পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫০ পিচ ইয়াবা সহ মাহাবুব প্যাদা (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার শেষ বিকেলে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামের কাচা রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করাহয়। গ্রেফতার কৃত আসামি মাহবুব আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো.আ.রব প্যাদার পুত্র।
পুলিশ সূত্রে যানাযায়, মোঃ মাহাবুব প্যাদা (৪৮), এর নিকট হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) পিচ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পরবর্তী তাকে গ্রেফতার করাহয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনীর ১০(ক)/৪১ অনুযায়ী কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে চলবে।গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবকে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের চলমান অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে মো. দুলাল মিয়া (৪০) নামে এক সন্দিগ্ধ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি পিস্তল ও ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ সুপার পিরোজপুর মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
মঠবাড়িয়া থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৬; জিআর-২৪৭/২৬, দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারার মামলার সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের খায়ের ঘটিচোরা গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মো. দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তার হেফাজতে থাকা আলামত উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার হাঁসের ঘরের উপরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি পিস্তল (ম্যাগাজিন ছাড়া) ও ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলার একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি কামরুল ইসলাম
(৮৮ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী ২৩ মামলা; নিখোঁজ শিশু উদ্ধারসহ একাধিক অভিযানে সাফল্য)
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে সাফল্যের দাবি করেছে থানা পুলিশ। ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৮৮ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী ২৩টি মামলা এবং ১০৫ জনকে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় সাজা দেওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ হিসেবে পরিচিত পাড়া-টঙ্গী এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
থানা পুলিশের দাবি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে সন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে।
এদিকে অপরাধ দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও চ্যালেঞ্জিং অভিযানেও সাফল্য দেখিয়েছে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে উদ্ধার, কুমিল্লা থেকে আসামি গ্রেপ্তার, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তকরণ এবং রাফি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার মতো ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা আলোচনায় এসেছে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে থানা পুলিশ। কোনো অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অভিযোগ বা তথ্য পেলে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মুক্তাগাছাকে আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে থানা পুলিশ।
দীপক চন্দ্র সরকার
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ মিলেছে। তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেরও নাগরিক। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপরও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিরুদ্ধে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অভিযুক্ত দীপক চন্দ্রের বিষয়ে জানতে ভারতীয় হাইকমিশনে পত্র পাঠাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানিতে অভিযুক্ত দীপক চন্দ্র সরকার, অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকারসহ মাউশির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে মাউশি উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনেছি। প্রত্যেকেই নিজেদের স্বপক্ষে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক কি না তা জানতে ভারতীয় হাইকমিশনে চিঠি দেবো। তাদের উত্তর পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিচালক বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে প্রমাণিত। তার এমপিও চলমান থাকার সুযোগ নেই। তবে আনুষ্ঠানিকতার জন্য মাউশি ভারতীয় হাইকমিশনে পত্র পাঠাবে।’ গত ফেব্রুয়ারিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিত্বসহ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আনেন স্থানীয় প্রকাশ চন্দ্র সরকার। অভিযোগ আমলে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ মিলেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারীক কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার তালিকার সূত্র উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকারি অর্থায়ন হওয়ায় বিদেশি নাগরিক এমপিওভুক্ত পদে বহাল থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বিষয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মাউশি কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো এ পত্রে বলা হয়, পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব আছে। বিষয়টি গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মতামত জানতে চাওয়া হয়।এরপর অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে শুনানিতে ডাকে মাউশি অধিদপ্তর।
সোমবার বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের কক্ষে এ শুনানি হয়।
শুনানি শেষে অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র ভারতের নাগরিক ও ভোটার। বিদ্যালয়ে দেদার নিয়োগে বাণিজ্য করেছেন তিনি। নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভারতে পাচার করে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বড়শুল এলাকায় তিনি অট্টালিকা তৈরি করেছেন।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এ শিক্ষকের অবিলম্বে এমপিও বাতিলের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক নই। জাল-জালিয়াতি করে আমাকে নিয়ে অভিযোগকারী বিভিন্ন ডকুমেন্ট তৈরি করেছেন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণিত হওয়া প্রসঙ্গে দীপক চন্দ্র বলেন, ‘এ তদন্ত প্রতিবেদন সঠিক হয়নি।’
এম এ মজিদ
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে এম এ মজিদকে নিয়োগ দেওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরপরই তাঁর সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুসারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এম এ মজিদকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২(১) অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।
এম এ মজিদ পঞ্চগড় পৌরসভার মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা জমির উদ্দিন এবং মাতা সালেমা খাতুন।
নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে নতুন প্রশাসককে অভিনন্দন জানান তাঁরা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তানজিনা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাগেজ ভ্যানের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সারাদেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার স্টেশন এলাকায় প্রবেশের সময় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের পেছনে থাকা লাগেজ ভ্যানের একটি বগি ত্রুটির কারণে লাইনচ্যুত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর যশোর-পার্বতীপুর রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার খাতিজা খানম বলেন, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের লাগেজ ভ্যানের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। লাইন মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত কাজ শেষ হলে যেকোনো সময় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত লাইন সচল করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তহশিলদার নিলুফা
খুলনা আন্তঃজেলার মধ্যে অনিয়ম, দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে থাকা ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বরত তহশিলদার নিলুফা ইয়াসমিন কে অবশেষে তার দূর্নীতি ধরা পড়ার কারণেই খুলনা জেলা প্রশাসক কর্তৃক তাকে দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলী করা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বরের ২০২৬ ইং তারিখে ১৫৯০ নং স্মারকের আদেশে এ বদলী করা হয়।
জানা যায়, গুটুদিয়া ইউনিয়নের ৫৫৪৩ দাগের খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২ একর ৪৩ শতক জমি শেখ তুহিনুল ইসলাম নামে লিজ প্রদান করা হয় তাছাড়া ৫৫৪৩ দাগের ১ একর আড়াই শতক জমি নজরুল ইসলামের নামে দাম পত্তন করে মাঠ পর্যায়ে এর প্রতিবেদনও দেন নিলুফা ইয়াসমিন যেখানে ইতিপূর্বে অন্যান্য তহশিলদাররা সরকারের পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও নিলুফা ইয়াসমিন সরকারের বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন। এতে সরকারি জমি জমি যেমন একদিকে দখল হারায় অন্যদিকে রাজস্ব থেকেও হয় বঞ্চিত। তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্রের সাথে একাত্তমতাপোণ করে এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন যে, জেলা শাসক সহ একাধিক দপ্তরে তার বিরুদ্ধে বার বার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও থামানো সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নিলুফা ইয়াসমিন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা থাকাকালীন ফুলতলার দামোদর, থুকড়া, দৌলতপুর, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং প্রতিটি অফিসেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো আকাশ ছোঁয়া। এসব দূর্নীতির অর্থ দিয়ে নগরীর মুজগুন্নী মৌজার আর এস ৪৪৩ নং ১৫২৯ নং দাগের ৫ শতক জমি স্বামী মো. সেলিম করীম, পিতা-বাচ্চু মিয়ার নামে ক্রয় করে ভাড়াটিয়া থেকে বাড়িওয়ালা হন।
গত ২০১৫ সালে দামোদর তহসিল অফিসে কর্মরত থাকাকালীন নিলুফা ইয়াসমিন এফ-২৫৩১৯৪-২৫৩২০০, ২৫৩৯৪-২৫৩৩০নং ৪টি দাখিলা বহি থেকে শেষের ৭ পাতা করে মোট ২৮টি দাখিলা চুরি করে গোপনীয়ভাবে বিসিক শিল্প এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে খাজনা কর্তন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। উক্ত ঘুষের টাকা দিয়ে তিনি গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। ১২৬৪ ও ১৮৮৭ নং খতিয়ানে ০.০৭০০ একর জমিতে মুজগুন্নী মৌজায় খুলনা যশোর মহাসড়ক সংলগ্নে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল করিম টাওয়ার এবং তার সংলগ্ন সড়ক ও জনপথের এবং জেলা প্রশাসকের প্রায় ২০ শতক জমির উপরে ভারী মেশিনারিজের দোকান করে দেখল নেনও তিনি।
দৌলতপুর ভূমি অফিসে থাকা কালীন বয়রা মৌজার নিষেধাজ্ঞাকৃত খতিয়ানের খাজনা কেটে দুর্নীতি, ঘুষগ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে নিলুফার নামে বিভাগীয় মামলা হয়। যার মামলা নং-১/২০১৯। উক্ত মামলায় গুরু দন্ড থেকে লঘু দন্ডে বেতন গ্রেটের নিম্ন ধাপে অবনমিতকরণ করা হয় ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন গত ২৪/০১/২০১৯ চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, এই ঘুষখোর নায়েবের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৪ উপ-সহকারী থেকে সহকারী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতী নেন। নায়েব নিলুফার স্বামী সেলিম করীম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর এপিএস ও ভাই শাহাবুদ্দিন'র একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেই সুবাদে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস শাহাবুদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ীতে আসতেন। এখন বিএনপি'র স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্যদের গা ঘেষে চলছেন।
বর্তমানে নিলুফা বিভিন্ন মান্যবর ব্যক্তির নিকটে বিএনপির ছাত্র বিষায়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল কে নিজের ফুফাতো ভাই, খুলনা ০৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী এবং খুলনায় কর্মরত দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিনিধি সাবেক আওয়ামী স্বাস্থ্য মন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল হকের এপিএস আবু হেনা মুক্তির ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে চলছেন বলে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। তিনি ফুলতলা উপজেলার দামোদর মৌজার স্কাউট ভবনের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড দেন। দামোদর মৌজার সরকারের ক তফশিলভুক্ত অধিকাংশ সম্পত্তির দাখিলা প্রদান করেছে। যা অডিট আপত্তিতে নায়েব নিলুফা ইয়াসমিনকে দায়ী করা হয়। সরকারী জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ০৪০.১৩-১৮১নং স্বারকে গত ২৩ নভেম্বর ২০১৫ খ্রিঃ, জেলা প্রশাসক বরাবর অডিট আপত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উক্ত প্রতিবেদনের জবাব না দেয়ায় পরবর্তীতে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় ঢাকা হতে ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৯ পূর্ণরায় অডিট আপত্তি নোটিশ আসে। তাতে উল্লেখ থাকে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন কর্তৃক বিধি বহির্ভূতভাবে ৩৪ লক্ষ ৪১ হাজার তিনশত বাহাত্তর টাকা মূল্যের ঝধ ও ঞ অপঃ এর ৯২ ধারামতে খাস খতিয়ানভুক্ত ০.১৪ একর সরকারি সম্পত্তি এবং বাংলাদেশ গেজেটের ক তফশিলভুক্ত ০.১৫ একর সম্পত্তির দাখিলা ২০১৪-১৫ সালে ব্যক্তি মালিকানায় প্রদান করে। যার পূর্ণরায় তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।
দুর্নীতিগ্রস্থ নিলুফা ইয়াসমিন গত ৯ জানুয়ারী ২০০৩ চাকুরিতে যোগদান করে এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সচেতনমহল তার চাকরি জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যেখানেই গিয়েছে সেখানেই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি দায়ে দন্ডিত হয়েছে। তারপরও এতো বড় অদক্ষ, অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্থ ভূমি কর্মকর্তাকে কিভাবে বিনা বিচারে সরকারি চাকরীতে পদোন্নতি পান সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে সচেতন মহল দাবি করেন।
এদেশে যতদিন পর্যন্ত এ ধরনের নীতি নির্ধারকরা চেয়ারে থাকবেন ততদিন শুধু একস্থান থেকে অন্য স্টেশনে বদলী করলে দূর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে না বরং স্বল্প শাস্তির জন্য অপরাধে আরো জড়িত হবে। এমতাবস্থায় যদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ সকলের দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয় তবেই ভূমি সেক্টরের অনিয়ম ও দূর্নীতি রোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।