মির্জা ফয়সল আমিন
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ফয়সল আমিন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।
এ ছাড়া আসনটিতে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩০৮। ভোট প্রদানের হার ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮৫টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ২৮৭ জন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির প্রার্থী মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন পাঁচজন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট।
পরবর্তী সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হলে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিজয়ের পর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা ফয়সল আমিন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীর পুরুষ’ কবিতা অবলম্বনে নির্মিত ‘খোকার স্বপ্ন’ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। বুধবার বিকেলে উপজেলার আমজুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাটকটি মঞ্চস্থ করে। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দেন নাট্যকার হাজ্জাজ তানিন। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধসহস্রাধিক দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনন, মেধা ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ‘কারিগর’-এর বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে ‘স্কুল সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম। আয়োজকদের দাবি, পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুকে নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম।
এই কার্যক্রমের আওতায় নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। এর আগে নাটকের সঙ্গে যুক্ত ২৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সাত দিনের নাট্যকর্মশালার আয়োজন করা হয়। গঠন করা হয় স্কুল থিয়েটার ক্লাব। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের মেডিটেশন, ইয়োগা ও বিভিন্ন থিয়েটার গেমের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের গল্প, কবিতা, পরিবেশ পরিচিতি ও বিশ্বপরিচয়ের বিভিন্ন বিষয় নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। এর আগে শিক্ষার্থীরা এমন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। নাটকটিতে শুধু ‘বীর পুরুষ’ কবিতার মর্মার্থই নয়, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এ কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, তারা সাবলীলভাবে কথা বলতে শিখছে। এমনকি ইংরেজিতে কথা বলার সাহসও অর্জন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা। এ সময় বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা বেগম, সহকারী শিক্ষক হীরা মনি, ৭ নম্বর দেবনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ হোসেন এবং কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার প্রমুখ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, এটি একটি অভূতপূর্ব আয়োজন। থিয়েটার শুধু আনন্দের বিষয় নয়, এর মাধ্যমে সামাজিক নানা বার্তাও পাওয়া যায়। এটি কেবল নাটক নয়, বরং পাঠ্যসূচিরই একটি অংশ। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোট ১০টি নাটক মঞ্চস্থ করা হবে। জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভিন সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাত দিনের নাট্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশিক্ষকদের এক অনন্য সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটছে। সাত দিনের কর্মশালায় অংশ নেওয়া ২৫ জন শিক্ষার্থী যেন নতুন একটি জগতে প্রবেশ করছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিদ্যালয়ের মাঠে মঞ্চ তৈরি করছে, নাটকের সংলাপ তৈরি করছে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটছে এবং সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য র্যালি, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিকেল ৫টার দিকে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে র্যালিটি শুরু হয়। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পলাশ ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান জিয়া। এ সময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। র্যালি ও সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ ভাগাভাগি করতে আয়োজন করা হয় কেক কাটার পর্ব। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা কেক কেটে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শাহা নূর আলম খান বাপ্পি, হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবিরসহ ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবদল এবং বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা। ছবি: সংগ্রহীত
লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামের খাঁনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খোরশেদ দিলসাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ও পেশায় মাটি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও মেয়ে প্রেমা আক্তার জানান, খোরশেদ মাটির ব্যবসা করতেন। দুপুরে তাকে মোরশেদ ও মজিদ নামের দুজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে শোনেন, ওয়ালিদ নামে একজন প্রতিপক্ষ তাকে গুলি করেছেন। ওয়ালিদ মাটির ব্যবসা নিয়ে এর আগেও বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম রনি বলেন, খোরশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তিনি মারা গেছেন। তার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ নামে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খোরশেদের মৃত্যুতে হাসপাতাল এলাকায় তার স্ত্রী-মেয়ে ও স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
বেসরকারিভাবে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ পুলিশ সদস্য ও ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। চার বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কথা আছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন- রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮। নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
প্রসঙ্গত, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আরো একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশ দিয়ে নতুন একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পাশাপাশি কান্দিগাঁও ইউনিয়নে সুরমা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি। সিলেট নগরের ব্লু ওয়াটার শপিং সিটিতে একটি অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিন ব্রিজ দিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচল করে না। ব্রিজটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এর পাশে নতুন একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
তিনি বলেন, সিলেটের ঐতিহাসিক স্থাপনা আলী আমজাদের ঘড়ি ও সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অক্ষত রেখে কীভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে একই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সুরমা নদীর ওপর কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
দুই সাংবাদকর্মীকে পিটিয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। আহতরা হলেন সিলেট ভিউ ২৪ এর প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার এবং শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল। হামলার সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাদের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়, যার ফলে উভয়ের মাথাতেই একাধিক সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করার পরপরই নিজেদের বাঁচাতে দুই আহত সংবাদকর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই উল্টো কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সাধারণ রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। চিকিৎসা না পেয়ে অনেককে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতেও দেখা গেছে। এমনকি কর্মবিরতি চলাকালে হাসপাতাল চত্বরে তিনজন রোগীর মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালক বা উপ-পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার গভীর রাতে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সাংবাদিক নেতারা ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে সকল সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিবেন্দু তালুকদার ও রেজা রুবেলের ওপর হামলা করেন। এ সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাদের গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে আহত দুই সাংবাদিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই নিজেদের বাঁচাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে চলে যান।
চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, দুই সহকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে এবং আঘাতের স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নোবেল আরও বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনার অবসান হওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা একসঙ্গে বসে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন। ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করারও দাবি জানান তিনি।
শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, পরবর্তী কর্মসূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। কর্মসূচির ডাক এলে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণের অপেক্ষা না করে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা বলেন, হাসপাতালে অনেক রোগী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসেন। এ সময় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলে তাদের ভোগান্তি বাড়ে। কোনো বিরোধ বা প্রতিবাদের কারণে রোগীরা যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান বলেন, সাংবাদিকেরা মানুষের ভোগান্তি ও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সংগ্রহ করেন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আনিস রহমান বলেন, চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি চললে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ রোগীরা। কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে রোগীদের জিম্মি করা উচিত নয়। তিনি জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবেন।
বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিদ হোসেন বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে। হামলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, আজ আমাদের দুই সহকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে, তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোনোটিই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও তাদের স্বজনেরা যেন হামলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইসাথে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।