জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল
সিলেট মহানগরীর মেজরটিলায় গড়ে ওঠা ‘জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল’ এখন নানা সমস্যায় জড়জড়িত হয়ে পড়ছে। পরিচালনার নানা সমস্যায় এ হাসপাতালটি এখন রোগীদের সঠিক চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেনা।
অন্ধজনে আলো দিতে প্রায় অর্ধশত বছর আগে ‘জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে মহানগরীর মেজরটিলায় এ হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়েছিল। চক্ষুসেবায় এটিই হচ্ছে সিলেটের সবচেয়ে পুরনো হাসপাতাল। দীর্ঘ পথচলায় স্বেচ্ছাসেবী হাসপাতালটি ফিরিয়ে দিয়েছে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীর চোখের আলো। কিন্তু নানা অনিয়মের বেড়াজালে আটকে হাসপাতালটি এখন নিজেই অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে। অব্যবস্থাপনা, কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, আয়ের উৎস সংকোচন এবং পাঁচ বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় দিন দিন সংকট বেড়েই চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। কমছে সেবা ও রোগীর সংখ্যাও।
সিলেটে চক্ষু রোগীদের স্বল্প খরচে সেবা দেওয়ার লক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর স্থাপন করা হয় ‘জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল’। সরকারি-বেসরকারি অনুদান ও নিজস্ব আয় দিয়ে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে হাসপাতালটি চক্ষুসেবা দিয়ে আসছে। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও সেবা প্রদানের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারও হতো হাসপাতালটিতে। চক্ষুর চিকিৎসায় হাসপাতালটির বেশ সুনামও ছিল। সরকারি কর্মকর্তা ও সিলেটের বিশিষ্টজনের সমন্বয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত ২৫ সদস্যের কমিটির মধ্যে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। পর্ষদের বাকিরা ছিলেন জীবন সদস্য ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা। পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ কমিটি ভেঙে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তানির্ভর ওই কমিটি থেকে বাদ পড়েন আগের কমিটির অনেক জীবন সদস্য। ওই সময় হাসপাতালের নিজস্ব আয়ের উৎস বেশ কিছু দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়। এ নিয়ে আগের কমিটির নেতৃবৃন্দ আদালতের শরণাপন্ন হন। এতে কমতে শুরু হাসপাতালের আয়।
এদিকে, নূন্যতম প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় ২০২০-২০২১ সালের পর থেকে হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। বর্তমানে অবৈধভাবেই চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, আয় সংকোচন ও কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় দিন দিন হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও অপারেশনের রোগীর সংখ্যাও কমছে।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল না থাকায় ২০২০-২০২১ সেশনের পর হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। এখন ২০২১-২০২২ সালের জন্য লাইসেন্স নবায়ন ফি জমা দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে লাইসেন্স আপডেট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, সাবেক জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এডহক কমিটি করেছেন। হাসপাতালের আয়ের উৎস অনেক দোকানপাট ভেঙেছেন। ফলে আয় কমেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বর্তমান কমিটিতে থাকলেও লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। ফলে অবৈধভাবে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। সেবা কমে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যাও কমছে।
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারিও সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, আগের পরিচালনা পর্ষদ নিয়মতান্ত্রিকপন্থায় হাসপাতালটি পরিচালনা করেছেন। তারা নিয়মমাফিক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেননি। লাইসেন্স নবায়নেরও উদ্যোগ নেননি। বর্তমানে নিয়মে ফিরছে হাসপাতালটি। ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে কয়েক মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৬ বছর শেখ হাসিনা ও তার সন্ত্রাসী এমপিগুলো দেশে এতো লুটপাট করেছে যা বিশ্বের কোথাও হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় চোরের দল মানুষ দেখেনি। দেশের সম্পদ ও টাকা লুপ পাট করে তারা বিদেশে প্রাসাদ তৈরী করেছে। তাদের পতনের পর এখন বিদেশের সে সব প্রসাদে বসে তারা দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এখানে একজন সন্ত্রাসী ছিল, যে কয়েক শত জমি দখল করেছে। তারা মনে করেছিল, কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আই.পি.ইউ এর এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে লালমোহন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে গণ সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বছর বছর যারা লুটপাট করেছে, তারা ভারতে বসে এখন ষড়যন্ত্র করছে। কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়, সেই চেষ্টা করছে তারা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে এত পূজামণ্ডপে কখনো পূজা উদ্যাপিত হয়নি বলেও উল্লেখ করে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তানজানিয়ায় বিশ্বের ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকে ছয়টি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আমাকে অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে নির্বাচিত হননি। এ সম্মান আমার একার নয়, এটি সবার সম্মান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পৃথিবীতে উজ্জ্বল হয়েছে।
মেজর হাফিজ আরও বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র আট মাস। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের একজন নারী সংসদ সদস্যকে দখলবাজির অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ায় একজন প্রতিমন্ত্রীকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এটা শুধুমাত্র এদেশে বিএনপি সরকারই করেছে। অন্য কোন সরকারের এমন নজির দেশে নেই। বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে।
আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চুরি ও লুটপাট করে সম্পদ নিয়ে গেছে। টাকা দিয়ে আইন-আদালত কিনে ফেলেছিলো। ভারতে প্রাসাদের মধ্যে বসবাস করে। এভাবে লুটপাট কেউ করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপি সরকার ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চান বলেও জানান।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পাঞ্চায়েত এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফান বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলার ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
কোম্পানীগঞ্জ থানা, নোয়াখালী
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে রোকন কর্মকার (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকার ফাইজা কটেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোকন কর্মকার বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের শংকর কর্মকারের ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভার হাসপাতাল গেট এলাকায় একটি স্টিলের (এসএস) দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকন কর্মকার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল গেট এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকায় তিনি বাসায় একা ছিলেন। দুপুরের দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেনা দায়ে অথবা আর্থিক সংকটের হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
হাতিয়া থানা, নোয়াখালী
নোয়াখালীর হাতিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাব উদ্দিন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিন হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খোন্দকার সোহেলের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার সোহরাবকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সোমবার ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার সোহরাব উদ্দিন হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ এলাকার ফাহাদ উদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে সোহরাব বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব খোন্দকার সোহেল তার বাবার পকেটে তিন হাজার টাকা ঢুকিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে তার বাবা বিষয়টি তাকে জানালে তারা ওই টাকা ফিরিয়ে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোন্দকার সোহেল বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক বৈঠক হওয়ার সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ছিলেন। এটি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাবকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো ঘটনা তার জানা নেই।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দ্বিতীয় কোনো দেশ নেই। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর মেহেরবানিতে এই সম্প্রীতি আমাদের গর্ব ও অহংকার। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে সিলেটের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করা বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের জন্মগত অধিকার। এ দেশের মানুষ বরাবরই মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যখন নিজেদের লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশে নাশকতার চেষ্টা করে, কেবল তখনই এখানকার শান্তিশৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটে। এ ধরণের অপচেষ্টা ছাড়া দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী প্রতিযোগীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার এর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু হায়াত মো. নুরনবী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মো. মহেবুল্লাহ আবু নুর, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, রুহিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, রুহিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি আনার আলীসহ জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জনসভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নাটোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও তার কন্যা তাসফিয়া (৮) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারটি পূজার ছুটিতে মাগুরা থেকে রাজশাহী বেড়াতে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার নাটোর মহাসড়কে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ গ্রামে। তিনি মাগুরা জেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে মারা গেছে তার ছোট মেয়ে।
দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা বেগম ও ছোট ছেলে লাবিব (১১) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রুবিনা বেগম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখায় কর্মরত আছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে রাজশাহী ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে রুবিনা বেগম তার দুই সন্তানকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে স্বামী শহিদুল ইসলামের কর্মস্থল মাগুরায় যান। সেখান থেকে আজ সকালে সপরিবার বাসে উঠে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথিমধ্যে নাটোরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে তাদের বহনকারী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম ও তার মেয়ে মারা যান।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দুই সারি শয্যার মাঝখানে আহত অবস্থায় একটি স্ট্রেচারে আছে লাবিব। হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তখনো শয্যা পায়নি সে। কিছুক্ষণ পর লাবিব ও তার মাকে সিটি স্ক্যান করাতে বহির্বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে আরও ৩০ থেকে ৪০ মিনিট কাটে। পরে তাদের আবার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। দুপুর ২টা পর্যন্তও তাদের শয্যার ব্যবস্থা হয়নি।
লাবিবের খালু শহিদুর রহমান বলেন, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে ওরা সপরিবারে আমাদের বাড়িতে আসছিল। লাবিব-তাসফিয়া আর আমার দুই সন্তান খুব আনন্দিত ছিল। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ওরা কোথায় আছে জানতে শহিদুলকে ফোন করি। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। ফজরের নামাজ শেষে আবার ফোন করলে এক পুলিশ সদস্য দুর্ঘটনার খবর জানান। এরপরই আমরা নাটোরের উদ্দেশে রওনা হই।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে দেখি, শহিদুল ও তাসফিয়া আর নেই। লাবিব ও রুবিনার অবস্থাও গুরুতর ছিল। তারা কথা বলতে পারছিল না, হুঁশও ছিল না। দ্রুত তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু এখানে আসার পর দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো শয্যা পাইনি। পরে সিটি স্ক্যানের জন্য নেওয়া হয়। স্ক্যানের পর শয্যা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’
কথা বলতে বলতে বিমর্ষ হয়ে পড়েন শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওদের বাবা-মা দুজনই চাকরি করতেন। তাই লাবিব-তাসফিয়ার খুব একটা বেড়াতে যাওয়া হতো না। এবারের ছুটিটা নিয়ে ওরা অনেক আনন্দিত ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ আর রইল না। ওদের বেড়াতে যাওয়ার স্বপ্নটাই শেষ হয়ে গেল।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, পূজার ছুটিতে সবাই মিলে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে আনন্দ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমার ভাই শহিদুল ইসলাম ও ভাতিজি তাসফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও নিষ্পাপ সন্তানটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এতে ১৪ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ জন রামেক হাসপাতালে ভর্তি। নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাই নবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- জাজিরা উপজেলার আরোব আলী ফকিরের ছেলে সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবি সাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার শালাল মোল্লা (৪৫), কাজির হাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজাশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং ফরিদপুরের বাকুন্দা এলাকার অমুল্য চন্দ্রের ছেলে হিমেস (২৮)।