‘হ্যাকার সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা
মাদ্রাসায় হেফজ শেষ না করেই রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন ওহিদুল মোল্লা। তবে বেশি দিন এ পেশায় থাকেননি। জীবিকার তাগিদে শুরু করেন রিকশা চালানো। পাঁচ বছর আগে রিকশাচালকের পেশা ছেড়ে হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসা শুরু করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ওহিদুলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে একটি হ্যাকার চক্র। এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওহিদুল কয়েক বছরের ব্যবধানে বাড়ি–গাড়ির মালিক হন, গড়ে তোলেন মহিষ ও কবুতরের খামার।
ওহিদুলের এই উত্থানের গল্প বলছিলেন তাঁরই চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজের বাড়ি পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন ওহিদুল। গত সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের প্রয়াত রব্বেল মোল্লার ছেলে।
ওহিদুলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে। তাঁর উত্থানের গল্প জানতে গিয়ে আজ বুধবার তাঁর পরিবারের সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে ওঠাবসা করেন।
তিনি বলেন, ওহিদুলের বাবা কৃষিকাজ করতেন। বাবার জীবদ্দশায় শৈশবে ওহিদুল গ্রামের মাদ্রাসায় পড়তেন। বাবার মৃত্যুর পর হেফজ শেষ না করেই রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সেন্টু মোল্লার ভাষ্য, কয়েক দিন পর রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ ছেড়ে রিকশা চালানো শুরু করেন। এ সময় এলাকার হ্যাকারদের সঙ্গে তাঁর সখ্য তৈরি হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে হ্যাকিং কার্যক্রম শুরু করেন। অল্প দিনের মধ্যেই হয়ে ওঠেন একজন দক্ষ হ্যাকার। হু হু করে তাঁর সম্পদ বাড়তে শুরু করে। মোহরকয়ায় বাবার বাড়ি থাকলেও বিলমাড়িয়ায় পদ্মা নদীর ধারে পাকা বাড়ি করেছেন। তাঁর খামারে লাখ টাকা দামের কবুতর ও মহিষ আছে।
গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ওপর নজরদারি করার জন্য গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন ওহিদুল। কবুতরের ঘরের আড়ালে নিজের থাকার জন্য দামি আসবাব ব্যবহার করতেন। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও সিসিটিভি মনিটর ছিল সেই কক্ষে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উঁচু ইটের প্রাচীরবেষ্টিত বাড়িতে ঢোকার ফটক একটাই। এ জন্য স্থানীয় লোকজন তেমন একটা যাতায়াত করেন না। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত তরুণদের যাতায়াত ছিল সেখানে।
নাম প্রকাশ না করে ওহিদুলের একজন প্রতিবেশী বলেন, বাড়ির আশপাশে এত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, কবুতরচোর ঠেকানোর জন্য ক্যামেরা লাগিয়েছেন।
হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার কারণে অল্প সময়ে টাকাপয়সার মালিক হন ওহিদুল। তিনি দামি গাড়ি নিয়ে এলাকায় চলাফেরা করতেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে লালপুরে ভাড়ায় চালিত একটি প্রাইভেট কারের চালক বলেন, ওহিদুল গাড়ি ভাড়া নিয়ে পাবনা ও রাজশাহীতে যেতেন। কখনো কখনো সারা রাত গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াতেন। দামদর করে জিনিস কিনতেন না। খাবার হোটেলের কর্মচারীদের হাজার হাজার টাকা বকশিশ দিতেন। ভাড়ার বাইরে তাঁদের ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বকশিশ দিতেন।
ওহিদুল মোল্লা এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিত বলে জানান লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, তাঁর কাছে শিখে অনেকেই এই কার্যক্রমে জড়িয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ৬৮টি সিম পাওয়া গেছে। এসব সিম ও নম্বর হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহার করা হতো। তাঁকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে পুলিশ অন্যদের জানাতে চায়, লুকিয়ে থাকার কৌশল অবলম্বন করেও কেউ ছাড় পাবে না।
সিলেট নগরীর বালুচর শাহমাদানী ঈদগাহ থেকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ইকোপার্ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করে টেকসই আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কের উভয় পাশে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন তৈরি করে তার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে ফুটপাত নিশ্চিত করা হয়েছে। সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। শনিবার দুপুরে সড়ক ও ড্রেনের শেষ পর্যায়ের ঢালাই কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে তিনি কাজের সার্বিক অগ্রগতি ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান তদারকি করেন। পরিদর্শন শেষে সিসিক প্রশাসক বলেন, "বালুচর-ইকোপার্ক সড়কটি নগরীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ইকোপার্কসহ আশপাশের নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
"তিনি আরও বলেন, "সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। বর্ষায় যেন কোনো জলাদ্ধতা তৈরি না হয়, সেজন্য সড়কের দুই পাশে মোট ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ড্রেনের ওপর বসানো স্ল্যাব একই সঙ্গে পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ফুটপাত হিসেবে ব্যবহৃত হবে।"
নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেট নগরীর সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও টেকসই সংস্কারকাজ পরিচালনা করছে। পরিকল্পিত সড়ক, কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এবং নিরাপদ পথচারীবান্ধব ফুটপাত তৈরি করাই সিসিকের মূল লক্ষ্য।
পরিদর্শনকালে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের নির্মাণকাজের সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করার কঠোর নির্দেশনা দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী লিপু সিংহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা (অ.দা.) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠির নলছিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটকের পর পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী এলাকায় অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে নলছিটি থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।অভিযানকালে দপদপিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সিরাজ মোল্লাকে আটক করে পুলিশ।
সিরাজ মোল্লাকে আটকের পর পুলিশ তাকে নিয়ে আসার সময় তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে এবং হামলাকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামানকে আহত করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হামলাকারীরা হাতকড়া পরা অবস্থায় আসামি সিরাজ মোল্লাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশের একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত( ওসি) তৌহিদুজ্জামান জানান, বিভিন্ন জায়গায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। খুব দ্রুত তাকেসহ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে গাইবান্ধায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন সাংবাদিকরা। এ সময় পরীমনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতারা।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশ লাইন রোডে গাইবান্ধার সাংবাদিকদের আয়োজনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ৫ নভেম্বর পরীমনি রাজধানী ঢাকায় আদালত চত্বরে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে ব্যাড টাচ (অশালীন স্পর্শ)-এর মিথ্যা অভিযোগ তুলে গালিগালাজ করে। অথচ ওই সাংবাদিকের একটি হাত প্রতিবন্ধী।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাংবাদিকদের নিয়ে কোন ধরনের অসম্মানজনক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় বক্তরা পরীমনিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
সমবায়ের মাধ্যমে পুরুষ ও নারীকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, শুধু পণ্য বিপণন নয়, বরং কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায় সমিতি গড়ে তুলে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে এলে বাংলাদেশকে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমবায়ের মূল শক্তি হচ্ছে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। নারী-পুরুষ সবাইকে সমবায়ের আওতায় এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
এর আগে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সমবায় দিবস ও সমবায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সভায় জেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে জেলায় আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যার মতো সামাজিক সংকট মোকাবিলায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে মারধর, টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মোঃ সোহেল মিয়া (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পূবাইল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পূবাইল থানাধীন মাজুখান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি রেইনবো কমার্শিয়াল অ্যান্ড এসএস লিমিটেডের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের সাবেক দুই নারী কর্মী ভালো বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে মাজুখান এলাকায় ফাহিমা নামের এক নারীর ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে চা-নাশতা খাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরও কয়েকজন ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে জিম্মি করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে তাঁর স্ত্রীর কাছে দুর্ঘটনার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার টাকা, বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার টাকা এবং দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের লাল-কালো রঙের একটি পালসার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন মর্মে তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে মোটরসাইকেলটি নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় পূবাইল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি মোঃ সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল মিয়া মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার আধকানী জালালাপুর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পূবাইলের মাজুখান এলাকায় ফাহিমা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান জানান, অভিযানে গ্রেপ্তার সোহেলের হেফাজত থেকে অভিযোগে লুণ্ঠিত একটি মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন!
রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুরের বিরল সীমান্তে রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে ৩০ বোতল ভারতীয় মদ ও ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধর্মজান ও মৌচোষা বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তপথে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সীমান্তকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সীমান্ত অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না।