প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও জনবান্ধব, দক্ষ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। আাজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনবিআরের কার্যক্রম, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার নীতি ও পদ্ধতি এবং এর আধুনিকায়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনেছেন। তবে তিনি এই রাজস্ব সম্মেলনকে সাধারণ কোনো সম্মেলন হিসেবে দেখেন না।
তিনি বলেন, এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপর সরকারের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই আজকের সম্মেলন আগামী দিনে এনবিআরের আরও বেশি সাফল্যের পথনির্দেশনার সম্মেলন হবে বলে আশা করেন তিনি।
ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী ধরনের ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তা দেশের যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের চেয়ে এনবিআর কর্মকর্তারা বেশি অবগত।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি।
এনবিআরের নীতি ও নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্ট হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।’
দেশের জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান।
দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জনআস্থা অর্জন সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এনবিআরকেই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস বাড়াতে হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিতাড়িত পতিত পলাতক ফ্যাসিস্ট চক্র দেশকে চূড়ান্তভাবে একটি ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতির বিরোধী বলে জানান তিনি। তাই রাজস্ব আহরণে অভ্যন্তরীণ আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে, মানুষের আয় বাড়বে, ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এ ক্ষেত্রেও এনবিআরের আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের আহ্বান
বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একের পর এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্যবসার নতুন নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে। এর ফলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কর বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা, সম্ভাবনা, সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, হস্তান্তর মূল্য নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, বাণিজ্য অর্থায়ন, আর্থিক অপরাধ, অর্থপাচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কেও সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।
শুধু প্রচলিত কর আইন জানা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তার অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সামগ্রিক কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।
কর প্রদান সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার তাগিদ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ভালো রাজস্ব ব্যবস্থা এমন হওয়া দরকার, যেখানে মানুষ কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। কর প্রদান পদ্ধতি যথাসম্ভব দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত এবং সহজ করা দরকার।
অনলাইনে কর পরিশোধ করা সম্ভব হলে করদাতার অফিসে আসার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথানিয়মে কর আদায় করা একজন করদাতার জন্য যেমন লাভজনক, একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের জন্যও ইতিবাচক।
এনবিআর কর্মকর্তাদের আচরণ ও কার্যক্রমের মাধ্যমে করদাতার মনে এই বিশ্বাস জন্ম নিলে কর আদায় আরও সহজ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
করভিত্তি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত সক্ষমতার তুলনায় এখনো অনেক কম। করভিত্তিও তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় করা নয়; বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। নিয়মিত কর দেওয়া একজন করদাতাকে রাষ্ট্র যেমন সম্মানিত করবে, একইভাবে যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন, তাঁকেও কর প্রদানের জন্য যথাযথভাবে উদ্বুদ্ধ বা আগ্রহী করে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা নয়
কর ব্যবস্থাপনা ও কর আদায় পদ্ধতি সহজ এবং দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। যাতে মানুষ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেই ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, একই করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি টেকসই পদ্ধতি নয়।’ বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য ডিজিটাল ও আধুনিক, উপাত্তভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভ্যাট ব্যবস্থাকে ব্যবসাবান্ধব করার আহ্বান
ভ্যাটকে আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজস্ব উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ভ্যাট ব্যবস্থার সফলতা এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে বলে জানান তিনি। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও এনবিআরকে নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট কিংবা ট্যাক্স আদায় শুধু প্রয়োগের বিষয় নয়। বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর ভ্যাট ও করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে, বিশ্বাস করে। দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন, অবশ্যই পারবেন’
বক্তব্যের শেষ দিকে রাজস্ব আহরণের সম্প্রতি ইতিবাচক ধারার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, ‘আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন, এবং আপনারা অবশ্যই পারবেন, ইনশাআল্লাহ।’
এ জন্য শুধু দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি।’ আরও সমৃদ্ধ, আরও বিনিয়োগ ও আরও ব্যবসাবান্ধব একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা জানিয়ে রাজস্ব সম্মেলনের সফলতা কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ছবি : সংগৃহীত
অপরাধের বিচার জরুরি। সেই সঙ্গে দরকার রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন। তা না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তেমনি দরকার রিকনসিলিয়েশন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ‘ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচকদের বক্তব্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ র্সোমবার অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ দিন ছিল সোমবার। এ অধিবেশনে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া, ভারত ও নেপাল থেকে আসা শিক্ষক ও গবেষকেরা ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তবে আলোচক হিসেবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায়ই দেখা যায়, রিকনসিলিয়েশন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এটিকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি পরিণতি থেকে রক্ষা করার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিচারহীন জাতীয় রিকনসিলিয়েশন কোনো শান্তি নয়, তা কেবল সংঘাতের মধ্যকার একটি সাময়িক বিরতি মাত্র।
কায়সার কামাল জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশই ছিল শিশু। এই ভয়হীন, আপসহীন প্রজন্ম একটি নতুন দেশ গড়ার জন্য লড়াই করেছিল, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার পাবে এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনে প্রাক্কলন করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে সরকারি তালিকায় শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। নতুন আবেদন নেই।
কায়সার কামাল বলেন, সবাই অবগত যে অপশক্তিগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। দুর্ভাগ্যবশত, দেশ-বিদেশের কিছু গোষ্ঠী রিকনসিলিয়েশনের দোহাই দিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলছে। এ ধরনের চিন্তা দেশকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে, যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ ও অকল্পনীয়। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রিকনসিলিয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।
এ অধিবেশন সঞ্চালনা করেন নেপাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারনেশনাল কো-অপারেশন অ্যান্ড এনগেজমেন্টের গবেষণা পরিচালক প্রমোদ জয়সওয়াল। তিনি মনে করেন, ন্যায়বিচার দরকার। তবে রিকনসিলিয়েশন না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকতে পারে।
জবাবদিহিকে অবশ্যই প্রতিশোধ থেকে আলাদা করতে হবে বলে মনে করেন প্রমোদ জয়সওয়াল। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ সমাজেই জবাবদিহিকে প্রতিশোধের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। রিকনসিলিয়েশন মানেই অতীত নিয়ে সম্পূর্ণ একমত হওয়া নয়। আবার এর মানে গুরুতর অন্যায় বা অপরাধগুলোকে ভুলে যাওয়া কিংবা ক্ষমা করে দেওয়াও নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যক্তি ও সম্প্রদায় মর্যাদার সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। ঐতিহাসিক ক্ষোভগুলোকে স্বীকৃতি দিতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে একে অপরের ওপর আস্থা পুনর্গঠন করতে পারে।
ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারোরি সিং বলেন, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকেন, তাঁরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। দক্ষিণ এশিয়ার পটভূমিতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে দেখা যাচ্ছে এই স্বেচ্ছাচারিতাই সমস্যার সৃষ্টি করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিৎসো জিলিলো ফিরি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন) হয়েছিল, যা একটি নতুন সমাজ কল্পনার পূর্বশর্ত ছিল। তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কারণ, উদারনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত সাম্যের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হয়নি।
কম্বোডিয়া গৃহযুদ্ধের শিকার এবং সেখানে রিকনসিলিয়েশনের প্রচেষ্টা ১৯৯১ সালের আগেই শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন দেশটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক নিকি সিঙ্গার।
তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় জাতীয় রিকনসিলিয়েশনের আওতায় ১৯৯৮ সালে খেমার রুজ (বিদ্রোহী গোষ্ঠী) সৈন্যদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা এবং নিরস্ত্রীকরণ করা হয়।
নিকি সিঙ্গার মনে করেন, কম্বোডিয়ার বহু মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন একটি ভাবনা কাজ করে যে তাঁরা যদি কেবল অতীতের দোষারোপের ওপরই মনোযোগ দিয়ে থাকেন, তবে সামনে এগোতে পারবেন না। সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য তাঁরা কেমন ভবিষ্যৎ ও ঐতিহ্য রেখে যেতে চান, সেটাও ভাবেন।
অধিবেশনের বক্তাদের একজন ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের অপরাধকারীরা এখনো নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। বরং তাঁরা এখনো মানবতার বিরুদ্ধে তাঁদের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে তৎপর। আবার পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রয়েছে। এখনো দেখা যাচ্ছে সংঘাতরত পক্ষগুলোর উগ্র জাতীয়তাবাদী অবস্থান রয়েছে। একইভাবে ২০২৪ সালে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের যারা হত্যা করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। তারা এখনো আন্দোলনকারীদের চরমপন্থী, উগ্রবাদী বলে অভিযুক্ত করছে।
অবশ্যই এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বোঝাতে হবে যে তাদের কিছু ভুল ছিল।
তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো এক দিন তা করা সম্ভব হবে। কেবল তখনই সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে সমাজ গঠনের জন্য নতুন যাত্রা শুরু করা যাবে।
প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন জন মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৭১ জনের মৃত্যু হলো। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সবশেষ মারা যাওয়াদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ, চার জন নারী। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ পুরুষ, ৫২ শতাংশ নারী।
বুলেটিনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯০২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৩৩৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪০১ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে)। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৬ জন, বরিশালে ২১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং রাজশাহীতে ১০৫ জন।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ঋণের ভারে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও এসব দেশকে অভিযোজনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে ঋণ বাড়ছে, সংকুচিত হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খাতের অর্থায়ন। সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
মোহাম্মদ নাশিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় মালদ্বীপকে প্রতিবছর জাতীয় আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ, উপকূলীয় ভাঙন রোধ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে এই অর্থ ব্যয় হয়। অথচ এসব সমস্যার জন্য মালদ্বীপ দায়ী নয়। অভিযোজনের ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশটি ঋণের চাপে পড়ছে। বর্তমানে বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মৌলিক খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয় নয়। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে, উপকূলীয় ভাঙন বাড়ছে এবং দ্বীপগুলো বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। প্রবাল ধ্বংসের কারণে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবিকায়।
নাশিদ বলেন, কিছু দেশ পৃথিবীর সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ধনী হয়েছে, যার মূল্য দিতে হয়েছে অন্যদের। নেপালের মানুষ এমন কিছু করেনি, যার কারণে সেখানে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। একইভাবে মালদ্বীপের মানুষও এমন কিছু করেনি, যার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এতটা বাড়বে। তাই এর খেসারত কাউকে না কাউকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো কোনো দান বা অনুদান চায় না। তারা পৃথিবীকে যে পরিবেশগত সেবা দিচ্ছে, তার ন্যায্য মূল্য চায়। প্রকৃতি রক্ষা কোনো খরচ নয়, এটি একটি বিনিয়োগ।
কংক্রিটের কাঠামোর বদলে প্রকৃতিভিত্তিক অভিযোজনের ওপর জোর দিয়ে নাশিদ বলেন, প্রতি মিটার প্রবাল প্রাচীর পুনরুজ্জীবনে প্রায় ২০ ডলার এবং ম্যানগ্রোভ রোপণে ৫ ডলার খরচ হয়। অথচ কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয় হাজার হাজার ডলার। তাই প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে দ্রুত প্রবাল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিতে হবে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। নাশিদ বলেন, তটরেখার ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়। মালদ্বীপের তটরেখা তলিয়ে গেলে তাদের রাজনৈতিক সীমানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের কী হবে, তা এখনই ভাবতে হবে।
তিনি জানান, মালদ্বীপের প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইলের অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সম্পদ ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব অধিকার হুমকিতে পড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (ইউএনক্লস) নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
নাশিদ বলেন, মালদ্বীপকে হারিয়ে যাওয়ার আগেই অন্য অনেক দেশের ভূখণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই এটি কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, টিকে থাকার স্বার্থেই উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
এলপিজির দাম বৃদ্ধি
বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। এরপরও বাজারের সংকট কাটেনি। বরং অনেক এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। এলপিজির সংকটের প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতেও।
গতকাল পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোড এলাকায় সিএনজি চালকরা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দাম বৃদ্ধির কারণ
গতকাল রোববার বিইআরসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকোর অক্টোবরের জন্য প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি অনুযায়ী নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
অক্টোবরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের ৭৩০ ডলার। দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি প্রতি টন ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।
সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬২৫ ডলার ও বিউটেন ৬৬০ ডলার। ওই মাসে গড় সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। সে হিসাবে এক মাসে গড় সৌদি সিপি প্রতি টনে ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার বেড়েছে।
অক্টোবরের মূল্য সমন্বয়ে এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম প্রতি টন ২৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।
সেপ্টেম্বরে এ খাতে ধরা হয়েছিল প্রতি টন ১৬০ ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির দাম হিসাবের ক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম প্রতি টনে ৯০ ডলার বেড়েছে।
অক্টোবরের দাম নির্ধারণে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তা ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা।এলপিজির সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির ১২ দশমিক ৫ কেজির এলপিজির দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এই দামে সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বড় অংশ সরকারি কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না।
সরবরাহ কমানোর অভিযোগ
এলপিজির বাজারে অস্থিরতার কারণ নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকেও সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত শনিবার জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়েছে।
তবে তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই পরিবেশকদের গ্যাস দিচ্ছেন। কোনো কারসাজি হয়ে থাকলে তা পরিবেশক বা খুচরা পর্যায়ে হতে পারে বলে দাবি তাদের।
বাজারে সরবরাহ নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়ে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে শনিবার চিঠি দিয়েছে বিইআরসি।
গতকাল রোববার পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তথ্য জমা দিয়েছে। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য পর্যালোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিভিন্ন জেলায় বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি
বিইআরসির নতুন দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ এসেছে মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বগুড়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। মুন্সীগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। ময়মনসিংহে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা, কোথাও দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লায় প্লাস্টিকের সিলিন্ডার দুই হাজার ১৫০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকা এবং স্টিলের সিলিন্ডার প্রায় এক হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ায় নতুন দর ঘোষণার পরই কোনো কোনো দোকানে দাম বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীর কাজলা ও ভদ্রা এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৯৫০ থেকে দুই হাজার টাকায়। সেখানে সরবরাহও কম। চারঘাটে কয়েকটি দোকানে গ্যাস নেই বলে জানানো হলেও দোকানে সিলিন্ডারের মজুত দেখা গেছে। এতে মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা।
বরিশালে নতুন দর কার্যকর হওয়ার আগেই ১২ কেজির সিলিন্ডার এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকা করে বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা জানান, চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাইকারি পর্যায়ে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
রংপুরেও কয়েক দিনে দাম বেড়েছে। ওমেরা ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার এক হাজার ৯৪০ টাকা এবং আইগ্যাস এক হাজার ৮২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও এসব সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৬২০ ও এক হাজার ৫৪০ টাকা।
এক বিক্রেতা জানান, আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও এখন চার-পাঁচটির বেশি বিক্রি হচ্ছে না।
গাইবান্ধায় ছোট বিক্রেতারা কোম্পানি ও ডিলারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। একটি ডিলার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে কত সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে কোম্পানি নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
শুধু বাসাবাড়ির গ্রাহক নন, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরাও পড়েছেন বাড়তি খরচের চাপে। ময়মনসিংহে ৩০ ও ৪৫ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একটি রেস্তোরাঁয় মাসে প্রায় ২০টি বড় সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। প্রতিটিতে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দিতে হলে মাসে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার টাকা।
এদিকে বাজারে অনিয়মের অভিযোগে অভিযানও চলছে। মুন্সীগঞ্জে গতকাল রোববার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। এর মধ্যে একটি এলপিজি বিক্রেতাকে অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গাইবান্ধায় তিনটি দোকানকে মোট আট হাজার ৫০০ টাকা এবং বরিশালে দুটি দোকানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সাভারের আশুলিয়ায় গতকাল অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়-বিক্রয় চালানের তথ্যের অসংগতির কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি, বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা এবং সিলিন্ডারে পানি দেওয়ার অভিযোগে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মাদককারবারি পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত প্রিজন ভ্যান চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পিচ্চি রাজাকে পালাতে সহযোগিতার বিনিময়ে আর কত টাকা লেনদেনের চুক্তি হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) অশোক কুমার বাংলানিউজকে এসব তথ্য জানান।
এর আগে শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে (৩০) পলায়নে সহযোগিতার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার এবং ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) অশোক কুমার বলেন, পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামালের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদক কারবারিকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে মোট কত টাকার চুক্তি হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১০১ শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ১০১ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয়ভাবে সম্মাননা পদক প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
গুণী শিক্ষক সম্মাননা হিসেবে প্রতিজনকে দুই লাখ টাকা ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ৯৫ জনকে চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্বাচিত ৬ জন রয়েছেন। তবে এ তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য বা তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তার নাম বাদ যাবে।
‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস।
প্যারিসে ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়।
১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন শুরু হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনক্রমে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।