• প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি কমে এবং বাড়ে, কয়েক দফায় এমন পরিস্থিতির পর আবারও বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ৫২.১৬মিটার (বিপদসীমা ৫২.১৫মিটার) যা বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

‎পানি বৃদ্ধির এ হার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। আগামী ২/৩ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

‎তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুর্ণা, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বহু কাঁচা-পাকা সড়কে পানি উঠে পড়ায়।

‎স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ঘন্টার ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগেও কয়েক দফায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে। ফের উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি আবার বাড়ছে।

‎এছাড়া তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

‎দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ রায় বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বুধবার ভোর থেকে আবারও বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিনদিনের মাথায় পানির প্রবাহ কমে যেতে পারে।

‎এদিকে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টায় ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ২৯.৭০মিটার (বিপদসীমা ৩০.৮৭মিটার) যা বিপদসীমার ১১৭সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

‎লালমনিরহাটের ধরলা নদীর ভাঙনে মোগলহাট ইউনিয়ন ছাড়াও লালমনিরহাট সদর উপজেলার আরও ২টি (কুলাঘাট ও বড়বাড়ী) ইউনিয়নে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

‎পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধরলা নদী পাড়ে হু হু করে পানি বেড়ই চলছে। হঠাৎ এ পানি বৃদ্ধি পাওয়ার লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাটসহ সবজির খেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল।


এছাড়াও বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টা তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় ৬সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

‎উল্লেখ্য যে, লালমনিরহাটের তিস্তা, ধরলা, রত্নাই, স্বর্ণামতি, সানিয়াজান, সাকোয়া, চাতলা, মালদহ, ত্রিমোহীনি, মরাসতি, গিরিধারী, গিদারী, ধোলাই, শিংগীমারী, ছিনাকাটা, ধলাই ও ভেটেশ্বর নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গের খবর পাওয়া গেছে।




  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জামিনে কারামুক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে গিয়ে দলটির চার নেতাকর্মী আটক হয়েছেন।


রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নোয়াখালী জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




আটকরা হলেন, সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের মৃত শফি উল্যার ছেলে ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), একই গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. বাহারের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. খোকনের ছেলে মো. নাজিম (১৮)। পুলিশ জানায়, তারা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন জুমার নামাজ শেষে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচির জের ধরে পুরো উপজেলা উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। রোববার তাদের মধ্যে চারজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে এক ব্যাগ ফুলের মালা নিয়ে কারাগারের ফটকে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। পুলিশ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযান চালিয়ে ফুলের মালাসহ চারজনকে আটক করে।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বজনেরা একটি ফুলের মালা নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা এক ব্যাগ ফুলের মালা নিয়ে এসেছিলেন এবং তারা জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন নন। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে তারা ছবি তুলে শোডাউন করতে চেয়েছিলেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে যুবদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. সোহাগ ওরফে সোহেল (৩৫) নামে ওই যুবদল নেতা আহত হয়েছেন।


রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


গুলিবিদ্ধ সোহেল গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। তিনি ওই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মাহফুজ মিয়ার ছেলে।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই চার বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন সোহেল। গত বুধবার দুপুরে পাশের আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ এলাকায় রসুলপুর গ্রামের যুবদল কর্মী সুমনকে পথরোধ করে মারধর করেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সোহেলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবিরের নেতা ছেনি আলম, নাছির, জহির ও চশমা জাবেদের নেতৃত্বে সোহেলকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।  


গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবীবুর রহমান হাবীব অভিযোগ করেন, গোপালপুর ইউনিয়নে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি না করলে বসবাস করা কঠিন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মিরা যুবদল নেতা সোহেলকে বাড়িতে গুলি করে পালিয়ে যায়।  


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার আবু তাহের। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।


বেগমগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শ (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, এলজির ছররা গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। আঘাত তেমন গুরুতর নয়। রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

পানির নিচের গ্যাস পাইপে লিকেজ


  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২২ এএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরবাগ এলাকায় পানির নিচে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিয়েছে। এ কারণে লক্ষ্মীপুর জেলার পুরো এলাকা এবং নোয়াখালীর দুটি সিএনজি স্টেশন ও বেগমগঞ্জ শিল্প এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ১৫০জন গ্রাহক ও চারটি সিএনজি স্টেশন গ্যাস সংকটে পড়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত মেরামতকাজ শেষ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বেগমগঞ্জের কেন্দুরবাগ এলাকায় লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশের একটি সেতুর নিচে পানির তলদেশে থাকা পাইপলাইনে লিকেজ শনাক্ত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার রাত থেকে ওই লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুর জেলার বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় পরিবহন চালক ও যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


বাখরাবাদ নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ৯ আগস্ট সকাল থেকে লিকেজ মেরামতের কাজ শুরু করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার মধ্যরাতের মধ্যে মেরামত শেষ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। এজন্য দ্রুত কাজ চলছে। 


যোগাযোগ করা হলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, কেন্দুরবাগ এলাকায় পানির নিচে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনটি ১০ ফুট পানির নিচে থাকায় মেরামতকাজ কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। এজন্য মেরামত না করে নতুন পাইপ দিয়ে বাইপাস লাইন তৈরী করে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হবে।   


তিনি আরও বলেন, লিকেজের কারণে লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় ৭ হাজার আবাসিক গ্রাহক, বাণিজ্যিক ১৫০জন গ্রাহক ও বেগমগঞ্জের দুটি সিএনজি স্টেশন ও লক্ষীপুরের দুটি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৩ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের এক মাস না যেতেই মারা গেছে প্রায় তিন শতাধিক গাছ। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে করা এ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু রোপণের পর সঠিকভাবে পরিচর্যা না করার কারণে অধিকাংশ চারা মারা গেছে। 


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার পুটিমারি ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত দেড় কিলোমিটার অংশে খাল খনন কাজ করা হয়। সেখানে খালের দুইপাশে ৭০০ তাল ও ১২০০ ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। সেখানে তালগাছের চারা রোপণ ও গাছের চারা ঘিরে রাখার জন্য চারা প্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০১ টাকা। ফলজ গাছের চারা প্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। 



তবে  বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী রোপণ করা তাল গাছের চারা ৭০ টাকা এবং প্লাস্টিক নেট গার্ড যার বর্তমান বাজার মূল্য ২০০ টাকা । রোপণ করা ফলজ গাছের চারার বর্তমান বাজার মূল্য ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা। এতে তাল গাছের চারায় প্রায় ২০০ টাকা এবং ফলজ গাছে ১০ থেকে ২০ টাকা উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে।  


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৮ - ২০১৯ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ধাইজান নদীটি খনন করা হয়। খনন হওয়া নদীকে খাল দেখিয়ে ফের নামমাত্র খনন করা হয়েছে। এক মাস না যেতেই খালের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। খালের পাড়জুড়ে রোপণ করা দুপাশে সারি সারি প্রায় তিন শতাধিক তালের গাছের চারা মারা গেছে। কোথাও গাছের পাতা ঝরে গেছে, আবার কোথাও শুধু শুকনো ডালপালা পড়ে আছে। কয়েকটি স্থানে গাছের চারার গোড়ায় মাটি শক্ত হয়ে থাকলেও নিয়মিত পানি দেওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও এর কোন সুফল মিলবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 


স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগটি শুরুতে ভালো মনে হয়েছিল। কিন্তু গাছের চারা লাগানোর পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করা হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক গাছের চারা মারা গেছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্য নেওয়া উদ্যোগও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 


স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, শুরুতে খাল খননের কথা শুনে ভাবছিলাম এটি হলে এলাকার কৃষকদের সুবিধা হবে । কিন্তু সেখানে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে সেগুলো মরে গেছে। তাছাড়া খাল খননের এক মাস না যেতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। 


আরেক বাসিন্দা খালেক উদ্দিন বলেন, এখানে নদীকে খাল দেখিয়ে খনন করা হয়েছে । খালের দুই পাশে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে তবে সেগুলো এক মাস না যেতে প্রায় ৩০০ গাছ মরে গেছে। ভালো মানের চারা না লাগানোর কারণে অল্প সময়ে এগুলো মারা গেল । এখানে শুধু ঘিরে রাখা দেখা যাচ্ছে, ভিতরে চারা মরা । 


বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, চারা অল্প টাকায় কেনার কারণে রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে মরে গেছে । শুনেছি এক গাছে ৫০১ টাকা ব্যয় করা হয়েছে তবে এ টাকা আসলেই ব্যয় করলে গাছ ভালো থাকত । বরাদ্দ সঠিক ব্যবহার না করার কারণে এমন হয়েছে । 


এবিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও পুটিমারি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প আমার নামে আছে আমি সভাপতি । ইউনিয়ন পরিষদ , উপজেলার মুকুল ভাই সহযোগিতায় আছেন। এছাড়াও মুকুল ভাই ২০০ তাল গাছের চারা ম্যানেজ করে দিয়েছে। সেখানে পরিচর্যার গাফিলতি আছে , মরা গাছগুলো নতুন করে লাগানো হবে। কোনো তাল গাছ ৪০ টাকা ,আবার কোনোটা ৮০ টাকায় কেনা হয়েছে।  


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান বলেন, সেখানে তালের ৭০০ গাছ লাগার কথা থাকলেও আমরা এক হাজার লাগিয়েছি । সেখানে যে গাছগুলো মারা গেছে সেগুলো নতুন করে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে । 


এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন , বিষয়টি জানালেন সেখানে কোনো রকম অনিয়ম থাকলে সেটি খতিয়ে দেখা হবে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

শরীয়তপুরে জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও অসহায় মানুষের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 


শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি আল আসমাউল হুসনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা কৃষক দলের সভাপতি হাজী বিএম হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডামুড্যা পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোশারেফ তালুকদার। 


কর্মসূচিতে এসময় উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নুরজাহান বেগম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা হক মনি, নড়িয়া উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম, সহ-সভাপতি আছিয়া বেগম, নড়িয়া পৌরসভা মহিলা দলের আহবায়ক শাহনাজ বেগম, জাজিরা পৌরসভা মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক রেখা ইসলাম, শরীয়তপুর পৌরসভা মহিলা দলের সদস্য সালমা বেগম, গোসাইরহাট উপজেলা মহিলা দল নেত্রী রানী সহ জেলা, বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আল আসমাউল হুসনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার এক বিশাল জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা এই কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। এটা অব্যাহত থাকবে। 

তিনি আরও বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মহিলা দলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”


প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী বিএম হারুন অর রশিদ বলেন, “বৃক্ষ আমাদের জীবন ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং গাছের পরিচর্যা করতে হবে। পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষের কল্যাণে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে।”


পরে অতিথিরা শহীদ মিনার চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ শিক্ষার্থীদের  মাঝে ১ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। 


​রবিবার (৯ আগস্ট) নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, নাটোর ১ , ( লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন।


মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইসমত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন: লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ হারুন-অর রশিদ (পাপ্পু), গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সহ - সভাপতি ও সাপ্তাহিক লালপুর বার্তার সম্পাদক আব্দুল মোতালেব রায়হান, যুগ্ম সম্পাদক ফজলুর রহমান, যুগ্ম সজিবুল ইসলাম হৃদয় দপ্তর সম্পাদক মিঠু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শিমুল আলী প্রমুখ।