তালাকের পরও সাবেক স্বামীর হুমকি ও হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালীর দুমকির এক নারী। প্রাণনাশের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কবির শরিফ তাঁকে প্রায় চার মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় সাইবার আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপসের চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী লিমার অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট বরিশালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কবির শরিফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় এক বছর পর তিনি জানতে পারেন, কবিরের আগের দুই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
লিমার দাবি, একপর্যায়ে কবির তাঁকে বরিশাল থেকে দুমকির বোর্ড অফিস বাজার এলাকায় নিজের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে নিয়ে প্রায় চার মাস আটকে রাখেন। কক্ষের বাইরে তালা দিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কাজি অফিসের মাধ্যমে কবিরকে তালাকের নোটিশ পাঠান।
এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ লিমার। তাঁর ভাষ্য, তালাকের পর কবির তাঁর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আদালতে মামলা করেন। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া শুরু করেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দুমকি থানায় গেলেও তাঁর অভিযোগ বা জিডি গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
লিমা আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার জন্য বারবার মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেও রেহাই পাননি। প্রতিবারই তাঁর নতুন নম্বরের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে হুমকি দেওয়া হতো। এ কাজে থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন তিনি।
এদিকে, কবির শরিফ নিজের ফেসবুক আইডিসহ একাধিক আইডি থেকে লিমার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও আপত্তিকর মন্তব্যসহ প্রকাশ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পরিচিতজনদের মোবাইল ফোনে সেসব ছবি ও ভিডিও দেখে সাইবার আদালতের দ্বারস্থ হন লিমা। আদালতের নির্দেশে দুমকি থানায় সাইবার আইনে মামলা নেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব।
তবে লিমার অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ না নিয়ে তাঁকে থানার ওসির কক্ষে বসিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও আসামির সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কবিরের লোকজন তাঁর বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।
গত ১৯ অক্টোবর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান লিমা। পুলিশ সুপারকে না পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে বিস্তারিত অভিযোগ জানান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুমকি থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি।
এরপরও নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি বলে অভিযোগ লিমার। গত ২৪ অক্টোবর মা-কে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত আবেদন করেন তিনি। ডিআইজি তাঁকে আশ্বস্ত করলেও এখনো ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলে দাবি করেন ওই নারী।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সামনে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বা আপস-মীমাংসা করতে চাপ দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের উদাসীনতার অভিযোগও সত্য নয়। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কবির শরিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
লিমার দাবি, তিনি এখন নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ন্যায়বিচার চান। অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা চান তিনি।
ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে বর্ণাট্য র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় কলাপাড়া পৌর শহরের বিএনপি কার্যালয় থেকে এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে কলাপাড়া পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার নাসির উদ্দীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, সাধারণ সম্পাদক(পদ স্থগিত) এডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো.ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মো.মনিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম সিকদার, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক আমান সুমন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কবিরুল ইসলাম মৃধা, সজল বিশ্বাস, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ঢালী রুহুল আমিন অভি, কলাপাড়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নসু, পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সোয়েবুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার প্রমুখ।
এ সময় কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি,পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল, মৎস্যজীবি দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দলটির সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং তার আদর্শকে ধারণ করে প্রতিটি নেতাকর্মীকে দল পরিচালনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার গ্রুপের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আফজাল হোসেন এবং পৌর ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোঃ ফোরকানুল ইসলাম।
দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজের সুবিধা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা দ্রুত পান, তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে ব্যাংকসহ অন্যান্য অংশীজনদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সিলেটের স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের আঞ্চলিক প্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গভর্নর এই অর্থায়ন প্যাকেজের মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সাধারণ সুদের হার ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি বড় চাপ। এই চাপ থেকে উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে এবং থমকে যাওয়া শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে ৪ থেকে ৮ শতাংশের মতো বিশেষ কম সুদে এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ সরবরাহ করা হচ্ছে।এই বৃহৎ প্যাকেজের ১৯,০০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৪১,০০০ কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিলেট অঞ্চলের বন্ধ থাকা উৎপাদনমুখী শিল্প ও সেবা খাতকে পুনরায় সচল করার ওপর জোর দিয়ে গভর্নর বলেন, এই প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ২০,০০০ কোটি টাকা বন্ধ শিল্প পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। এছাড়া কৃষি ও পল্লী অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০,০০০ কোটি টাকা এবং বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তরুণদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, বেকার যুবসমাজকে দেশের মূল অর্থনৈতিক ধারায় যুক্ত করতে চলতি মাস (নভেম্বর) থেকেই 'উদ্যোগ' (Uddyog) নামের একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৫,০০০ তরুণকে বাছাই করে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংক বা আমলাতান্ত্রিক কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার বিষয়ে গভর্নর জানান, ১০,০০০ কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষকরা এখন প্রথাগত জমির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহার করে সহজেই ঋণ সুবিধা পাবেন।তবে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গভর্নর বলেন, প্রকৃত ও যোগ্য উদ্যোক্তাদের ঋণ নিশ্চিত করা হবে। চলতি বছরের মধ্যে সুযোগ পাওয়ার পরও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করবে না, আগামী বছর থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্যাকেজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভার শুরুতে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং রেগুলেশন পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক সালাউদ্দিন তাপাদার।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা ও আব্দুস সালাম মাহমুদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেত নাঈম চৌধুরী, সানজিদা খাতুন, হিজকিল গুলজার, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, আলিমুল এহসান চৌধুরী, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল হাকিম, প্রফেসর ড. শহিদুল হক, নারী উদ্যোক্তা অনিতা দাশ গুপ্তা। অংশীজনরা সিলেট অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা ও ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা গভর্নরের সামনে তুলে ধরেন এবং গভর্নর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সেসব সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন। গভর্নর নগদ লেনদেনের পরিবর্তে বাংলা কিউআর'র মাধ্যমে বিনা খরচে ক্যাশলেস ব্যাংকিং করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। গভর্নর বলেন বিগত সময়ে ব্যাংকিং সেক্টরে যে লুটপাট হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠতে আট বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি ব্যাংকার কাস্টমার সম্পর্কের ভিত্তিতে ডিসেম্বর ২০২৬'র মধ্যে ওয়ান টাইম এক্সিট সুবিধা গ্রহণ করতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহবান জানান। তিনি কর্পোরেট ঋন কমিয়ে বেশি করে রিটেইল, এসএমই, কৃষি ঋণ বিতরণ করতে ব্যাংকারদের আহবান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
চিকিৎসা কোনো ব্যবসা নয়, এটি একটি সেবা। তাই চিকিৎসক ও রোগীর স্বজন- উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক হোক কিংবা অন্য পর্যায়ের চিকিৎসক, রোগীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা এবং যথাযথ সেবা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনদেরও ধৈর্য ধারণ করতে হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সাথে মারামারির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বা অপ্রতুলতার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালানো হলে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের দুর্ব্যবহার যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি রোগীর স্বজনদের বিশৃঙ্খল আচরণ বা হামলাও কাম্য নয়।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরপর ঘটে যাওয়া একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওসমানী মেডিকেলের পরপর একাধিক এরকম ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আমরা কনসার্ন। এটি নিয়ে আমরা কাজ করব, কাজ করছি।
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার বুড়িচং থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের নিয়ে কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যায় বাসটি। এতে মাদ্রাসার এক শিক্ষিকাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে ছিলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। নিহতরা হলেন- মাদ্রাসার অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সোহানা আফরোজ (৪৫) এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাদেরা আফরোজের স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল (৫৬)।
মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে দুটি বাসে শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ছিল পেছনে। সেটি কেরানীহাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সামনের বাসে থাকা তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ডোবায় পড়ে যায়। নিহত দুজন বাসের সামনের আসনে ছিলেন। পানিতে ডুবে শ্বাস নিতে না পেরে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মরদেহ দোহাজারী হাইওয়ে থানায় রয়েছে। নিহতদের স্বজনেরা এলে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।
স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নিই। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।সংবাদ বিশ্লেষণ টুল
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত দুজনের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
চোর দলের সক্রিয় সদস্য ১৩ জন আটক। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটে ড্রামট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ড্রামট্রাকের চাপায় বিপ্লব মিয়া (২২) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত ৩জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ গোপাল রায় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বিপ্লবসহ কয়েকজন যুবক নামুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অটোরিকশায় করে কাকিনা বাজারের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুভর্তি ড্রামট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিপ্লব মিয়ার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরে মাওলা জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।