স্বর্ণ
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আবারও বাড়ছে স্বর্ণের দাম। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুটির বাজারে নতুন গতি তৈরি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ডলারে স্থির থাকার পর আগস্টের শুরু থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ৪০০ ডলার বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে চলতি আগস্টে স্বর্ণের দাম এই শতাব্দীর সেরা মাসগুলোর একটির দিকে এগোচ্ছে।
এর আগে কোনো এক মাসে স্বর্ণের দাম ১৩ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছিল ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে। স্বর্ণের সাম্প্রতিক এই উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে।
এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের নমনীয় সুদনীতি, দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য এবং তুলনামূলক সহনীয় মুদ্রাস্ফীতি। এসব কারণে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কমেছে এবং ডলারের দরও কমেছে। আর দুর্বল ডলার সাধারণত স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও উদ্বেগজনক ভূ-রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিস্থিতি। এতে বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ আবারও তীব্র হয়েছে। ফলে একটি শান্তি ‘চুক্তি’র সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথও সংকুচিত হচ্ছে।
সংঘাত আরও বাড়ানো বা আত্মসমর্পণই একমাত্র বিকল্প নয়। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক এখন উদ্বিগ্ন।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা এবং এর চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে। জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ওয়ার্শের মন্তব্যে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট হননি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগের পর থেকে ট্রাম্প ওয়ার্শকে একাধিকবার ফোন করেছেন। পাশাপাশি ফেডের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার প্রচেষ্টাও আবার শুরু হয়েছে।
এসব ঘটনা বন্ড বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ড গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে ৩০ বছর মেয়াদি বন্ড এবং ৩০ বছর মেয়াদি মুদ্রাস্ফীতি-সুরক্ষিত বন্ডের ইল্ড যথাক্রমে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিউইয়র্ক ফেডে তাদের কাস্টডিতে থাকা মার্কিন ট্রেজারির পরিমাণও কমিয়ে চলেছে। এসব সম্পদের পরিমাণ ২০১২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
অর্থনীতিবিদ ফিল সাটল গত সপ্তাহে লিখেছেন, বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে বৈশ্বিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পেয়েছে, তা এখন শেষ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। এর পরের ধাপে বিদেশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ঋণ ধরে রাখার বিষয়ে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা
এসব কারণের কোনোটিই একা স্বর্ণের দামে এত বড় উত্থান ঘটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে শক্তিশালী কারণ তৈরি হয়। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রথম প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার গতি কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা আবার বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ২৮৯ টন স্বর্ণ কিনেছে। আগের তিন মাসের তুলনায় যা পাঁচ গুণেরও বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এটি ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার রেকর্ড।
গড় দাম বিবেচনায় ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
এই রেকর্ডও খুব শিগগির ভেঙে যেতে পারে। জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের এক জরিপে দেখা গেছে, রেকর্ড ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা আগামী ১২ মাসে নিজেদের স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
প্রাথমিক তথ্যও সেই প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জুলাইয়ে মোট ২০ মেট্রিক টন স্বর্ণ কিনেছে, যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর মাসিক হিসাবে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।
এর ফলে চীনের মোট স্বর্ণের রিজার্ভ বেড়ে রেকর্ড ২ হাজার ৩৭৭ দশমিক ৫ টনে দাঁড়িয়েছে। চীন আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনওয়াইয়ের বিশ্লেষকরা গত সপ্তাহে লিখেছেন, স্বর্ণ সরাসরি ফেডের নীতির সংকেত না হলেও সরকারি খাতের অব্যাহত চাহিদা এবং বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আগ্রহ মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমানোর উপায় হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।
স্বর্ণ কি এখনও নিরাপদ আশ্রয়?
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ালেও তারা খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ফলে স্বর্ণের সঙ্গে তাদের নতুন করে সম্পর্ক তৈরির পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
এটি একমুখী প্রবণতাও নাও হতে পারে। গত কয়েক বছরে স্বর্ণের দামে নজিরবিহীন অস্থিরতার পর মূল্যবান এই ধাতু আগের মতো চূড়ান্ত নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছেও নয়। যদিও তারা সবচেয়ে রক্ষণশীল, দাম নিয়ে কম সংবেদনশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত।
গত মাসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বর্ণ অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং এটি কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঝুঁকি মোকাবিলা ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার সুবিধা দেয়। তারল্য নিশ্চিত করার জন্য স্বর্ণ কেনা উচিত নয় বলেও গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার লেখকরা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণকে উচ্চঝুঁকির রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে কৌশলগত সম্পদ বণ্টন ও যথাযথ নীতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পেছনে অন্ধভাবে ছুটবে; এমন সম্ভাবনা কম।
তবে বিশ্বের রিজার্ভ সম্পদের ওপর আস্থা কমতে থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণও শিগগির ম্লান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা। স্থানীয়ভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ (রোববার) জারি করা নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সুবিধার কথা জানিয়েছে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের আওতায় হোটেল, যাতায়াতসহ গন্তব্যস্থানের অন্যান্য সেবার মূল্য টাকায় পরিশোধ করা যাবে।
নতুন ব্যবস্থায় ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে দেশে টাকায় প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার বিপরীতে প্রচলিত বিনিময় হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুবিধা পেতে ট্যুর অপারেটরদের ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সদস্য হতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে তাদের চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে।
বিদেশি প্যাকেজের বিপরীতে এ ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এই সীমা ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার কোটার বাইরে প্রযোজ্য হবে।
তবে এ সুবিধা শুধু সেই বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যার মূল্য গ্রাহক বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা যে প্রকৃতপক্ষে বিদেশ ভ্রমণের সেবার বিপরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে বিদেশি সেবা প্রদানকারীর ইনভয়েস বা চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি ও ব্যয়ের হিসাব, ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট নম্বরসহ তালিকা, দেশীয় ও বিদেশি ট্যুর অপারেটরের মধ্যকার চুক্তি এবং গ্রাহকের কাছ থেকে টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণ থাকতে হবে।
প্রতিটি ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে ট্যুর অপারেটরদের। একই সঙ্গে একটি ক্যালেন্ডার বছরে প্রত্যেক ভ্রমণকারীর জন্য মোট কত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করা হয়েছে, তারও সমন্বিত হিসাব রাখতে হবে।
কোনো ভ্রমণকারী অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তার বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার সীমা ইতিমধ্যে ব্যবহার করেছেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছ থেকে ঘোষণাপত্রও নিতে হবে ট্যুর অপারেটরদের।
ট্যুর অপারেটররা তাদের সেবা মূল্য বা কমিশন বাংলাদেশি টাকায় রেখে দিতে পারবেন। তবে বিদেশি অংশীদারদের কাছে পাঠানো অর্থের পরিমাণ হতে হবে প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত পাওনা অর্থের সমান।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই সুবিধা শুধু প্রকৃত বিদেশ ভ্রমণসেবার জন্য ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর, নিশ্চিত বুকিং বা চুক্তিগত দায়বদ্ধতা ছাড়া আগাম অর্থ পাঠানো কিংবা ভ্রমণ ব্যয়ের আড়ালে মূলধনী হিসাবের লেনদেন এ ব্যবস্থার আওতায় করা যাবে না।
বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করবে এবং লেনদেনটি প্রকৃত ও বৈধ কি না, তা নিশ্চিত করবে। অর্থ পাঠানোর পর সাত দিনের মধ্যে এসব রেমিট্যান্সের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে।
বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের বিপরীতে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে গত ৭ মে জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনা এফইপিডি-তে থাকা বিধান সংশোধন করে নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।
বাজেট ২০২৬-২৭
হৃদ্রোগের চিকিৎসা খরচ কমতে পারে। যেমন হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিটি রিংয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে বলে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিয়েছেন।
কিডনির সমস্যা নিয়ে অনেকেই ভোগেন। এ জন্য কিডনির সমস্যাজনিত রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ফিল্টারের দাম কমবে। এতে ডায়ালাইসিস বাবদ প্রত্যেক রোগীর খরচ ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
এ ছাড়া কিডনি রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হেমোডায়ালাইসিসের ব্লাড টিউবিং সেট আমদানিতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নানা ধরনের মসলা
কোরবানির ঈদের আর বাকি দুই দিন। এই সময়ে কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে।
অন্যদিকে মসলার বাজারেও ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের মসলা পণ্যের মধ্যে বর্তমানে ছোট এলাচ, আদা, লবঙ্গ, দারুচিনি, বাদাম, দেশি পেঁয়াজ, শুকনা মরিচের দাম বাড়তি রয়েছে।
মসলার পাশাপাশি বাজারে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগির ডিম, বিভিন্ন ধরনের মাছ, খাসির মাংস, শসা ও টমেটো। চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দাম আগে থেকেই বাড়তি। তবে সেমাই, নুডলসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মসলার আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল থেকে বেশির ভাগ মসলা আমদানি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে মসলা আমদানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামও কমবেশি বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমানে দেশে আমদানি করা বিভিন্ন মসলার দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। মসলার বাজারে সবচেয়ে দামি পণ্য ছোট এলাচ। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোট এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়।
গত এক মাসের মধ্যে এলাচের দাম সেভাবে বাড়েনি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এলাচের দাম কেজিতে ৪০০-৬০০ টাকা বেশি রয়েছে।
বাজারে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
যদিও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন পেঁয়াজের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ কম। টিসিবির হিসাবের চেয়ে কিছুটা বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। গত এক মাসের মধ্যে পণ্যটির দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। দেড় মাসের মধ্যে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৬০ টাকায়। এ ছাড়া লবঙ্গের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে বড় প্রভাব পড়েছে আলু বোখারা ও পেস্তাবাদামের দামে। পণ্য দুটির বেশির ভাগ আমদানি হয় ইরান থেকে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি কেজি আলু বোখারার দাম ছিল ৫০০ টাকার আশপাশে। বর্তমানে এই দাম বেড়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে পেস্তাবাদামের দাম কেজিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠবাদামের দামও কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে।
অন্যান্য মসলার মধ্যে জিরা ৫০০-৬০০ টাকা, কিশমিশ ৭৫০-৮৫০ টাকা, তেজপাতা ১৪০-২০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০-৫২০ টাকা, জয়ফল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, জয়ত্রী ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় জিরা, রসুন, ধনে ও তেজপাতার দাম কম রয়েছে।
ঈদের আগে মসলা বেচাকেনা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, ঈদের পাঁচ-ছয় দিন আগে থেকে মসলার বিক্রি বেড়েছে। মোটামুটি ভালো বেচাকেনা চলছে। তবে বাজারে কোরবানির গরু বেচাকেনা বেশি হলে মসলার চাহিদাও বাড়তে থাকে।
সেমাই, চিনির দাম স্থিতিশীল
ঈদের সময় বাসাবাড়িতে কমবেশি সেমাই, পায়েস, পোলাও রান্না হয়। এসব পণ্যের মধ্যে সেমাই, চিনি, দুধের দাম গতকাল পর্যন্ত মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম ওজনের মোড়কজাত সেমাই বিক্রি হয়। প্রতি প্যাকেটের দাম ৪৫-৫০ টাকা। একই পরিমাণ খোলা সেমাই ৩০-৩৫ টাকায় কেনা যায়।
বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০০ টাকা ও মোড়কজাত চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৯০০ টাকায়।
চলতি বছরের শুরু থেকে চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দফায় দফায় দাম বাড়তে বাড়তে তা কেজিপ্রতি ১৪০-১৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। বর্তমানেও এ দামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য অন্যান্য চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল।
ডিম, মাছ, টমেটো, মরিচের দাম বাড়তি
কোরবানির ঈদের সময় সাধারণত ব্রয়লার মুরগি, মুরগির ডিম ও মাছের চাহিদা কমে যায়। তবে চাহিদা কম থাকলেও সরবরাহ ঘাটতি থাকায় এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে এ দাম আরও ১০ টাকা বেশি ছিল। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা কেজি দরে। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বাড়ছে। যেমন গতকাল সোমবার রাজধানীতে ২ কেজি আকারের রুই মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে এই আকারের রুইয়ের কেজি ছিল ৩৬০-৩৭০ টাকা। এভাবে অন্যান্য মাছের দামও ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খাসির মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম অবশ্য কমতির দিকে। গতকাল বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকার মধ্যে।
তবে শসা, গাজর, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০-১০০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হয় ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৮০ টাকা ছিল।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-নাহিয়ান বলেন, ঈদের সময় সবজির চাহিদা কিছুটা কম থাকে। তবে এ সময় সালাদের জন্য শসা, গাজর, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর চাহিদা বাড়ে। তাই এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
শহুরে ব্যস্ত জীবনে ঈদুল আজহায় নাকাল হতে হয় উপযুক্ত কসাইয়ের খোঁজ করতে গিয়ে। এ ছাড়া বর্জ্য অপসারণ কিংবা মাংসের সঠিক বণ্টন নিয়েও থাকে দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার, চাকরিজীবী কিংবা প্রবীণদের জন্য ঈদের দিন এই পুরো প্রক্রিয়া বেশ বড় ঝক্কির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সমস্যাটির একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক সমাধান নিয়ে এসেছে দেশীয় বেশ কিছু অ্যাগ্রোভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। জেনে নিন বিস্তারিত।
১. বেঙ্গল মিট
কোরবানি বিষয়ক সেবায় দেশের অন্যতম শীর্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল মিট। তাদের আছে নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল। পছন্দের গবাদিপশু অর্ডার করতে ভিজিট করতে পারেন qurbani.bengalmeat.com–এ।
প্রতিটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বা তার নিচের দামের গরুর ক্ষেত্রে—
১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ও ১ লাখ ৮০ হাজার দামের গরুর ক্ষেত্রে—
১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বা তার বেশি দামের গরুর ক্ষেত্রে—
ছাগলের ক্ষেত্রে—
২. ছায়াবিথী অ্যাগ্রো লিমিটেড
কেরানীগঞ্জ আঁটিবাজারের চন্ডিপুর গ্রামে অবস্থিত ছায়াবিথী অ্যাগ্রো লিমিটেডের মালিক আরিফ ইরফানুল হক বলেন, ‘প্রবাসী, ব্যস্ত চাকরিজীবী এবং যাঁরা শরিক বা ভাগীদার খোঁজার ঝামেলা এড়াতে চান, তাঁদের সম্পূর্ণ সেবা দিচ্ছে ছায়াবিথী অ্যাগ্রো। কোরবানি থেকে শুরু করে শরিয়াহসম্মত বণ্টন ও কোল্ড চেইন লজিস্টিক সাপোর্ট ব্যবহার করে মাংস ঘরে পৌঁছে দিই আমরা ঘরে ঘরে।’
গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ অংশীদারের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে—
ওজন অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের মূল্য যথাক্রমে—
প্রতি প্যাকেজ মূল্যের বাইরে সার্ভিস চার্জ হিসেবে দিতে হবে ১ হাজার টাকা। আর একাই একটি গরু কিনে কোরবানি দেওয়ার বেলায় সার্ভিস চার্জ পড়বে গরুর দামের শতকরা ১৫ টাকা।
৩. মুন্না ক্যাটেল ফার্ম
নিজস্ব খামারে লালিত গরুর মাধ্যমে ওজনের ওপর ভিত্তি করে ৩টি ক্যাটাগরির টেবিল মিট প্যাকেজ রেখেছে মুন্না ক্যাটেল ফার্ম। প্রতি ৭ ভাগ অংশীদারের ১ ভাগের মূল্যই হচ্ছে একেকটি প্যাকেজের মূল্য।
প্রথম প্যাকেজ: সাড়ে ১৫ হাজার টাকা (মাংসের পরিমাণ ১৫–১৭ কেজি)
দ্বিতীয় প্যাকেজ: সাড়ে ২০ হাজার টাকা (মাংসের পরিমাণ ২০–২২ কেজি)
তৃতীয় প্যাকেজ: সাড়ে ২৫ হাজার টাকা (মাংসের পরিমাণ ২৫–২৮ কেজি)
আছে ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধা। মুন্না ক্যাটেল ফার্মের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আলম জানান, তাঁদের কাছ থেকে শরিকের বাইরে একা কোরবানির জন্য গরু কিনলে কসাইয়ের মাধ্যমে মাংস প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য হাজারে ১০০ টাকা খরচ পড়বে। আর সরাসরি বাসায় গিয়ে মাংস প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্য খরচ পড়বে হাজারে ১৫০ টাকা।
৪. ঈশান ক্যাটেল ফার্ম
নোয়াখালী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় গরু নিয়ে আসে ঈশান ক্যাটেল ফার্ম। তাদের আছে গরুতে ৫টি ও ছাগলে ৪টি প্যাকেজ। গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ অংশীদারের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে—
ওজন অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের মূল্য যথাক্রমে—
ঈশান ক্যাটল ফার্মের স্বত্বাধিকারী সোলায়মান হোসেন জানান, কোরবানি থেকে শুরু করে দক্ষ কসাইয়ের দ্বারা মাংস প্রস্তুত করে—
৫. দেশী অ্যাগ্রো
দেশী অ্যাগ্রোর প্রতিষ্ঠাতা কামরুল হাসান বলেন, ‘করোনাকাল থেকে ঢাকায় শেয়ারে কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশী অ্যাগ্রো। সে সময় ঢাকার ডিওএইচএস এলাকায় করোনার পশু জবাই নিষিদ্ধ ছিল। তখন সেখানকার কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার পরামর্শে আমরা শেয়ারে কোরবানিসহ সম্পূর্ণ গরু ও খাসির মাংস প্রসেস করে হোম ডেলিভারি করি। সেই থেকে শুরু।’
ঢাকার মিরপুর কালশী ফ্লাইওভারের কাছে নির্দিষ্ট স্থানে ঈদের দিন গ্রাহক নিজে উপস্থিত থেকে কোরবানি দেখতে পারবেন। কোনো রকম ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই ফুড গ্রেড পলিতে মাংস (ভুঁড়ি আলাদাভাবে) বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
৬. হারভেনো অ্যাগ্রো
হারভেনো অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে সব খরচসহ কোরবানির প্রাণীর প্রতি প্যাকেজের মূল্য ১৯ হাজার ৯৯০ টাকা, সব খরচসহ। প্রতি ভাগে ১৯-২১ কেজি মাংস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরবানি ও মাংস প্রসেসিং ঈদের দিনেই সম্পন্ন করা হয়। ডেলিভারি চার্জ প্যাকেজ প্রতি ৫০০ টাকা।’
তবে হারভেনো অ্যাগ্রো গ্রাহকদের সরাসরি ফার্মে গিয়ে কোরবানি থেকে শুরু করে প্রস্তুত করা মাংস সংগ্রহ করে ঈদের আনন্দে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। দেশের বাইরে থেকে যাঁরা অর্ডার করবেন, তাঁরাও ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি দেখতে পারবেন কোরবানির কার্যক্রম।
৭. সেতারা ফার্ম
গরু ও ছাগলের লাইভ ওয়েট বা সরাসরি প্যাক কোরবানিতে কাস্টমাইজড সেবা দিচ্ছে সেতারা ফার্ম। এর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং টিমে কর্মরত জামিল মিয়া জানান, প্যাকেজ হিসেবে নিলে কসাই এবং ডেলিভারি চার্জ প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিরপুর শেওড়াপাড়া জামতলা পানির পাম্পের পাশে সেতারা ফার্ম। অনলাইনের পাশাপাশি যে কেউ সরাসরি এখানে এসেও কিনতে পারেন। প্যাকেজের বাইরে পুরো গরু একা কোরবানি দিয়ে মাংস প্রক্রিয়া করে নিতে খরচ হবে হাজারে ২০০ টাকা।
এখানে প্যাকেজ হিসেবে গরুর জন্য প্রতি প্যাকেজের দাম ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ২১ হাজার ৮০০ টাকা, ২৩ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ সাড়ে ২৬ হাজার টাকা।
ছাগলের ক্ষেত্রেই ১৫-১৭ কেজি ওজনের ছাগল সাড়ে ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ কেজি ওজনের ছাগল ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত বুকিং নেওয়া হচ্ছে।
৮. তুরফা ফুডস
তুরফা ফুডস মূলত সুপার শপ। তবে প্রতিবছর কোরবানির সময় ঢাকায় কোরবানির প্রাণী সরবরাহ করে। স্বত্বাধিকারী কামরুল আম্বিয়া বলেন, ‘আমরা লাইভ ওয়েট হিসাব করে, অর্থাৎ ওজন হিসেবে প্রাণী বিক্রি করা থেকে শুরু করে কোরবানিসহ মাংস প্রস্তুত করার মতো সব রকম সুবিধা দিই।’
শেয়ারে কোরবানি দিতে চাইলে আছে তিনটি প্যাকেজ- ১৫ হাজার, ২২ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা। অনলাইনে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া হয় ঈদের আগের রাত পর্যন্ত।
৯. খামার ফ্রেশ
ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় প্রাকৃতিক খাবারে পালিত হয় খামার ফ্রেশের গবাদিপশু। এখানে গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ শরিকের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে-
সঙ্গে যোগ হবে দুই থেকে তিন হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ। নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের ভেতরেই স্লটারিং খরচ, কোরবানির আগপর্যন্ত গরুর খাওয়ার খরচ এবং ঢাকার মধ্যে ফ্রি হোম ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত আছে।
১০. মেঘডুবি অ্যাগ্রো
ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলা গার্ডেন সিটিতে অবস্থিত এই খামার এবার কোনো রকম হিডেন চার্জ ছাড়াই সম্পূর্ণ ভুঁড়ি, কলিজা, মাথার মাংসসহ ৭ ভাগে সমবণ্টন করে হোম ডেলিভারির সুবিধা দিচ্ছে।
ঈদের প্রথম দিন তো বটেই, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও তাদের ডেলিভারি সেবা সচল থাকবে।
গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ শরিকের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য—
১১. রাহমাহ ক্যাটেল ফার্ম
ঝামেলামুক্ত কোরবানি নিশ্চিত করতে মোহাম্মদপুরের বছিলা গার্ডেন সিটিতে অবস্থিত এই খামার এবারও সাত ভাগে কোরবানির সুযোগ দিচ্ছে। নির্ধারিত দামের বাইরে এখানে কোনো হিডেন চার্জ নেই।
গরুর ক্ষেত্রে-
ছাগলের ক্ষেত্রে-
এ ছাড়া আস্ত গরু কেনার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ চার্জ সাপেক্ষে সম্পূর্ণ স্লটারিং সুবিধা দেওয়া হয়। কোরবানি শেষে নিজস্ব ফ্রিজার ভ্যানের মাধ্যমে ফ্রি হোম ডেলিভারিও দেয়।
১২. উৎসব অ্যাগ্রো লিমিটেড
রামপুরার এই প্রতিষ্ঠান লাইভ ওয়েট সিস্টেমে ওজন মেপে এবং ৩টি শেয়ার প্যাকেজ—উভয় পদ্ধতিতেই বুকিং নিচ্ছে। তারা সরাসরি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির দেশি শাহিওয়াল গবাদিপশু এবং দেশি ছাগল সরবরাহ করে। লাইভ ওয়েট মূল্যতালিকায়—
শেয়ার প্যাকেজের মধ্যে আছে-
শেষ মুহূর্তের পরামর্শ
প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বুকিং শেষ পর্যায়ে চলে আসে। তাই শেষ মুহূর্তের বিড়ম্বনা এবং কসাইয়ের সংকট এড়াতে এখনই নিজের সুবিধাজনক প্যাকেজটি বেছে নিয়ে বুকিং সম্পন্ন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ খাতে কৌশলগত সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ সরকার। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরে এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট চুক্তিতে সই করেন।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমওইউ স্বাক্ষরের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মধ্যে সই হল এই সমঝোতা স্মারক।”
এমওইউ’র উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাপ্যতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে টেকসই রাখার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে এই এমওইউ অবদান রাখবে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিস্তৃত জ্বালানির সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন নতুন পথ খুলে দেবে এই সমঝোতা স্মারক।
“এটি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তেল, গ্যাস, তাপ-বিদ্যুৎ এবং জৈব-জ্বালানির ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে। একইসঙ্গে এটি সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির পথও তৈরি করবে।”
এমওইউ সই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে ক্ষেত্রে এই সমঝোতা স্মারক আরেকটি মাইলফলক। এই উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেন তিনি।
আর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী রাইট বলেছেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই এমওইউ একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বের ফলে অতীতে অনেক মহৎ কাজ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক মহৎ হবে।
“আমি মনে করি, মার্কিন কোম্পানিগুলো এবং বাংলাদেশের শিল্প ও জনগণের উপকারের জন্য জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।”
বিদেশ থেকে গরুর মাংস আনতে চান হোটেল মালিকরা
দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক বেশি। চাহিদার তুলনায় গরুর মাংসের সরবরাহও কম।
এ ছাড়া পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকায় গরু-ছাগল পালন কমেছে। এমন যুক্তি দেখিয়ে নিজেরাই বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করতে চান রেস্তোরাঁ মালিকেরা।
আজ রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ লিখিত বক্তব্যে দেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের গভীর সংকট ও সমাধানের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এ সময় সরকারের কাছে নিজেরাই গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, মহাসচিব ইমরান হাসান, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আমির হোসেনসহ প্রমুখ।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, দেশের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আগের তুলনায় সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি সিন্ডিকেটের কারণে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে। এতে অনেক এলাকায় গবাদিপশু পালন কমেছে। সব মিলিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের রেস্তোরাঁ খাতে।
১১ দফা দাবিতে আরও যা আছে
সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, বাজেটে ভ্যাট ও কর কমানো, এলপিজি সংকট সমাধান, রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ করাসহ মোট ১১টি দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহাসচিব ইমরান হাসান রেস্তোরাঁ খাতে সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে কর কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হলেও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, উৎসে করসহ অন্যান্য করের চাপে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যানটিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।
ইমরান হাসান বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অনিবন্ধিত। অনেক ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এ ছাড়া এলপিজি গ্যাসের সংকট বর্তমানে একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেক নতুন ও ছোট রেস্তোরাঁ গ্যাস-সংযোগের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। তাই পরিকল্পিতভাবে নতুন সংযোগ চালু হলে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমবে, খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এ ছাড়া কিছু অসাধু গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে রেস্তোরাঁমালিকদের হয়রানি, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও জিম্মি করার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাই এসব ব্যবস্থার প্রতিকার দাবি করে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।