সংগৃহীত ছবি
থ্রিলার মুভির গল্পও যেন হার মানতে বাধ্য মরক্কো-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের কাছে। কী ছিল না এই ম্যাচে! ক্লাইম্যাক্স, অ্যান্টিক্লাইম্যাক্স, অ্যাডভেঞ্চার—কোনো কিছুতেই অবিশ্বাস্য এই ম্যাচকে বর্ণনা করা যাবে না। আজ সকালে মন্তেরেই স্টেডিয়ামে উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে মরক্কোই। ডাচদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে মরক্কো উঠে গেল শেষ ষোলোতে।
৯০ মিনিটের পর আজ মন্তেরেই স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচের ফল অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও বের করা যায়নি। টাইব্রেকারেও শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল ডাচরা। মরক্কো সমতায় ফেরার পরিবর্তে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে। কিন্তু আসল রোমাঞ্চ যে তখনো বাকি। রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে গোল করে ডাচদের গল্পের ইতি টানেন মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি। শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর মরক্কোর ফুটবলাররা দিয়েছেন সিজদা। অন্যদিকে ডাচদের ডাগআউট ছেয়ে যায় হতাশার কালো ছায়ায়।
মূল ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের ১-০ গোলে জয় এক রকম সময়ের ব্যাপার ছিল। কিন্তু মন্তেরেই স্টেডিয়ামে সব রোমাঞ্চ যেন জমা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্যই। ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে মরক্কো ফরোয়ার্ড শেমসেদ্দিন তালবি লেফট ফ্ল্যাঙ্ক থেকে এগোতে থাকেন ডাচ লক্ষ্য বরাবর। তালবির পাস রিসিভ করে হেডে দারুণভাবে লক্ষ্যভেদ করেন মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিওপ। আফ্রিকার দলটির উচ্ছ্বাস আর ঠেকায় কে!
মরক্কোর সমতাসূচক গোলের পরও মনে হচ্ছিল ম্যাচ নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ হবে। ডাচ ডিফেন্ডার ডেনজেল ডামফ্রিস মরক্কোর রক্ষণভাগে গেলেও তা আর গোলে পরিণত করতে পারেনি। মূল ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয় খেলা চলে যায় অতিরিক্ত সময়ে।
পেনাল্টি শুটআউট শুরু করে নেদারল্যান্ডসই। ডাচ মিডফিল্ডার ট্যুন কোপমাইনার্স সহজেই গোল করেছেন। ঠিক তার পরই মরক্কোর নেইল এল আইনাউই বারের ওপর দিয়ে শট করেছেন। ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুখেনের উদযাপন দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচটা তাঁরা জিতেই গেছেন। কিন্তু ‘পিকচার আভি বাকি হ্যাঁয়’ বলেও তো একটা কথা আছে। এরপর নেদারল্যান্ডসের জাস্তিন ক্লাইভার্টও পেনাল্টি মিস করেছেন।
টাইব্রেকারে মরক্কোকে সমতায় ফিরিয়েছেন সুফিয়ান রাহিমি। এরপর ডাচরা ২-১ গোলে এগিয়ে যায় বাউত ভেগহোর্স্টের গোলে। পরবর্তীতে শেমসেদ্দি তালবি গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফিরিয়েছেন। কিন্তু ডাচদের যেখানে এগিয়ে যাওয়ার কথা, তখন তাদের মিডফিল্ডার কুইন্টেন টিম্বর গোলপোস্টের অনেক বাইরে বল মেরেছেন। মূলত শট নিতে গিয়ে তাঁর পা হড়কে যায়।
সুযোগ হাতছাড়া করেন আশরাফ হাকিমি। তাঁর শট নেদারল্যান্ডসের গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়। ডাচরা আরও একবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তবে ক্রিসেনসিও সামারভিলের শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। গোল ঠেকানোর পর বুনু মেতে ওঠেন বুনো উদযাপনে। অন্যদিকে তখন ডাগআউটে কপাল চাপড়াচ্ছেন ডাচ কোচ রোনাল্ড কোমান। এরপর সাইবারিই তো গোল করে মরক্কোকে এনে দিলেন শেষ ষোলোর টিকিট।
৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালে মরক্কো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ৯৮ মিনিটে তালবির পাস রিসিভ করে সাইবারি নেদারল্যান্ডসের রক্ষণদুর্গ ভেদ করে চলে গিয়েছিলেন। তবে ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুখেন বাঁ পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন। এরপর নেদারল্যান্ডস-মরক্কো দুই দলই সময় অতিবাহিত করতে থাকে।
ম্যাচের ১৯ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত মরক্কো। আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে পাস রিসিভ করে নেইল এল আইনাউই হেড দিয়েছিলেন। তবে নেদারল্যান্ডস গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুখেন দক্ষতার সঙ্গে গোল প্রতিহত করেছেন। দুই মিনিট পর ফের ভারব্রুখেন বাঁচালেন ডাচ গোলপোস্ট।
প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে নেদারল্যান্ডস-মরক্কো লড়তে থাকে সমান তালে। ৪৪ মিনিটে ডাচ ফরোয়ার্ড ক্রিসেনসিও সামারভিল পাস বাড়িয়ে দেন ডাচ ডিফেন্ডার মিকি ফন দে ফেনকে। মরক্কোর লক্ষ্য বরাবর ফন দে ফেন শট নিয়েছিলেন ঠিকই। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু তা হতে দেননি।
৪৫ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৬ মিনিটে মরক্কো যেভাবে গোল হাতছাড়া করেছে, তা ইসমায়েল সাইবারির প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট। হাকিমির পাস রিসিভ করে ছয় গজ দূর থেকেও গোলের সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন সাইবারি। গোল মিসের হতাশায় সাইবারি তৎক্ষণাৎ মাথায় হাত দিয়েছেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর পর মরক্কো এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। তবে ৫২ মিনিটে আজ্জেদিন উনাহি ডাচ গোলরক্ষককে একা পেয়ে শট নিলেও তা বারে লেগেছে প্রতিহত হয়েছে। একের পর এক সুযোগ মিসের মহড়ায় ম্যাচে গোলের হালখাতা খোলে। ৭২ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের অ্যাসিস্টে লক্ষ্যভেদ করেন ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো।
গাকপোর গোলের পর সময় যতই গড়িয়েছে, রোমাঞ্চ তত বেড়েছে। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে মরক্কো। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা। ৪ জুলাই হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে কানাডা-মরক্কো ম্যাচ।
তাওহিদ হৃদয়। ছবি: সংগৃহীত
কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)র শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সম্মান জানাতে বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)।
তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘অবজার্ভার’-এর দাবি, এমন ম্যাচে মাঠে নামতে আগ্রহী নন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। ফলে ফেডারেশনের সংবর্ধনা পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রকাশিত হয় এই প্রতিবেদন। ফেডারেশন এর আগে রোনালদোর অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিশেষ আয়োজনের কথা জানিয়েছিল। তবে বিদায়ী ম্যাচ খেলতে অনীহা থাকায় সেই পরিকল্পনা জটিল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর একটি ফোনালাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কার মধ্যস্থতায় আলোচনাটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। গত সেপ্টেম্বর থেকে খেলার সময় নিয়ে মতবিরোধের জেরে রোনালদো ও কোচের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও রোনালদোর বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার উদ্যাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি পর্তুগিজ ফেডারেশন। তবে তিনি মাঠে ফিরবেন, নাকি শুধু সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। তার নেতৃত্বে ২০১৬ সালে ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জেতে পর্তুগাল।
সংগৃহীত ছবি
ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বিশ্বনাথের কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং ভুটানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি দল।
শুরুর দিকে দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি এবং দূরপাল্লার শটেও গোলের চেষ্টা করতে দেখা যায় স্বাগতিকদের।
প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা, যেখানে ভুটানের দখলে ছিল ৩৬ শতাংশ। এই সময়ে বাংলাদেশের নেওয়া ১২টি শটের বিপরীতে ভুটান শট নেয় ৪টি। তবে লক্ষ্যে শটের সংখ্যা দুই দলেরই ছিল সমান—দুটি করে।
বিরতির পরও আক্রমণের গতি ধরে রাখে বাংলাদেশ। অবশেষে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ইব্রাহিমের গোলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় দল।
গোলের শুরুটা হয় বক্সে করা একটি ক্রস থেকে। সেই বলে হেড নেন শমিত সোম। তার হেডে বল ওপরের দিকে উঠে গেলে গোলমুখের সামনে সুযোগ পেয়ে যান ইব্রাহিম। দারুণভাবে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন এই বদলি ফরোয়ার্ড।
এরপর দুই দলই একাধিক আক্রমণের সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পায়নি। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ পরের ম্যাচটি খেলবে ১১ নভেম্বর, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে শ্রীলংকা। এছাড়া আজকের দিনের আরেক ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপের খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ভারত।
বাংলাদেশ-ভুটান ফুটবল ম্যাচ। ছবি: সংগৃহীত
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ
২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পাকিস্তান ১-০ গোলে ভারতকে হারিয়েছিল। ২২ বছর পর আজ ঢাকায় সাফ ফুটবলে আবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে ভারত ৩-২ গোলে পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে ভারত লিড নেয়। বা প্রান্ত দিয়ে মুহাম্মদ সুহাইল ভাটের উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। তিনি আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান। ছয় মিনিট পর পাকিস্তানি ডিফেন্ডারদের মাঝে দারুণ দক্ষতায় সুহাইল আহমেদ ভাট পুনরায় গোল করেন। ৩০ মিনিটে ম্যাংলেংথাম কিপজেনের গোলে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
চার মিনিট পর পাকিস্তান পেনাল্টি পায়। শায়ক দোস্তর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। এই মিস করায় পাকিস্তান গোল না করেই প্রথমার্ধে ড্রেসিংরুমে ফেরে।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় পেনাল্টি মিসই। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি সময়ে দুই গোল করে পাকিস্তান। রেফারি চার মিনিট ইনজুরি সময় দেন। ঐ চার মিনিটের মধ্যে পাকিস্তান দুই গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। ৯১ মিনিটে নাজিব উল্লাহ পাকিস্তানের পক্ষে টুর্নামেন্টে প্রথম গোল করেন। দুই মিনিট পরই বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত ভলিতে আলমগীর গাজী আরেকটি গোল করেন।
পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে খেলায় ফিরে পেনাল্টি মিসের আফসোস পুড়ছে। ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাফের স্বাগতিক ছিল। দুই আসরেই ভারত ও পাকিস্তান অংশগ্রহণ করলেও মুখোমুখি হয়নি। ২০০৩ সালের পর আবার ২০২৬ সালে দুই দল ঢাকায় সাফে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ক্রিকেটে হ্যান্ডশেক নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল।
আজ দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে সৌহার্দ্যতা ছিল বেশ। খেলার পর দুই দলের ফুটবলাররা করমর্দন করেছেন। কোনো দলের ফুটবলার মাঠে আহত হলে অন্য দলের ফুটবলাররা এগিয়ে গেছেন সহায়তায়।