশেষত আব্দুস সাত্তারের জমিসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল ১৯ আগস্ট। এই রায়ের এক সপ্তাহ আগে এমন হত্যাকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। এই জমিসংক্রান্ত বিরোধের দিকে ইঙ্গিত করে বুধবারই আব্দুস সাত্তারের এক আত্মীয় বলেন, আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম, এরকম কিছু (হত্যাকাণ্ড) হতে পারে। এর আগেও আব্দুস সাত্তারকে বাসায় এসে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। হুমকি পেয়ে আব্দুস সাত্তারের মেয়ে থানায় জিডিও করেছিলেন। 


হত্যার খবরে পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বাসার ওয়ারড্রব ও আলমারি খোলা আছে। স্বর্ণসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে বলে জেনেছি। চুরি ডাকাতির ঘটনা কী না তা তদন্ত করা হচ্ছে। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এছাড়া অন্য কোন কারণে হত্যা করা হয়েছে কী না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


এছাড়া পারিবারিক বিরোধ আছে কী না তাও খতিয়ে দেখছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তিন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এমন বহুমুখী সন্দেহ ও আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছিল দিনভর। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় বিকেলে ওই এলাকারই একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়া নামে একজনকে আটকের পর।


বাবুল মিয়াকে আটকের পর সন্ধ্যায় পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে। 


তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।পুলিশের এমন দাবি নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আইনজীবী ও সাংবাদিক মইনুল হক বুলবুল ফেসবুকে লিখেন- শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য প্রেমিকার কাছে আসলে, সে সময়টা সকাল সাড়ে ৯টা উপযুক্ত কি? যদি শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য আসে, তবে সঙ্গে খুন করার উপযোগী ছুরি রাখার দরকার কী? খুন করার পর বাসার পাশের খালি জায়গায় ছুরি ফেলে যাওয়ার দরকার কী? তিনটি খুন করার পুরও খুনি আটক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একই পাড়ায় কেন অবস্থান করছিল? 


পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। এ সুযোগেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের আগ মুহূর্তের ফুটেজ দেখে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। 


এসব ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, বাবুল মিয়া নিজেই হত্যাকাণ্ডের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।


বাসা থেকে মালামাল খোয়া যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাসায় কী কী জিনিস ছিল বা কী কী খোয়া গেছে এরকম কোন তথ্য বা অভিযোগ আমরা পাইনি। 


আটক বাবুল মিয়াও জানিয়েছেন, তিনি কোন মালামাল নেননি।আগের দিনের পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রব খোলা ছিল। তাই কোন মালামাল খোয়া গেছে কী না তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছিলেন কমিশনার মহোদয়। ওসি বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আজ মামলা দায়ের করা হবে। এরপর আসামিকে কোর্টে হাজির করা হবে।


জানা যায়, নগরীর রিকাবীবাজারে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জায়গা ও সেখানে ইম্পাস টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে একটি প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে আব্দুস সাত্তারের কোটি টাকার জমি নিয়ে স্বত্ব মামলা চলছে। 


নিহত আব্দুস সাত্তারের আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক জানান, রিকাবীবাজারের জায়গা নিয়ে সাত্তার ২০২৩ সালে স্বত্ব মামলা (নম্বর ২১১/২৩) করেন। আদালতের আদেশের পর ওই মামলার বিবাদী সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত্তারকে বিবাদী করে সিভিল রিভিশন মামলা (নম্বর ৭০/২৩) দায়ের করেন। আগামী ১৯ আগস্ট ওই মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল।


আইনজীবী বলেন, প্রতিটি শুনানিতে আব্দুস সাত্তার আদালতে হাজিরা দিতেন। দুই সপ্তাহ আগেও শুনানির দিনে আসেন। ওই দিন বিবাদী সিরাজুল ইসলাম তাকে হুমকিও দেন এবং খারাপ ব্যবহার করেন। হত্যাকাণ্ডের পর সাত্তারের ঘরের তিনটি ওয়ারড্রব ও আলমারি তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে মামলার নথিপত্র ও মূল দলিল খোয়া গেছে। ঘরের মেঝেতে কেবল একটি দলিলের অনুলিপি পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুনানির মাত্র ছয় দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব হওয়া কেবলই কাকতালীয় কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের পরিচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের কারণেই পরিকল্পিতভাবে আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। রিকাবীবাজারের জায়গার বিরোধকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সূত্র হিসেবে ধরে তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ পিএম

সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি জ্যাকেট পরিধান ও হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে নিজেদের সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে নোয়াখালীতে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 


এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি চারটি জ্যাকেট, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি এক্স-নোহা গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ওসি মো.নজরুল ইসলাম। এর আগে, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা কলোনীর ব্রাইট হাউজে এ ঘটনা ঘটে।


গ্রেপ্তার সাতজন হলেন, লক্ষ্মীপুরের শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম (৩২), রুবেল হোসেন (২৯), রাজশাহীর মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৮), বগুড়ার আবুল কাশেম সোহেল (৩৮), চট্টগ্রামের মো. শাহাদাত হক খান চৌধুরী (২৯), ফেনীর মো. নাদির (২৯) এবং ঢাকার মো. শরীফ মিয়া (৫৫)।


পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ওই বাসার বাসিন্দা মো. আতাউর রহমান (৬২) অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে তার বাসায় ঢুকে মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।


এ সময় জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরীকে সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি জ্যাকেট পরা এবং হাতে ওয়াকিটকি থাকা অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও মো. নাদিরকেও ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে তিনটি জ্যাকেট ও তিনটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পরে বাসার সামনে থাকা ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮২৪৫ নম্বরের একটি এক্স-নোহা গাড়ি থেকে মো. শরীফ মিয়াকে আটক করা হয়। ওই গাড়ি থেকেও পুলিশের ব্যবহৃত জ্যাকেটের আদলে তৈরি আরও একটি গাঢ় খাকি রঙের জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আতাউর রহমানের মেয়ে তাসনীমুল জান্নাত ওরফে মালিহার সঙ্গে গ্রেপ্তার শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলামের শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হলে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।


পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরী সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি পোশাক পরে ও ওয়াকিটকি হাতে নিজেদের সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে আতাউর রহমানের বাসায় প্রবেশ করেন। পরে শুভ চৌধুরী, রুবেল হোসেন ও নাদিরও সেখানে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা তাসনীমুল জান্নাত ওরফে মালিহাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের আটক করেন।


ওসি মো.নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটিতে মহাসড়ক পারাপারের সময় অজ্ঞাতনামা দ্রুতগামী একটি যানবাহনের ধাক্কায় কোহিনুর বেগম (৬০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধারিয়া গ্রামের জুড়কাঠি শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কোহিনুর বেগম ওই এলাকার মৃত শানু আকনের স্ত্রী।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোহিনুর বেগম মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা যানবাহন তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের ওপর পড়ে থাকেন।


পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এ বিষয়ে নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মোঃ বেলায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক পরিবহনটি শনাক্ত করে আটক করতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ পিএম

আজ পাসপোর্ট অফিসের সামনে বাব্বি নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে, নিহত বাব্বির ছবি ব্যবহার না করে একই বা কাছাকাছি নামের অন্য একজন রাব্বির ছবি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ধরনের ভুল শুধু সংবাদে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্যও বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় ছবি ও পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের আরও সতর্কতা ও তথ্য যাচাই করা জরুরি।


ভুল তথ্য ও ছবি দ্রুত সংশোধন করে সঠিক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


লবণ বোঝাই বলগেট ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে লবণ বোঝাই একটি বলগেট ডুবে মো. সাবের (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বলগেটে থাকা আরও সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।


গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাতিয়া-সন্দ্বীপের মাঝামাঝি রোহিঙ্গা চরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জাহাজ চ্যানেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সাবের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার আবু আলীর ছেলে। তিনি ডুবে যাওয়া বলগেটের বার্বুচি ছিলেন।  


চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, বুধবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে লবণ বোঝাই এমভি তানিম হাতিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে হাতিয়া-সন্দ্বীপের মাঝামাঝি রোহিঙ্গা চরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জাহাজ চ্যানেলে পৌঁছালে বলগেটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বলগেটটি ডুবে যায়। পরে কাছাকাছি থাকা মাছ ধরার ট্রলারের সহযোগিতায় বলগেটে থাকা আট মাঝি-মাল্লাকে উদ্ধার করে তীরে নেওয়া হয়। 


তবে সাগর উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনাকবলিত বলগেটটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। দুপুরের দিকে বার্বুচি মো.সাবেরকে চট্টগ্রামে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ ফয়সাল বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এসময় একটি বোটসহ ৫ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন।


আটকরা হলেন, হাতিয়া বাজার এলাকার আব্দুল ওহাব (১৯), হানিফ (২৬), আবুল মোর্শেদ (২৭), চৌরুঙ্গী আল আমিন সমাজের পারভেজ উদ্দিন (২৬) এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর খাজা মার্কেট এলাকার পলাশ (১৮)।


কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে হাতিয়ার বাংলা বাজার খেয়াঘাট এলাকার মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বোটের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটির গতিরোধ করা হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বিএডিসি সিল দেওয়া ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য ৮ লাখ টাকা। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় বোটটিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।


মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানান, আটকদের বিরুদ্ধে পণ্য পাচারের ঘটনায় মামলা করে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।