• প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে বাইক শোডাউন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদলের নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর দিকনির্দেশনায় এবং রূপগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সারফারাজ মিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে বাইক শোডাউন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের প্রতিবাদ জানান।


আয়োজকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে যুবদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করেন। বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।




নিজের দপ্তরে চেয়ারে বসে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৪ এএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’


সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। এ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরাও।


গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।




পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা হইতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একইসঙ্গে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সকল পর্যটকদের আগামীকাল ১২ অক্টোবর (সোমবার) বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে এ জরুরী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাজেকভ্যালি পুনরায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।


উল্লেখ, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এর ডাকে রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ পালিত হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার পর্যটকগামী গাড়ি উজবাজার এলাকায় আটকে পড়ে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে পর্যটকরা সাজেক ও খাগড়াছড়ি ফিরে যান।


খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙন

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের একটি অংশ। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। বছরের শুরুতে ভাঙনের ভয়াবহ দেখে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 


আজ রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বটবুনিয়া এলাকার অংশটি বিলীন হয়ে যায়।


বাঁধে আরো ধ্বস ও ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছেন মানুষ। বারবার সংস্কারেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানিতে ভেসে যায় সবকিছু। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।’


দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।


অনেকের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। অথচ কর্মকর্তারা দায়সারা ভাবে কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটে নিয়ে যায় তাছাড়া দীর্ঘদিন সরকারি জায়গা বিক্রির অভিযোগ থাকলে কোন সমাধান হয়না এখানে।


এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘পাউবোর সাথে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষক সমাবেশে ফরহাদ মজহার

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

কৃষকদের উদ্দেশে কবি, প্রাবন্ধিক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভিত্তিতে চাষাবাদ করতে হবে। আল্লাহ্কে যদি না মানেন, যদি কোম্পানিকে মেনে চাষাবাদ করেন তাহলে ইমান হারাবেন।’ পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় আজ রোববার দুপুরে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে আগামী দিনের বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সরকার পরিচালিত হচ্ছে কোম্পানির ইশারায়। রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা না গেলে কৃষি ব্যবস্থাপনা এগুবে না।’ 


ফরহাদ মজহার বলেন, ‘কৃষিতে আধুনিকায়নের নামে বীজ কোম্পানির আগ্রাসন কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যারা ভোট চায় তারা কৃষির কথা ভাবে না, কোম্পানির হাতে জিম্মি তারা। কোম্পানির দেওয়া সার ও বিষ ব্যবহার করার মানে জীব হত্যা করা। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সরকারও ফতুর হয়ে যাবে। বাঁচতে চাইলে রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দেশি জাত রক্ষা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’


সার-কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে: ফরিদা আখতার


ঈশ্বরদী উবিনীগ ও নয়া কৃষি আন্দোলনের উদ্যোগে আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাড়লপাড়া গ্রামে কৃষক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষির নামে গ্রামে সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হার্টব্লকসহ জটিল রোগ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রাণিসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষকে সুস্থ্য থাকতে হলে সার কীটনাশক ব্যবহার বন্ধের সাথে সাথে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।


উবিনীগ ঈশ্বরদী আঞ্চরিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আজমিরা খাতুনের সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস শিমু, উবিনীগ ঈশ্বরদী শাখার গবেষক গোলাম মোস্তফা রনি, আটঘরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হোসাইন, চাটমোহর উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার আসলাম হোসাইন, কৃষক আকলিমা খাতুন, মুজদার আলী, রেজিয়া খাতুন, আবুল হোসেন, ফরিদা খাতুন, সানোয়ারা খাতুন, হাফিজুর রহমান, মরিয়ম বেগম, জান্নাতুল খাতুন, রীনা খাতুন প্রমুখ।


কৃষক সমাবেশে কয়েকশ’ কৃষক ও নারী কৃষকরা অংশ নেন। রাসায়নিক সার ও কীনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফসল আবাদ করে সফল কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বাজারে অন্যান্য কৃষি পণ্যের চেয়ে আমার উৎপাদন করা সার-বিষমুক্ত নির্ভেজাল শাকসবজি স্থানীয় হাট-বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। এতে আমি নিজে যেমন লাভবান হই তেমনি ভোক্তারা সার-বিষমুক্ত শাক সবজি খাওয়ার সুযোগ পান।


কৃষকের মেয়ে জান্নাতুল খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনই কৃষক। তারা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে জমিতে সার-বিষ প্রয়োগ ছাড়াই ফসল উৎপাদন করেন। একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে আমি এতে গর্ব অনুভব করি। পাশাপাশি ভেজালমুক্ত খাবার খেয়ে সুস্থ্য থাকার সুযোগ পাই।’


  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হয়েছে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া। রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মসূচি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। 


আজ রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। নিউক্লয়িার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনপিসিবিএলের নেতৃত্বে পরিচালিত কমিশনিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে।


ড. জায়েদুল হাসান জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরিমাপকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, বিকেল ৩টায় ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সব প্যারামিটার চাহিদা অনুযায়ী মাত্রায় আছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে।


এর আগে, বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এই কেন্দ্রের চুল্লির মডেল তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর ১২০০ মডেলের, যেখানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।


ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পরপরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় না। এর আগে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই, নিরাপত্তাব্যবস্থার পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।


প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমের পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।  


এ অর্জনের পেছনে এনপিসিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, অপারেশন ও কমিশনিং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। তাঁরা জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনসহ পরবর্তী প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান, অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে কমিশনিংয়ের পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি ফার্মেসিকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই দিন পৃথক অভিযানে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়েছে।


আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সিংগাইর পৌরবাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।


অভিযানে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির দায়ে জয় ফার্মেসির মালিক বিকাশ সাহাকে ২ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে মাধবী ফার্মেসির মালিক আশিষ কুমারকে ২ হাজার টাকা এবং আলমগীর ফার্মেসির মালিক হযরত আলীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকায় রিফাত ফার্মেসির মালিক জাহাঙ্গীরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার অর্থ আদায় করেন।


অন্যদিকে, বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের গোলাইডাঙা গ্রামের আত্রাই বিলে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আনুমানিক ৫০টি রিংজাল ও ১৫টি কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধে ফার্মেসিগুলোকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধে জালগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।