ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তির হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রেস ব্রিফিং করেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার ৫ মাসের মাথায় প্রথম এ সিএফটিএ করেছে। তিনি বলেন, এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে। কোরিয়া পাবে ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতির একটি দেশ। আমরা একটি বড় দেশকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার পণ্য হিসেবে এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে।
অন্যদিকে কোরিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০৩৪ সালে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ইকোনমিক সাইজে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের ৮ শতাংশ গ্রোথ দরকার। তার জন্য প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ। আমরা এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকরণে যাচ্ছে। আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সেখানে আমরা প্রযুক্তি ও সাপ্লাইচেইনে কাজ করতে চাই।
কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন কোরিয়ান কোম্পানি চুক্তির ফলে এ দেশে সুবিধারজনকভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনও তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক বেড়েছে। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও সিরামিক পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-সংক্রান্ত এক সভায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।
বাজুস জানিয়েছে, আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভা
আগামী ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর করতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন মালিক পক্ষ। বুধবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য গঠিত হওয়া নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক পক্ষ এ দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক শেষে জানিয়েছেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের অফিসে বুধবার সকাল ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে। জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন মজুরি হাতে পাবেন বলে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি।
পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন এ সিদ্ধান্তে একমত প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার। এ সময় শ্রমিকদের কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এ শ্রমিক নেতা।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ করে আসছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) করা হয় শেখ আশফাকুর রহমানকে। বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। আজ মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে ঢাকার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
ছবি : সংগৃহীত
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বোর্ডের কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় এ সভা শুরু হয়। সভাটি বুধবার বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় পরিবর্তন করা হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সভার সময় পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শ্রমঅসন্তোষ ও মজুরি প্রসঙ্গে কথা বলেন। এ মাসের মধ্যেই মজুরিকাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ বুধবারের মধ্যে মজুরি বোর্ডের বৈঠক ডাকতে সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।
গত রোববার (১ নভেম্বর) তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সেদিন সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
এ ছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবারের মধ্যেই বৈঠকের নোটিশ দেবে নিন্মতম মজুরি বোর্ড। মজুরি বোর্ডের একজন সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার তারা প্রথম বৈঠকে বসবেন বলে আশা করছেন। কারণ, তারপর দুই দিন সরকারি ছুটি। বৃহস্পতিবার বৈঠক না হলে অনেক দেরি হয়ে যায়।
তিনি জানান, বোর্ড গঠনের পর গত তিন দিনেও বৈঠক না হওয়ায় শ্রমিক নেতাসহ বিভিন্ন পক্ষের চাপ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেন তিনি।
জানতে চাইলে নিন্মতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার কিংবা আগামীকাল বুধবারের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে মজুরি পুনর্নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের নোটিশ জারি করা হবে।’ মঙ্গলবার পর্যন্ত বৈঠকের নোটিশ জারি করা হয়নি। ফলে বুধবার এ ব্যাপারে নোটিশ জারির বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
অন্যদিকে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
এছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামে এ কর্মসূচির আওতায় দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) শুরু হওয়া এ আবেদনপ্রক্রিয়া চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ কর্মসূচির আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ এককালীন একসঙ্গে দেওয়া হবে। অনুদানের অর্থের জোগান আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে।
আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারবেন। আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
এর আগে কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই কার্যক্রমে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়ে।
জেলাভিত্তিক আবেদনের মধ্যে নেত্রকোণায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫১টি, রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি আবেদন জমা পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মসূচিটির নাম ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’। এর লক্ষ্য উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন এবং অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
ঋণ প্রদানের বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছিলেন, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি থাকবে। ব্যাংকারদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাও কমিটিতে থাকবেন। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের নির্বাচন করে অর্থায়ন করা হবে।
কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসএমইএসপিডি সার্কুলার নম্বর-০৫-এর মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। বিস্তারিত নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) এবং এসএমই পোর্টালে (www.bb.org.bd/smespd_portal) পাওয়া যাবে।