ট্রিপল হত্যা মামলায় আবার বাবুল মিয়াকে রিমান্ডে নিলো পিবিআই
সিলেট নগরীর রায়নগরে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে হত্যার মামলার আসামি বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মোরসালিন জানান, বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ১২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ প্রথমে দাবি করেছিল, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনার দিন তিনি ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি এতে অমত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান বলে পুলিশের দাবি। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
হত্যাকান্ডের তিনদিন পর গত ১৪ আগস্ট রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম ছিলো না। ১৬ আগস্ট সকালে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
তবে ২০ আগস্ট হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি বাবুল মিয়া। এতে তিনি জানান, সেদিন সকালে চুরি করতে ওই বাসয় গিয়েছিলেন বাবুল মিয়া। চুরি করার সময় দেখে ফেলায় একেএকে তিনজনকে হত্যা করেন তিনি। পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের পরিবার। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। পিবিআই বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে বাবুলকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা।
মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার বুড়িচং থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের নিয়ে কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যায় বাসটি। এতে মাদ্রাসার এক শিক্ষিকাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে ছিলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। নিহতরা হলেন- মাদ্রাসার অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সোহানা আফরোজ (৪৫) এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাদেরা আফরোজের স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল (৫৬)।
মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে দুটি বাসে শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ছিল পেছনে। সেটি কেরানীহাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সামনের বাসে থাকা তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ডোবায় পড়ে যায়। নিহত দুজন বাসের সামনের আসনে ছিলেন। পানিতে ডুবে শ্বাস নিতে না পেরে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মরদেহ দোহাজারী হাইওয়ে থানায় রয়েছে। নিহতদের স্বজনেরা এলে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।
স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নিই। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।সংবাদ বিশ্লেষণ টুল
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত দুজনের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
চোর দলের সক্রিয় সদস্য ১৩ জন আটক। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটে ড্রামট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ড্রামট্রাকের চাপায় বিপ্লব মিয়া (২২) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত ৩জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ গোপাল রায় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বিপ্লবসহ কয়েকজন যুবক নামুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অটোরিকশায় করে কাকিনা বাজারের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুভর্তি ড্রামট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিপ্লব মিয়ার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরে মাওলা জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কয়লা উত্তোলনের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাইমুড়ীতে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা
আদাবর থানা। ছবি : সংগৃহীত