• প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।


এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।


হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।




  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

‘আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রীতে দিবো’, এমন ঘোষণা সংবলিত ভূতুড়ে পোস্টারে ছেয়ে গেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রাম। পোস্টারে ছবি ও নাম রয়েছে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান খোকনের (৩৫)। 


তবে তিনি বলছেন, এ পোস্টার তিনি লাগাননি। এটি জামায়াতের ষড়যন্ত্র বলে দাবি তার। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাতপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে এসব পোস্টার লাগানো হয়।


খোকন একই গ্রামের খলিল ভূঞা বাড়ির মো.আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে দুবার ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পুনরায় ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী।  


ওই পোস্টারে খোকনকে ‘গাঁজার ডিলার’ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বেকারের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’ এবং ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’এমন বিভিন্ন স্লোগানও লেখা রয়েছে। পোস্টারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।


পোস্টারে নিজের নাম ব্যবহারের বিষয়ে সিরাজপুর ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি খোকন বলেন, কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে চাঁন মিয়াকে স্কুলে চড় মারে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমের ছেলে। তা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি। ওই থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমার মাদকের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। দল ক্ষমতায় এলেও আমি আগের মত গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করি। সমাজের মানুষ জানে। এমনকি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থী নই।      


সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেম অভিযোগ নাকচ করে বলেন, খোকনকে ঘিরে তার দলের মধ্যেই মাদকসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্কুলে খোকনের ছেলে তাদের বাড়ির এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় তার ছেলে ওই ছেলে-মেয়েকে চড় মেরে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। তবে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নন বলে দাবি করেন।    


এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, পোস্টারের বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় থানায় ভুক্তভোগী কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় সিলেট কালিগঞ্জ সড়কের দুই পাশে অবৈধ ফুটপাত ও স্থাপনা উচ্ছেদে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ১২ টায় সময় পরিচালিত এই অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর ও পচাবাশি খাবার বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। 


অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শিব্বির আহমেদ নেতৃত্বে স্টেশন রোড এলাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় তদারকি করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পচাবাশি খাবার সংরক্ষণের দায়ে পালকি রেস্টুরেন্ট-কে ২০ হাজার টাকা এবং আল আমিন বেকারি-কে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


​এর আগে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে স্টেশন রোড এলাকার ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


​অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সাধারণ মানুষের চলাফেরা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহনুর ইসলাম রনি ও বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম খান কালা। বীর রহমান সহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। ​স্থানীয় পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের নিয়মিত অভিযানের ফলে যেমন যানজট কমবে, তেমনি ভেজাল ও পচাবাশি খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে। 


সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


মতিউর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে ফরহাদ হোসেন আজাদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

আটোয়ারী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আটোয়ারী উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা মো. মতিউর রহমান আকস্মিক ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


গত ৯ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।


মতিউর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে হাসপাতালে যান পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।


হাসপাতালে গিয়ে তিনি চিকিৎসাধীন মতিউর রহমানের পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং তার চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মতিউর রহমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।


পরে আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি মো. মতিউর রহমানের দ্রুত সুস্থতা ও আশু রোগমুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।


উল্লেখ্য, মো. মতিউর রহমান সাবেক স্পিকার জনাব জমির উদ্দিন সরকারের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে মোট ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন জেলে সোহরাফ গাজী। 


পরে নিলামে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে মাছটি জেলের জালে ধরা পড়ে।


জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে ইলিশ মাছ শিকার করি। জাল তুলতেই অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই বড় ইলিশটি উঠে আসে। নিলামে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি বিক্রি হয়েছে। সাধারণত এত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এত বড় একটি মাছ পেয়েছি।


মাছটি কিনে নেওয়া কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, এত বড় ইলিশ এখন এই বাজারে খুব কমই দেখা যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনেছি। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাসায় পাঠানো হবে। এ ধরনের বড় মাছ পাওয়া গেলে আড়তদার ও জেলেসহ সবাই লাভবান হতে পারেন।


স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামি বলেন, ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আগে বছরে অন্তত একবার ঘরে ইলিশ উঠত। এখন সেটি স্বপ্ন হয়ে গেছে।


পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির অভাবের কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।


পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো খবর। এটিকে নিষেধাজ্ঞার সুফলও বলা যায়। বড় ইলিশে ফ্যাট বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে, যা হৃদ্‌যন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো হলে এ ধরনের বড় সাইজের ইলিশ আরও বেশি ধরা পড়তে পারে।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৬ এএম

কক্সবাজারের মহেশখালীর, বড় মহেশখালীর ফকিরা ঘোনায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে চোর সন্দেহে ফয়সাল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে পুলিশ প্রহরায় ফয়সালের লাশ দাফন করা হয়েছে। 


স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ১৫ সেপটেম্বর ভোররাত তিনটার দিকে স্থানীয় কেফায়েত উল্লাহ বাড়ির টাইলস চুরির অভিযোগে ফয়সালকে আটক করে বাড়িতে বেঁধে রেখে সূর্যদোয় পর্যন্ত বেদড়ক মারধর করে।


সকালে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আকবরের নেতৃত্বে একদল কিশোরের হাতে তুলে দিলে তারা অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। দৃশ্যটি দেখতে জড়োহয় শত শত নারী পুরুষ ও শিশু।


পরে ওই কিশোরদের একটি দল তাকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবরের নির্দেশে প্রায় দীর্ঘ ৭ ঘন্টা ধরে তাকে বেদড়ক মারধর ও বুকে পিঠে ইট দিয়ে শারিরিক ভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। ইউপি সদস্য আলীআকবর বলেন, সকাল ১০ টার দিকে সে মারা যায়।


নির্যাতনের একপর্যায়ে ফয়সাল মৃত্যু হলে তাকে মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে মহেশখালী থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।


এরপর পুলিশ  মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে রাত ৯ টায় ফকিরাঘোনায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।


সচেতন মহলের প্রশ্ন ঘটনাস্থল থেকে মহেশখালী থানার দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। স্থানীয়রা জানান পুলিশের ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে এবং সরাসরি পুলিশকে জানানো সত্বে ও পুলিশ ফয়সলকে জীবিত উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দিনের আলোতে এত বড় হত্যাকান্ড সংঘটিত হলেও পুলিশ কেন ফয়সালকে বাঁচাতে পারেনি এ দায়কি পুলিশ এড়াতে পারে? এমন প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের। তাদের বক্তব্য হচ্ছে ধরে নিলাম ফয়সাল চোর তবুওতো তার বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তাকেতো জীবিত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা যেত। 


এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুস সুলতান বলেন, পুলিশ যখনই খবর পেয়েছে ততক্ষণে ফয়সালের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে তার লাশ গ্রহন করেছে। এতে পুলিশের কোন গাফিলতির সুযোগ নেই। 


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনম শরাফত উল্লাহ বাবুল বলেন, তার ইউনিয়নের বাদশাহর ছেলে ফয়সাল একজন চোর এটা সত্য তাই বলে তাকে হত্যা করতে হবে এমন কোন কারণ নেই। কেফায়েত উল্লাহ তাকে বাড়িতে কেন বেঁধে রাখবে। কেন আইন হাতে তুলে নেবে। তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসতে পারতো বা থানায় সোপর্দ করতে পারতো তা না করে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করবে কেন।


যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ৮ নং ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য আলী আকবর বলেন তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ তাই গনপিঠুনিতে সে মারা গেছে। অথচ ঘটনাটি ঘটেছে ৩ নং ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশাহ মিয়া বলেন, আমি গায়ে জ্বর নিয়ে তিনদিন ধরে বিছানায় শুয়ে আছি আমাকে কেউ একটি বারের জন্য কেউ কিছু বলেননি। দুপুরে আমি যখন বিষয়টি জানতে পারি তখন ফয়সালের লাশ কক্সবাজারে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমি রাত ৯ টার দিকে তার জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। এর বাইরে আমার কিছু জানানেই।


তবে ফয়সাল সত্যিই কোনো চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চুরির অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আটকে রাখা, মারধর বা নির্যাতন করার আইনগত অধিকার কারও নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন ব্যক্তিকে ৭ ঘণ্টা ধরে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চৌকিদার ও এলাকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজরে এলে তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতেন বলেও দাবি তাদের।


এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা সরাসরি মারধর ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তাদের পাশাপাশি ঘটনার সময় উপস্থিত থেকে সহযোগিতা বা বাধা না দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সচেতন মহলের মতে, চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই নিয়ম। সন্দেহের বশে কাউকে গণপিটুনি বা নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফয়সালের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে।


যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রম পাড়ার ভট্র কুঠিরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


ইমন ভট্র একই এলাকার দুঃখ হরণ ভট্রের ছেলে। তিনি ২০২২ সাল থেকে নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং পরে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ইমন ভট্র আত্মগোপনে চলে যান। গতকাল  মঙ্গলবার সকালে প্রায় দুই বছর পর ঢাকা থেকে অসুস্থ ৯ মাস বয়সী মেয়ে ইচ্ছেকে দেখতে তিনি নিজ বাসায় আসেন। পরে রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।


পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে নোয়াখালী পৌরসভার হোয়াইট হল এলাকায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। ওই মিছিলে জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র অর্থায়ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর এক দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।