ছবি : সংগৃহীত
নরসিংদীতে চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন এক যুবক। এ সময় ট্রেনটির ধাক্কায় বাবা-ছেলে রেললাইনের মাঝে পড়ে যায় এবং ট্রেনটি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে দুজনই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী শহরের আরশীনগর রেলক্রসিংয়ের কাছে বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
বাবা আল-আমিন (২৭) নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং তার ছেলে আরিয়ান (৪) পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চলন্ত ট্রেনে ছেলেকে নিয়ে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে যাওয়া আল-আমিন নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে আল-আমিন তার চার বছরের ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বীরপুর মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। পুনরায় যাত্রা শুরু করে অল্পগতিতে ট্রেনটি বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিক্রমের সময় আরিয়ানকে নিয়ে রেললাইনে ঝাঁপ দেন আল-আমিন। ট্রেনটির ধাক্কায় দুজনই ছিটকে রেললাইনের মাঝে পড়ে। এ সময় ট্রেনটি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান বাবা-ছেলে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
আল-আমিনের বড় ভাই আবদুল কাদের জানান, নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে নিয়ে আরিয়ানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ১৬টি সেলাই দেয়া হয়েছে। আল-আমিন এখনো সদর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, এ ঘটনায় বাবা-ছেলে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। কপাল ভালো, ট্রেনটি তাদের ওপর দিয়ে গেলেও কেউ কাটা পড়েননি। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাহারোল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। অভিযানে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গত ২১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে কাহারোল থানাধীন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বসতবাড়ীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে-Bajaj Discover ১২৫ সিসি, Bajaj Discover ১১০ সিসি, Hero Splendor Plus ১০০ সিসি এবং Hero HF Deluxe ১০০ সিসি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-কাহারোল উপজেলার ফেরুসাডাঙ্গা এলাকার হবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ দুখু মিয়া (৩২), একই এলাকার মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ এজান, মৃত তেজাম আলীর ছেলে মোঃ জসিম (২৮) এবং সাহাপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মোঃ মাহাবুর (১৮)।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রাখা এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে তারা জড়িত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় কাহারোল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনাজপুর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও থানাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কাহারোলে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের এ অভিযানও অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কার্যক্রমের অংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এ ধরনের দায়িত্বশীল ও ধারাবাহিক কার্যক্রম অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারে একটি চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়িতে আগুন দেখে স্থানীয় জনতা এগিয়ে এসে, জানালার কাঁচ ভেঙে শিশু ও নারীসহ প্রায় ৩০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্লিপার বাসটি আইকন পরিবহনের।
কক্সবাজার থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে এটি ঢাকায় আসছিল। শহরের কলাতলীর মোড় বাসটি ছাড়ে বলে জানান বাসের রায়হান নামে এক যাত্রী। দুই দিন আগে তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে যান। রাতে সেখান থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। তিনি জানান জরুরিভাবে আগুন নেভানোর জন্য বাসটিতে কোনও আগুন নির্বাপণ যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল না।
সোহেল রানা নামে ওই বাসের আরেক যাত্রী জানান, প্রথমে পোড়া গন্ধ পাই। পরে দেখি বাসে আগুন লেগেছে। তখন আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। ধোঁয়া ও গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার গ্লাস ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার না করলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। তিনিও পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, চলন্ত বাসটিতে আগুন লাগলেও চালক-সহকারী যাত্রীদের তা না জানিয়েই গাড়িটি থামিয়ে নেমে যান। আগুন লাগার পর চালক ও হেল্পারকে বাসের ভেতরে দেখা যায়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রামু হাইওয়ে থানা পুলিশ। রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তিনি। কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় দ্রুত সেখানে গিয়ে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। বাসের ভিতরে থাকা মালামাল খুঁজে বের করে যাত্রীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে বাসটিতে আগুন ধরেছে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টানা বৃষ্টিতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ও ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে দীঘিনালা-সাজেক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল।
খাগড়াছড়ি আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকস্মিক ভারী বৃষ্টির কারণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে। পানি বেড়ে খাগড়াছড়ি শহরের কাঁচাবাজার, মুসলিমপাড়া, গরুর বাজার, শান্তিনগর ও খাগড়াছড়ি গেটসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চলও পানিতে তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
আকস্মিক বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশপাশের স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে, ভারী বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা থেকে সাজেক এবং দীঘিনালা থেকে লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই দুই রুটে চলাচলকারী মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি শহর, শহরের আশপাশের এলাকা এবং দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সকাল থেকেই আমরা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছি। খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য সকাল থেকেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে সৃষ্ট সাময়িক পরিস্থিতি। আশা করছি, বিকেলের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ছবি : সংগৃহীত
জয়পুরহাটের পুরানাপুল এলাকায় বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগির কয়েল স্প্রিং ও বডি ভেঙে বিকল হয়ে পড়েছে। আজ শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে চালক ও ট্রেন পরিচালকের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন শত শত যাত্রী।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিলাহাটি থেকে রাজশাহীগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস (৭৩২ নম্বর) জয়পুরহাটের পুরানাপুল রেলগেট এলাকা পার হওয়ার পরপরই একটি বগির কয়েল স্প্রিং ও বডি ভেঙে নিচের দিকে নেমে যায়। এতে ট্রেনটি রেললাইনের ওপর আটকে পড়ে।
বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, স্প্রিং ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারায় ট্রেনটি থামানো সম্ভব হয়েছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন ও যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন।
ট্রেনটি বিকল হয়ে পড়ায় পার্বতীপুর, সান্তাহার, রাজশাহী ও ঢাকাগামী রুটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
ঘটনার পর উদ্ধারকারী ট্রেন (রিলিফ ট্রেন) পাঠানোর জন্য পার্বতীপুর ও সান্তাহার জংশন স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। পরে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়।
আনোয়ার হোসেন জানান, উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে উদ্ধারকাজ শেষ করে কখন বরেন্দ্র এক্সপ্রেস আবার চলাচল শুরু করতে পারবে এবং উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রয়াস মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে ফোরকান নামে এক যুবকের মৃত্যুর পর আতঙ্কে ওই কেন্দ্র থেকে ৪০ জন রোগী পালিয়ে যান। ঘটনার পর নিরাময় কেন্দ্রটির পরিচালকরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। পালিয়ে যাওয়া রোগীদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেনি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ফোরকানের পরিবার আদালতে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অনুমোদিত এই নিরাময় কেন্দ্র থেকে পালিয়ে আসা একাধিক রোগী জানান, সেখানে রোগীদের ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালানো হতো। কেন্দ্রটিতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স কিংবা সেবক ছিল না। এমনকি রোগীদের দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হতো।
ফোরকানের মৃত্যুর পর পালিয়ে আসা নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জের বাসিন্দা সামজিদ রহমান বলেন, ‘ফোরকানকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছিল। তাঁকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বিনা চিকিৎসায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। না পালালে আমাদের ওপরও একইভাবে নির্যাতন চালানো হতো।’
ফোরকানের ভগ্নিপতি ইমন হোসেনের অভিযোগ, ঘটনার পর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের বক্তব্য রেকর্ড করেন এবং এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রচার করার জন্য তাদের প্রভাবিত করেন। কেন্দ্রটির মালিকপক্ষ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের কাছে না গিয়ে তারা সরাসরি আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার কেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, এর আগে যাইনি। জানালা ভাঙা থাকায় বর্তমানে তাদের এক কর্মকর্তা কেন্দ্রটি পাহারা দিচ্ছেন। তদন্তে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ফোরকানের মৃত্যুর বিচার পুলিশি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।’
অন্যদিকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক প্রমোদ বর্মণ দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক ইকরামুল হক রুবেল। ঘটনার পর ভাঙচুর ও রোগী পালিয়ে যাওয়ার কারণে মালিকপক্ষের কেউ কেন্দ্রে নেই। পালিয়ে যাওয়া রোগীর তথ্য তাদের কাছে নেই।
মূল মালিক রুবেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, নিরাময় কেন্দ্রে তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, ছয় মাস আগে দেশে ফেরার পর কাতারপ্রবাসী ফোরকান মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে ১৪ আগস্ট তাঁকে প্রয়াসে ভর্তি করা হয়। পরে গত মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার (৮৪) নামে এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে, গত ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আমিন উল্যাহ উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক গ্রামের মৃত মজু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির সামনে দখলীয় নাল জমিতে ধান চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন আমিন উল্যাহ হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমিন উল্যাহসহ পরিবারের আটজন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার এবং তার দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন ও জাকের হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় আমিন উল্যাহ হাওলাদার ও আনোয়ার হোসেনকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে আমিন উল্যাহ হাওলাদারের মৃত্যু হয়।
আহত জাকের হোসেন বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তিতে কয়েক যুগ ধরে তারা চাষাবাদ করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় অপর একটি পক্ষ ওই জমি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে মামলাও চলমান রয়েছে, তবে জমিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। গত ১২ আগস্ট অন্যান্য বছরের মতো রোপা আমন ধানের চারা লাগাতে গেলে প্রতিপক্ষের একরাম (৫০), আহছান উল্যাহ (৪৫), ইয়াকুব (৩৫), ফয়েজ উল্যাহ (৪২), সিরাজ (৪১), সালাউদ্দিন খোকন (৫২), ইসমাইল (২৫), আফসার (২৪), সাহাব উদ্দিন (৪০) সহ ৩০/৪০ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পরিবারের আট সদস্যকে গুরুতর আহত করে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সংঘর্ষে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।
ওসি আরও বলেন, নিহতের পক্ষের দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। বিবাদী পক্ষের এক ব্যক্তিও মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।