যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রম পাড়ার ভট্র কুঠিরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


ইমন ভট্র একই এলাকার দুঃখ হরণ ভট্রের ছেলে। তিনি ২০২২ সাল থেকে নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং পরে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ইমন ভট্র আত্মগোপনে চলে যান। গতকাল  মঙ্গলবার সকালে প্রায় দুই বছর পর ঢাকা থেকে অসুস্থ ৯ মাস বয়সী মেয়ে ইচ্ছেকে দেখতে তিনি নিজ বাসায় আসেন। পরে রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।


পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে নোয়াখালী পৌরসভার হোয়াইট হল এলাকায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। ওই মিছিলে জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র অর্থায়ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর এক দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




সিলেটের মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ আট বছরেও শেষ হয়নি

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ পিএম

২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে ২০১৮ সালে সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। সিলেটে নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এপ্রকল্প গ্রহন করা হয়। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি এ প্রকল্পের নির্মান কাজ। সবমিলিয়ে প্রকল্পটির অগ্রগতি মাত্র ৬৫ শতাংশ। অথচ একই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ কাজ শেষ করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, করোনা মহামারি, বন্যা ও ঠিকাদার পরিবর্তনের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। তবে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ওই বছরই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনায় ৩ একর ৩৮ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ইনস্টিটিউটের সাতটি ভবন। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে ছয়তলা অ্যাকাডেমিক ভবন, ছয়তলা প্রশাসনিক ভবন, ছয়তলা ওয়ার্কশপ ভবন, একতলা অধ্যক্ষের বাসভবন, পাঁচতলা ডরমিটরি, ২০০ শয্যার চারতলা ছাত্রীনিবাস এবং তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টার।


সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে ভবনটির ভেতরে ও বাইরে পলেস্তারা এবং রং করার কাজ বাকি রয়েছে। ওয়ার্কশপ ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার ও ডরমিটরির নির্মাণকাজ চলছে। ছাত্রীনিবাসের কাজ তুলনামূলক পিছিয়ে। সেখানে তৃতীয় তলার ছাদ পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চলছে চতুর্থ তলার ছাদের কাজ। অধ্যক্ষের বাসভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে। চলছে দেয়াল নির্মাণ ও পঞ্চম তলার ছাদের কাজ।


প্রকল্প এলাকায় প্রবেশমুখে এখনো ফটক নির্মাণ করা হয়নি। সীমানাপ্রাচীরের কাজও বাকি। সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ পৃথক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হলেও প্রকল্পের ব্যয়সহ অন্যান্য তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা গেছে মাত্র একটি। আরেকটি সাইনবোর্ড থাকলেও সেটি ছেঁড়া।


প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০২১ সালে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ৪০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করা হয়। পরবর্তী সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৪০১ কোটি ১৪ লাখ টাকা।পুরো প্রকল্পের মধ্যে সিলেটের জন্য বরাদ্দ ১১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ২২ কোটি টাকার বেশি। সাতটি ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা। 


প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। সিলেটে জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় কাজ পিছিয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে দিলে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বিলম্ব হয়। পরে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।


প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়নে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে। অন্য তিন বিভাগে আগে থেকেই জমি থাকায় সেখানে কাজ এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়েছে।


শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, ছয়তলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের জুনে। এ পর্যন্ত ভবনটির ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। একই বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া অ্যাকাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হয়েছে ৬৮ শতাংশ। জুনে শুরু হওয়া ওয়ার্কশপ ভবনের কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। এ ছাড়া অধ্যক্ষের বাসভবনের ৮২ শতাংশ, ডরমিটরি ভবনের ৬২ শতাংশ, স্টাফ কোয়ার্টারের ৩২ শতাংশ এবং ছাত্রীনিবাসের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে ৯০ শতাংশ। সীমানাপ্রাচীর ও ফটক নির্মাণের অগ্রগতি ২২ শতাংশ। 


তবে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, জেনারেটর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নালা ও শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এসব কাজের দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে কোন ভবনের নির্মাণকাজে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।


শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন জানান, ‘সীমানাপ্রাচীর ও ফটক, ড্রেন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা এবং শহীদ মিনারসহ অন্যান্য কাজের দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিগগির এসব কাজ শেষ হবে।’


শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান জানান, ‘প্রকল্পের সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান। সিলেটে এ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ 


তিনি বলেন, ‘সিলেটে মূলত ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে দেয়। পরে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। সাতটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪৬ কোটি টাকা।’ 


সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফুড এবং গ্রাফিক ডিজাইন টেকনোলজি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরুতে দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ফুড ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঁঞা জানান, ‘২০২৭ সাল থেকে সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। করোনাভাইরাস মহামারি ও বন্যার কারণে কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটে তুলনামূলক কম শিক্ষার্থী থাকায় প্রথমে দুটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ফুড ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলা (৪৩) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়।


নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তার স্বামী রাসেল বয়াতীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তবে রাসেলের দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।


নিহত শীলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীম স্যারের মেয়ে। তার স্বামী রাসেল বয়াতী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। শীলার রাফিন (১৭) ও লাবিবা (১৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে পটুয়াখালীতে পড়াশোনা করে। মেয়ে মায়ের সঙ্গে থাকত।


নিহত শীলার ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বলেন, শীলা আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। ঘটনার রাতেও পরিবারের সবার সঙ্গে তিনি হাসিখুশি ছিলেন। শীলার জমিজমা বিক্রি করে টাকা চাইতেন তার স্বামী রাসেল। তাকে গলাটিপে বা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। কোন মানুষ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার সময় বাঁচার চেষ্টা করলে যে ধরনের আলামত থাকার কথা, তেমন কিছু তারা দেখতে পাননি। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিচার দাবি করেন তিনি।


শীলার আরেক ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল ও চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর বলেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং আশপাশের কাউকে অবহিত না করে রাসেল কেন মরদেহ নামিয়েছেন, তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। রাসেল নিজেই মরদেহ নামিয়ে ফেলেছেন। 


শীলার মেয়ে লাবিবার বরাত দিয়ে সজল ও কমল জানান, শীলা ও রাসেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। শীলাকে মারধর করা হতো। কখনো ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হতো। তখন শীলা বাইরে বসে কান্নাকাটি করতেন। পরে রাসেল বাইরে গেলে দরজা খুলে লাবিবা তার মাকে ঘরে তুলতেন।


অন্যদিকে নিহত শীলার পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা রাসেল বয়াতী বলেন, শীলার সঙ্গে তার এক বছরের সংসার। বুধবার রাতে রাসেল বাসায় গিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তাদের মধ্যে সামান্য মনমালিন্য হয়। তবে পরে একসাথেই ঘুমিয়ে পড়েন৷ কিন্তু তাদের মধ্যে কথা কম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও খাওয়া-দাওয়া করে দুজন একসঙ্গেই ঘুমাতে যান। রাত ১২টার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে শীলা নামাজ পড়তে উঠেছেন বলে তিনি টের পান। পরে সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের অন্য একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শীলাকে দেখতে পান। পরে পাশের বাড়ির এক দম্পতিকে ডেকে আনেন। তবে তারা ঘটনাটি দেখে কাছে যাননি। পরে চাচাতো ভাই সোহানকে নিয়ে নিজেই শীলাকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। কিন্তু শীলা কি কারণে আত্মহত্যা করেছেন, তা তিনি জানেন না। 


এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের  মেয়ে রাসেল-শীলার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হওয়ার কথা জানিয়েছেন। মৃত্যুর আগের দিনও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। শীলা সারাদিন স্বামীর সঙ্গে কথা বলেননি বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, স্বামী রাসেল বয়াতীর দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সকালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি মরদেহ নামান।


ওসি (তদন্ত) আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি। সন্দেহ দূর করতে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে  মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

পুলিশের পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে শুক্রবার সকালে ফেনী ও সোনাগাজীতে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। পুলিশের দাবি- মিছিলের ভিডিওটি আগের, পুরাতন।


গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ফেনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ট্রাংক রোডের ফুড গার্ডেনের সামনে ঝটিকা মিছিল বের করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। এ সময় তারা সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। 


ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে সকাল ৬টার দিকে পৌর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। একই সময় সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সামনে ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল বের করেছে।


ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ফেনী শহরে শুক্রবার কোনো মিছিল হয়নি। আগের পুরাতন ভিডিও কার্ট পেস্ট করে প্রচার করা হয়েছে। পুলিশ সবসময় সোচ্চার রয়েছে।


এ দিকে সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সামনে সকাল ৬টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টুটুল পাটোয়ারীর নেতৃত্বে এই ঝটিকা মিছিলটি বের হয়।


সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, ঝটিকা মিছিলটি ভাড়া করা লোক দিয়ে করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেখা মাত্রই পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। শান্তি বিনষ্টকারী যেই হোক; কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৮ এএম

পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের সোনাপাতিল বিলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



নিহতরা হলেন- মালঞ্চির ভাই ভাই মোড় এলাকার শাহাবুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (২১), নলমুড়া গ্রামের ইসমাইল মোল্লার ছেলে রব্বেল (২২), গজমতি গ্রামের রবিউলের ছেলে শাওন (২২), নলমুড়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মিজান (১২), একই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১০) ও ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।



পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় জুমার নামাজের পর মালঞ্চির বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন সোনাপাতিল বিলের গোপিনাথপুর অংশে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে বৃষ্টি শুরু হলে তারা বিলের মধ্যে পলিথিনে তৈরি একটি ছাউনিতে আশ্রয় নেন। হঠাৎ সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। বাকি তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন।



বিলের ওই অংশ দুর্গম হওয়ায় বৃষ্টি থামার বেশ কিছুক্ষণ পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু বলেন, বৃষ্টির সময় ভুক্তভোগীরা পলিথিনের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। নিহতরা সবাই কিশোর ও তরুণ। ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।



পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তারা মাছ ধরতে বিলে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে এই প্রাণহানি ঘটে।



তিনি জানান, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, একসঙ্গে ছয় কিশোর-তরুণের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 


ফারজানা ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় ফারজানার পরিবার অভিযোগ করে, তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের জয়কালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসী ও খাদেমুল ইসলাম মানবকল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফারজানার স্বজন, স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


শুকুর আলী প্রধানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আবুল কাশেম, শাহ আলম, মো. মোহন মেম্বার, মো. নাজিম উদ্দিন সরকার, হাফেজ মাহমুদুল হাসান রাসেল, শামীম বেপারী, আলিম আল কাছির, খাদেমুল ইসলাম, মো. সায়মন, আহম্মেদ, আলমগীর হোসেন, মো. আনারুল হক, মো. ফারুক মিয়া, শাহরিয়ার সুজন ও শাকিরুজ্জামান শাকির।


 কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


নিহত ফারজানা ইসলাম উপজেলার জয়কালীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ফাজিলের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তাঁরা দুজনই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।


ফারজানা ইসলাম

তবে বিয়ের পর স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে ফারজানার পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছিল। পরে দুই পরিবারের আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয় বলে জানান ফারজানার বাবা।


মানববন্ধনে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম ফাজিল অভিযোগ করে বলেন, পরকীয়ার জেরে তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছেন জামাতা। এর আগেও এ বিষয়ে জামাতার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তাঁরা। বিরোধ মীমাংসার পর তাঁর মেয়েকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফারজানা ছিলেন একজন মেধাবী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


বক্তারা আরও বলেন, ফারজানার পরিবার যেন কোনোভাবেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানান তাঁরা।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

পর্যটকদের জন্য ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ উন্মুক্ত হলেও নির্ধারিত দিনে শুরু হচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ও দাপ্তরিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আরও তিন থেকে চার দিন পিছিয়ে যেতে পারে জাহাজ চলাচল শুরুর সময়। ফলে দ্বীপ ভ্রমণের অপেক্ষায় থাকা পর্যটকদের আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা।


বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত শর্তগুলো পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পরই জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের জারি করা শর্তের কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের নিবন্ধনের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


অন্যদিকে, পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি দাপ্তরিক অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিনটি জাহাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। আরও সাতটি জাহাজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।


বাহাদুর জানান, এ বছর থেকে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচি এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে।


এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এর আগে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, এমবি কর্ণফুলী, বার আউলিয়া ও এমবি টেকনাফ নামের তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটক পরিবহনের ছাড়পত্র পেয়েছে। জাহাজ তিনটির সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন।


তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন যেতে আগ্রহী পর্যটকরা ইতোমধ্যে টিকিট বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করছেন। কিন্তু ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন সফটওয়্যার এখনো চালু না হওয়ায় টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এসব জটিলতা কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


সম্প্রতি পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্ট ও সুগন্ধা পয়েন্টের দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার, ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।