স্বর্ণ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ এএম

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আবারও বাড়ছে স্বর্ণের দাম। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুটির বাজারে নতুন গতি তৈরি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ডলারে স্থির থাকার পর আগস্টের শুরু থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ৪০০ ডলার বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে চলতি আগস্টে স্বর্ণের দাম এই শতাব্দীর সেরা মাসগুলোর একটির দিকে এগোচ্ছে। 


এর আগে কোনো এক মাসে স্বর্ণের দাম ১৩ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছিল ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে। স্বর্ণের সাম্প্রতিক এই উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। 


এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের নমনীয় সুদনীতি, দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য এবং তুলনামূলক সহনীয় মুদ্রাস্ফীতি। এসব কারণে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কমেছে এবং ডলারের দরও কমেছে। আর দুর্বল ডলার সাধারণত স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও উদ্বেগজনক ভূ-রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিস্থিতি। এতে বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ আরও বেড়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ আবারও তীব্র হয়েছে। ফলে একটি শান্তি ‘চুক্তি’র সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথও সংকুচিত হচ্ছে। 


সংঘাত আরও বাড়ানো বা আত্মসমর্পণই একমাত্র বিকল্প নয়। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক এখন উদ্বিগ্ন।

 

এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা এবং এর চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে। জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ওয়ার্শের মন্তব্যে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট হননি।

 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগের পর থেকে ট্রাম্প ওয়ার্শকে একাধিকবার ফোন করেছেন। পাশাপাশি ফেডের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার প্রচেষ্টাও আবার শুরু হয়েছে।

 

এসব ঘটনা বন্ড বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ড গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে ৩০ বছর মেয়াদি বন্ড এবং ৩০ বছর মেয়াদি মুদ্রাস্ফীতি-সুরক্ষিত বন্ডের ইল্ড যথাক্রমে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিউইয়র্ক ফেডে তাদের কাস্টডিতে থাকা মার্কিন ট্রেজারির পরিমাণও কমিয়ে চলেছে। এসব সম্পদের পরিমাণ ২০১২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

 

অর্থনীতিবিদ ফিল সাটল গত সপ্তাহে লিখেছেন, বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে বৈশ্বিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পেয়েছে, তা এখন শেষ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। এর পরের ধাপে বিদেশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ঋণ ধরে রাখার বিষয়ে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা

 

এসব কারণের কোনোটিই একা স্বর্ণের দামে এত বড় উত্থান ঘটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে শক্তিশালী কারণ তৈরি হয়। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

প্রথম প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার গতি কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা আবার বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ২৮৯ টন স্বর্ণ কিনেছে। আগের তিন মাসের তুলনায় যা পাঁচ গুণেরও বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এটি ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার রেকর্ড।

 

গড় দাম বিবেচনায় ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

 

এই রেকর্ডও খুব শিগগির ভেঙে যেতে পারে। জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের এক জরিপে দেখা গেছে, রেকর্ড ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা আগামী ১২ মাসে নিজেদের স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

 

প্রাথমিক তথ্যও সেই প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জুলাইয়ে মোট ২০ মেট্রিক টন স্বর্ণ কিনেছে, যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর মাসিক হিসাবে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।

 

এর ফলে চীনের মোট স্বর্ণের রিজার্ভ বেড়ে রেকর্ড ২ হাজার ৩৭৭ দশমিক ৫ টনে দাঁড়িয়েছে। চীন আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনওয়াইয়ের বিশ্লেষকরা গত সপ্তাহে লিখেছেন, স্বর্ণ সরাসরি ফেডের নীতির সংকেত না হলেও সরকারি খাতের অব্যাহত চাহিদা এবং বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আগ্রহ মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমানোর উপায় হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।

 

স্বর্ণ কি এখনও নিরাপদ আশ্রয়?

 

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ালেও তারা খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ফলে স্বর্ণের সঙ্গে তাদের নতুন করে সম্পর্ক তৈরির পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

 

এটি একমুখী প্রবণতাও নাও হতে পারে। গত কয়েক বছরে স্বর্ণের দামে নজিরবিহীন অস্থিরতার পর মূল্যবান এই ধাতু আগের মতো চূড়ান্ত নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছেও নয়। যদিও তারা সবচেয়ে রক্ষণশীল, দাম নিয়ে কম সংবেদনশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত।

 

গত মাসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বর্ণ অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং এটি কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঝুঁকি মোকাবিলা ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার সুবিধা দেয়। তারল্য নিশ্চিত করার জন্য স্বর্ণ কেনা উচিত নয় বলেও গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

গবেষণার লেখকরা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণকে উচ্চঝুঁকির রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে কৌশলগত সম্পদ বণ্টন ও যথাযথ নীতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পেছনে অন্ধভাবে ছুটবে; এমন সম্ভাবনা কম। 


তবে বিশ্বের রিজার্ভ সম্পদের ওপর আস্থা কমতে থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণও শিগগির ম্লান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েনসহ নানা ইস্যুতে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ওঠানামার মধ্যেই তিনবছর পর হতে যাওয়া বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকে অংশ নিতে বুধবার দিল্লি যাচ্ছে ঢাকার ১০ কর্মকর্তা।


দিল্লিতে আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এই সফরের সরকারি অনুমোদন দিয়ে জারি করা আদেশে বলেছে, কর্মকর্তারা ৭ অক্টোবর বা তার কাছাকাছি সম্ভাব্য তারিখে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ১০ অক্টোবর বা তার কাছাকাছি সম্ভাব্য তারিখে দেশে ফিরবেন।


প্রতিনিধি দলে আরও আছেন রেলপথ মন্ত্রণালযয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, এনবিআর প্রতিনিধি হিসেবে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামীম আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব ফারহানা ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান মামুন-উর-রশিদ আসকারী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) বাকী বিল্লাহ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেরিনা সুলতানা ও বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ।


বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করা এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। জেডব্লিউজিটি সাধারণত বছরে একবার বসে। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ নয়াদিল্লিতে।


২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা আসে এবং এই নিয়মিত বৈঠক আর হয়নি।


এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ খোলা রাখা হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসে।


আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।


গত ২৪ অগাস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে বন্ধ সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম এবং ভারতীয় সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করেন।


বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে বলে বিজ্ঞপ্তিতে তখন জানায় মন্ত্রণালয়।


এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর এ প্রচেষ্টা নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত বাণিজ্য এবং কনস্যুলার বিষয়ের মত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলোর বৈঠক আয়োজনের জন্য কাজ করছে। আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার একটি বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের দিল্লি সফরের কথা রয়েছে। এ ছাড়া কনস্যুলার বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের অন্য একটি বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে দুই পক্ষ কাজ করছে, যার স্বাগতিক হতে যাচ্ছে ঢাকা।


খবরে আরও বলা হয়, বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের জন্য মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটির রওনা হওয়ার কথা ছিল এবং বৈঠকটিও ৭-৮ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু লজিস্টিক সমস্যার কারণে দলটি মঙ্গলবার রওনা হতে পারেনি। ফলে বৈঠকের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।


হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ঢাকা চেয়েছিল বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পর দুই দেশের বাণিজ্য সচিবদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হোক। তবে ভারতীয় পক্ষ ঢাকাকে বলেছে, ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বৈঠক শেষ হওয়ার পরই কেবল সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।


কনস্যুলার বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দুই দেশ। কারণ উভয় পক্ষই ভিসা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সমস্যার সমাধান করতে চাইছে বলেও খবরে বলা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সচিবালয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০০ পিএম

বাজারে মাল্টা, খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খেজুর আমদানিতে শুল্ক-কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 


আজ শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। 


সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার পরও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম কীভাবে ৫২০ টাকায় পৌঁছায়, ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চান তিনি।


অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।


সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, মাল্টার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহের ঘাটতি। তাদের হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়।


উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান আমদানিকারকেরা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।


ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন।


খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে বললেন মন্ত্রী


আসন্ন চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকে দেশে আমদানি হওয়া বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।


সরকার ও ব্যবসায়ী- উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়।


সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্য আলাদা হলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সেই পার্থক্য সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।


খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতার কারণে খেজুর বাংলাদেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রয়োজন।


সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন ও আমদানিপ্রক্রিয়ায় যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।


মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার দেশে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ শতাংশ।


চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।


রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।


এদিকে, গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার।


আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

অনলাইনভিত্তিক প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশ- বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। বাংলাদেশে ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকার পণ্য বিক্রির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি এ পরিমাণ অর্থের ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।


আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


এনবিআর বলছে, রাজধানীর পল্লবীতে অবস্থিত এ  প্রতিষ্ঠানটিতে ঢাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম) অভিযান চালায়। ভ্যাট ফাঁকির আলামত পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও অন্যসব নথি জব্দ করা হয়। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নথি যাচাই করে দেখা যায়, তারা ‘নিয়মবহির্ভূত’ মোট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। যার বিপরীতে ফাঁকি দেওয়া মুসকের (ভ্যাট) পরিমাণ মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা।


এনবিআর জানিয়েছে, কোরিয়ান মার্টের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।


এছাড়া ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে অনলাইনভিত্তিক দোকানগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে এনবিআরের ভ্যাট কমিশনারেট। একাধিক অভিযানে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।

সর্বশেষ সব খবর

তেলের দাম কমে ১০১ ডলার

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৭ পিএম

আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। গত শনিবার ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, এমন সম্ভাবনা আছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সেদিকেই নজর রাখছেন। ফলে আজ সোমবার তেলের দাম কমে গেছে।


জ্বালানি তেল সাধারণত দুভাবে বিক্রি হয়। একটি হলো স্পট মার্কেটে, যে বাজার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তেল কেনা যায়, ফলে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। আরেকটি হলো আগাম কেনাবেচার বাজার, যাকে বলে ফিউচার।


আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রডের নভেম্বর মাসের ফিউচার দর ২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমেছে। কয়েক দিন আগে ১৫ সেপ্টম্বর তেলের দাম ১০৯ ডলারে উঠেছিল।


এ ছাড়া অক্টোবর মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ফিউচার দরও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে।


জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বর এক নোটে বলেছেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেশ ভালো পরিমাণে তেল সরবরাহ হচ্ছে। বিষয়টি আশ্চর্যজনক বলে অভিহিত করেছেন তাঁরা। গত ১০ দিনে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় তা দৈনিক ৬১ লাখ ব্যারেল কম।


তবে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ যে পুরোপুরি কেটে গেছে, তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিষয়ে তিনি হয়তো শিগিগরই সিদ্ধান্ত নেবেন। অদূর ভবিষ্যতে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে, এমন কথা বলেছেন তিনি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কখন। আর যদি কাজটা করতেই হয়, তাহলে পুরো দেশটা উড়িয়ে দেব কি না। তাদের ঠিকমতো আচরণ করতে হবে।’


স্কাই লিংকস ক্যাপিটাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল তাকিয়েদ্দিন মনে করেন, মূলত রপ্তানি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতি কতটা হয়, তেলের দাম তার ওপর নির্ভর করবে। 


তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে বা জাহাজ চলাচলে নতুন করে ঝামেলা হলে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমবে। এতে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে।


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে তেলের দাম ওঠানামা করছে। তবে ১০০ ডলারের নিচে নামেনি এখনো। এর মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১০৯ ডলারে ওঠে। ১৬ সেপ্টেম্বর; অর্থাৎ এক দিনের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৪ ডলারে নেমে আসে। এরপর সোমবার তেলের দাম ১০১ ডলারে নেমে গেল।


ইরান যুদ্ধের প্রভাব


চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১ মার্চ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ৭২ ডলার। ৩০ এপ্রিল তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলার পর্যন্ত ওঠে। যুদ্ধবিরতি শুরু হলে তেলের দাম কমতে কমতে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। 


এরপর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিলে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম যতটা বাড়তে পারত, ততটা বাড়েনি।


তেলের চাহিদা কমছে


এই যে তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম এখনো অতটা বাড়ল না, তার মূল কারণ হলো তেলের চাহিদা কমে যাওয়া। কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যা অনেক দেশ এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকেছে, বিশেষ করে চীনে এই প্রবণতা স্পষ্ট।


গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিস্টাডের হিসাবে, পেট্রোকেমিক্যাল ও পরিবহন জ্বালানিতে তেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বে দৈনিক তেলের চাহিদা ৩৫ লাখ ব্যারেল কমেছে। চাহিদা যত কমেছে, তার অর্ধেকের বেশি কমেছে চীনের ক্ষেত্রে। সে দেশে পরিবহন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক রাসায়নিক শিল্পের প্রসার ঘটছে। ফলে তেলনির্ভর জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যালের চাহিদা কমছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

প্রতি বছর বাজেটের পর দেশে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলো নতুন প্যাকেট তৈরিতে এক ধরনের শুভংকরের ফাঁকি দেয়। জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত সিগারেটের নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী প্যাকেট তৈরিতে সময়ক্ষেপণ করে। এই সময় বাজারে পুরোনো সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হয়। এতে সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারায়। 


চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও দেশের দুই বৃহৎ সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড ও জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। দেশের আইন অনুযায়ী, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে দেওয়া সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। কিন্তু কোম্পানি দুটির সিগারেটের ক্ষেত্রে বাজারে তা পরিপালন হচ্ছে না। যার প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


সূত্র জানায়, সিগারেটের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করেছে এনবিআর। আর সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না বলেও আইন পাস হয়েছে। কিন্তু বাজেটের দুই মাস পরও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন যার প্রমাণ পেয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সাধারণত সিগারেট বিপণনের সময় সর্বশেষ খুচরা মূল্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। 


সংসদে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, খুচরা মূল্যের অধিক দামে কোনো পর্যায়েই সিগারেট বিক্রি করা যাবে না বলেও ভ্যাট গোয়েন্দার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বিগত অর্থবছরের মুদ্রিত প্যাকেট ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো নতুন মূল্যস্তরের দামে বিক্রি করছে। যা আইনের পরিপন্থি বলেও জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটির মহাপরিচালক বাড়তি দামে বিক্রির কারণে সরকারের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট, এলটিইউকে (ভ্যাট) চিঠি দিয়েছেন। কারণ এলটিইউ ভ্যাটের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ পিএলসি এবং জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ভ্যাট বাস্তবায়ন ও ভ্যাট পলিসির সদস্যকে অনুলিপি দিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট পলিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আজিজুর রহমান বলেন, সিগারেট কোম্পানির রাজস্ব সংক্রান্ত একটি চিঠি ভ্যাট গোয়েন্দা থেকে এলটিইউ ভ্যাটকে দেওয়া হয়েছে। এই চিঠির অনুলিপি ভ্যাট পলিসিকেও দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান এনবিআরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।


সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্তরে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে এনবিআর। বাজেটের দুই মাস পরও বাড়তি দামে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং জেটিআইর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে বিক্রি হওয়ায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। 


এ ছাড়া এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, পূর্বের সর্বোচ্চ মূল্যে মুদ্রিত সিগারেটের প্যাকেটে সিল দ্বারা নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রণ করার বিধান রয়েছে। এই সিলও ব্যবহার করছে না ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। আগের বছরে মুদ্রিত প্যাকেট নতুন বছরে তার চেয়ে বেশি দামে বাজারজাত করছে কোম্পানিটি। বাড়তি দামে সিগারেট বাজারজাতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও ভ্যাট গোয়েন্দার চিঠিতে বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মনোনীত পিআর প্রতিষ্ঠান অ্যাবস্ট্রাক্ট স্ট্র্যাটেজির তারিন ফাহিমা এই প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে আইন অমান্য করে সিগারেট বাজারজাতের বিষয়টি উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর এই সংক্রান্ত বক্তব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেবেন বলেও জানান। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বাজারে শুধু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে না। একইভাবে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের উৎপাদিত সিগারেটও। তবে প্রতিষ্ঠানটি নতুন অর্থবছরে নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী প্যাকেট মুদ্রণ করলেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দার কর্মকর্তারা। 


বাড়তি দামে জেটিআইর সিগারেট বিক্রির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মোর্শেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি উল্লেখ করে তার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী পুরোনো মুদ্রিত সিগারেট বাজারজাত করলেও সিলের মাধ্যমে নতুন মূল্য থাকতে হবে। কিন্তু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এই আইন পরিপালন করছে না। গত অর্থবছরের মুদ্রিত প্যাকেট নতুন অর্থবছরে বাড়তি মূল্যে বাজারজাত করছে। পুরোনো প্যাকেট নতুন দামে বিক্রি হওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ভ্যাট আদায় করতে এলটিইউ ভ্যাটকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


সার্বিক বিষয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, সিগারেটের প্যাকেটে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) উল্লেখ থাকার পরও এর চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করা শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণাই নয়, এটি সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ-দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে। ২০২৩ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করে এমআরপির বেশি দামে সিগারেট বিক্রি না করার নির্দেশনা দিলেও বাজারে এর কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।


তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ব্যুরোর গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু গত অর্থবছরেই এমআরপির বেশি দামে সিগারেট বিক্রির কারণে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে। এর অর্থ হলো, বিদ্যমান আইন ও রাজস্ব নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় সরকার একদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলো বাজারে নিজেদের মতো করে মূল্য নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেটের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো এবং সরকারের নির্ধারিত মূল্য কাঠামো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা তামাক ব্যবহার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। কারণ, তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে সিগারেটের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা তামাক ব্যবহারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অথচ বাজারে যদি কোম্পানিগুলো বা তাদের বিক্রয় নেটওয়ার্ক ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে এবং একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তামাক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রাজস্ব সুরক্ষা এবং তামাকের ক্ষতিকর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর স্বার্থে এমআরপি বাস্তবায়নে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ সব খবর