জনদুর্ভোগ যান চলাচল বন্ধ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২০ পিএম

মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে থেকে থ্রি-হুইলারে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বরিশাল থেকে দূরপাল্লাসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।


এর আগে সকাল ১০টার দিকে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলারের মালিক ও চালকদের সঙ্গে লোকাল বাসের শ্রমিকদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে থ্রি-হুইলারের মালিক ও শ্রমিকরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২০টি যাত্রীবাহী বাস আটকে রাখেন বলে জানা গেছে। 


খবর পেয়ে বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় বাস মালিক ও শ্রমিকরা নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নথুল্লাবাদ টার্মিনালে আটকা পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


বাস মালিক ও শ্রমিকরা জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী থ্রি-হুইলার বন্ধ না করা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।


অন্যদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বরিশাল থেকে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।


এদিকে, নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও থ্রি-হুইলার গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।


বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। 



সর্বশেষ সব খবর

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় প্রস্তাবিত ১৮৮ একর জমির নতুন বিসিক শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। এ সময় হাইটেক পার্কে এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করে নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার শাহপরাণ (রহ.) বাইপাসসংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।


পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ স্পেস ও অন্যান্য সুবিধা বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত এই বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ১১০ একর জমিতে নিট প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। শিল্পের আকারের ওপর ভিত্তি করে প্লটের সংখ্যা নির্ধারিত হবে। সড়ক কর্তৃপক্ষের সাথে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে, বাইপাসের বর্তমান সড়কটি ভবিষ্যতে ৬ লেনের মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে, যার ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। এটি ঢাকা-সিলেট মূল মহাসড়কের একটি বিকল্প মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।’


তিনি বলেন, “এই নতুন বিসিকটি ৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর ও আলমপুরের বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরীর সাথে যুক্ত করা হবে। কাছেই রেললাইন, গ্যাস লাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন রয়েছে এবং পাশে জলাশয় থাকায় এটি শিল্পনগরীর জন্য একটি আদর্শ স্থান। সিলেটের স্থানীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারী সহ দেশের সর্বস্তরের উদ্যোক্তারা এখানে বিপুল সংখ্যায় বিনিয়োগ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।” 


আইটি ও ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘হাইটেক পার্কের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আগামী মাসের প্রথম শনিবারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে সাথে নিয়ে পুনরায় সিলেট পরিদর্শন করব। সেখানে একটি এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করে নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে সরকার।’


পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটু, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নুরের জামান চৌধুরী, বিসিকের জিএম (প্ল্যানিং) ড. ফরহাদ আহমেদ, বিসিক সিলেট জেলা কার্যালয়ের ডিজিএম প্রকৌশলী ম. সুহেল হাওলাদার, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ পিএম

সিলেট নগরের শাহপরান ইসলামাবাদ এলাকায় ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।


শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরান এলাকায় নিজের বাসায় থাকতেন। চারখাই বাজারে তার ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা রয়েছে।


পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা শাহাব উদ্দিনের এক ছেলে ফ্রান্সে থাকেন। নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, রাতে স্থানীয় একজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তার বাবাকে কয়েকজন ব্যক্তি আটকে রেখেছেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশও রক্তাক্ত ছিল। পরে স্বজনেরা শাহাব উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। 


তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে যায়। পরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 


শাহাব উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাদের জানা নেই। তার স্ত্রীও কারও সঙ্গে তার শত্রুতা বা বিরোধের কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন।


শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।


সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুর আহমদ জানন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।


সিলেট নগরে গত ১২ আগস্ট এক ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নিজ বাসায় হত্যা করা হয়েছিল। রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলায় ওই ঘটনায় নিহত হন ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হওয়া পাঁচদিনব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের সমাপনী হয়েছে। প্রশিক্ষণে সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১শ জন শিশু অংশ নিয়েছিলেন। আজ সোমবার সকালে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামে এই প্রশিক্ষণের সমাপনী করা হয়। 




আয়োজকরা জানান, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ১শ শিশুকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছিলো গেল বৃহস্পতিবার। আজ তা সমাপনী করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য ইউনিয়নের শিশুদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। চলতি বছরে জেলায় ৩শ এর বেশি শিশুকে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।


শিশুরা যাতে পানিতে পড়ে গেলে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারে এবং সাঁতার শেখার মাধ্যমে পানিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে-এ লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও যানান আয়োজকরা। 


বেসরকারি সংস্থা সার্ভিস ইমার্জেন্সি ফর রুরাল পিপল সার্প উদ্যোগে এই সাঁতার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিলো।

সর্বশেষ সব খবর

বিষ প্রয়োগে মরে যাওয়া মাছের স্তুপ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিলের মালিকানাধীন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চল্লিশ লক্ষ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে ওই পুকুরের ছোট বড় সব ধরণের মাছ মরে ভেঁসে উঠতে থাকে।


দুপুরে ওই চেয়ারমানের গ্রামের বাড়ি শালগ্রাম গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুকুর পাড়ে সারি সারি মিনি ভ্যানট্রাকে বিপুল পরিমাণ বড় বড় পাঙ্গাস মাছ তুলে বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত ২৬টি ট্রাক ভর্তি করে মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিকরা। 


তারা জানান, মাছগুলো মরে গন্ধ ছড়ানোর ফলে বাজারে কেউ এসব মাছ কিনতে চাচ্ছেন না। খুব কম দামেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছেনা। ওই পুকুরে পাঙ্গাস ছাড়াও শিং, মাগুর, দেশি ফলি প্রভৃতি মাছ মরে ভেঁসে উঠছে। তখনও শ্রমিকরা পুকুরে জাল টেনে মরা মাছগুলো তুলে আনছিলেন।


পুকুরের মালিক সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল জানালেন, তাদের বেশ কয়েকটি পুকুরে তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। ওই পুকুরে ১০ হাজার পাঙ্গাসের পোনা এবং আরো দামি মাছের পোনা ছেড়েছিলেন। এ সপ্তাহেই মাছগুলো তুলে বিক্রি করার কথা ছিল। ভোর থেকে মাছগুলো মরে ভেঁসে উঠতে থাকে। পুকুরের তলদেশেও অনেক মাছ মরে পড়ে রয়েছে।


তিনি জানান, কেউ গ্যাস বড়ি প্রয়োগ করার ফলেই মাছগুলো মরছে। এতে তার চল্লিশ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। পুকুরের মাছ তোলা তদারকি করতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি থানায় কোন অভিযোগ করার সুযোগ পাননি।


মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

রশিদুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

দিনাজপুরে ডলার প্রতারণার অভিযোগে রশিদুল (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার শাখার সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি দল। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ২টার দিকে দিনাজপুর সদর থানাধীন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার রশিদুল দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের দাবী, তার বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় ডলার প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে।


পুলিশ জানায়, দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার শাখার একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রশিদুলকে গ্রেপ্তার করে।


পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে খানসামা উপজেলার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের চংগুয়া গ্রামের চেয়ারম্যানপাড়ায় সাইফুল ইসলামের বসতবাড়ীতে কথিত ডলার প্রতারণার সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করে খানসামা থানা পুলিশ।


ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার শাখা তৎপরতা শুরু করে। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রশিদুল কথিত ডলার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং চক্রটির প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।


জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে নিজেদের দিনমজুর, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক কিংবা কারখানার শ্রমিক পরিচয় দিয়ে জানান, তাদের কাছে কুড়িয়ে পাওয়া কিছু ডলার রয়েছে। তবে এসব ডলার কীভাবে বিক্রি বা টাকায় রূপান্তর করতে হয়, তা তারা জানেন না-এমন কথা বলে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করা হয়।


পুলিশের দাবী, ভুক্তভোগীরা ডলার কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হলে তাদের পূর্বনির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে চক্রের অন্য সদস্যরা নিজেদের ডিবি বা সিভিল পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে কথিত অবৈধ ডলার লেনদেনের অভিযোগে ভুক্তভোগীকে আটক করার ভয় দেখাতেন। পরে মামলা ও কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


পুলিশ আরও জানায়, ভুক্তভোগীদের বিষয়টি কাউকে না জানাতে সতর্ক করা হতো এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রশিদুলের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার কয়েকজনের এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারণার সময় চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন থানার সীমান্তবর্তী এলাকা বেছে নিতেন, যাতে প্রতারণার পর দ্রুত এক থানা এলাকা থেকে অন্য থানা এলাকায় চলে যেতে পারেন।


পুলিশ জানিয়েছে, রশিদুলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদে কথিত ডলার প্রতারকচক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার রশিদুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নোবিপ্রবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম।


গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) পৃথক দুটি প্রতিবাদলিপিতে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।


এর আগে নোবিপ্রবিতে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, “আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আবারও দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ব্যক্তিদের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনেরই যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা ছিল না। শুধুমাত্র দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের কারণে তাদের এসব পদে বসানো হয়েছে।”


তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নোবিপ্রবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম পৃথক বিবৃতি দেয়।


নোবিপ্রবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, নোবিপ্রবিতে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও আপত্তিকর উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।


প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়ে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।


এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।


অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের প্রতিবাদলিপিতেও একই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বক্তব্য প্রদান করা উচিত। দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।


ফোরামও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর