পরীমনি
সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ছবিতে তার কোলে দেখা যায় এক সদ্যজাত শিশুকে।
ছবিটির সঙ্গে পরীমনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘তিন নাম্বার জন ডান। আলহামদুলিল্লাহ।’
এরপর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে কি তৃতীয় সন্তানের মা হলেন পরীমনি? নাকি আবারও কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন এই অভিনেত্রী- এমন প্রশ্নই ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। শিশুদের প্রতি পরীমনির ভালোবাসার কথা অবশ্য অনেকেরই জানা। নিজের সন্তানদের পাশাপাশি অন্য শিশুদের প্রতিও তার রয়েছে আলাদা টান। বিভিন্ন সময় একাধিক সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এমনকি একসময় মজা করে ১০০ সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন পরীমনি।
চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে থাকাকালীন তাদের ঘরে আসে ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পূণ্য। পরে রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলেকে নিজের কাছেই রেখে বড় করছেন পরীমনি। এরপর তিনি একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নেন। তার নাম রাখা হয় সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম।
বর্তমানে দুই সন্তান নিয়েই পরীমনির ব্যস্ততা। অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের জন্য সময় বের করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমেও নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায় তাকে।
এদিকে সোমবারের ছবিতে পরীমনিকে দেখা যায় গাড়ির ভেতর রোদচশমা পরা অবস্থায়। তার কোলে থাকা সদ্যজাত শিশুটিকে নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীদের অভিনন্দন ও নানা প্রশ্ন জমতে থাকে।
শিশুটির পরিচয় এবং ‘তিন নাম্বার জন ডান’ ক্যাপশনের রহস্য জানতে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে শিশুটিকে ঘিরে রহস্য আরও বেড়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ধারণা করছেন, পরীমনি হয়তো নতুন করে কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ছবির শিশুটি হয়তো তার পরিচিত কারও সন্তান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা ছবির প্রকৃত প্রেক্ষাপট এখনো নিশ্চিত নয়।
পরীমনির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে এখন সবার অপেক্ষা, ‘তিন নাম্বার জন’ নিয়ে আসলে কী বলতে চেয়েছেন পরীমনি, সেটি কবে নিজেই পরিষ্কার করেন তিনি।
দেব ও শুভশ্রী
‘হ্যালো বাংলাদেশ, আই ক্যান সি ইউ।’ দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গের টাকি থেকে নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এভাবেই ক্যাপশন দিয়েছিলেন দেব। পশ্চিমবঙ্গের এই নায়ক ও প্রযোজক বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়।
ছবিগুলোতে এ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া এসেছে প্রায় তিন লাখ। অনেক বাংলাদেশি দর্শকও মন্তব্যের ঘরে দেবকে শুভকামনা জানিয়েছেন। কেউ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ‘বুনোহাঁস’ সিনেমার কথা। দেব অভিনীত সিনেমাটির কিছু অংশের শুটিং হয়েছিল বাংলাদেশে। তবে দেব এবার আলোচনায় শুভশ্রীর সঙ্গে নতুন সিনেমা নিয়ে। একসময় ব্যক্তিগত জীবনেও সম্পর্কে থাকা এই তারকা জুটি একসঙ্গে ১২ বছর পর নতুন সিনেমা করেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘দেশু ৭’–এর টিজার মুক্তির পরই সাড়া ফেলেছে।
১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের টিজারজুড়ে অ্যাকশন হিরো দেবের পাশাপাশি ফিরেছে দেব-শুভশ্রী জুটির পুরোনো রোমান্স। দেব ও শুভশ্রী ছাড়াও টিজারের বড় চমক অনির্বাণ ভট্টাচার্য। বড় চুল, চোখে রোদচশমায় ‘ভিলেন’ অনির্বাণের লুক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বছরখানেক ধরে টালিউডে ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ‘নিষিদ্ধ’ অনির্বাণ ভট্টাচার্য এ সিনেমা দিয়েই নতুনভাবে ফিরছেন।
টিজারের পর সিনেমাটির প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’–এর টিজারও এসেছে গত শনিবার। গানের টিজার শেয়ার করে দুই তারকা লিখেছেন, ‘কিছু সম্পর্ক কখনোই মিলিয়ে যায় না...সেগুলো কেবলই ফিরে আসার পথ খুঁজে নেয়।’ ক্যাপশনের এ দুটি লাইন যেন বলে দিচ্ছে অনেক কিছু। অনেকে মন্তব্যের ঘরে দুই তারকার সম্পর্কের কথাও লিখেছেন।
২০০৯ সালে রাজ চক্রবর্তীর চ্যালেঞ্জ দিয়ে শুরু হয় দেব ও শুভশ্রীর জুটি। এরপর টানা কয়েকটি হিট সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। কিন্তু ২০১৩ সালে খোকা ৪২০ মুক্তির পরপরই এই জুটির সম্পর্কে ফাটল ধরে।
‘দেশু ৭’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন দেব। এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ১৬ অক্টোবর।
জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ছবি: ইন্সটাগ্রাম
‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর বিজয়ীর নাম ঘোষিত হলো। ডোমিনিকান রিপাবলিকের সুন্দরী জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস হলেন ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ড। শনিবার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড, থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি। এবার প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিজাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ স্নাতক মোলা শুধু ফ্যাশন ও মডেলিং জগতেই সফল নন। তিনি একাধারে সাহিত্য ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষিকা, পেশাদার মডেল এবং সংবাদ জগতের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি ‘ভয়েস অব টুমরো’ নামক একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।
এই প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের ইংরেজি ভাষার শিক্ষা ও তাদের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। জোহেইরি মোলা এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন সামাজিক কাজ, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ডের আয়োজন বসে ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে।
মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এরিক মর্লে প্রতিযোগিতাটির সূচনা করেন। প্রতিযোগীদের কয়েকটি ধাপে যাচাই করা হয়।
এবারের আসরে মোট ১১১ জন প্রতিযোগী ছিলেন। তাদের আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া– এই চার মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
চলতি বছরের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সামানজার সাঈদ বিউটি উইথ আ পারপাসে নিজ মহাদেশে প্রাথমিকভাবে সেরা ছয়ে থাকলেও ফাইনালের সেরা চল্লিশে জায়গা পাননি।
প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন নিকিতা পোরওয়াল। তবে তিনি সেরা ২০-এর তালিকায় স্থান পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে তানজানিয়া।
সূত্র: বিবিসি
সালমান শাহ ও শাবনূর
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম প্রয়াণ দিবসে তাকে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন একসময়ের ঢালিউড কুইন শাবনূর। রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সালমান শাহর সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করে আবেগঘন বার্তা দেন তিনি।
শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার স্মৃতি নিজের হৃদয়ে এখনো অমলিন-এমনটাই জানিয়েছেন শাবনূর। পর্দার প্রিয় রাজপুত্র ও দর্শকের স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ আজও স্মৃতি ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে বেঁচে আছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শাবনূরের ভাষায়, সালমান শাহর অকালপ্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি। সময়ের সঙ্গে প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের মায়া দর্শকের হৃদয়ে এখনো একইভাবে জীবন্ত।
সালমানকে স্মরণ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘তোমার ৩০তম প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অশেষ ভালোবাসা। যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতবাসী করুন।’
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সালমান শাহ। তার আকস্মিক মৃত্যু সে সময় পুরো দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মৃত্যুর ৩০ বছর পরও কমেনি এই অভিনেতার জনপ্রিয়তা।
মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন সালমান শাহ। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পরও নতুন প্রজন্মের কাছেও তার জনপ্রিয়তা অটুট। তার পোশাক-পরিচ্ছদ, মাথার ব্যান্ডেনা, চোখের সানগ্লাস, বাইক, কালো ঘন চুল ও মায়াবী হাসি-সবকিছুই এখনো তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রাখে। সময় পেরিয়ে গেলেও তাই দর্শকের ভালোবাসায় আজও অমর হয়ে আছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই স্বপ্নের নায়ক।
দীপা খন্দকার
অভিনয়জীবনের এই সময়ে এসে একজন সুঅভিনেত্রী হিসেবে দর্শকের ভালোবাসায় আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন দীপা খন্দকার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলেই কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। তবে এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার একটি পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
ফেসবুকে দীপা খন্দকার লিখেছেন, ‘কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে, কারও স্বার্থে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন। আমি শুধু আমার প্রাপ্যটুকু নিয়ে ভালো থাকতে চাই। আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।’
দীপার এই পোস্টের পর থেকেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এমন কথা লিখেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
অভিনয়ের শুরু থেকেই গল্প ও চরিত্র গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছেন দীপা। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও নিয়মিত নতুন কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ‘কর্মফল’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মহিন খান।
‘কর্মফল’ নাটকে প্রচলিত ঘরানার বাইরে ভিন্ন ধরনের একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দেখা যাবে দীপাকে। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন আ খ ম হাসান।
এদিকে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকে ফুফু চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন দীপা খন্দকার। চরিত্রটি দর্শকদের কাছেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
একই পরিচালকের নতুন ধারাবাহিক নাটকেও কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন দীপা। আজ (৬ সেপ্টেম্বর) রোববার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউজে ধারাবাহিকটির শিল্পীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সালমান শাহ
১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল শুক্রবার। সেদিন সকাল সাতটায় বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন।
এই শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন ঢাকার তৎকালীন সিনেমা জগতের সুপারস্টার সালমান শাহ।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান শাহ'র মা নীলা চৌধুরী বলেন, বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহ'র বাবাকে তাঁর ছেলের বাসায় যেতে দিচ্ছিল না ।
নীলা চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, "বলেছে স্যার এখনতো উপরে যেতে পারবেন না। কিছু প্রবলেম আছে। আগে ম্যাডামকে (সালমান শাহ'র স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করতে হবে। এক পর্যায়ে উনি (সালমান শাহ'র বাবা) জোর করে উপরে গেছেন। কলিং বেল দেবার পর দরজা খুললো সামিরা (সালমান শাহ'র স্ত্রী)।"
"উনি (সালমান শাহ'র বাবা ) সামিরাকে বললেন ইমনের (সালমান শাহ'র ডাক নাম) সাথে কাজ আছে, ইনকাম ট্যাক্সের সই করাতে হবে। ওকে ডাকো। তখন সামিরা বললো, আব্বা ওতো ঘুমে। তখন উনি বললেন, ঠিক আছে আমি বেডরুমে গিয়ে সই করিয়ে আনি। কিন্তু যেতে দেয় নাই। আমার হাজব্যান্ড প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বসে ছিল ওখানে।"
বেলা এগারোটার দিকে একটি ফোন আসে সালমান শাহ'র মা নীলা চৌধুরীর বাসায়।
ঐ টেলিফোনে বলা হলো, সালমান শাহকে দেখতে হলে তখনই যেতে হবে।
কেমন ছিল পরিবেশ?
টেলিফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহ'র বাসার দিকে রওনা হয়েছিলেন। তবে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে ছেলে সালমান শাহকে বিছানার ওপর দেখতে পান নীলা চৌধুরী।
"খাটের মধ্যে যেদিকে মাথা দেবার কথা সেদিকে পা। আর যেদিকে পা দেবার কথা সেদিকে মাথা। পাশেই সামিরার (সালমান শাহ'র স্ত্রী) এক আত্মীয়ের একটি পার্লার ছিল। সে পার্লারের কিছু মেয়ে ইমনের হাতে-পায়ে সর্ষের তেল দিচ্ছে। আমি তো ভাবছি ফিট হয়ে গেছে।"
"আমি দেখলাম আমার ছেলের হাতে পায়ের নখগুলো নীল। তখন আমি আমার হাজব্যান্ডকে বলেছি, আমার ছেলে তো মরে যাচ্ছে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নীলা চৌধুরী।
ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বলা হয় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে।
পরিবারের দাবি
বাংলাদেশে সালমান শাহ অভিনীত প্রথম সিনেমা 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার শেষ দৃশ্যের মতো তাঁর জীবনের রথও থেমে গিয়েছিল ওই ছবি করার ঠিক চার বছর পর।
এরপর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে।
নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
পুলিশ বলেছিল, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি বেরিয়ে আসে যে এটি হত্যাকাণ্ড, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় মোড় নেবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশ।
সে সময় সারা দেশজুড়ে সালমানের অসংখ্য ভক্ত তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে না পারায় বেশ কয়েকজন তরুণী আত্মহত্যা করেন বলেও খবর আসে পত্রিকায়।
সালমানের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে না পারায় তাঁর ভক্তদের মাঝে তৈরি হয় নানা প্রশ্নের।
আরও প্রশ্ন
সালমান শাহের মৃত্যুকে ঘিরে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠতে থাকে, তখন পরিবারের দাবির মুখে দ্বিতীয়বারের মতো ময়না তদন্ত করা হয়। মৃত্যুর আটদিন পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
সে বোর্ডের প্রধান ছিলেন ডা. নার্গিস বাহার চৌধুরী।
তিনি বলছিলেন, "লাশটা আমি দেখেছি মরচুয়েরিতে। আমার কাছে মনে হয়েছে যেন সদ্য সে মারা গেছে। এ রকম থাকলে তাঁর মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে নির্ণয় করা যায়। আত্মহত্যার প্রত্যেকটা সাইন (চিহ্ন) সেখানে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ছিল। তাঁর শরীরে আঘাতের কোন নিশানা ছিল না।"
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে মামলার কাজ সেখানেই থেমে যায়।
সালমান শাহ'র পারিবারিক বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলছিলেন, শেষের দিকে অনেক মানসিক চাপে ছিলেন সালমান শাহ। পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রযোজকদের সাথে বোঝাপড়ার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
সালমান শাহ'র মৃত্যুর পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভাবনীয় ক্ষতির মুখে পড়ে।
প্রযোজকরা লোকসান কমিয়ে আনতে সালমান শাহ'র মতো দেখতে কয়েকজন তরুণকে নিয়ে অসমাপ্ত সিনেমার কাজ সম্পন্ন করার জন্য উঠে-পড়ে লাগেন।
"পুরনো ঢাকার একটি ছেলেকে পেছন থেকে দেখতে সালমানের মতো মনে হয়। তার চুলের স্টাইল দেখতে পেছন দিকে থেকে সালমানের মতো। তখন তার ওপর পুরো ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্ব পড়ে গেল। সালমানের অসমাপ্ত ছবিগুলোতে লং শট, ব্যাক টু ক্যামেরা, ওভার-দ্যা-শোল্ডার শটের মাধ্যমে সে ছেলেটাকে ব্যবহার করা শুরু হলো," বলেন শাহ আলম কিরণ।
সালমান শাহ'র মৃত্যুর সংবাদ দর্শকদের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে এত বছর পরেও অনেকে তার প্রিয় নায়ককে ভুলতে পারেননি। সালমানের মৃত্যুর দুই দশকের বেশী পরেও তাকে নিয়ে দর্শকদের মাঝে আলোচনা থামেনি।
কিন্তু সালমান শাহ'র বিশেষত্ব কী ছিল? কেন তিনি এতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন?
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক এবং বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাকির হোসেন রাজু মনে করেন, সালমান শাহ যে সময়টিতে অভিনয়ে এসেছিলেন, তখন ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পালাবদলের সময়।
১৯৯২ সালে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ। জনপ্রিয় একটি হিন্দি সিনেমার অফিসিয়াল রিমেক ছিল 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত'।
এ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সালমান।
পর্দায় তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, সংলাপ বলার ধরন, অভিনয়-দক্ষতা - সবকিছু মিলিয়ে দর্শকের মনে স্থান করে নিতে সময় লাগেনি এ নায়কের।
বাংলাদেশের সিনেমায় তিনি 'রোমান্টিক হিরো' হিসেবে পরিচিত পান।
পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলেন, "ও যাই করতো, সেটাই ভালো লেগে যেত। অল্প সময়ের মধ্যে এ ছেলেটা চলচ্চিত্রমোদীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।"
মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ১৯৯০'র দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আলোড়ন তুলেছিলেন নায়ক সালমান শাহ। সাতাশটি সিনেমার বেশিরভাগই ছিল আলোচিত এবং ব্যবসা সফল।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক জাকির হোসেন রাজু বলছিলেন, ১৯৭০-৮০'র দশকের নায়কদের পরে চলচ্চিত্রে সালমানের আবির্ভাব এক ধরণের তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল।
প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা
নায়ক রাজ্জাক, আলমগীর এবং ফারুকের পর সে সময় নতুন একদল তরুণ অভিনেতার আবির্ভাব হয়েছিল ঢাকার সিনেমা জগতে।
নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যত নায়কের আবির্ভাব ঘটেছিল তাদের মধ্যে সালমান শাহ সবচেয়ে প্রমিজিং (প্রতিশ্রুতিশীল) ছিলেন বলে উল্লেখ করেন জাকির হোসেন রাজু।
তাঁর বর্ণনায়, সালমান শাহ'র অভিনয়ের মধ্যে দর্শক একটা ভিন্নধারা খুঁজে পেয়েছিল। অনেকে আবার সালমান শাহ'র মধ্যে বলিউড নায়কদের ছায়াও খুঁজে পেয়েছিলেন।
সালমান শাহকে নিয়ে আলোচনা কখনোই থামেনি।
মাত্র চার বছরের সিনেমা ক্যারিয়ারে সালমান শাহ বাংলা সিনেমার অভিনয় জগতে নিজের এমন একটি স্থানটি করে নিয়েছিলেন যে তাঁর অভাব এখনো অনুভব করেন দর্শক, পরিচালক, প্রযোজক - সবাই।
এখনো প্রতি বছর সালমান শাহ'র মৃত্যু দিবসে তাঁর অনেক ভক্ত তাঁকে স্মরণ করেন ভালোবাসার সঙ্গে।
আর সালমানের অনেক ভক্তের কাছে তাঁর মৃত্যু এখনো একটি বড় রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।
সালমান শাহ
ঢালিউড সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহ। রুপালি পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। তাঁর অকালপ্রয়াণের তিন দশক পরও সেই ভালোবাসায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সালমান শাহ হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের নস্টালজিয়ার অন্যতম নাম। তাঁর সিনেমা মানে নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিকতা, তারুণ্যের আবেগ আর দর্শকের ভালোবাসায় ভরা এক স্বর্ণালি অধ্যায়। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। বিশেষ এ দিনটিকে সামনে রেখে প্রয়াত নায়কের স্মরণে সপ্তাহজুড়ে বিশেষ আয়োজন করেছে দীপ্ত টিভি। আয়োজনের অংশ হিসেবে আজ শনিবার থেকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা সাত দিন দুপুর আড়াইটায় প্রচারিত হবে সালমান শাহ অভিনীত সাতটি সিনেমা।
আয়োজনের প্রথম দিন আজ শনিবার প্রচারিত হবে শাহ আলম কিরণ পরিচালিত ‘বিচার হবে’। এতে সালমান শাহর সঙ্গে অভিনয় করেছেন শাবনূর, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ডলি জহুর ও হুমায়ুন ফরীদি। আগামীকাল সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন দেখানো হবে এম এ খালেদ পরিচালিত ‘স্বপ্নের ঠিকানা’।
এতে সালমান ও শাবনূরের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সোনিয়া, রাজীব, ডলি জহুর ও আবুল হায়াত। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর থাকছে শিবলি সাদিক পরিচালিত ‘আনন্দ অশ্রু’। এতে সালমান ও শাবনূরের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কাঞ্চি, ডলি জহুর ও হুমায়ুন ফরীদি।
৮ সেপ্টেম্বর প্রচারিত হবে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘এই ঘর এই সংসার’। এতে সালমানের সহশিল্পী বৃষ্টি, রোজী আফসারী, বুলবুল আহমেদ, আলীরাজ ও তমালিকা কর্মকার। ৯ সেপ্টেম্বর দর্শক দেখতে পাবেন জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘জীবন সংসার’। এতে অভিনয় করেছেন সালমান, শাবনূর, ফারুক, ববিতা ও গোলাম মুস্তাফা। ১০ সেপ্টেম্বর থাকছে রেজা হাসমত পরিচালিত ‘প্রেম পিয়াসী’। অভিনয়ে সালমান, শাবনূর, আনোয়ারা, রাজীব ও মিশা সওদাগর।
সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের শেষ দিন শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর প্রচারিত হবে বাদল খন্দকারের ‘স্বপ্নের পৃথিবী’। অভিনয়ে সালমান, শাবনূর, রাজীব, ববিতা ও রাইসুল ইসলাম আসাদ। অকালপ্রয়াণের ৩০ বছর পরও সালমান শাহর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে, প্রজন্ম বদলালেও তাঁর প্রতি দর্শকের ভালোবাসা বদলায়নি।
দীপ্ত টিভির সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজন সেই ভালোবাসা ও স্মৃতিকে আরও একবার ফিরিয়ে আনবে দর্শকের ঘরে।