লালপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে লালপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার ( ৫ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) মোঃ আবীর হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার আব্দুল্লাহ , উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড়, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী মৃধা, নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর উপ-পরিচালক রেজাউল করিম,উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাদ আহমেদ , বৈষম্য ছাত্র আন্দোলন প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
এ সময় রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগষ্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু।
পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান খান লাভলু, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লা, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী নুর হাসান প্রমূখ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, "গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দেশ যেন আর কখনও স্বৈরশাসনের পথে ফিরে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নির্যাতন সহ্য করেছেন, আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করছি। অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই তাদের দমাতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।পরিশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় দিনাজপুরের জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণআন্দোলন ক্রমে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে বিস্তৃত হয়। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।
সেই আত্মত্যাগ, গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়কে স্মরণ করতেই প্রতিবছর জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া এবং স্মরণ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নীরব শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট সারা দেশে সরকারী ছুটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সংবাদপত্র অফিসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান দিবসে টাঙ্গাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও গণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (বুধবার, ৫ আগস্ট) সকালে ১১ দলীয় ঐক্য জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের শহিদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কর্মসংস্থান এবং শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন দিতে হবে।
পরে শহীদ মিনার থেকে একটি গণ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়। মিছিলে ১১ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন। বুধবার (৫ আগস্ট) সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাঁধন, সরকারি সা’দত কলেজ ইউনিট, বিভাগীয় জোন-০১, টাঙ্গাইল এর সহযোগিতায় এই উদ্যোগে পাঠাগারের শতাধিক পাঠক-সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নারী-পুরুষ, যুবক, বয়স্কসহ নানা বয়সী মানুষ বিনামূল্যে নিজেদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্তদান এবং জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়। অনেকেই প্রথমবারের মতো নিজেদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পেরে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ক্যাম্পেইনে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অংশগ্রহণকারীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেন।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বাতিঘর আদর্শ পাঠগারের সভাপতি মোঃ শাহজাহান, জাহিদ হাসান, মোঃ রাকিব হোসেন, মোঃ মাহবুব হাসান, আমিনুল ইসলাম অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান, কথা সাহিত্যিক কামরুল মোজাহীদ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন, রেজওয়ান শরিফ, তনয় বিশ্বাস প্রমুখ।
ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবা সোহা বলেন, ‘আগে কখনো রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়নি। এখানে এসে বিনামূল্যে নিজের রক্তের গ্রুপ জানতে পারলাম। পাশাপাশি রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও জানতে পেরেছি।’
রক্তের গ্রুপ জানতে আসা প্রবীন ব্যক্তি জহের আলী বলেন ‘এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলাকার অনেকেই নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানতেন না। বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বিনামূল্যে সেই সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে। আমরা তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
কথা সাহিত্যিক কামরুল মোজাহীদ বলেন ‘প্রত্যেক মানুষের নিজের রক্তের গ্রুপ জানা উচিত। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি জরুরি সময়ে নিরাপদ রক্ত সংগ্রহও সহজ হবে।’
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, "আলোকিত সমাজ গড়তে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার এর শুভ উদ্যোগের পাশে সবসময় থাকবো।"
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতার সময় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় রক্তের গ্রুপ না জানার কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়, যা জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে। সাধারণ মানুষের এই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবামূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবে।’
উল্লেখ্য, “এসো বই পড়ি নিজেকে আলোকিত করি” স্লোগানকে ধারণ করে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক, সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি কমে এবং বাড়ে, কয়েক দফায় এমন পরিস্থিতির পর আবারও বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ৫২.১৬মিটার (বিপদসীমা ৫২.১৫মিটার) যা বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির এ হার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। আগামী ২/৩ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুর্ণা, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বহু কাঁচা-পাকা সড়কে পানি উঠে পড়ায়।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ঘন্টার ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগেও কয়েক দফায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে। ফের উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি আবার বাড়ছে।
এছাড়া তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ রায় বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বুধবার ভোর থেকে আবারও বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিনদিনের মাথায় পানির প্রবাহ কমে যেতে পারে।
এদিকে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টায় ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ২৯.৭০মিটার (বিপদসীমা ৩০.৮৭মিটার) যা বিপদসীমার ১১৭সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাটের ধরলা নদীর ভাঙনে মোগলহাট ইউনিয়ন ছাড়াও লালমনিরহাট সদর উপজেলার আরও ২টি (কুলাঘাট ও বড়বাড়ী) ইউনিয়নে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধরলা নদী পাড়ে হু হু করে পানি বেড়ই চলছে। হঠাৎ এ পানি বৃদ্ধি পাওয়ার লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাটসহ সবজির খেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল।
এছাড়াও বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টা তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় ৬সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, লালমনিরহাটের তিস্তা, ধরলা, রত্নাই, স্বর্ণামতি, সানিয়াজান, সাকোয়া, চাতলা, মালদহ, ত্রিমোহীনি, মরাসতি, গিরিধারী, গিদারী, ধোলাই, শিংগীমারী, ছিনাকাটা, ধলাই ও ভেটেশ্বর নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গের খবর পাওয়া গেছে।
দেশের জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে আরও কিছু সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির বর্তমান সংকট তাৎক্ষণিকভাবে দূর করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে এবং এই সময়টিকে সবাইকে মেনে নিতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার ফল। বাংলাদেশ জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও অতীতে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও গ্যাসীকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। ফলে দুই-তিন দিন পরপর কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিং হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, শিল্প-কারখানা সচল রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এই সময়টিকে একটি পরিবর্তনকাল হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অস্থিমজ্জায় জবাবদিহিতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ধারণ করতে পারলে দেশ পরিবর্তন করা কঠিন নয়। উন্নয়ন একটি সম্মিলিত প্রয়াস এবং জুলাই আন্দোলনে গড়ে ওঠা তারুণ্যের সামাজিক শক্তিকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও জানান, সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে। চলতি বছরই প্রায় ১৮৭ একর জায়গাজুড়ে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হবে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ এবং সিলেট-চট্টগ্রাম সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সময়ে আখাউড়া-সিলেট রেলপথের পাশাপাশি সিলেট-চট্টগ্রাম রেলসংযোগের কাজও সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আলোচনা সভায় জুলাই যোদ্ধারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হয়রানি ও অসম্মানিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। জুলাই যোদ্ধা লিটন আহমদ বলেন, ভাতার জন্য কেউ আন্দোলনে যাননি। বরং গেজেটপ্রাপ্ত যোদ্ধারা নানা ধরনের হুমকির মুখে রয়েছেন। একই সঙ্গে জুলাই-সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে ধীরগতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের স্বজনদের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হন এবং শহীদ পরিবার গুলোর নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসএমপি কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৪টি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।