ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫১ পিএম

ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। 


আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


ফয়সাল আহমেদ ও রোজিনা আকতারসহ একাধিক শ্রমিক জানান, এ সময় অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী শ্রমিক আহত হয়েছেন।


এর আগে বেলা আড়াইটা থেকে শ্রমিকদের অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এর আগে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকার অন্তত ১৮টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা। পরে আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন।


আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগও নেই। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়লেও তাদের বেতন বাড়েনি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।


শিল্প পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।


শনিবার দুপুরে টিফিন বিরতির সময় কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের ময়লা-আবর্জনার বস্তা রাস্তায় ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। একপর্যায়ে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। 


খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বেলা আড়াইটা থেকে অবরোধ শুরু হলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা। 


চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় বাসচালক খবির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চন্দ্রা এলাকায় বসে আছি। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। পোশাকশ্রমিকেরা প্রায়ই এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে আমাদের কী হবে?’


যাত্রী মো. কারেকুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। চন্দ্রায় এসে বাস থেকে নেমে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাচ্ছি।


জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। মানুষের জানমালের ক্ষতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।


কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পাঁচটার দিকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।




চবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

ক্লাস শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় আবারও ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একদিনের জন্য তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার তারা এ কর্মসূচি দিয়েছেন।


একদিনের জন্য সোমবার তারা এ কর্মসূচি পালন করবেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে সোমবার ঢাকায় থাকবেন চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাই রোববার বিকালে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।


তার আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ৩৬ দিনের শাটডাউন কর্মসূচির পর বুধবার থেকে ক্লাসে ফিরেছিলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। কিন্তু উপাচার্যের এ সিদ্ধান্তের পর রোববার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ফের ‘শাটডাউনের’ ডাক দিলেন তারা।


বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলছে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের কথা চিন্তা করে আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলাম। তবে আমাদের সুষ্পষ্ট শর্ত ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে আমরা কোনভাবেই মেনে নিইনি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তার কোনো হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।


তারা আরও বলছে, অন্য একজনকে উপাচার্যের ‘রুটিন দায়িত্ব’ প্রদানের মত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা ‘নিজে উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা’।


রোববার বেলা ৩টার দিকে চুয়েট মিলনায়তনে সভা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা। এক শিক্ষার্থী বলেন, টানা আন্দোলনের কারণে নিজেদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হতে পারে ভেবে আমরা ক্লাসে ফিরেছিলাম। কিন্তু আমাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। এরই প্রতিবাদে আমরা কাল শাটডাউন ডেকেছি। শুরু থেকে আমাদের একটাই দাবি, অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা। এই দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে।



এ ব্যাপারে উপাচার্য শরীফুল আলম বলেন,  ইউজিসির একটি দাপ্তরিক কাজে অংশ ঢাকা যাচ্ছি। আশা করি, আগামীকাল ফিরতে পারব। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। ডিনদের মধ্যে তিনি সিনিয়র মোস্ট। যেহেতু আমি ঢাকায় থাকব, তাই দাপ্তরিক কোনো প্রয়োজনে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।


প্রসঙ্গত, আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ২৫ অক্টোবর আন্দোলনের ৩৪তম দিনে এসে ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। 



  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ হেফাজত থেকে হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় একই পরিবারের ৫ সদস্যসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  রবিবার (১ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ার বাসিন্দা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তার ছেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০), তার মেয়ে সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। এছাড়া, দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং গোলাপগঞ্জের বাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০)। 


পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরবর্তীতে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালান। 


পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পুলিশ দলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ ও মারপিট করেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স। 


এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতের সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।


বিরল সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় মদ উদ্ধার

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৫০০ টাকা।


বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধর্মজান বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে অপরাধী চক্রের কোনো অপতৎপরতাই নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

 চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। 


সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর নজরদারীর মাধ্যমে দায়ীত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। সীমান্তের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


পদ বাতিল হাওয়া কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও সাবেক নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও সাবেক নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) বাতিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।


মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সভা চলাকালে সংঘটিত সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।


রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা মহানগরীর তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আবদুল হালিম।


তিনি জানান, গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সভা চলাকালে সৃষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২৬ অক্টোবর আমিরে জামায়াত ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আলোচনাক্রমে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও একেএম এমদাদুল হক মামুনের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।


ওই ঘটনার দুই দিনের মাথায় ১৬ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে মহানগর সংগঠন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে।


এ ছাড়া ১৪ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্য ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।


অন্যদিকে, ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় দলটি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

রাঙামাটির সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে অবরোধ শিথিলের দিনেও অন্য একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাবে সাজেক সড়কে বড় যানবাহন চলাচল করেনি।


স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার বিকেলে সাজেকের গঙ্গারামের জুরজুড়ি ছড়ার পাশের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগের দিন শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙ্গামুড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দুই সংগঠনই। 


ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, বন্দুকযুদ্ধে ইউপিডিএফের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। তাদের কোনো সশস্ত্র সংগঠন নেই; তারা গণতান্ত্রিক সংগঠন। সাজেকে চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমাও তার দলের কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জেএসএস এ বন্দুকযুদ্ধে জড়িত নয়। ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।


সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা বলেন, জুরজুড়ি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।


সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে।


এদিকে পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা টানা ১০ দিনের সড়ক অবরোধ রোববার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল ছিল। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাব পড়েছে সাজেকে। এ কারণে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও বড় যানবাহন চলেনি।


গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেকের বিভিন্ন দাবিতে থেমে থেমে সড়ক অবরোধ করে আসছিল সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা এক বার্তায় রোববারের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেন। সাজেকের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসবের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বার্তায় জানানো হয়। তবে সোমবার থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ চলবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে ছোট যানবাহন চললেও বড় যানবাহন চলাচল করেনি।


এর আগে ২৬ অক্টোবর সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি প্রশাসন মেনে নিলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।





নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করলে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।


রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন টিপু। জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি মালিক সমিতি এবং শ্রমিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


বক্তব্যে আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘ওই যে ফ্যাসিস্টরা কানাঘুষা করছে। নারায়ণগঞ্জে একটা চাপাবাজ, একটা নাটকবাজ গডফাদার আছে। সে ঘোষণা দিয়েছে, আমি ডিসেম্বরে আসতেছি, কামান-টামান, গোলাবারুদ কিছুই আমাকে আটকাতে পারবে না। আরে বেটা, তুই তো বোরখা পরে পালিয়ে গিয়েছিস। তুই তো কাপুরুষ। তুই আবার ঘোষণা দেস। তুই তো বর্ডার এলাকা পার হয়ে আসতে পারবি না। এবার তুই নারায়ণগঞ্জে ঢুকলে তোর হাত-পা ভাঙবে কি না, সেটা দেখিস।’


তিনি আরও বলেন, ‘তোদের পরিবারের কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আর জিম্মি করতে দেওয়া হবে না। তুই পাঁচ হাজার কোটি টাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে লুটপাট করে নিয়েছিস। রাক্ষসের পেট ভরে না। তারপরও তুই জুলুম করে, হুমকি-ধমকি দিয়ে, সন্ত্রাসী করে আবারও নারায়ণগঞ্জবাসীকে জিম্মি করতে চাস। তোকে বলে দিতে চাই, বহু চাঁদাবাজি করেছিস জীবনে; আল্লাহর কাছে তওবা কর, মাফ চা।’


বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তুই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিস। আর আমেরিকায় চাপাবাজি করছিস। আর নারায়ণগঞ্জে আসবি? কোনো কামান তোকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা সেই সময়ের অপেক্ষায় রইলাম। তুই গেছিস, তোর পোলা গেছে, তোর বউ গেছে, তোর আত্মীয়স্বজন, তোর নেত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। তারপরও তোদের চাপাবাজি থামে না। আপনারা ওই পরিবার সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন।’