স্কুলমাঠে জমা করে রাখা হয়েছে বয়লারের গরম ছাঁই
চালু থাকা চালকলের বয়লারের চুলো থেকে লম্বা হাতলওয়ালা আঁকড়া দিয়ে বের করে আনা হচ্ছে প্রচন্ড গরম ছাঁই। সেগুলো বাইরে এনে জমা করা হচ্ছে রাস্তায়। সেখান থেকে বেলচা দিয়ে ট্রাক্টরে তুলে খোলা ট্রাক্টরযোগে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে পরিবহণ করা হচ্ছে এক কিলোমিটার দূরে। রাস্তায় দুধারে গরম ছাঁই বাতাসে উড়ে অন্য যানবাহনের যাত্রীদের শরীরে পড়ছে, পড়ে থাকছে সড়কের দুপাশেও। ছাঁইগুলো নিয়ে গিয়ে ফেলা হচ্ছে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে, একদম ক্লাস চলাকালিন সময়ে। সেখান থেকেও বাতাসে উড়ছে ছাঁই। ফলে সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এরকমই দৃশ্য দেখা গেল নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে। আখেড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স শিউলী চালকল থেকে ছাঁই নিয়ে ফেলা হচ্ছিল জাহাঙ্গীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে ছাঁইগুলো। ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের মাঠের বেশিরভাগ অংশে ছাঁই দিয়েই ভরাট করা হয়েছে। মাঠের মাঝখানটায় অল্প কিছু জায়গায় ফেলা হয়েছে বিট বালু।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানালেন, ওই বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য এক লক্ষ সতের হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ এখনো চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই প্রকল্পের চেয়ারম্যান।
জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম হোসেন জানালেন, তিনি প্রকল্পে আট ড্রামট্রাক বালু ফেলেছেন। বয়লারের ছাঁইগুলো তিনি বিনা পয়সায় এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত পূরণ করছেন। এ ছাঁইগুলো প্রকল্পের আওতাভূক্ত নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন ভবন নির্মাণের সময় ভীত কাটার অতিরিক্ত মাটি দিয়ে মাঠ ভরাট না করে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হয়। এখন ভীতের পাশের গর্ত পূরণ করা হচ্ছে ছাঁই দিয়ে। বয়লারের ছাঁই দিয়ে মাঠ ভরাটের ফলে মাটির বেয়ারিং ক্যাপাসিটি কমবে। পরে ওই স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ দূর্বল হবে। সংশ্লিষ্ঠদের দাবি প্রকল্পে বরাদ্দকরা টাকার অর্ধেকও খরচ করা হয়নি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক এসব অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা বয়লারের উড়ন্ত ছাঁইদূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় বয়লারের ছাঁই চোখে পড়ে অনেকেই দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে ছাঁই ফেলা কোনক্রমেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবেনা। তারা ওই বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা ছাঁই সরিয়ে ফেলে মাটি দিয়ে ভরাটের দাবি জানান।
দিনাজপুরের খানসামায় পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ওয়্যারলেস সেট, মোবাইল ফোন, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, ৩০ হাজার টাকা উল্লেখিত ও স্বাক্ষরিত একটি চেকের পাতা এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপারের মিডিয়া সেলের প্রেস রিলিজে জানানো হয়, গত ২২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে খানসামা থানাধীন ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের বসতবাড়ীতে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে খানসামা থানা পুলিশের একটি দল।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকুরগাঁও সদর থানার গোয়ালপাড়া পূর্ব (শান্তিনগর) এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৬) এবং ঠাকুরগাঁও সদর থানার বাংরোট এলাকার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. মানিক হোসেন (৪৫)।
পুলিশের প্রেস রিলিজে আরও জানানো হয়, অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি কালো রঙের BAOFENG BF-888S মডেলের ওয়্যারলেস সেট, একটি realme C67 অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩০ হাজার টাকা উল্লেখিত ও স্বাক্ষরিত একটি চেকের পাতা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের দুটি এটিএম কার্ড, একটি কালো রঙের MAX ব্র্যান্ডের স্কুল ব্যাগ এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো-লাল রঙের একটি Pulsar 150cc মোটরসাইকেল।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় খানসামা থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রেস রিলিজে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের আইনগত সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
ঢাকার সাভারে ৭ তলা লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গা থেকে পড়ে সবুরা বেগম (৪২) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার পালপাড়া মহল্লার সুব্রত সাহার ৮তলা ভবনের ৭ তলায় লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গা থেকে পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।নিহত সবুরা বেগম সাভার পৌর এলাকার মধ্যপাড়া মহল্লার রফিক হোসেনের স্ত্রী। সে দীর্ঘদিন যাবত ওই নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতেন।
ভবনের ঠিকাদার বুধু মিয়া জানান, আজ কেউ কাজে যায়নি। তবে সবুরা ওই বাড়িতে মালিকের কাজ করতেন। তাই সে আজকে কাজে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় সবুরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহতের স্বামী রফিক জানান, সুব্রত নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন বাড়িতে কাজ করতো। প্রতিদিনের মতো আজও সকালে ওই বাড়িতে কাজ করতে যান। পরে দুপুরে বাসায় খেতে আসে এবং আবার ওই বাসায় কাজ করতে যায়। পরে সন্ধ্যায় এক শ্রমিক ফোন দিয়ে বলে আমার স্ত্রী লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গা থেকে পড়ে মারা গেছে বলে জানান তিনি।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত করে জানা যায়, লিফট লাগার জন্য মালিক জায়গা রেখে ছিল। সেই ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নাটোরের লালপুরে প্রতারণার শিকার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের সেই ৮ শিক্ষার্থী অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অংশ নেবেন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী।
তবে নিজ জেলার বাইরে কেন্দ্র হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মেয়ের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, গত বুধবার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতারণার শিকার ৮ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কলেজকে জানানো হয়। এরপর দ্রুত পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ড নিয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন বলেন, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ জনসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা একাধিক বিষয়ের মোট ৪৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। বিভিন্ন কারণে বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা সহ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তাদের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সকলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বোর্ডের কাছাকাছি স্থানে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসজ্ঞত, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮ শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতার মুখে পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে নেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন তাদের ফরম পূরণ করা হয়নি।
ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি তারা। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওনের ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এরপর তারা দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
তবে প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল তাদের। এ নিয়ে চলতি মাসেই বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। অবশেষে শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় আজ সেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান। তবে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক নির্মূল করা যাবে না। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হলে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। মাদক ব্যবসা, সেবন এবং পরিবহন নিয়ন্ত্রণকল্পে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সবাইকে সমস্বরে কথা বলতে হবে।
তিনি পৌরসভার প্রকৌশলী মন্নুর আহমেদকে উদ্দেশ্যে বলেন, পৌরসভায় ড্রেনের কাজ ছয় মাস যাবৎ ধীরগতিতে চলছে। কাজের কোন অগ্রগতি নেই। আর রাতের বেলায় ঢালাই দিবে আপনি গিয়ে বন্ধ করতে হবে এগুলো আমি আর শুনতে চাই না। যারা করে আপনি তাদের ডেকে কথা বলেন। সে যেই হউক এই সমস্ত কাজ বন্ধ করতে হবে। কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
রবিবার (২৩ আগষ্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন।
সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ্, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ মৃধা, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন দেওয়ান প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সম্পা রানী কুন্ডু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান খান, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া, বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব বাগমার, নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. কুহিনুর বেগম, কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মন্নুর আহমেদ সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, বর্তমানে কালীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কালীগঞ্জের শিক্ষার পরিবেশ, অনিয়ম, দূর্ণীতি, মাক, বাল্য বিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূল, চুরি ও ডাকাতি সহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত কালীগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর গ্রামের সন্তান সাগর খাঁন সৌদি আরবে অপহরণের শিকার হওয়ার পর দেশটির পুলিশের অভিযানে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। এ ঘটনায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ।
জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট রাত ১টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সাগর খাঁনকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন সকাল ১০টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মামের ধাহরান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত ও অভিযান শুরু করে ধাহরান থানা পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে সাগর খাঁনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. নূর আবদুস সালাম শাহী, মোহাম্মদ পীর রহমান, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও আল আমিন নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে অপহরণের সময় সাগর খাঁনকে জিম্মি করে জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সাগর খাঁনের স্বজন ও স্থানীয়রা অনুরোধ জানিয়েছেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও বা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারণা না করতে। একই সঙ্গে একজন অপহরণের শিকার ভুক্তভোগী প্রবাসীকে নিয়ে গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি পুলিশের দ্রুত ও সাহসী অভিযানে সাগর খাঁন নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
বন্দুকধারীর গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি ফ্রাইড চিকেনের দোকানে মো.রাজু নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিলের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডে কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী দোকানে প্রবেশ করে গুলি চালালে সেখানে কর্মরত রাজুসহ আরেক বাংলাদেশী গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে রাজু বুকে ও অপরজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত তাদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালের নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। আহত অপর বাংলাদেশী চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার তার মরদেহ দেশে আনতে সরকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।