জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় জাহিদুলের বাগানবাড়ির সামনে তাঁকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা বিএনপির কর্মী হাদিস মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবদুল আওয়াল বলেন, গতকাল রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন জাহিদুল আলম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কর্মী হাদিস মিয়া। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত তাঁদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে দুজনকে জখম করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনন্দ বসাক বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহিদুল আলমকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে। বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কী কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বেড়িবাঁধের কয়েকটি মেহগনিগাছ কেটে ফেলার অভিযোগে বিএনপিতে জাহিদুল আলমের সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়। পরে ওই ঘটনায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আটক করে পুলিশ। মামলায় প্রায় এক মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
বহুল প্রত্যাশিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর আগে গতকাল রবিবার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই নিজ জেলায় তার প্রথম সফর। এদিন তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সার্কিট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। এরপর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দাউদপুর সীমান্ত দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় তা প্রতিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২০) আওতাধীন দাউদপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ২৮৯/৫১এস ও ২৮৯/৫৬এস সীমানা পিলার থেকে ২০–৩০ গজ দূরে ভারতের ভেতরে নিচা গোবিন্দপুর এলাকায় ওই নারী-পুরুষেরা বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছেন।
দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কয়েকজন নারী-পুরুষকে দাউদপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় বিজিবি তা প্রতিহত করে। এর পর থেকে সীমান্তে বিজিবি, গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থানে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জীবন থাকতে ভারতের কোনো মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না। প্রয়োজনে গ্রামবাসী লাঠি হাতে সারা রাত সীমান্ত পাহারা দেব।’
বিজিবির প্রচেষ্টায় বিএসএফ একজনকেও বাংলাদেশে পাঠাতে পারেনি বলে জানান দাউদপুর বিজিবি বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাহাবুবুর রহমান। গ্রামবাসীও বিজিবিকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের বাধার মুখে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে আসা লোকজন আর এগোতে পারেনি।
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো.মোসলিম (১২) নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তীতে মামলা করতে পারবে।
রংপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহ্যবাহী রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রংপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ১৯৮৫ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী চৌধুরী মাহমুদুন নবী ডলার কে সভাপতি এবং ২০০০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুলাহ হামীম কে সাধারণ সম্পাদক করে বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৪৯৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার
(৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে
জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের
মাধ্যমে এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে
প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর মানিকসহ নবগঠিত কমিটির সদস্য, বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৩২
সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুর জিলা স্কুলের ১৯৪ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্য, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধন এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের
কল্যাণকে সামনে রেখে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নবগঠিত কমিটি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি কার্যকর প্যাটফর্মে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ
এবং শিক্ষার্থী ও সমাজের কল্যাণে
বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।
এছাড়াও
রংপুর জিলা স্কুলের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং বৃহত্তর সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গনপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার
ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়।
কক্সবাজারে ৩০০ চীনা নাগরিকের গোপন ঘাঁটি!
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবস্থান করছিল ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিক। উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের অন্তত ছয়টি রিসোর্ট ও হোটেল ভাড়া নিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল কথিত অনলাইন অপরাধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা। সম্প্রতি জেলা পুলিশের অভিযানে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।
অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে পুরনো মডেলের ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, চক্রটির সদস্যরা অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা, ভুয়া ট্রেডিং সাইট এবং হ্যাকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।
পার্বত্য এলাকা থেকে কক্সবাজারে
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনভিত্তিক প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে চক্রটির সদস্যরা প্রথমে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকায় ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বেশি থাকায় পরে কক্সবাজারকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের ছয়টি রিসোর্টে ভাগ হয়ে অবস্থান করছিল চীনা নাগরিকদের বিভিন্ন দল।
উখিয়ার তিনটি রিসোর্ট- অর্কিড ব্লু, ড্রিম হলিডে ও ইলিয়াস ব্রাদার্স; রামুর মেরিনা বিচ রিসোর্ট এবং কক্সবাজার শহরের সি প্যালেস ও ফ্যালকন রিসোর্টে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।
চার লাখে ভাড়া, চীনাদের কাছে ছয় লাখে
ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টটি প্রথমে শাহজাহান ও আকতার কামাল নামের দুই বাংলাদেশি মাসিক চার লাখ টাকায় মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নেন। পরে সেটি চীনা নাগরিকদের কাছে মাসিক ছয় লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
রিসোর্টটির বৈদ্যুতিক কাজের দায়িত্বে থাকা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনি মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনে সেখানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর ভাষ্য, সেখানে অবস্থানকারী প্রায় প্রত্যেক চীনা নাগরিকের কাছে দুটি আইফোন ও একটি ল্যাপটপ থাকত। তবে তারা কী ধরনের কাজ করত, সে বিষয়ে কর্মীদের কোনো ধারণা ছিল না। ভবনের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল বলে জানান তিনি।
গিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের প্রতিটি কক্ষ সাউন্ডপ্রুফ করা হয়েছিল। বাইরে থেকে যাতে কোনো শব্দ ভেতরে এবং ভেতরের শব্দ বাইরে না যায়, সে জন্য নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল দুটি বড় জেনারেটর। তাঁর ধারণা, সেখানে হ্যাকিংসহ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।
রিসোর্টের দরজা বন্ধ, পাহারায় নিরাপত্তাকর্মী
পুলিশের অভিযানের পর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে চীনা নাগরিকদের দেখভালের জন্য নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের ম্যানেজার পাভেল আহমদ বলেন, তিনি শাহজাহান ও আকতার কামালের নিয়োজিত কর্মী। হোটেলের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় তাঁকেই দেখাশোনা করতে হয়। অন্য রিসোর্টেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের অভিযান চলাকালে ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের কয়েকজন বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
চীনা নাগরিকরা নিজেদের খাবার নিজেরাই তৈরি করত। এ জন্য চীন থেকে বাবুর্চি আনা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা সাধারণত রিসোর্টের বাইরে খুব একটা বের হতো না।
স্থানীয় ইন্টারনেট নয়, ব্যবহার করত স্টারলিংক
পুলিশের মামলার তথ্য অনুযায়ী, চীনা নাগরিকরা দেশীয় প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগের পরিবর্তে স্টারলিংক ব্যবহার করত। রিসোর্টগুলোতে সাউন্ডপ্রুফ ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
রিসোর্টে কর্মরত গিয়াস উদ্দিন বলেন, অন্যান্য ইন্টারনেট সার্ভিসের গতি কম হওয়ায় চীনা নাগরিকরা স্টারলিংক ব্যবহার করত বলে তিনি জানতেন।
স্থানীয় তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ
চীনা নাগরিকদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার জন্য কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। তাঁদের মধ্যে রামুর হিমছড়ি এলাকার মোহাম্মদ শাহজাহান, আকতার কামাল ও মেরিনা রিসোর্টের মালিক আবু সোয়েব ক্যাসনের নাম এসেছে।
চীনা নাগরিকরা ইংরেজি ভাষায় খুব একটা কথা বলতে পারতেন না। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ও চীনা ভাষা অনুবাদকারী মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হতো বলে জানা গেছে।
তিন বছরের চুক্তিতে রিসোর্ট!
মেরিনা রিসোর্টটি চীনা নাগরিকদের কাছে তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ তিন বছরের জন্য এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কেন রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিল-এ প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
কয়েক দিন আগে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিল, তাদের রিসোর্টটি আগামী তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা কি ছিল টার্গেট?
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, চীনা চক্রটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।
তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পের সব রোহিঙ্গা নয়-বাড়তি আয়ের আশায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে চক্রটির যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নির্মাণকাজে এসেছিল-দাবি কতটা সত্য?
আটক চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।
কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজারে বর্তমানে এমন বড় কোনো নির্মাণকাজ চলমান নেই যেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিকের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে তাঁদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
দূতাবাসের সহযোগিতা, তদন্ত অব্যাহত
কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন রিসোর্টে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের আগে চীন দূতাবাসের সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছিল।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, জেলা পুলিশ অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি চক্রের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করায় পুলিশ প্রশংসার দাবি রাখে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকরা অবৈধভাবে অবস্থান করছে- বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়-কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করলেন, তাঁদের অনলাইন কার্যক্রমের পরিধি কতটা বিস্তৃত এবং দেশের বাইরে থাকা কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল কি না তা জানাযায়নি।
রামু থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে ফজলুল হক বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ সারা দেশে ক্যসিনো জুয়ার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই চক্রকে ধরতে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের রামু থেকে এক সাথে ৬ চীনা নাগরিককে আটকের পর তাদের নেট ওয়ার্কের বিস্তর তথ্য হাতে প্রশাসনের কাছে। তবে সব কিছু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব না।
নীলফামারীর জলঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার অভিষেক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। মুঠোফোনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।
অন্যান্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোল্লা ইফতেখার আহমেদ, জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম ও হাসান রাব্বি প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ড. মেজবাহুর রহমান প্রধান (মেজবা) সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখবে এসময় সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়েরও আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ (সালাফি) সাংবাদিকদের সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। অন্যায়ভাবে কোনো সাংবাদিক হয়রানির শিকার হলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার পুনর্গঠিত কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। পরে সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।