অভিযুক্ত মোঃ আমির আলী

  • প্রকাশ : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:২১ এএম

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বরুকা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আমির আলী। সরকারি নথিতে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধ, সেনাবাহিনী গেজেট নম্বর-১৭৪৪ এবং মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৬১০০০৮১১১-এ তাঁর নাম নথিভুক্ত। পিতা মৃত ওমেদ আলী মন্ডল এবং মাতা মৃত জহুরন নেছার এই পুত্র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও সুবিধা ভোগ করে আসছেন। 


কিন্তু তাঁর কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে যা বেরিয়ে আসে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে তাঁর রণক্ষেত্রের কথা, সহযোদ্ধাদের স্মৃতি, প্রশিক্ষণের বিবরণ জানতে চাওয়া সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন। কিন্তু আমির আলী বলতে পারেননি কোথায় যুদ্ধ করেছেন, কে ছিলেন তাঁর কমান্ডার, কারা ছিলেন তার সহযোদ্ধা। বারবার জিজ্ঞেস করলেও তাঁর মুখ থেকে বের হয় কেবল একটি কথা 'আমার মনে নাই'। 


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা দশকের পর দশক পরেও সেই দিনগুলোর কথা স্পষ্টভাবে মনে রাখেন, কারণ সেটি ছিল তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই আমির আলীর এই সম্পূর্ণ স্মৃতিভ্রংশ স্থানীয় সচেতন মানুষদের কাছে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


বরুকা ও আশেপাশের গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমির আলী গ্রামেই ছিলেন এবং মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেননি। তৎকালীন সময়ে তিনি এলাকায় একজন ভবঘুরে ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 


স্থানীয় প্রবীণরা আরও জানান, আমির আলী সে সময় বরুকা গ্রামের নাপিত বাড়ির পোলো যোগীর কন্যার খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। এই তথ্য যদি সত্য হয়, তাহলে একটি ফৌজদারি মামলার আসামি কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তি পেলেন সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় কার? ১৯৭৫ সালের পরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে কিভাবে সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভুক্ত হলেন আমির আলী, প্রশ্ন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের।


স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এবং রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে আমির আলী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নেন। বাংলাদেশে এ ধরনের জালিয়াতির নজির আগেও ঘটেছে, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ের তদন্তে শত শত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম বাতিল হয়েছে। কিন্তু আমির আলীর মতো অনেকেই এখনো তালিকায় রয়ে গেছেন বলে সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করছেন।


বর্তমানেও স্থানীয় অধিবাসীদের একটি বড় অংশ আমির আলীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ বছর ধরে অবৈধভাবে জমি দখল, সরকারি ভাতা আত্মসাৎ এবং স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। 


বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং কোটি মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়েছিলেন, তাঁদের সম্মানের সাথে আমির আলীর মতো ভুয়া সনদধারীদের নাম এক করা সেই মহান আত্মত্যাগকে কলুষিত করে। এটি শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় নয় এটি জাতির ইতিহাসের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাস তুলে ধরতে হলে এই ধরনের প্রতারণার অবসান ঘটানো অপরিহার্য।


এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ড. জাহাঙ্গীর আলম মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাঁর অভিযোগে দাবি করা হয়েছে আমির আলীর গেজেটভুক্তি নতুন করে তদন্ত করা, তদন্তে ভুয়া প্রমাণ হলে গেজেট বাতিল করে তালিকা থেকে নাম অপসারণ করা, অবৈধভাবে ভোগ করা সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা ফেরত আদায় করা। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অভিযোগে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ফুলবাড়ীয়াবাসীর। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে তাঁদের দাবি সরল, যিনি সত্যিই যুদ্ধ করেছেন, সম্মান পাক তিনি আর যিনি করেননি, তাঁর নাম মুছে যাক সেই পবিত্র তালিকা থেকে।




  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।


গ্রেপ্তার জাবেদ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর গ্রামের মো.সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।  


পুলিশ জানায়, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে সেনবাগ থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে জাবেদ হোসেনের বসতঘরের শয়নকক্ষে তোষকের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগে জাবেদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ আরও পেয়ার জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের অভিযানে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ১ হাজার ৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তেল ও মবিলের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন। এর আগে, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালিয়ে তেল গুলো জব্দ করা হয়।  




গ্রেপ্তার মো. জাকের উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের তালুকদার গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে।  


পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় শাহেদ উদ্দিন প্রকাশ তেল শাহেদ (২৮), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। অভিযানে চারটি টিনের বড় ড্রামে ৭২০ লিটার, ৩০টি প্লাস্টিকের জারিকেনে ৯০০ লিটার এবং ৯টি জারিকেনে ১৮০ লিটার ডিজেল। এছাড়া একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ২০০ লিটার মবিলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।


হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজত থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৫ পিএম

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণের কঙ্কাল, পরনের প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রাশেদুল ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পুলিশ প্রধান আসামিসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। 


তারা হলেন, ফুলপুর উপজেলার কুকাইল গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), মো. ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল (২৭)।


পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত রাশেদুল তার বাবার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজ না থাকায় দেড় মাস ধরে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। এ সময় পাশের এলাকার তিন যুবক- জসিম, রফিক ও মোজাম্মেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করতেন রাশেদুল। ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে রাশেদুলকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।


পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের মুঠোফোন থেকে তার বাবার কাছে একটি কল আসে। এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলে ওই দিনই ফুলপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের বাবা।


অপহরণের পর প্রধান আসামি জসিম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় জসিমকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।


তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোববার দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে প্রধান আসামি জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে অপর দুই আসামি রফিক ও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার জসিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রোববার রাত সাড় ১০টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালায় ফুলপুর থানা পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন হাড় এবং রাশেদুলের পরিধেয় একটি প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পরনের পোশাক দেখে কঙ্কালটি রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা শাহজাহান।


এ ব্যাপারে শাহজাহান জানান, কিছুদিন আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে একটি শসাখেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক বাবদ রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে দেওয়া হয় মাত্র ১০০ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এই বিরোধের জের ধরেই তিনজনে মিলে রাশেদুলকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে পরিবারের দাবি।


ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানান, উদ্ধার দেহাবশেষের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিএনএ আলামত সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য হাড় ও আলামত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা জানতে তদন্ত চলবে। 


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। সভায় বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশে কোনো পাত্র বা স্থানে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


ইউএনও আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, ইমাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারও মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, ইউপি সদস্য এম এ কাইয়ুম জামান, মাহমুদুল ইসলাম রুবেল, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী আবদুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ রেজাউল করিম, সাবেক সভাপতি আবদুর রশিদ খান ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহসহ অনেকে।


সভাটি সঞ্চালনা করেন ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল ফকির। সভায় উপস্থিত বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ভিড়তে না পেরে কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে গেছে রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা। ভেসে যাওয়া ফেরিটিতে ৮টি যাত্রীবাহী বাস, ৪টি ট্রাক ও ৩টি প্রাইভেটকার রয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’ মাঝ নদী পার হলে তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ফেরিটি স্রোতে নিচের দিকে যেতে থাকলে সেখানেই নোঙর করা হয়। এরপর রুটে চলাচলকারী অপর রো-রো ফেরি ‘খানজাহান আলী’ গিয়ে ফেরিটিকে উদ্ধার করে।


তীব্র স্রোতের কারণে মাঝে মধ্যে এ রকম ভাটির দিকে ফেরি ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

কক্সবাজার সদর উপজেলার হাজীপাড়ায় চট্টগ্রাম কোর্টে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা শহিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ টাকাসহ তার শ্যালক মোমেন মেহেদী আশিক, স্ত্রী সাদিয়া ফারহানা এবং এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃত আসামিরা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা, তারা ইয়াবাপাচারের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার তার বোন জামাই এসআই শহিদুল্লার বাড়িতে মাদক সহ অবস্থান করে।


ভোর ৬টা থেকে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোমেন মন্ডলের নেতৃত্বে সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজীপাড়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে মাদক ও টাকা উদ্ধার এবং গ্রেফতার করা হয়।


পরবর্তীতে তাদেরকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।