নীলফামারীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নীলফামারী শহর শাখার আয়োজনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণসহ সংবর্ধনা দেয়া হয়।
ইসলামী ছাত্রশিবির, নীলফামারী শহর শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দিন এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক, রেজাউল করিম শাকিল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ আরোও অনেকে।
শিক্ষাজীবনের চমৎকার এই অর্জনকে উদযাপন করতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪শ শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় সংবর্ধনা স্থানটি।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "জিপিএ-৫ অর্জনই সাফল্যের শেষ ধাপ নয়, এটি সুনাগরিক হয়ে ওঠার একটি নতুন সূচনা। কেবল ভালো ফল করলেই চলবে না, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"
সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা জানায়, এই ধরনের সম্মাননা তাদের আগামী দিনে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আরও ভালো করতে অনুপ্রাণিত করবে।"
এদিকে আজকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী জেলা শাখার আয়োজনে জলঢাকায় একটি এ+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।ইসলামী ছাত্রশিবির, নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করীম এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুর রহমান, প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের এমডি নুর মোহাম্মদ আবু তাহের প্রমুখ।
দিবালোকে ছিনতাই, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ২
ছিনতাইকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবী, অপর এক আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। দিনাজপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক ছিনতাইকারী ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ছয়টি নাকফুল, দুটি কানের দুল ও দুটি কানের রিং উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১টা ৫১ মিনিটে দিনাজপুর কোতয়ালী থানাধীন মির্জাপুর এলাকায় বিআরটিসি বাস ডিপোর সংলগ্ন অর্পণা ছাত্রীনিবাসের প্রধান ফটকের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরসাইকেলযোগে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বেলী রানী (২২) বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, তাদের অবস্থান যাচাই এবং ছিনতাইকৃত স্বর্ণের চেইন উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানায়, এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি দিনাজপুরের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে চিরিরবন্দর থানাধীন কাঁউগা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজমীর আহমেদ সোহেল ওরফে পিচ্চি সোহেল (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজমীর আহমেদ সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে বিরামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছিনতাইকৃত স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ৬টি নাকফুল, ২টি কানের দুল ও ২টি কানের রিং উদ্ধার করা হয়।
একই অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব (৩৩) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামী মোঃ মুন্না (৪০) কে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অব্যাহত
চাঞ্চল্যকর এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রংপুরে আইনজীবী সমিতিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে দৈনিক নওরোজ প্রতিনিধি ও দৈনিক দাবানলের মহানগর প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন অপু হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এসময় আইনজীবীরা তাঁর ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে এবং বুম মাটিতে ফেলে দেন।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই হেনস্থার শিকার। এ ঘটনার পরপরই সাংবাদিকরা সেখানে ছুটে যান এবং আইনজীবী সমিতির সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন।
হেনস্থার শিকার আলমগীর হোসেন অপু জানান, নবীন আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় একজন আইনজীবী ধাক্কাধাক্কি করেন এবং ভিডিও করার সময় ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে বুম মাটিতে ফেলে দেন। আমি এ ঘটনায় মর্মাহত হয়েছি।
নবীন আইনজীবী সুত্রে জানা যায়, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৮ জনের মধ্যে ৪৫ জনকে সাধারণ এবং বাকি ৬৩ জনকে ভোটাধিকারহীন ‘সহযোগী সদস্য’ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সাথে সমিতিতে ভর্তির ফি পূর্বে ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বয়সভেদে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সি আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা কখনও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন।
এই বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে মুচলেকা নেওয়ার প্রতিবাদে নবীন আইনজীবীরা আন্দোলন করছেন।
নবীন আইনজীবী আসমিন ফারহা আঁখি জানান, আগে ভর্তি ফি ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে বয়সভেদে তা ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কখনো ভোটাধিকার দাবি না করেন। এটা নবীন আইনজীবীদের প্রতি বৈষম্যমুলক আচরণ করা হচ্ছে। আমরা এটা মানি না। আমাদের দাবী মানা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো।
রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন জানান, নবীন আইনজীবীদের বিষয়গুলো নিয়ে সমিতিতে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি প্রেসক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক বলেন, আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্বপালনের সময় দৈনিক নওরোজ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক দাবানলের মহানগর প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন অপুকে হেনস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আইনজীবী সমিতিকে জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে।
কুমিল্লা নগরে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কুউক)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নগরের ডাক্তারপাড়া ও কান্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান উৎবাদুল বারী আবু। এ সময় সহকারী অথোরাইজড অফিসার মো. শেরিফুল হকসহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে কর্মকর্তারা ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও নির্মাণসংক্রান্ত সরকারি বিধিমালা পর্যালোচনা করেন। এ সময় নির্ধারিত সেটব্যাক (ভবনের চারপাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা রাখা) না মানা এবং অনুমোদিত নকশার শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যেসব ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো— ডাক্তারপাড়া এলাকার সিলভার টাওয়ার, একতা টাওয়ার ও মাসুম টাওয়ার; ট্রমা হাসপাতালের বিপরীতে মজিবুর রহমান গংয়ের বাণিজ্যিক ভবন; জামান-জাহানারা প্যালেস; কান্দিরপাড় এলাকার সিলভার আলী ম্যানশন এবং কাজী টাওয়ার।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাদুল বারী আবু বলেন, কুমিল্লায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় প্রাথমিকভাবে সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
তিনি আরো বলেন, কুমিল্লায় সুপরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে নকশাবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা দুইটার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বানিগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া তার ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুজন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা বলে তিনি শুনেছেন।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার প্রবাসী দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ভাড়া করা গাড়িটি আল-খুরমা এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতদের স্বজনেরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বিরলের রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বহিরাগত কর্তৃক শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট বিরল উপজেলা শাখার আয়োজনে শহীদ মিনার চত্ত্বরে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বিরল উপজেলা শাখার সভাপতি আনিসুজ্জামান মিলন।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ও বিরল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক- কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রহিম, কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশন সভাপতি ইসাহাক আলী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সদর উপজেলা সভাপতি আজিজার রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাবেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মুনসেফ আলী, বোচাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি বজলুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মাজেদুর রহমান পাপ্পু, বিরল উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান, শিক্ষক নেতা রফিকুল ইসলাম, ওয়াহেদুজ্জামান প্রমূখ।
সমাবেশের পূর্বে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উপহেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম এর নিকট ৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য শেষে একটি বিক্ষোভ র্যালি পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং মানুষের সুস্থতা ও জীবনমান উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে নাটোরের লালপুরে গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মোঃ আব্দুল আজিজ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ২য় তলার কনফারেন্স রুমে দুপুর ১২টায় এ গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ সিমানুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং ফিজিওথেরাপিস্ট সাইফুল ইসলামের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাম্মী আক্তার, মোহরকয়া ডিগ্রিপাস ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইসমত হোসেন, সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্নদিন, মুক্তি যোদ্ধ সামসুল ইসলাম, সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি রুবেল আলী, সাংবাদিক মিঠুন আলী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইসমাইল হোসেন, দুলাল উদ্দীন, আসলাম উদ্দীন, পল্লী চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম উজ্জল এবং শ্রী শ্যামল কুমার চৌধুরীসহ ফিজিওসেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার প্রয়োজনীয়তা, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগীর পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত ফিজিওথেরাপি সেবার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, চলাফেরাজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মূল্যায়ন ও নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, চলাফেরা, ভারসাম্য, পেশিশক্তি এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা সহজলভ্য করার বিষয়টি। বক্তারা বলেন, ফিজিওথেরাপি অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সেবা নিতে পারেন না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় ২০১২ সাল থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সমন্বিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমিতে ইতোমধ্যে আধুনিক থেরাপি সেন্টার, ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় ফিজিওথেরাপি সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ থেরাপিস্ট ও জনবল বৃদ্ধি, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা, নিয়মিত ফ্রি থেরাপি ক্যাম্প এবং ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ও মানবিক পুনর্বাসনসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা বলেন, “অর্থের অভাবে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন প্রয়োজনীয় থেরাপি ও পুনর্বাসনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন”-এই লক্ষ্যেই ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং লালপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।