• প্রকাশ : রবিবার ০৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫৭ এএম

ময়মনসিংহ সদরে মায়ের ধর্ষককে গলা কেটে হত্যা করেছে চার ছেলে।


আজ রোববার নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে দুপুরে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামের এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।


নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনির বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের বাসায় প্রায় এক মাস আগে থেকে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন। সেখানে নিজের বন্ধুদের নিয়ে থাকতেন তিনি। বন্ধুরা সবাই আপন ভাই। গত শুক্রবার তাঁদের মাকে ধর্ষণ করেন রুবেল। পরে গতকাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই নারীকে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের মাথার পাশে একটি মদের বোতলও পায় পুলিশ।


ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, ‘গতকাল শনিবার এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। যত দূর জানতে পেরেছি, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর চার ছেলে তাঁকে (ধর্ষক) গলা কেটে হত্যা করেছে।’


আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, আজ দুপুরে ময়মনসিংহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ওই নারী ও তাঁর দুই ছেলেকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন।


ময়মনসিংহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’


ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছি। মো. রনি মিয়া (২৭) ও স্বজল (৩৫) নামের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৭ পিএম

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা দুইটার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বানিগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া।


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া তার ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুজন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা বলে তিনি শুনেছেন।


নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার প্রবাসী দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ভাড়া করা গাড়িটি আল-খুরমা এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।


নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতদের স্বজনেরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১০ পিএম

বিরলের রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বহিরাগত কর্তৃক শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট বিরল উপজেলা শাখার আয়োজনে শহীদ মিনার চত্ত্বরে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বিরল উপজেলা শাখার সভাপতি আনিসুজ্জামান মিলন।


জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ও বিরল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক- কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রহিম, কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশন সভাপতি ইসাহাক আলী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সদর উপজেলা সভাপতি আজিজার রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাবেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মুনসেফ আলী, বোচাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি বজলুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মাজেদুর রহমান পাপ্পু, বিরল উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)  মিজানুর রহমান, শিক্ষক নেতা রফিকুল ইসলাম, ওয়াহেদুজ্জামান প্রমূখ। 


সমাবেশের পূর্বে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উপহেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম এর নিকট ৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য শেষে একটি বিক্ষোভ র‍্যালি পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।

সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং মানুষের সুস্থতা ও জীবনমান উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে নাটোরের লালপুরে গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মোঃ আব্দুল আজিজ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ২য় তলার কনফারেন্স রুমে দুপুর ১২টায় এ গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ সিমানুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং ফিজিওথেরাপিস্ট সাইফুল ইসলামের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাম্মী আক্তার, মোহরকয়া ডিগ্রিপাস ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইসমত হোসেন, সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্নদিন, মুক্তি যোদ্ধ সামসুল ইসলাম, সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি রুবেল আলী, সাংবাদিক মিঠুন আলী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইসমাইল  হোসেন, দুলাল উদ্দীন, আসলাম উদ্দীন, পল্লী চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম উজ্জল এবং শ্রী শ্যামল কুমার চৌধুরীসহ ফিজিওসেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন ব্যক্তিবর্গ।


আলোচনা সভায় বক্তারা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার প্রয়োজনীয়তা, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগীর পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত ফিজিওথেরাপি সেবার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।


বক্তারা বলেন, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, চলাফেরাজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মূল্যায়ন ও নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, চলাফেরা, ভারসাম্য, পেশিশক্তি এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।


আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা সহজলভ্য করার বিষয়টি। বক্তারা বলেন, ফিজিওথেরাপি অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সেবা নিতে পারেন না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


আয়োজকরা জানান, ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় ২০১২ সাল থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সমন্বিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে।


প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমিতে ইতোমধ্যে আধুনিক থেরাপি সেন্টার, ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।


সভায় ফিজিওথেরাপি সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ থেরাপিস্ট ও জনবল বৃদ্ধি, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা, নিয়মিত ফ্রি থেরাপি ক্যাম্প এবং ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ও মানবিক পুনর্বাসনসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়।


আয়োজকরা বলেন, “অর্থের অভাবে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন প্রয়োজনীয় থেরাপি ও পুনর্বাসনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন”-এই লক্ষ্যেই ফিজিওথেরাপি সেন্টারকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং লালপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ সব খবর

গহিন বনে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গহিন অরণ্যে দেখা মিলেছে বিরল ও বিশালাকৃতির এক কাঠবিড়ালির।প্রাণিবিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম ‘মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল’। 


স্থানীয়ভাবে এটি ‘কালো কাঠবিড়ালি’ বা ‘রাতুফা বাইকালার’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি বনের গভীরে বিরল এই প্রাণীটির কয়েকটি ছবি তুলেছেন শৌখিন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী শাহেদ আহমেদ। এরপর থেকেই বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 


বাংলাদেশে সাধারণত যেসব কাঠবিড়ালি দেখা যায়, সেগুলোর তুলনায় এটি আকারে অনেক বড়। এটি মূলত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ কাঠবিড়ালি প্রজাতি। আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রাণীটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বন কর্মকর্তারা জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের মাথা থেকে শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ঝোপালো লেজটি শরীরের সমান লম্বা হয়, অর্থাৎ পুরো দৈর্ঘ্য এক মিটারেরও বেশি হতে পারে। এর ওজনও হয় নজরকাড়া, প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত। বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, এই কাঠবিড়ালির শরীরের গঠন ও বর্ণ একে অন্য প্রজাতির চেয়ে আলাদা করেছে। এর মাথা, পিঠ, কান এবং দীর্ঘ লেজ সাধারণত গাঢ় কালো বা লালচে-মেরুন বর্ণের হয়। তবে শরীরের নিচের অংশটি বেশ হালকা বা সাদাটে। বিশাল আকৃতি ও লম্বা লেজ নিয়ে যখন এটি উঁচু গাছের মগডালে বিচরণ করে, তখন দূর থেকেও একে সহজে চেনা যায়।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল মূলত গহিন ও প্রাচীন বনের ওপর নির্ভরশীল। এরা সাধারণত মাটিতে নামে না বললেই চলে; বরং বড় বড় গাছের মগডালে ও ডালপালায় সময় কাটাতে পছন্দ করে। উঁচু গাছে লতাপাতা ও ডাল দিয়ে এরা বড় আকৃতির বাসা তৈরি করে। বুনো ফল, নানা রকম বীজ, বাদাম ও গাছের কচি পাতা এদের প্রধান খাবার। তবে বর্তমানে বন উজাড়, পুরোনো বৃক্ষ নিধন ও মানুষের অনুপ্রবেশের কারণে এদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। 


রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, এই অভয়ারণ্যে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের উপস্থিতি আমাদের বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি খবর। এটি প্রমাণ করে যে, এই বনটি এখনো বিরল বন্যপ্রাণীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 


হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব মনে করেন, গহিন বন ও প্রাচীন বৃক্ষ রক্ষা করা না গেলে এই প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, জায়ান্ট স্কুইরেল পুরোপুরি বৃক্ষনির্ভর প্রাণী। বড় ও পুরোনো গাছ কমে গেলে এদের খাদ্য ও নিরাপদ আবাসের সংকট তৈরি হয়। তাই রেমা-কালেঙ্গার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বড় গাছগুলো সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। 


বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রেমা-কালেঙ্গায় এই বিরল প্রজাতির দেখা পাওয়া আনন্দের। তবে শুধু দেখা পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, এদের টিকিয়ে রাখা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। অবৈধ শিকার বন্ধ এবং বনের গহিনে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই প্রজাতির সংখ্যা আরও বাড়বে। বনকে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আলোকচিত্রীর তোলা সেই বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে। 


প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নজরদারি বাড়লে রেমা-কালেঙ্গা হতে পারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিরল বন্যপ্রাণী দেখার অন্যতম গন্তব্য।

সর্বশেষ সব খবর

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে নীলফামারীর ডিমলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।


আজমঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।


পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান।




অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, গোলাম রব্বানী প্রধান, জামায়াতে ইসলামী ডিমলা উপজেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ধাপগুলোর অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাক্ষরতা অর্জন। এটি একটি মৌলিক মানবিক অধিকার এবং সব শিক্ষার ভিত্তি। সাক্ষরতার উপযুক্ত ব্যবহার ব্যক্তির জ্ঞানার্জনের দ্বার উন্মুক্ত করে। একই সঙ্গে জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কৌশল অর্জনে সহায়তা করে। এর ফলে ব্যক্তি সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারে, যা উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার সাক্ষরতার হার বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। উপজেলার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’


উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়। ১৯৬৫ সালের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়ে আসছে।


২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Literacy for people, the planet and prosperity’, যার বাংলা ভাবার্থ ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫০ পিচ ইয়াবা সহ মাহাবুব প্যাদা (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার শেষ বিকেলে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামের কাচা রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করাহয়। গ্রেফতার কৃত আসামি মাহবুব আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো.আ.রব প্যাদার পুত্র।


পুলিশ সূত্রে যানাযায়, মোঃ মাহাবুব প্যাদা (৪৮), এর নিকট হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) পিচ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পরবর্তী তাকে গ্রেফতার করাহয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনীর ১০(ক)/৪১ অনুযায়ী কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 


কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে চলবে।গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবকে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর