ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১১ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে হট্টগোল ও একদল অংশগ্রহণকারীর অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ‘লজ্জিত ও ব্যথিত’ হওয়ার কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।


তবে ভুলের জন্য মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হট্টগোল অব্যাহত রাখা এবং সংসদের মতো ‘ওয়াকআউট’ করাকে হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনাকাঙ্ক্ষিত বলেছেন।


বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।


প্রামাণ্যচিত্র শেষ হওয়ার পর জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন ঘটনা ও ব্যক্তির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকার অভিযোগ তোলেন।


একপর্যায়ে তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে এনসিপির সদস্য সচিব, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে প্রামাণ্যচিত্রের অসংগতি সংশোধনের দাবি জানান।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন। তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।


হট্টগোলের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়।


হট্টগোলের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন বিদেশি অতিথিকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে দেখা যায়। পরে রাষ্ট্রপতিও তার বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেন।


গেল ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় এই পদের কার্যভার পান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।


হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। জুলাই যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার জন্যই রাষ্ট্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু যে দৃশ্য এখানে দেখলাম, সেটিতে অত্যন্ত দুঃখিত এবং লজ্জিত হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি।”


সকালে জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন’ দেখা গেলেও বিকালের অনুষ্ঠানে তা দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।


প্রামাণ্যচিত্রের ভুল স্বীকার করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “নিশ্চয়ই এখানে ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল আছে। প্রথম ভুল আমি যেখানে দেখেছি, সেখানে তো আবু সাঈদের ছবিই নাই। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি হল না। সেখানে আরো নাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তো নাই।”


ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পর সবাইকে শান্ত হওয়া উচিত ছিল, বলেন তিনি।


“সুতরাং কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মাননীয় মন্ত্রী জোড় হাতে স্বীকার করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন, বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। তারপর তো শান্ত হওয়া উচিত। এ ধরনের একটা জাতীয় অনুষ্ঠানে এটাকে পুষে সংসদের মতো একটা ওয়াকআউট, এটি বাঞ্ছনীয় নয়।”


আখতার হোসেন তার অনুসারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।


তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি মাননীয় সংসদ সদস্য আখতার, তিনি তার অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে নেতাকে তো মানে না সহজে অনুসারীরা। প্রতি মুহূর্তেই তারা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে।”


অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি অতিথিরা চলে যাওয়ার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এখানে যারা বিদেশি বসা ছিল...কিন্তু তারা তো চলেই গিয়েছে।”


বিদেশি অতিথিদের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, বলেন তিনি।


হাফিজ উদ্দিন বলেন, “জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না।”


নির্বাচিত সরকারকে প্রয়োজনীয় সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভাই, আমরা তো জনগণের ভোট নিয়ে এখানে এসেছি। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি আমরা। হাওয়া থেকে উড়ে এসে বসি নাই এখানে। সুতরাং এই সরকার নির্বাচিত একটি সরকার, এটুকু শ্রদ্ধা-সম্মান প্রাপ্য।”


সরকার ভুল করলে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


“ভুল তো আমরা করি। আরো হয়তো সামনে আরো ভুল করব। সেই ভুল করলে তার জন্য মাসুলও দেব। কিন্তু সবাই মিলে ভুল সংশোধন করতে চাই।”


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া একজন দৃষ্টিহীন জুলাই যোদ্ধা ও তার মায়ের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।


তিনি বলেন, “মা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছেন। তার ছেলেটি চোখ হারিয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, আইনের শাসন কায়েম করার জন্য।”


জুলাই যোদ্ধাদের প্রয়োজন মেটাতে মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হলে তা জাতির জন্য লজ্জার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


“আজকে তারা আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে যদি মর্যাদাই না পান, তাদেরকে যদি আবারও ছোটখাটো চাওয়া-পাওয়ার জন্য মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, সেটি জাতির জন্য লজ্জা।”


সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের দায়িত্ব নেবে বলেও আশ্বস্ত করেন হাফিজ উদ্দিন।


তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, সেইসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটাই সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যারা আহত, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদেরকে সুস্থ করে তোলা এই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।”


সরকার আওয়ামী লীগের মতো হতে চায় না, এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না। হতেও চাই না।”


আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “(শেখ হাসিনা) আবার বলে যে ডিসেম্বর মাসে আসবেন, দেশে এসে পদার্পণ করবেন। আমরা অপেক্ষা করে আছি। আসেন দেশে। দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।”


তিনি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে আরেকটা করব বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের জনগণের শাসন, গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব আমরা।”


জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। সেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।


মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনো বিভাজন, কোনো বিদ্বেষ বা কোনো সংকীর্ণ স্বার্থ যেন আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।”


গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “কেউ কাউকে বলতে শুনেছি, আমরা কি নির্বাচনের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছি নাকি? নির্বাচন তো গণতন্ত্রের অনুষঙ্গ।”


“এই দেশে যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিনই আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। সুতরাং গণতন্ত্র কোনো হেলাফেলার জিনিস নয়।”


রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন থাকার কথাও বলেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি ক্ষুদ্র ব্যক্তি। কিন্তু একটি বড় চেয়ার আপনারাই দিয়েছেন। সেখানে বসে আছি। চেয়ারের মর্যাদা যাতে সবসময় থাকে, সেই জন্য আমার জন্য নয়, চেয়ারের মর্যাদা রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য আমরা প্রত্যেকটি নাগরিক সচেতন থাকব।”




  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৬ এএম

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের (১৯) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 


পুলিশ বলছে, খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। রাত ১০টার দিকে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যে কক্ষে মরিয়ামের লাশ পাওয়া গেছে, তার পাশের পক্ষে অবস্থান করছিলেন এমপি নজরুল ইসলাম। এ ঘটনার পর রাতেই নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় রেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। 


সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে ধারণ করা তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ১৯ বছরের তরুণী মরিয়ামকে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। পরে নজরুল ইসলাম জানান, মরিয়াম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। 


এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ ন্যাম ভবনে উদ্ধার


এদিকে, পল্লবী থানায় দ্বিতীয় স্ত্রীর মামার করা হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নজরুল ইসলাম গতকাল ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এমপি নজরুল আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। 


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ৭টায় তিনিসহ পুলিশের একটি দল ন্যাম ভবনে যায়। ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় এমপি নজরুল ইসলাম বাসায় ছিলেন। ফ্ল্যাটটি তাঁর নামে বরাদ্দ। তিনি বলেন, ‘কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’


রাতে সরেজমিন দেখা যায়, ন্যাম ভবনের ৩ নম্বর গেটের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাহারায়। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে ডান পাশে একটু সামনে গেলে ৫ নম্বর ভবন। ভবনটির কাছে কাউকে যেতে দিচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রাত ৯টা ৪৮ মিনিটে ভবন থেকে সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যদের বের হতে দেখা যায়। তবে তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তার কিছুক্ষণ পর রাত ৯টার ৫৩ মিনিটের দিকে ৫ নম্বর ভবনটির নিচ থেকে তিনটি গাড়ি বেরিয়ে আসে। প্রথমে একটি গাড়ি, তার পেছনেই একটি অ্যাম্বুলেন্স। এরপর অন্য আরেকটি গাড়ি বের হয়ে যায়। তবে এ সময় নজরুল ইসলাম ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের কাউকে দেখা যায়নি। 


এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ন্যাম ভবনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। ৫ নম্বর ভবনসহ প্রতিটি ভবনই ১০ তলা। তবে ৫ নম্বর ভবনের অধিকাংশ তলায় কোনো আলো দেখা যায়নি।


পুলিশ জানায়, ৫ নম্বর ভবনের দোতলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি নজরুল ইসলাম সস্ত্রীক বসবাস করেন। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়ামের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখা যায়। ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানার ওসিকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলামত সংগ্রহের জন্য পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে ডাকা হয়। তারা আসার আগ পর্যন্ত ওই কক্ষে প্রবেশ করেনি থানা পুলিশ। রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।


শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। এরপর ঝুলন্ত অবস্থায় এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ পাওয়া গেছে।


গত জুলাইয়ে মরিয়ামের সঙ্গে এমপি নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার পর জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমে ওই ভিডিওকে প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন।


অবশ্য নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানান, মরিয়াম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসায় তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।


গাজী নজরুল ফেসবুক পোস্টে বলেন, গত ১৩ জুলাই অতিনি প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে যান। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিস। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিসে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের কক্ষে ঢোকেন। এরপর তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন।


জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। এক লাফে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন-চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। 


আজ রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হবে। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ল।


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।


এর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।


প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপণ্যের বাজারেও।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৫ পিএম

সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের ইসরায়েলি এক লেখকের বই উপহার হিসেবে দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে তা ফেরত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববার দুপুরে নিজ দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বইটি ফেরত নেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


সৌদি আরবে গত অগাস্টে ‘৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। সেখানে তাদের বিভিন্ন উপহারের সঙ্গে ইসরায়েলি লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস: আ ব্রিফ হিস্টোরি অব ইনফরমেশন নেটওয়ার্কস ফ্রম দ্য স্টোন এজ টু এআই’ বইটি দেওয়া হয়েছিল।


পরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থি সংগঠন এ নিয়ে সমালোচনা করে ও প্রতিবাদ জানায়। এর কিছু দিন পর বই ফেরত নেওয়ার এ ঘোষণা এল।


আজ রোববার বই ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিজয়ী হাফেজদের দেওয়া ‘নেক্সাস’ বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও সহায়তাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”


প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পুনর্ব্যক্ত করে শামীম কায়সার বলেন, “ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”


আন্তর্জাতিক এসব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।


এসময় বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া, হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী, হাফেজা রাবিতা বিনতে রমাদান ও মুসফিরা বিনতে মাহমুদসহ তাদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৭ পিএম

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে আগের ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধনক্রমে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম তারিখ সংশোধন করে ২৩ সেপ্টেম্বর করা হলো।


এর আগে, প্রকাশিত বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী-ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর। তবে দিবসটি ২৩ সেপ্টেম্বর পড়ায় ছুটি একদিন এগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।


জানা যায়, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর এ ছুটি নির্ভর করে। দিবসটির আগে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকলে নোটিশ দেওয়া হয়।


ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী


‘ইয়াজদাহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ অর্থ ১১তম দিনের ফাতিহা বা ফাতেহা শরিফ। প্রতি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে দিবসটি পালন করা হয়।


বড়পির হজরত আবদুল কাদির জিলানির (রহ.) ওফাত (মৃত্যু) দিবস হিসেবে এটি পালিত হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। একে অনেক সময় ‘গেয়ারভি শরিফ’ বলা হয়।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০২ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের সফরসঙ্গী থাকছেন চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন। 


আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যকালে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম


সরকারপ্রধানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। নিজ বক্তৃতায় সরকারপ্রধান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।


নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর বিষয়ে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত থাকবেন।


পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন দুই রাজনৈতিক দলের নেতা। তারা হলেন- বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।


সরকারপ্রধানের নিউইয়র্কের সফরসূচির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, কার্যকর সফরের জন‍্য যতক্ষণ সময়ের প্রয়োজন, ততদিনের জন্যই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ যাচ্ছেন। যেখানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ মোট ৫টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। 


এ ছাড়াও বাংলাদেশ দু’টি সাইডলাইন ইভেন্টের আয়োজন করেছে। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বহুপক্ষীয় সফরের কর্মসূচিতে অনেক সময় অনেক কিছুই যোগ-বিয়োগ হতে পারে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তেমনি অন্যদিকে বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।


পররাষ্ট্র সচিব জানান, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্যদিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারপ্রধানের দেশের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ‘সংক্ষিপ্ত’ সময়ে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


তিনি বলেছেন, ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তার মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।


রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আশা করি রামিসা হত্যার বিচারের মত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটা আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব।”


১৩ বছর বয়সি অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি তখন পাওয়া যায়নি।


রোববারের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সর্বশেষ হিসাব মতে আগে তিনজন, আজকে একজন, চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে।"


যে কিশোরদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের কম হতে পারে বলে ধারণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, “এদের সাথে অপ্রতিমের সম্পর্ক, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল, প্রায় সময় আড্ডা দিত।”


কুমিল্লার পুলিশ জানিয়েছিল, অপ্রিতম সেদিন যাদের সঙ্গে বেরিয়েছিল, তাদের একজন, তুহিনের বাসা থেকেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।


তুহিনকেই ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ হিসেবে বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "মোবাইলসহ সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি করানো যায় কিনা এগুলো নিয়ে কাজ করছে।"