প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ পিএম

গাঁজার আসরে মুখ ফসকে কিছু কথা বেরিয়ে যাওয়ার পর জোট খুলেছে প্রায় ৫ বছর আগের এক হত্যা রহস্যের। বেরিয়ে এসেছে ভাড়াটে হত্যাকারীদের তথ্য, যাদের পাঠিয়েছিলেন নিহতেরই আপন বড় ভাই। ২০২১ সালের জুনে মাগুরার সুইপার কলোনিতে মানিক লাল ডোম (৩৫) হত্যার ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটের খসড়া ইতোমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


কর্মকর্তারা জানান, নিহত মানিকের ছেলে আসন লালের (২১) সঙ্গে অভিযুক্ত এক হত্যাকারীর বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ৫ বছর আগের ওই ঘটনার জট খুলেছে সম্প্রতি।


একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে স্থানীয় মাছ বাজারে কাজ করা মেহেদী হাসান আকাশ (৩০) আসনকে হুমকি দিয়ে বলেন—'তোর বাবার যে অবস্থা করেছি, তোরও একই অবস্থা করব।'


দুজনে গাঁজা সেবনের সময় আকাশ এই হুমকি দিয়েছিলেন। যা পরে সিআইডির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে। অবশেষে স্থানীয় পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে কয়েক বছর ধরে আটকে থাকার পর মামলাটি সুরাহার দিকে যাচ্ছে।


তদন্তে জানা গেছে, নিহত মানিক মর্গ সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তার বড় ভাই হীরা লাল ডোম (৫০) চারজনকে ভাড়া করে তাকে হত্যা করেন।


মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে মাগুরার সুইপার কলোনিতে নিজ বাড়িতে ছোট ছেলে সুন বাবুকে নিয়ে ঘুমাতে যান মানিক। পরদিন ভোর ৪টার দিকে শিশুটির পাশে পড়েছিল বাবার রক্তাক্ত মরদেহ।


পরদিন মানিকের স্ত্রী আশা রানি মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।


প্রথমে স্থানীয় পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও, পরের বছরের ১২ জানুয়ারি এটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর চেষ্টার পরও পিবিআই কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে পারেনি।


গত বছরের মে মাসে পিবিআই জেলা আদালতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে অবশ্য কোনো আসামির নামই ছিল না, আর এতে ইতি টানা হয় তদন্তের।


তবে, আদালত ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং একই বছরের অক্টোবরে সিআইডির মাগুরা ইউনিটকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান।


দায়িত্ব নেওয়ার পর এসআই আনিসুর নিহতের ছেলে আসনকে তার বাবার হত্যাকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে আসন বাগবিতণ্ডার সময় আকাশের দেওয়া ওই হুমকির বিষয়টি জানান।


এসআই আনিসুর এ সূত্র ধরে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মাগুরার পুরাতন মাছ বাজার এলাকা থেকে আকাশকে আটক করা হয়।


এসআই আনিসুর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আকাশের ওই মন্তব্যটি আমার মনে সন্দেহ তৈরি করে। আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসি।'


'জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আকাশ সত্য বলে দেন এবং তার ৩ সহযোগীর নাম প্রকাশ করেন। এর পরই তাদের গ্রেপ্তারে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়,' বলেন তিনি।


পরে ওই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হীরা লালসহ মোট ৫ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সিআইডি।


অপর অভিযুক্তরা হলেন—লিয়াকত আলী ওরফে ঝন্টু (৬৯), শিকল সাঁইজি ওরফে লিটন পাগলা ওরফে রুবেল (৪০) ও নিরঞ্জন কুমার দাস (৪৩)।


তৎকালীন র‍্যাব-৪ (বর্তমান এসআরবি-৪)-এর সহায়তায় গত ১৫ জুলাই ঢাকার শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, মানিক ও হীরা লালের মা-বাবা সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মৃত্যুর পর হীরা পুরো পেনশনের টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ওই টাকা নিয়েই দুই ভাইয়ের বিরোধ ছিল।


সিআইডির তদন্ত থেকে জানা যায়, মা-বাবার রেখে যাওয়া এক টুকরো জমি নিয়ে তাদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। আর এসব বিরোধ নিয়ে মানিক প্রায়ই হীরাকে অপমান করতেন।


সেই অপমানের বদলা হিসেবেই হীরা তার ভাইকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান কর্মকর্তারা।


এরপর তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য ৪ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাদের সঙ্গে মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মানিকের ওপর আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল।


তদন্ত কর্মকর্তা জানান, একবার ঝগড়ার সময় মানিক আসামি ঝন্টুকে চড়ও মেরেছিলেন।


আদালতে অভিযুক্ত আকাশ ও রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে সিআইডি জানায়, ঘটনার দিন ভোরে চার ভাড়াটে হত্যাকারী মানিকের শোবার ঘরে প্রবেশ করে। আকাশ মানিকের পা চেপে ধরেন এবং রুবেল ও নিরঞ্জন তার হাত ও বুক চেপে ধরে রাখেন। লিয়াকত মুখ চেপে ধরে মানিককে মেঝেতে টেনে নামান এবং একটি ভারী দা দিয়ে তার গলা কেটে দেন।


মানিকের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।


পাঁচ অভিযুক্তই এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের দুজনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। সিআইডিও অতি সম্প্রতি তাদের তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করেছে।


তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনিসুর ডেইলি স্টারকে জানান, 'আদালতে জমা দেওয়ার আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য চার্জশিটের একটি খসড়া ইতোমধ্যে সিআইডি সদরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।'




টেকনাফের রঙ্গিখালী গ্রামের গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৪ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 


আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সেনাসদস্য তিতাস। অভিযানে মানব পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।


তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনি বিবাহিত ছিলেন। তিতাস টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টেকনাফের লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের উদ্ধারে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। 



রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।


সেনাবাহিনী এক শোকবার্তায় নিহত তিতাস শেখের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।



ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ এএম

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছয়টি ‘সোনর ডিম’ জব্দ করার তথ্য দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।


রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিগামী একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীকে নামিয়ে এনে তার সহযোগিতায় প্রথমে তিনটি ‘সোনার ডিম’ জব্দ করা হয়। পরে বিমানবন্দরের বোডিং ব্রিজ থেকে আরও তিনটি ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার করা হয়।




সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিআইআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, আবুধাবি থেকে এসব ‘সোনার ডিম’ দেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু এখানে ‘কাঙ্ক্ষিত দাম’ না পেয়ে আবার ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।


মোট ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম ওজনের ছয়টি সোনার ডিম জব্দ করার তথ্য দিয়ে অধিদপ্তর বলেছে, এগুলোর বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের যাত্রী মোহাম্মদ মিনহাজকে সন্দেহভাজন হিসেবে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হয়।


পরবর্তীতে তার সহযোগিতায় তিনটি ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম।


এছাড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা আরও তিনটি ‘সোনার ডিম’ জব্দ করেন, যার ওজন আগের তিনটির সমান।


সিআইআইডি বলছে, স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে তারা।


এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে অধিদপ্তর।


কে এম তাহসিফ সাউরি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৯ পিএম

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।


পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার এক আত্মীয়কে খবর দেয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।


পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তার পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।


পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের ভিডিও তাহসিফ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে আলোচনা আছে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ নিশ্চিত করেনি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০১ পিএম

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে।


ডিবি সূত্র বলছে, বাড়িটিতে ডিজে পার্টি চলতো এবং মাদকের আসর বসত। সেখান থেকে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই ২৬ জন নারী।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এজন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ম্যান্টেনেইন্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তার বাড়িতে মাদকের কারবারের অভিযোগে ডিবির অভিযানের বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।



পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে কখনও তান্ত্রিক, কখনও কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের খাদেম- এভাবে নানা পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণার ফাঁদ পাততেন মো. মিজানুর রহমান (২৫)।


পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।


পিবিআইয়ের ঢাকার দক্ষিণ কল্যাণপুর এসআইঅ্যান্ডও (অর্গানাইজড ক্রাইম-উত্তর) আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   


পিবিআই জানায়, ১৬ অক্টোবর সকালে জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর ভাটিপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দিতে তিনি এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের নামও উল্লেখ করেছেন।


এতে বলা হয়, ভুক্তভোগী নুসরাত মরিয়ম (ছদ্মনাম) টিকটকে ‘তান্ত্রিক গুরু জীবন কবিরাজ’ নামের একটি আইডির ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পারিবারিক সমস্যার সমাধান চেয়ে তিনি ইমু ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তাঁকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে কবিরাজির বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।


মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে বিকাশের মাধ্যমে মোট ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান ভুক্তভোগী। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে বিভিন্ন অলৌকিক শক্তির ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।




মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪১৯, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় ৪ জুলাই অভিযোগ দায়ের করা। পরে অক্টোবর মাসে পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডও (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক। 


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মিজানুর বিভিন্ন টিকটক আইডি ব্যবহার করে নিজেকে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত পাগলা মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি প্রাচীন কবিরাজির উপকরণ হিসেবে হাড়, মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন। এসব ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন তিনি। 


পিবিআইয়ের দাবি, ভুক্তভোগীও তাঁর ভিডিও দেখে বিশ্বাস স্থাপন করেন। পরে কথিত কবিরাজির উপকরণ কেনার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডওর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে প্রতারণাকারী সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা করে আসছে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ বা অলৌকিক সমস্যা সমাধানের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকুন এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন।’


পিবিআই জানিয়েছে, সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল (বিপিএম-সেবা) এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত চলছে। অভিযানে ও তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন সার্বিক সহযোগিতা করেন। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। 


মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।


আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৮ পিএম

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাটির তদন্ত করছে পুলিশ। ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 


ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেছেন। রোববার বেলা ১২টায় মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্তে আইনের ব্যত্যয়ের তথ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয়ের তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


শনিবার বিকেলে ইশরাক তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘটনার একটি ভিডিও আপলোড করেন। আইন ভেঙে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইনজ্ঞরা এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। 


ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী যে ভিডিও আপলোড করেছেন তার শিরোনাম– ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। এতে দেখা যায়, ইশরাক অস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নামার পর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ প্রতিমন্ত্রী তখন বলেন, ‘পুলিশ আসবে, তারপর কথা হবে।’


এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু ছিলেন। পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষী ছিলেন। নিজের নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায়।


এলাকার লোকজন জানান, শনিবার ইশরাক হোসেন রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান । এ সময় মাদক ব্যবসায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এর আগেও এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। 


গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন। ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। 


প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ কিনা? পাশাপাশি বৈধ হলেও এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা আইনসম্মত হয়েছে কিনা? আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক মাত্র। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি পুলিশি অভিযান পরিচালনা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধি তাদের দেয়নি। 


এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০১৬’ অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অপরাধী ধরার জন্য বা কোনো আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত অস্ত্র প্রকাশ্যে উঁচিয়ে অভিযান চালানো এই নীতিমালার পরিপন্থি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। 


উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।