• প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ এএম

আমাদের সংস্কৃতিতে একটা প্রকট মানে প্রচণ্ড বাস্তব বিরোধ যেটা এই মুহূর্তে দেখাযাচ্ছে। সেটা হচ্ছে যে আমাদের একদিকেযেমন ধর্মনিরপেক্ষতার একটা সংস্কৃতি, আরেক দিকে একটা ইসলামের সংস্কৃতি। আবার মাঝখানে আমরা যারা সুবিধাবাদী আছি কিছু, যারা আমরা ইসলামটাকেও ধারণ করতে চাই আবার একই সঙ্গে অন্য সংস্কৃতিটাকেও ধারণ করতে চাই। এটা আরেকটা সংস্কৃতি। 


বাংলাদেশে এই তিন সংস্কৃতির টানাপোড়েন এই মুহূর্তে দেখাযাচ্ছে এবং সবাই আমরা সবারটা আরেকজনের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এটা হচ্ছে আমাদের একটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। এইজায়গাটা থেকে আমাদের উত্তরণের প্রয়োজন। পঞ্চগড় ১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয়  নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনসস্টিটিউটের ভবন নির্মান কাজের উদ্বোধনী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। 


এসময় তিনি বলেন আমাদের সময়ে সকলে শিক্ষকদের দ্বারা অনুপ্রাণীত হয়েছেন। তাদের কথা আমাদের সবার মনে আছে। এবং শিক্ষকদের আদলে শিক্ষকদের চিন্তাভাবনায় কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে বেড়ে উঠেছি। কাজেই আমাদের শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হয়, তারা যদি তাদের যে জ্ঞান, তারাযে জ্ঞানটা আহরণ করবে সেটা যদি সঠিকভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারে তাহলে  দেশেরএকটা অগ্রগতি হবে। তবে এটা অবশ্যই সময়ের সাপেক্ষে। আমি যখন শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া দেখি বিভিন্ন জায়গায়, আমার কাছে এটা একটু খারাপ লাগে এইজন্য যে শিক্ষকদের কেন দাবি করতে হবে? তবে এটার অনেক কারণ আছে, কিছু ঐতিহাসিক কারণ আছে, একটা প্রতিষ্ঠান যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, শিক্ষক যেভাবে নিয়োগ পাওয়া যায়, এই সবকিছু মিলিয়েআমাদের বিভিন্ন রকম শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের এখানে কয়েক রকম শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমাদের যারা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করছেন, বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করছেন, আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থাটাএকরকম। 


আবার যদি শহরগুলোতে যান, ঢাকাতে বিশেষ করে যেখানে ইংরেজি মিডিয়াম শিক্ষা আছে। ইংরেজি মিডিয়ামের মধ্যে আবার তিন চার ভাগ আছে। কেউ কেউ লন্ডন ইউনিভার্সিটি যে কারিকুলাম সেটাকেঅনুসরণ করে, কেউ কেউ ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট যেটাকে সংক্ষেপে আইবি বলে সেটা অনুসরণ করে, কেউ কেউ আমেরিকানটা করে, কেউ ইন্ডিয়ানটা করে। ইদানিং কিন্তু আরও দেখলাম আপনার ইরানিয়ান ইন্টারন্যাশনাল আছে, ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল, টার্কিশ ইন্টারন্যাশনাল, অনেক রকম। ইংলিশ মিডিয়ামের মধ্যে অনেক রকম ভাগ আছে। বাংলা মিডিয়ামে আমাদের যেটা সরকারি সেটা একরকম, বেসরকারি যারা তারা আমাদের একই যে পাঠ্যক্রম সেটাঅনুসরণ করলেও দেখা যায় যে শিক্ষার যেতাদের যে কার্যক্রম সেটাএকরকম সরকারি স্কুলগুলোতে আরেক রকম। তারপর আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা। মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যেও আবার ভাগ আছে। 


কাজেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে এত রকমউপসমষ্টি আছে, এটা আস্তে আস্তে মনে হয় আমাদের এইস্বাধীনতার এত বছর পরেআমাদের চিন্তা করার প্রয়োজন । আমাদের এই  শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে একটা জাতি হিসেবে আমরা কতটুকু এগোতে পারব? এটা এখন আমার মনে হয় একটা ডিবেটবা আমাদের আলোচনা অন্তত শুরু করার সময়। কারণ আমি জানি যে আমাদের অর্থনৈতিকবাস্তবতা যেটা সারা বাংলাদেশে, আমাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতা আমাদেরকে বিভিন্ন শিক্ষা খাতের দিকে ধাবিত করে। আমরা স্বাভাবিকভাবে যেটা দেখেছি যে আমাদের যারাসুবিধাবঞ্চিত তারা সাধারণত মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে ঝুঁকেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগে দেখেছি, এখন যদিও মাদ্রাসা শিক্ষা অনেক এগিয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় বিভিন্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, আপনার আমাদের ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে সেখানে, ভালো ভালো তাদের ফলাফলও ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো অংশগ্রহণ করছে, এগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। আসলে যেটা বলতে চাচ্ছি যে একটা জাতিকেএকই ইতিহাস জেনে বড় হওয়া, একইসংস্কৃতির মধ্য থেকে বড় হওয়া প্রয়োজন।এই জায়গাটাতে আমাদের একটা বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। যেমন আরও সহজ করে বলি, আমরা যারা আমাদের সময়কার, আমরা খুবই ব্রিটিশ বিরোধী। সাংঘাতিকভাবে। কারণ আমরা যে ইতিহাসটা পড়েবড় হয়েছি, আমাদের সমাজপাঠ থেকে শুরু করে ইতিহাসের যে জিনিসগুলো আমরাশিখেছি, দেখা যায় যে ঐতিহাসিকভাবে আমরাএকরকম বেড়ে উঠেছি। তার কারণ হচ্ছে আমাদের ইতিহাসের শিক্ষাটা। যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে, তাদের সংস্কৃতিটাও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রকমের হচ্ছে। আমরা এ পর্যন্ত কিন্তুএকটা জাতি হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদেরকে একই শিক্ষায় আসতে হবে। 


আমাদের সমস্ত রাজনীতিবিদের, আমাদের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন, আমাদের যারা চিন্তাশীল যারা ব্যক্তিরা আছেন, তাদের সবাইকে বাংলাদেশের একটা সংস্কৃতির দিকে আমাদেরকে নিয়ে আসতে হবে। এবং এই উত্তরণটা আসবেতখনই যখন আমাদের পরমতসহিষ্ণুতাটাকে আমরা জেনে আমরা নিজেদের মধ্যে আমরা নিয়ে আসতে পারব। কারণ আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা মনে করি আমি যেটা চিন্তা করছি, আমি যেটা ভাবছি, আমি যেটা বলছি এটাই চূড়ান্ত এবং এটাই সবচেয়ে সত্য। আমাদের যেটা হওয়া উচিত সেটা হচ্ছে যে অন্যের মতামতটাকেগুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, অন্যের চিন্তাভাবনাটাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং আমাদেরকে একটা জায়গায় আসতে হবে যে আমরা অন্যেরমতামতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারি। তাদের একটা মতামতকে রেখে আমাদের প্রত্যেকের মতামতকে এক জায়গায় রেখেআমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। এটাই আমাদের শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত। কাজেই আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ আজকে জানাতে চাই এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেআমাকে আপনারা বলতে বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানের জন্যআমাদের সরকারের কাছ থেকে যত রকম সুবিধাআদায় করা প্রয়োজন আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করব।


ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মো. কায়েদ-ই-আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডির সভাপতি এম এ মজিদ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।




  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৫ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দুই হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলছেন, এটি কোনো সমস্যা নয়, জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণেই হতে পারে।


উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পুরাতন বন্দর মালিপাড়া গ্রামের আরিফ ও লিজা দম্পতির ঘরে শিশুটির জন্ম হয়।


গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির জন্ম হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শিশুটিকে একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।


জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে লিজা অসুস্থ হলে তাঁকে পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে ওই দিন বিকেলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম দেন। নবজাতকটি ওই দম্পতির প্রথম সন্তান।


শিশুটির প্রতি হাত-পায়ে সাতটি করে আঙুল রয়েছে। এ ছাড়া শিশুটির ঠোঁটও কাটা রয়েছে। প্রতিটি আঙুলেই রয়েছে নখ। তবে জন্মের দুই দিন পর বাম হাতের একটি আঙুল ঝরে পড়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন জানান, তাঁদের এলাকায় এ ধরনের শিশুর জন্ম এর আগে হয়নি।


পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির জন্মের পর তার হাত-পায়ের অতিরিক্ত আঙুল দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছিলেন। তাঁরা এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছেন।


নবজাতকটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের প্রথম সন্তান। সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা, আমরা সন্তুষ্ট।’


দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এস কে সাদেক আলী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অতিরিক্ত আঙুল থাকা অবস্থাকে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হয়। এটি কোনো সমস্যা নয়, জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। শিশুটির অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দুই সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজন হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। তবে উপজেলা বিএনপির দাবি, মাদকসংক্রান্ত কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব বর্তমানে এমপি রুমিন ফারহানার সমর্থক বলে জানা গেছে।


আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাঠাগারের সভাপতি আতাউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা ও মিলনায়তন বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন।


আবেদনে বলা হয়, খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারটি ২০১৮ সাল থেকে পল্লিগ্রামে শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। পাঠাগারটি জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি বেসরকারি পাঠাগার।


১৮ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের—সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ—সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইউএনওকেও বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


পাঠাগারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অগ্রগতি জানতে উপজেলা পরিষদে যান আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব। ইউএনওর কক্ষের দিকে গিয়ে তাঁরা সেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনকে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে দেখেন। পরে তাঁরা কক্ষে না ঢুকে নিচে নেমে উপজেলা পরিষদের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন।


রাসেল বিপ্লব বলেন, ‘নিচে উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম আমরা। দুপুরে জোহর নামাজের সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান এসে তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে আছে।’


তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের ছেলেপেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।’


ইউএনও মো. জামাল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য। তিনি চাইলে অবশ্যই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১২ পিএম

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহের সেবার_ মান ও জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


(১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিটিজেন ভয়েস এ্যান্ড এ্যাকশন (সিডিএ) ওয়ার্কিং গ্রুপের আয়োজনে ও দাতা সংস্থা গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা'র অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আনিসুর রহমান সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খাইরুল ইসলাম।


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নাদিয়া আকতার, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ লুতফর রহমান মিঠু,জুলিয়াস আর্থার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার সহ অন্যরা।


সভাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান উন্নয়নে সামাজিক জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে আয়োজন করা হয়। 


সভায় কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্ধারিত সেবার মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জনগণ বাস্তবে এসব সেবা কতটুকু পাচ্ছেন, সেবার প্রাপ্যতা, মান, সহজলভ্যতা, কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সিভিএ দলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন অংশীজন ও জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগৃহীত মতামত উপস্থাপন করেন।



  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

‘আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রীতে দিবো’, এমন ঘোষণা সংবলিত ভূতুড়ে পোস্টারে ছেয়ে গেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রাম। পোস্টারে ছবি ও নাম রয়েছে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান খোকনের (৩৫)। 


তবে তিনি বলছেন, এ পোস্টার তিনি লাগাননি। এটি জামায়াতের ষড়যন্ত্র বলে দাবি তার। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাতপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে এসব পোস্টার লাগানো হয়।


খোকন একই গ্রামের খলিল ভূঞা বাড়ির মো.আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে দুবার ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পুনরায় ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী।  


ওই পোস্টারে খোকনকে ‘গাঁজার ডিলার’ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বেকারের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’ এবং ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’এমন বিভিন্ন স্লোগানও লেখা রয়েছে। পোস্টারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।


পোস্টারে নিজের নাম ব্যবহারের বিষয়ে সিরাজপুর ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি খোকন বলেন, কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে চাঁন মিয়াকে স্কুলে চড় মারে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমের ছেলে। তা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি। ওই থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমার মাদকের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। দল ক্ষমতায় এলেও আমি আগের মত গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করি। সমাজের মানুষ জানে। এমনকি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থী নই।      


সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেম অভিযোগ নাকচ করে বলেন, খোকনকে ঘিরে তার দলের মধ্যেই মাদকসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্কুলে খোকনের ছেলে তাদের বাড়ির এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় তার ছেলে ওই ছেলে-মেয়েকে চড় মেরে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। তবে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নন বলে দাবি করেন।    


এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, পোস্টারের বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় থানায় ভুক্তভোগী কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।


এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।


হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় সিলেট কালিগঞ্জ সড়কের দুই পাশে অবৈধ ফুটপাত ও স্থাপনা উচ্ছেদে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ১২ টায় সময় পরিচালিত এই অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর ও পচাবাশি খাবার বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। 


অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শিব্বির আহমেদ নেতৃত্বে স্টেশন রোড এলাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় তদারকি করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পচাবাশি খাবার সংরক্ষণের দায়ে পালকি রেস্টুরেন্ট-কে ২০ হাজার টাকা এবং আল আমিন বেকারি-কে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


​এর আগে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে স্টেশন রোড এলাকার ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


​অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সাধারণ মানুষের চলাফেরা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহনুর ইসলাম রনি ও বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম খান কালা। বীর রহমান সহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। ​স্থানীয় পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের নিয়মিত অভিযানের ফলে যেমন যানজট কমবে, তেমনি ভেজাল ও পচাবাশি খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে। 


সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।