রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৩ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।


বৈঠক চলার মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি প্রার্থী হওয়ার সাথে সাথে বিএনপির মহাসচিব পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য থেকে পদত্যাগ করেছেন।”


মহাসচিবের দায়িত্বে কে আসছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তার কাছে দায়িত্ব দেওয়া আছে; তিনি যেটি যে প্রক্রিয়ায় যেভাবে হোক, তিনি সেটা মতামত নিয়ে জানাবেন। সেটি আপনারা পরে জানতে পারবেন। এখন শুধু দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার কথা আমরা জানালাম।”



রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠকে বসেছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান। এর পরই বর্তমান দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এর আগে গত ১ অগাস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্বভার পেয়ে দলের চেয়ারম্যান এ কয়েকদিন ফোনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করা প্রার্থীর নাম জানাতে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেন। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে জমা দেওয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, এদিনই মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন।


সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।


এবার বিরোধী জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী করছে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য। ২০ অগাস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলই তাতে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।


বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।




নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের নেতারা।


হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “শুনছি বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছেন। এখনও কাকে প্রার্থী দেবেন আমরা বা জাতি জানতে পারি নাই। কারণ উনাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি। সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে, কর্নেল অলি সাহেব যোগ্য। উনি সবার সামনে জাতির সামনে এসেছেন।”



সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের বৈঠক আয়োজনের সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হল একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীতে রেকর্ড আমাদের জানা নাই। তো এই কাজটি উনারা করছেন, তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? ‘আমার দলের মত হলে গণতন্ত্র, নাইলে আমি স্বৈরতন্ত্র’।”


সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “পাঁচ মাস বা ছয় মাসের কার্যক্রম অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই, উনাদের মহাসচিব বলে দিয়েছেন। তো আমাদের আর নতুন করে বক্তব্য দেওয়ার দরকার নেই। ফখরুল সাহেব যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, মন্ত্রী, দলের মহাসচিব, এটা জাতি জেনে গেছে। তো বোঝা যাচ্ছে যে উনারা আসলে পরিবর্তন চান না বলেই পরিবর্তন হচ্ছে না।”


অলি আহমদকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের জোটের প্রার্থী জয়ী হতেন।”


রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন বিএনপির

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই বেছে নিল বিএনপি। আজ দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।



২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।



নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থিতা যাচাই–বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।


জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।


শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝের সময়ে সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।


সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।


১১ দলীয় জোটভুক্ত দলের মনোগ্রাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ এএম

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে রাজনৈতিক বার্তা দিতে। জোটটির নেতারা বলেছেন, তাদের মূল লক্ষ্য জুলাই জাতীয় সনদকে আলোচনায় রাখা। 


জোট গঠনের সময়ে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমকে জামায়াত কথা দিয়েছিল তাঁকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হবে। এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার একটি কারণ। 


সংসদে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট না থাকায় অলি আহমদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রার্থী হবেন কিনা। তিনি আগ্রহী হওয়ায় জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির মূল্যায়ন এর মাধ্যমে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান দিয়ে নিজেদের পক্ষে রাখা যাবে। 


স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণে জামায়াত নিয়মিত বিএনপি ও অন্যান্য দলের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ১১ দল এবং জামায়াতের চারজন নেতা বলেছেন, এই আক্রমণ ঠেকাতে মুক্তিযোদ্ধা এবং কওমি ঘরানার আলেমদের ‘বিশেষ ছাড়’ দিয়ে পাশে রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার প্রথম দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতা ঘোষণায় অলি আহমদের ভূমিকা রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহচর ছিলেন তিনি। বিএনপি জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তিকে রাজনীতিতে যতটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে, এর কিছুটা হলেও অলি আহমদের মাধ্যমে জামায়াত নিজের দিকে আনতে পারবে। 


১১ দলের নেতারা অবশ্য বলছেন, জয়-পরাজয় নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে টানা সাতবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ ধারা ভেঙে গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু করতে নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।   


সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।’  ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সংসদের ৩৫০ জন সদস্য (এমপি) এই নির্বাচনের ভোটার। 


আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেবেন। ১০(৩) ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। তাতে ভোটারের নাম ও বিভক্তি সংখ্যা থাকবে। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীদের নামের পাশে ভোটাররা স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভোট দেবেন। ১০(৪) ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক ভোটার নির্দিষ্ট ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে নিজ নাম স্বাক্ষর করবেন। 


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে পদ বাতিল হবে। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিলে পদ বাতিল হতে পারে। বর্তমান সংসদে জামায়াত জোটের এমপি ৯০ জন। বিএনপির এককভাবে রয়েছে ২৪৭ জন এমপি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। এই সমীকরণে বিএনপির প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। 


অলি আহমদকে প্রার্থী করা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা গোপন ব্যালটে। কিন্তু ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে প্রকাশ্যে ভোটের কথা বলা হয়েছে। বিএনপিসহ সব দল গোপন ব্যালটে নির্বাচনে একমত ছিল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রকাশ্য ভোট হতে পারে না। সংবিধান সংস্কারের আগে শুধু আইন সংশোধন করে গোপন ব্যালটে ভোট করা সম্ভব। ১১ দল এবং এনসিপি চায়, জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন হোক। কিন্তু বিএনপি আর সবকিছুর মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও জুলাই সনদ মানছে না। এটি তুলে ধরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার একটি কারণ। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে ১১ দল। 


রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঠিক করতে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি এমন কোনো প্রার্থী জাতির সামনে হাজির করতে পারেনি, যিনি সর্বজনগ্রাহ্য। সংস্কারের সময় প্রস্তাব ছিল, রাষ্ট্রপতিসহ সব সাংবিধানিক পদে আলোচনা করে নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে কাউকে পাওয়া যায়। 


১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ায় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর সেবারই প্রথম এবং শেষবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে জামায়াতের ১৮ এমপি ভোট দেন বিএনপির প্রার্থীকে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছিলেন। জাতীয় পার্টির ৩৫ এমপি ভোট দানে বিরত ছিলেন। 


এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৩৫ বছর পর এবার বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ায় ভোট হচ্ছে। 


পরাজয় নিশ্চিত জেনেও ১১ দল কেন প্রার্থী দিচ্ছে- এ প্রশ্নে জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীরবীক্রম, যোগ্য, পরিচ্ছন্ন এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রার্থী করতে যাচ্ছি। জামায়াত সবসময় এ উদারতা দেখিয়েছে। এর আগে জুলাই শহীদের মাকে সংসদ সদস্য করা হয়েছে। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করছে জামায়াত। 


গাইবান্ধায় জনসমাবেশে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৮ এএম

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতা কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। মহান আল্লাহ যাদের সম্মান দিয়ে ক্ষমতায় বসান, সময়ের ব্যবধানে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়েও দিতে পারেন। তাই ক্ষমতাসীনদের জনগণের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।


সোমবার (১০ আগস্ট) গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।


তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর রংপুরবাসীকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। যারা বৃহত্তর রংপুরের মানুষকে বঞ্চিত করবে, তারা গণদুশমন হিসেবে বিবেচিত হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না। ২৪-এর বিপ্লব হয়েছে সমাজ থেকে সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য। যারা চাঁদাবাজি ও দখলদারির নেশায় আসক্ত হয়ে মানুষ হত্যা করছে, তারা সমাজের আবর্জনা। সমাজ থেকে এসব আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।’


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ বৈষম্য, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সমাজ চায়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’


সমাবেশে বক্তারা শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা নায়েবে আমীর গাইবান্ধার সদর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৩ এএম

জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্যসহ সব ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য ও উপহাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।


সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় অবিলম্বে জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য উচ্ছেদ ও অপসারণের জোর দাবি জানান।


জুলাই জাদুঘরে নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণ চায় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ


বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারও নেই।’


হেফাজতের নেতৃদ্বয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইতে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামী বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এ ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে—এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য।’


তারা স্পষ্ট জানান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব, বীর শহীদ ও আন্দোলনকারীদের মহান ত্যাগকে জাতি অবশ্যই আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। কিন্তু সেই স্মৃতিরক্ষাকে কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না।


ভাস্কর্য নামক এ অশুভ সংস্কৃতি পরিহার করে ইতিহাসকে চিরসংরক্ষিত রাখতে কঠোরভাবে শরিয়তসম্মত দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর মধ্যে প্রথমটি আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিসমূহ সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়টি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে নির্মম গণহত্যাসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের কোনো ভাস্কর্য ছিল না। কিন্তু তাদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে এ ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।


কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ এএম

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মী—পরিচয় যা-ই হোক না কেনো, তাদের ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামি শরিয়ার দৃষ্টিতে বৈধ নয়। ইসলামের বিধান সবার জন্য সমান। কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, অবদান কিংবা রাজনৈতিক-সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে শরিয়ার বিধান পরিবর্তিত হতে পারে না। সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।


পীর সাহেব দেওনা বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। যারা ইসলামি মূল্যবোধ, আকিদা ও শরিয়ার পক্ষে কথা বলেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের নামেও এমন কিছু করা উচিত নয়, যা ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


তিনি বলেন, শহীদ ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র, জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীসহ শরিয়াসম্মত বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। এতে ইতিহাস সংরক্ষিত হবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধও অক্ষুণ্ন থাকবে।


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো আলেম, ইসলামি ব্যক্তিত্ব কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


জুলাই জাদুঘরের সব ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি হেফাজতের


তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে সেই সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি অবশ্যই দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।


পীর সাহেব দেওনা বলেন, স্বৈরাচারী আমলে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক উলামায়ে কেরাম কারাবরণ করেছেন এবং অনেকে শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ সেই আলেমদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


তিনি আরও বলেন, সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না; কিন্তু তাঁদের মহান জীবন, ত্যাগ ও আদর্শ ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়েছে। তাই ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী আলেম ও শহীদদের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের ইজ্জত-সম্মান রক্ষার আন্দোলনে ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, পাঠ্যপুস্তকে ভাস্কর্যের কোনো ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হলে দেশের ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতা ও আলেম সমাজ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।