শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৩ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে (তখন বয়স ১৬ বছর) অপহরণ করে ধর্ষণের মামলায় মো. রুবেল ইসলাম রুবেল রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। অপহরণের অভিযোগে তাঁকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে দুটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।


আজ সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মনসুর এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।


মামলার রায় ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ত। ঘটনার আগে প্রায় তিন মাস ধরে রুবেল ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে ওই ছাত্রী রাজি না হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন রুবেল।


২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে ওই ছাত্রী রুহিয়া থানার এলাকায় তাঁর মাসির বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা রুবেল তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি অটোরিকশায় করে নিয়ে যান। পরে তাঁকে একটি অজ্ঞাত বাড়িতে আটকে রাখা হয়।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, সেখানে ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে রুবেল তাঁকে বাধা দেন। পরে কথাবার্তা ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।


এদিকে ওই কিশোরীকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন রুবেলের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তিনি একটি অটোরিকশায় করে ওই কিশোরীকে তাঁর বাড়ির কাছে পাঠিয়ে দেন। ৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে ওই কিশোরী একা বাড়িতে ফিরে পরিবারের কাছে ঘটনার কথা জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা রুহিয়া থানায় মামলা করেন।


মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আবু নাঈম এবং রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল।


রায়ে আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আইনে আসামিকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হলো। একই আইনের ৯ (১) ধারায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।


আদালত আরও নির্দেশ দেন, আসামির ওপর আরোপ করা অর্থদন্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বিদ্যমান সম্পদ থেকে অর্থদন্ড আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তাঁর মালিকানাধীন সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাধিকার পাবে।


আসামি পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের পর অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে সাজা কার্যকর হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

সাংবাদিক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী ও মারধর করায় থানায় মামলা

সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদসহ ৯ আসামির দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন


সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদসহ ৯ আসামির দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৪ পিএম

কক্সবাজারের রামুতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে অপহরণ, হামলা ও মারধরের শিকার এবং জিম্মি করে হেনস্তার শিকার সাংবাদিকদের মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজার জেলা কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আবুল কাশেম, দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ, চ্যানেল এস-এর ব্যুরো প্রধান আয়াছ রনি। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কক্সবাজার জেলা  সভাপতি খোরশেদ আলম ও সেক্রেটারি ওসমান গণি ইলি, আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি মোস্তফা জামান চৌধুরী। 


মানববন্ধনে বক্তারা জানান, খুনিয়া পালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ ও মাদক কারবারি নুরুল আমিন নুরু একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা চোরাচালানসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। ২৭ আগষ্ট বিকালে ৩ সাংবাদিক খুনিয়াপালং এলাকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ শেষে কক্সবাজার ফেরার পথে একটি মাদক সিন্ডিকেট টোঙ্গারঢেবা সড়কে গতিরোধ করে তাদের অপহরণ করে। এর পর তাদেরকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবী করে। পরে মব সৃষ্টি করে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর শুরু করে। মৃত্যু ভয় দেখিয়ে ভিডিও করে বিভিন্ন বিষয়ে স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা দায়ের হলে মাদক সিন্ডিকেট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করে ঘটনার ১২ দিন পর মসজিদকে ঢাল বানিয়ে আদালতে ৩ সাংবাদিককে আসামী করে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ইয়াবা কারবারি নুরুর ভাই।


এ সাংবাদিকদের জিম্মি করে নির্যাতন, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কোন আসামী গ্রেফতার। আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে কক্সবাজারে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা।


এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ, স্থানীয় দৈনিক আপন কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রমজান আলীর পক্ষে জাতীয় দৈনিক ঘোষণা-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।




মানববন্ধন থেকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, মামলার পরও প্রধান অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ, ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল আমিন নুরুসহ আসামিদের এখনও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।


অবিলম্বে এই চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থার কক্সবাজার জেলা সভাপতি জাফরুল ইসলাম, সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম হিরু, স্থানীয় দৈনিক গণসংযোগ পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জায়েদ হাসান, উখিয়া সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, জে এ টিভির উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন, মর্নিং পোস্টের উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ছৈয়দুল আলম, নিউজ ২১-এর স্টাফ রিপোর্টার এনামুল শেখ, আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন, জাতীয় দৈনিক জবাবদিহি কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম আজাদ, স্থানীয় দৈনিক কক্সবাজার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার মো. মোরশেদ, জাতীয় দৈনিক আজকের খবরের জেলা প্রতিনিধি এসএমডি মনির এবং সাংবাদিক নাছির উদ্দীনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

সর্বশেষ সব খবর

মাদক মামলার আসামি রুনা আক্তার

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০২ পিএম

গাজীপুরে টঙ্গীতে ২১ টি মাদক মামলার আসামি রুনা আক্তার (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রুনা আক্তার টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির সুমন মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ তাকে ওই এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 


টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ জানায়, রুনা আক্তারের অবস্থান শনাক্তের পর রোববার রাতে কেরানীরটেক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।


পুলিশের দাবি, রুনা আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত ২১টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন এবং পলাতক অবস্থায় মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। 


পুলিশ আরও জানায়, গাজীপুর ও কক্সবাজারকেন্দ্রিক মাদকের রুট পরিচালনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ‘রুনা আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত ২১টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

সর্বশেষ সব খবর

কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। 


আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়টির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মো. রাশেদ কবির আখন্দের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সহধর্মিণী সৈয়দা মাহফুজা আক্তার। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদা জাহান। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা মাহফুজা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাশাপাশি মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য ঘরে সন্তানদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারা কোথায় যায়, কোথায় ঘুরে তা খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 


প্রধান বক্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদা জাহান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা ও সন্তানদের প্রতি নিয়মিত খোঁজখবর তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং শৃঙ্খলাবোধের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুর রহমান প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু জামাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ও এসএসসি-২০২৬ সালের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। অভিভাবক সমাবেশে প্রায় সাত শতাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সফর ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মাজার জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 


রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে মাঠে থাকছে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিপুলসংখ্যক সদস্যসহ র‍্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সফরকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আজ সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। 




এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এসএসএফের সঙ্গে এসএমপি, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয় সভার নির্দেশনা অনুযায়ী নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। 


নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে র‍্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও।রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে এসএমপির প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে থাকবেন প্রায় দুই হাজার ট্রাফিক পুলিশ।হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসহ সিটি করপোরেশন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন সাদা পোশাকের সদস্যরাও।নিরাপত্তার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নগরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থাকবে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। 


সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির সফরকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এসএমপি কমিশনার।আগামীকাল সকালে সিলেট আসবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। এদিকে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামীকাল তিনি একদিনের সফরে সিলেট আসবেন।


সফর কালে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেবে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ ও সংবর্ধনা দেওয়ার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। 


রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচীতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। এরপর তিনি চলে যাবেন সার্কিট হাউসে। সেখান থেকে বের হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও বেলা ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি নগরভবনের সামনে সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিবেন এবং ওইদিন রাত ৮টায় ওসমানী বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।


প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, নগর ভবনের সামনে সংবর্ধনাস্থলে ১ হাজার ২শ’ আমন্ত্রিত অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সিলেটের মন্ত্রী ও হুইপ ছাড়া বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর আধাঘন্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রাখা হয়েছে।


কাইয়ূম চৌধুরী আরও জানান, অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি রাখা হয়েছে অরাজনৈতিক।


তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৩ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাৎক্ষণিক তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।


আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।


বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত সেখানে ২১ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে সুমাইয়া (১৪), রিহান (১২), সাকিব (১২), ছায়েম (১৩), আরক দেবী (১৪), আরাফাত হোসেন (১৪), লাইজু (১৩), ঐশী (১৩) ও ফরিদা আক্তার (১৩) রয়েছে।


হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মেডিকেল অফিসার বিমান চন্দ্র আশ্চার্য বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত ২১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসা একজন অভিভাবক ও হাসপাতালের এক স্টাফও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।


হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বর্তমানে সব শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ সব খবর

নীলফামারী জেলা পরিষদ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৫ পিএম

স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নের অন্যতম মাধ্যম জেলা পরিষদ। তবে নীলফামারীতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মালামাল না কিনে ভুয়া ভাউচারে বিল তোলা এবং ১০ শতাংশ কমিশন ছাড়া ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে।




নিয়ম মেনে কাজ শেষ হলেও বিল পেতে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। মূল কারণ ১০ শতাংশ 'কমিশন'। ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দেওয়া পর্যন্ত ফাইল সই করেন না জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ।


অনিয়মের চিত্র কতটা প্রকট, তার বড় প্রমাণ জলঢাকার গোপালঝাড়ের বুড়িতিস্তা নদীর 'চেয়ারম্যানের ঘাট' ব্রিজ। নির্মাণাধীন এই ব্রিজের  জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ না করেই তুলে নেওয়া হয়েছে পুরো অর্থ। প্রকল্প সভাপতি বলছেন, এই বিল পেতে মামুন উর রশিদকে দিতে হয়েছে টাকা।


একই চিত্র জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংস্কারেও। বাইরে থেকে মাটি আনার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয়েছে মাঠের ময়লা-বর্জ্য। আর নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে একটু বৃষ্টিতেই জমে থাকছে পানি। শুধু তা-ই নয়, ৪টি গাছ কাটার অনুমতি থাকলেও সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজশে ঠিকাদার কেটেছে দ্বিগুণেরও বেশী মূল্যবান গাছ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীরাও। 


অনিয়মের জাল পুরো জেলাজুড়েই। ডোমার সড়কের সীমানা তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে রংপুর-দিনাজপুর সড়কের ওয়াপদা মোড়ে ২১ লাখ টাকার যাত্রী ছাউনি নিয়েও। অভিযোগ-নিম্নমানের ও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বরাদ্দের অর্থ। ব্যবহারের আগেই ভেঙে পড়েছে শৌচাগারের দরজা ও কল। অথচ কোনো তদারকি ছাড়াই এই বিল ছাড় করেছেন প্রকৌশলী মামুন।


জালিয়াতি কেবল প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়, মিলেছে ভুয়া বিল ভাউচারে সরকারি টাকা আত্মসাতের প্রমাণও। নীলফামারীর 'সরকার মটরস'-এর মেমো বানিয়ে হেলমেট, রেইনকোট,স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন কেনাকাটার নামে জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন মামুন উর রশিদ। অথচ অফিসে মেলেনি এসব সামগ্রীর হদিস। আর শোরুম কর্তৃপক্ষের দাবি,মেমোর লেখা ও স্বাক্ষর দুটিই ভুয়া, বিক্রিও হয়নি কোনো মালামাল।


তবে নিজের দায় এড়াতে সব দোষ হিসাব শাখার ওপর চাপাতে চান মামুন উর রশিদ। যদিও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও, হিসাব শাখা নিশ্চিত করেছে, মেমো জমা দিয়ে টাকাটা ইন্জিনিয়ার (মামুন) নিজেই তুলেছেন।


এছাড়া নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের সব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ। তার দাবি, নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে সব কাজ। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পরিষদ প্রশাসন।


উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ আর কমিশন বাণিজ্যের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রুত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি নীলফামারীর সাধারণ মানুষের।

সর্বশেষ সব খবর