নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠানে কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। উপদেষ্টা।
আজ বিকালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন সম্মেলন কক্ষে 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬' সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এনডিসি পিএসসি ও অতিরিক্ত আইজিপি (ফিন্যান্স) মো. আকরাম হোসেন বিপিএম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘নির্বাচনে কাউকে আইনে ভঙ্গ করতে দেয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। উপদেষ্টা এসময় আইন প্রয়োগ ও নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; 'সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫'; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ ও অনুসরণের নির্দেশ দেন।’
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুসরণের জন্য অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে প্রত্যহ অফিস শুরু কিংবা শেষে অথবা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি, বিভিন্ন সমস্যাবলী, বর্তমান কার্যক্রম, সামনের কর্মসূচি, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াদি এবং আচরণ বিধিমালা কার্যক্রম সম্পর্কে সভা আহবান করা যেতে পারে।”
উপদেষ্টা বলেন, “প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা যাতে বজায় থাকে সেটি রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “যেসব কর্মকর্তারা চিহ্নিত ও ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে পরিচিত, তাদের কোন অবস্থাতেই নির্বাচনি দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা যাবে না। যারা পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহে অনিয়মে জড়িত ছিলো, দলকানা কিংবা বিতর্কিত তাদের কোন অবস্থাতেই নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত করা যাবে না।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬'-এর ব্যবহার যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে।”
তিনি বলেন, “এ অ্যাপ তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার/নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে”।
তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাপটির ব্যবহার বিষয়ে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দ্রুত শেষ করতে হবে।’
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘ভোট দেয়ার বুথসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের পরিবেশ উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে হবে। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার মূল রাস্তা যাতে মসৃণ ও যাতায়াত উপযোগী থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যালট বাক্স সহ নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এগুলো যাতে যথাসময়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো যায়-সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মোদ্দাকথা, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।’
নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে যেকোনো পরিস্থিতিতে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব। তিনি সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক/জেলা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ হেফাজত থেকে হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় একই পরিবারের ৫ সদস্যসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (১ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ার বাসিন্দা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তার ছেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০), তার মেয়ে সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। এছাড়া, দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং গোলাপগঞ্জের বাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০)।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরবর্তীতে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালান।
পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পুলিশ দলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ ও মারপিট করেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতের সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।
বিরল সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় মদ উদ্ধার
দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৫০০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধর্মজান বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে অপরাধী চক্রের কোনো অপতৎপরতাই নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর নজরদারীর মাধ্যমে দায়ীত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। সীমান্তের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পদ বাতিল হাওয়া কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও সাবেক নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও সাবেক নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) বাতিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।
মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সভা চলাকালে সংঘটিত সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা মহানগরীর তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আবদুল হালিম।
তিনি জানান, গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সভা চলাকালে সৃষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২৬ অক্টোবর আমিরে জামায়াত ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আলোচনাক্রমে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও একেএম এমদাদুল হক মামুনের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
ওই ঘটনার দুই দিনের মাথায় ১৬ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে মহানগর সংগঠন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে।
এ ছাড়া ১৪ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্য ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।
অন্যদিকে, ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় দলটি।
ছবি : সংগৃহীত
রাঙামাটির সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে অবরোধ শিথিলের দিনেও অন্য একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাবে সাজেক সড়কে বড় যানবাহন চলাচল করেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার বিকেলে সাজেকের গঙ্গারামের জুরজুড়ি ছড়ার পাশের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগের দিন শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙ্গামুড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দুই সংগঠনই।
ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, বন্দুকযুদ্ধে ইউপিডিএফের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। তাদের কোনো সশস্ত্র সংগঠন নেই; তারা গণতান্ত্রিক সংগঠন। সাজেকে চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমাও তার দলের কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জেএসএস এ বন্দুকযুদ্ধে জড়িত নয়। ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা বলেন, জুরজুড়ি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা টানা ১০ দিনের সড়ক অবরোধ রোববার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল ছিল। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাব পড়েছে সাজেকে। এ কারণে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও বড় যানবাহন চলেনি।
গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেকের বিভিন্ন দাবিতে থেমে থেমে সড়ক অবরোধ করে আসছিল সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা এক বার্তায় রোববারের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেন। সাজেকের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসবের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বার্তায় জানানো হয়। তবে সোমবার থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ চলবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে ছোট যানবাহন চললেও বড় যানবাহন চলাচল করেনি।
এর আগে ২৬ অক্টোবর সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি প্রশাসন মেনে নিলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করলে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন টিপু। জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি মালিক সমিতি এবং শ্রমিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তব্যে আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘ওই যে ফ্যাসিস্টরা কানাঘুষা করছে। নারায়ণগঞ্জে একটা চাপাবাজ, একটা নাটকবাজ গডফাদার আছে। সে ঘোষণা দিয়েছে, আমি ডিসেম্বরে আসতেছি, কামান-টামান, গোলাবারুদ কিছুই আমাকে আটকাতে পারবে না। আরে বেটা, তুই তো বোরখা পরে পালিয়ে গিয়েছিস। তুই তো কাপুরুষ। তুই আবার ঘোষণা দেস। তুই তো বর্ডার এলাকা পার হয়ে আসতে পারবি না। এবার তুই নারায়ণগঞ্জে ঢুকলে তোর হাত-পা ভাঙবে কি না, সেটা দেখিস।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোদের পরিবারের কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আর জিম্মি করতে দেওয়া হবে না। তুই পাঁচ হাজার কোটি টাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে লুটপাট করে নিয়েছিস। রাক্ষসের পেট ভরে না। তারপরও তুই জুলুম করে, হুমকি-ধমকি দিয়ে, সন্ত্রাসী করে আবারও নারায়ণগঞ্জবাসীকে জিম্মি করতে চাস। তোকে বলে দিতে চাই, বহু চাঁদাবাজি করেছিস জীবনে; আল্লাহর কাছে তওবা কর, মাফ চা।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তুই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিস। আর আমেরিকায় চাপাবাজি করছিস। আর নারায়ণগঞ্জে আসবি? কোনো কামান তোকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা সেই সময়ের অপেক্ষায় রইলাম। তুই গেছিস, তোর পোলা গেছে, তোর বউ গেছে, তোর আত্মীয়স্বজন, তোর নেত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। তারপরও তোদের চাপাবাজি থামে না। আপনারা ওই পরিবার সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন।’
শাহজাহান খান মিয়া ও তার ছেলে মাহি
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলে মাহি।
জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খানের ছেলে মাহি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এদিকে, ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন শাহজাহান খান। পোস্টে ছেলের একটি ছবি যুক্ত করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা রইল বাজান।’
প্রসঙ্গত, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশের সব শিক্ষা বোর্ড একযোগে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।