বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তারা ক্লিনিকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে এবং স্থাপনা ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার সকালে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার এসব তথ্য জানান।
ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। এটি এলাকার হাজারো নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’-এর ব্যানারে ক্লিনিকে হামলা চালায়। তারা সেখানে কর্তব্যরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে ক্লিনিকটি দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশে বাধা দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিঃ’-এর সাইনবোর্ড লাগানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, লুটপাট ও ভাঙচুরে যন্ত্রপাতি ও মালপত্রের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘটনায় ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আগামীকাল থেকে ক্লিনিকটিতে সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই প্রতিষ্ঠানটি দখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ডা. নাসরিন আখতার। তিনি বলেন, হামলাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়, দেশের দরিদ্র, শিশু ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপরও আঘাত।
প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দুটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো, হামলায় জড়িত সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সম্পূর্ণ ক্ষতি পূরণ করে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।
ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাড্ডা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎসুক জনতাকে জড়ো হয়ে থাকতে দেখেছেন। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের বিবৃতি
এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার এক বিবৃতিতে এটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্রেখ করে লুটপাটে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে যা ঘটেছে, তা নিছক কোনো ডাকাতি বা হামলা নয়-এটি একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম, যা সমাজের অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি জঘন্য ষড়যন্ত্র। এই হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়; এটি এই দেশের প্রতিটি গরিব মা, প্রতিটি শিশু এবং প্রতিটি অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।’
দেশের সচেতন নাগরিক, মানবাধিকার সংগঠন, চিকিৎসক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে বলেন, ‘এই হামলা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজের সেই সব মানুষের বিরুদ্ধে যারা প্রতিদিন এই সেবার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। আজ যদি আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করি, যদি এই হামলার বিরুদ্ধে নীরব থাকি, তবে আগামীকাল সেই সন্ত্রাসীরা আরও দুঃসাহসী হয়ে উঠবে এবং সারা দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাদের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়বে। তখন এই নীরবতা আমাদের নিজেদেরই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।’
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় ‘আপস-মীমাংসা’ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে অভিযুক্ত কিশোরকে হাজির করা হলে এ তথ্য জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন।
এদিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আয়াজকে আদালতে আনা হয়। শুনানি শুরুর আগেই আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস করা হয়েছে।
আপসনামা অনুযায়ী, নিহত মেহেদী হাসান মিমের দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ মা-বাবার ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় আরো ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নিহতের পরিবারকে মোট ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি প্রচলিত আইন ও আদালতের বিধি-বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত আয়াজ আলী শারীফ ও গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে আইনানুগভাবে আদালতে উপস্থিত থেকে আপত্তি না করা বা অনাপত্তি জানানোর বিষয়েও সহযোগিতার কথা আপসনামায় বলা হয়েছে। তবে আপসনামায় মামলাটি আদালতের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইনের অধীনেই নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে অবস্থানরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে পড়া গাড়ির চাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় কিশোর চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকালে ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরকে গুলশান ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন গুলশান থানার ওসি জাহেদ নূর।
তিনি বলেন, ওই কিশোর তাদের হেফাজতে রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালের এ ঘটনায় এর আগে ওই কিশোরকে বাদ দিয়ে মামলা করা হয়। এতে আসামি দেখানো হয় গাড়িটির চালককে। ওই কিশোরের বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি বলেন, মামলার সঠিক তদন্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকালে বারিধারা ১ নম্বর সড়কে জার্মান দূতাবাসের কাছে অনিয়ন্ত্রিত একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে মেহেদী নামে এক নির্মাণ শ্রমিককে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই ২৪ বছর বয়সি ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে কালো রঙের একটি এসইউভি দ্রুত গতিতে এসে ফুটপাতে উঠে পড়ে। তখন সেখানে বসে ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী। গাড়িটি মেহেদীকে চাপা দিয়ে একটি সড়ক বাতির খুঁটিতে গিয়ে ধাক্কা দিলে সেটিও ভেঙে পড়ে।
পরে স্থানীয় লোজন উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত আনা হয়েছে বলে জানায়। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে বের হয়ে আসা এক কিশোরকে স্থানীয় লোকজন ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগ উঠেছে, পরে থানায় নিয়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশের বক্তব্য, মব থেকে রক্ষা করতে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই একটি মামলা করলেও সেখানে ওই কিশোরের নাম ছিল না বলে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন জানান।
মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামে একজনের নাম দেওয়া হয়েছে, যাকে দুর্ঘটনায় পড়া গাড়ির চালক হিসাবে পরিচয় দেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা ইসমাইল বলেন, “মামলায় ওই গাড়ির চালকের নাম থাকলেও প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে দুর্ঘটনার পর চালকের আসন থেকে ওই কিশোর বেরিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।”
পরে তাকে গুলশানের ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ওই কিশোরের বাবা বিমান বাংলাদেশের একজন ক্যাপ্টেন।
“আমরা চালককেও খুঁজতেছি। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
বারিধারায় কিশোর চালকের অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি ফুটপাতে, প্রাণ গেল নির্মাণ শ্রমিকের
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দনিয়া এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দক্ষিণ দনিয়া কাঁচাবাজার এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচে গলির মুখে পড়ে থাকা একটি পুরোনো বাজারের ব্যাগ থেকে এসব হাতবোমা উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাগটি তল্লাশি করে ১০টি ককটেল পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হলে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
রাত ১০টা ২৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ মাঠে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করেন বলে জানান নিয়াজ মেহেদী।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
গাজী নজরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুন
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাড, সাদা কাগজ কিংবা লাল-কালো কালির আঁচড়-প্রতিটি পাতাতেই যেন জমে আছে এক সম্পর্কের টানাপোড়েন। কোথাও গভীর ভালোবাসা, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণা, আবার কোথাও পরাজয়ের আক্ষেপ ও আত্মসম্মান রক্ষার কঠিন ঘোষণা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা এসব চিঠিতে সম্পর্কের নানা আবেগঘন মুহূর্তের কথা উঠে এসেছে। ভালোবাসার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে প্রতারণার অভিযোগ, সম্পর্কের জটিলতা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং তীব্র মানসিক কষ্টের কথা। নিজেকে দাবার গুটি মনে হওয়ার কষ্টের পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত হার না মানার প্রত্যয়ের কথাও লেখা হয়েছে এসব পাতায়।
চিঠিগুলোর হাতের লেখা মরিয়মের কিনা সেটি এখনও জানা যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চিঠিগুলো তদন্ত করে দেখা হবে।
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি পাতায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়েছে- ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’
অধিকারের লড়াই ও ভালোবাসার অপূর্ণতা
সাধারণ একটি পাতায় নিজের অবস্থান ও ভালোবাসার টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা- ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী- কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ-এর। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’
বিশ্বস্ততার বদলে দাবার গুটি
বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতিও প্রকাশ করা হয়েছে একটি পাতায়। সেখানে লেখা হয়েছে- ‘সে বলেছিল- আজ থেকে আমরা বন্ধু--চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’
পরাজয় ও সতর্কবার্তা
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা অন্য একটি পাতায় ক্ষোভ ও পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ‘আমি হেরেছি--- তুমি জিতেছো-- কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, শৃঙ্গের শেষ বাড়িয়ে ও হাসতে হাসতে মুখে হাসি রেখেছি-- দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’
আত্মসম্মানের শেষ কথা
লাল কালিতে লেখা সংক্ষিপ্ত একটি বার্তায় নিজের আত্মসম্মানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা- ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই … তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...!’
তারিখ সংবলিত ধর্মীয় আমলের পাতা
চিঠিগুলোর সঙ্গে ১২-০৭-২০২৬ তারিখ সংবলিত একটি পাতাও পাওয়া গেছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে করণীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা লেখা রয়েছে। পাতাটিতে লেখা- ‘১২-০৭-২০২৬ ঘুমানোর আগে ৬টি আমল : কালেমা পড়ে, দুরুদ শরীফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসী, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া, দুরুদ শরীফ ১১ বার, ইয়া আরহামার রাহিমিন ১১ বার।’
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকার জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত সংসদ সদস্যদের বাসভবন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কমলাপুরে ট্রেনে আগুন
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে রোববার রাতে ‘হাওড় এক্সপ্রেস’ নামের একটি ট্রেনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে।
আগুনে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থাকা ট্রেনটির একটি বগি পুড়ে গেছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি জয়নাল আবেদীন আগুনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ট্রেনটি ওয়াশপিটে ছিল। সেখান থেকে দুই নম্বর প্লাটফর্মে আসার সময় আগুন লাগে। এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।’
ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশনে হাওড় এক্সপ্রেস নামের ট্রেনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। রাত ১০টা ১৬ মিনিটে আগুন নেভানো হয়। ট্রেনের একটি বগি পুড়ে গেছে।
এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায় বলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যদের ডাকা হয়েছে।
রাত সোয়া আটটার পর সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।