ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ এএম

ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের হামলায় ৫৮ জন নিহত ও আরও ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যে সোমবার এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবওয়ার গভর্নর আওয়াদ আল ওয়াজির।


তিনি আরও জানান, আল আলম শিবিরে হুতিদের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।


বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত লোকজন ও রক্তাক্ত মৃতদেহ এখানে ওখানে পড়ে আছে।


হুতিরা ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারে অনুগত বাহিনীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। হুতিরা ইরানের সমর্থন পেয়ে আসছে আর সরকারি বাহিনীগুলোকে সমর্থন যোগাচ্ছে সৌদি আরব। সেপ্টেম্বরে হুতিরা লোহিত সাগরের বাব এল মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় ভূখণ্ডগুলো দখল করে নেওয়ার পর থেকে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, একটি প্রশিক্ষণ অনুশীলন চলাকালে হুতিরা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শিবিরটিকে লক্ষ্যস্থল করে।


এডেন উপসাগরের তীরবর্তী শাবওয়া ইয়েমেনের দক্ষিণমধ্যাঞ্চলীয় জ্বালানি সমৃদ্ধ প্রদেশ। এখানে বালহাফ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রটি দেশটির বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান।


হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিরা সারি এক্সে জানিয়েছেন, তারা সৌদি বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত ওই শিবিরটিকে লক্ষ্যস্থল করেছে।


তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।


ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী চলতি অক্টোবরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা বাব এল মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় হাতছাড়া হওয়া ভূখণ্ডগুলো উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে সরকারি বাহিনীর সর্বশেষ শক্তিকেন্দ্র তায়িজে তারা হুতিদের অবরোধের মধ্যে পড়েছে।


ইয়েমেনের সংঘাতকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বৃহত্তর যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারী দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। ইয়েমেনের শিয়া গোষ্ঠীটি সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ ও রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যস্থল বানিয়েছে।


২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে দেশের দক্ষিণ দিকে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে ওই অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। হামলা-পাল্টা হামলায় ব্যাপক রক্তক্ষয়ের পর অচলাবস্থা তৈরি হয়, পরে ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলো একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যা চলতি বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪২ এএম

সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেন্ট্রাল প্যারিসের কিছু জায়গাসহ দেশটির আরও কয়েক শহরে রাতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাজধানী প্যারিসের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মানুষের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।


প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় কারফিউ থাকবে। এ ছাড়া শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে অনুমতি ছাড়া জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


তরুণদের চলাচল ও জনসমাগম সীমিত করতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর নিস -এ বিশেষ কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহর এবং উত্তরের লিল ও অন্যান্য শহরে আংশিক কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। 


সোমবার এই আদেশ জারি করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘বিশৃঙ্খলা তৈরি’ করার জন্য ‘অতি-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সোমবার জরুরি বৈঠক শেষে লেকর্নু বলেন, ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমি সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ 


এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ স্বীকার করেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সহিংস বিক্ষোভে ২ হাজারের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীতে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষার মান নিয়ে গত মাসে এই অসন্তোষ শুরু হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলার পরে দ্রুত তা রূপ নেয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমানোর আন্দোলনে।


বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি। এর মধ্যেই ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দেশটিতে। 


আন্দোলন চলতি সপ্তাহে সহিংস হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ নানা ঘটনা দেখা যায়। ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এরই মধ্যে এসব ঘটনায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি হলে জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সাময়িক কিছু বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে কারফিউ জারি, মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার মতো ব্যবস্থা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেলিভিশন দেখে ফরাসিরা মনে করছেন, সর্বত্র বিশৃঙ্খলা চলছে। সৌভাগ্যক্রমে, বাস্তবতা এমন নয়। শহরাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় মূলত অস্থিরতা চলছে।’ বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী সের্ঝ পাপাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত তিন হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন লেকর্নু।


এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। সপ্তাহ শেষে কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে মাখোঁ তাঁর পদত্যাগের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। মাখোঁর দপ্তর সোমবার জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর পরিবর্তে মাখোঁ তাঁকে সড়কের ব্যারিকেড ও লুটপাট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আগাম পরিস্থিতি আঁচ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ছিল বলে মাখোঁ উল্লেখ করেছেন। সে বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, লুটপাট ও ভাঙচুর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সোমবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্যদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।’ আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘উগ্র বামপন্থি আন্দোলন’ দেশজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন লেকর্নু। তিনি বলেন, ‘এমন একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে, যাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি এবং নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যও সক্রিয় করা হতে পারে।’


ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। সামরিক প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে দীর্ঘ ৪২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যক্তির ওপর এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব পড়েছে।


সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ৬৮ বছর বয়সী আখলাঘিকে গতকা রোববার (১৮ অক্টোবর) নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার প্রায় আট মাস পর এ পদে তাকে নিয়োগ দেয়া হলো।


ইরান সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে ২৩৭টি ভোট পেয়ে এ পদে নির্বাচিত হয়েছেন আখলাঘি। অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট দেন ১৫ জন। পার্লামেন্টের অনুমোদনের পর তিনি তার পূর্বসূরি আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নাসিরজাদেহ নিহত হন। ওই হামলায় দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছিলেন। এরপর সাময়িকভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মাজিদ এবনে রেজা। এখন তিনি আখলাঘির উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া ইরানের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব পালন করবেন নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর আখলাঘির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এরই মধ্যে অনুমোদন করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশন।


প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করবে না। তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোরভাবে এবং প্রয়োজনে জীবন দিয়ে লড়বে।’


তিনি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে আখলাঘির ৪২ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কঠিন জ্বালানিচালিত রকেটের প্রপালশন প্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে আখলাঘির বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।


এর আগে তিনি শহিদ বাকেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ, অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন এবং ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে আখলাঘি এবং এসব প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে তার ওপর।


ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আখলাঘি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেজ্জিল ও জুলফিকার শ্রেণির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আলমাস ক্ষেপণাস্ত্র ও ইয়াসিন গাইডেড বোমা।


মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত রকেট এবং সেমনানে অবস্থিত ইমাম খোমেনি স্পেস সেন্টার-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কেও তার বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধে এসব সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


চলতি মাসে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক সাংবাদিকদের বলেন, কৌশলগত অস্ত্রের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ানোর প্রয়োজন থেকেই আখলাঘিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান।


তিনি বলেন, ‘আক্রমণাত্মক অস্ত্রের সক্ষমতা সক্রিয়ভাবে উন্নত করা হচ্ছে।’


অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করেছে, তারা ইরানের সামরিক-শিল্প সক্ষমতার বেশির ভাগই ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলার নাগালের বাইরে এখনো তাদের উল্লেখযোগ্য আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা রয়েছে। ইরান আরও দাবি করেছে, যুদ্ধের নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে এসব অস্ত্রের উন্নয়ন করা হয়েছে।


চলতি মাসে পার্লামেন্ট সদস্যদের আখলাঘি জানান, যুদ্ধ চলাকালে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনগুলো ভালোভাবে বুঝতে তিনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিও।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আখলাঘির অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক-শিল্প খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।


এদিকে রোববার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রথম বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে কটাক্ষ করেন আখলাঘি। চলতি মাসে ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ‘সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা’ ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।


জবাবে সাংবাদিকদের আখলাঘি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি এবং নিশ্চিন্তে আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উচিত তার সেনাদের নিরাপদে আমাদের অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবা। তিনি যদি একটি বোমাও নিক্ষেপ করেন, তাহলে কতজন সেনাকে তাকে শায়িত অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সেটাও তাকে (ট্রাম্প) দেখতে হবে।’


  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৭ পিএম

সৌদি আরবের চারটি অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) চারটি অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে ভারি বৃষ্টির জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।এই সতর্কতার আওতায় রয়েছে জাজান, আসির, আল-বাহা এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশ। সেখানে মাঝারি থেকে ভারি বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি এবং শক্তিশালী বাতাস বয়ে যেতে পারে; যা ধুলিঝড় সৃষ্টি করতে সক্ষম।


এনসিএমের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই অস্থিতিশীল আবহাওয়া চারটি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।


এ ছাড়া জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কার কিছু অংশে এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে।এদিকে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে দাম্মামে সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হতে পারে। এছাড়া মক্কায় ৩৯ ডিগ্রি এবং রিয়াদ ও বুরাইদাহতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে পারে।


মদিনায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জেদ্দা ও জাজানে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। এ ছাড়া হেইলে ৩৩ ডিগ্রি, আরার, সাকাকা ও নাজরানে ৩২ ডিগ্রি এবং তাবুকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে পারে।


দক্ষিণ-পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে আবহাওয়া কিছুটা শীতল থাকবে; যেখানে আভাতে ২৫ ডিগ্রি এবং আল-বাহাতে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে পারে।


আর্দ্রতার মাত্রার বিষয়ে বলা হয়েছে, আভা, আল-বাহা ও জাজানে আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এছাড়া জেদ্দা ও দাম্মামে ৮৫ শতাংশ এবং মক্কায় ৮০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকতে পারে।


অন্যান্য এলাকার মধ্যে তাবুক, আরার ও সাকাকায় আর্দ্রতা ৭০ শতাংশ, মদিনা ও হেইলে ৫৫ শতাংশ, রিয়াদ ও নাজরানে ৩৫ শতাংশ এবং বুরাইদাহতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 


সূত্র: গালফ নিউজ


  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। এতে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে প্রায় ৬ হাজার বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে থেকে ‘নর্তে ফায়ার’ নামে পরিচিত দাবানলটির সূত্রপাত হয়। পরে আগুন সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা নাগাদ আগুনে প্রায় ২৩১ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই শহরেই আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।


অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা, কম আর্দ্রতা এবং তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা সান্তা আনা বাতাস আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শুক্রবার বাতাসের তীব্রতা বেশি থাকলেও শনিবার রাত পর্যন্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।


দাবানলের ঝুঁকি কমাতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার বাসিন্দার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুতের তার থেকে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে নতুন করে আগুন লাগার আশঙ্কা থেকেই এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীদের পাশাপাশি হেলিকপ্টারও কাজ করছে।


এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও দুটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবুর কাছে ছড়িয়ে পড়া ‘ব্রাইসন ফায়ার’-এ প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনটির প্রায় ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।


অন্যদিকে, সান দিয়েগো কাউন্টিতে ‘হেন্ডারসন ফায়ার’-এ প্রায় ৮৪২ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এ আগুনের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


দাবানলের প্রভাব পড়েছে মেরিন কর্পসের ক্যাম্প পেন্ডলটন এলাকাতেও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ এএম

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির মহাকাশ ও উড়োজাহাজ প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি। এর আগে এ দায়িত্বে ছিলেন আজিজ নাসিরজাদেহ, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন।


রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্ট কেতাবচির নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অবসান হলো। নাসিরজাদেহের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলান মাজিদ ইবন আল-রেজা।


নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কেতাবচি এর আগে ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন।


ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে মহাকাশ ও উড়োজাহাজ প্রযুক্তি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ খাতের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতার উন্নয়ন জড়িত। ফলে সংশ্লিষ্ট খাতে কেতাবচির পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁর নতুন দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালনা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহসংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করা। তবে নতুন দায়িত্বে তিনি কোন খাতে অগ্রাধিকার দেবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।


কয়েক মাস ধরে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে চলার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ইরানের প্রতিরক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ।


তবে কেতাবচির নিয়োগের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি, অস্ত্র উৎপাদন কিংবা সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


এআই চরিত্র জেসিকা অলিভেইরা এবং এডিমার মার্টিন্স। ছবি: এক্স

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, তারপর প্রেম। সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করার আশায় নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, তার স্বপ্নের নারী বাস্তবে কেউ নন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র।


নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী এডিমার মার্টিন্স পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তিনি টিভি মিরান্তেকে জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, জেসিকাই তার জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী।


গত ৯ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের মারানহাও রাজ্যে নিজের সব ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে বাসভাড়া জোগাড় করেন মার্টিন্স। তার গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি।


কিন্তু কোথাও তার দেখা পাননি মার্টিন্স। একপর্যায়ে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গেলে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর অস্তিত্ব নেই। পরে অর্থ ফুরিয়ে গেলে তিনি বেলো হরিজন্তে সিটি হলে গিয়ে এক সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতির কথা জানান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা পান তিনি।


মার্টিন্স বলেন, একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি সম্পর্ক গড়ার আশায় তিনি এত দূর এসেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে।


জেসিকা অলিভেইরা নামের ওই অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। সেখানে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই-নির্মিত নারীটি জানিয়েছিলেন, তিনি এমন একজন পুরুষ খুঁজছেন, যাকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন।


তবে পরে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা একটি এআই-তৈরি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগও হয়নি। তার দাবি, অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা হয়েছিল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারী ও মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে।


হতাশ হলেও হাল ছাড়তে রাজি নন মার্টিন্স। বর্তমানে এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকা এই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন এবং বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজবেন।


সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।