ছবি : সংগৃহীত
এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। ক্রিকেটে ভারতের সঙ্গে তো আর জাপানের জেতার কথা নয়। এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেট ইভেন্টে আজ কোয়ার্টার ফাইনালে বড় ব্যবধানেই জাপানকে হারিয়েছে ভারত। জাপানের করোগি স্পোর্টস পার্কে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের নারী ক্রিকেট দল তুলেছিল মাত্র ৫৭ রান। ভারতের মেয়েরা এই রান তাড়া করেছে মাত্র ৫ ওভারে, ২ উইকেট হারিয়ে। ৮ উইকেটের এই জয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত।
ভারত সেমিফাইনালে ওঠায় এবার তাদের বিপক্ষে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। একই দিন অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল চীন। তবে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। টি–টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে ওঠে নিগার সুলতানার দল। টি–টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে, চীন ৩৬ নম্বরে।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াই অবশ্য নতুন নয়। এক সপ্তাহ আগেই এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ৪০ রানে।
আগে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ১৪৯ রান। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছিল ৭ উইকেটে ১০৯ রানে। এবার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হওয়ায় সেই ম্যাচের ফল বদলে নতুন গল্প লেখার সুযোগও নিগার সুলতানাদের সামনে।
কাভান সুলিভান
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান। ঘরোয়া ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার স্বরূপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ যুক্তরাষ্ট্র কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা উইন্ডোতে চার ম্যাচের জন্য গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। ছন্দে থাকা কাভান সেই ২৮ ফুটবলারের একজন। চলমান মৌসুমে ফিলাডেলডিয়া ইউনিয়নের হয়ে ৯টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। যার মধ্যে মেজর লিগ সকারেই তাঁর ৬ গোল রয়েছে। কদিন আগেই এমএলএসের ২৬তম ম্যাচডের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তাঁকে দলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি তার সব ধরনের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। আমাদের সঙ্গে তার থাকা উচিত। তাকে জানতে এটি আমাদের জন্য দারুণ এক সুযোগ হতে যাচ্ছে।’
এবারের ফিফা উইন্ডো দিয়ে পচেত্তিনো মূলত একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন।বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচগুলো সামনে রেখে তিনি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ১৩ জন অনভিষিক্ত খেলোয়াড় নিয়েছেন। স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকেও দলে রাখা হয়নি। একই সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচও নেই। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পায়ের নিচের অংশে হাড়ে আঘাত ও মাইক্রোফ্র্যাকচার হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি এসি মিলানের হয়ে ফের মাঠে ফিরেছেন।
বালোগান ছিলেন জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম হট টপিক। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মূলত বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বাদ পড়েছিল শেষ ষোলোতেই। ৪ ম্যাচে ৩ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
২০২৪ সালে পচেত্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হয়েছেন। এ বছর বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাঁর সঙ্গে চার বছরের চুক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি দলটির কোচের দায়িত্বে থাকছেন।
২৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে পেরুর মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনীদের পরের প্রতিপক্ষ চিলি। ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র-চিলি ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্রের পরের দুই প্রতিপক্ষ ২০২৬ বিশ্বকাপের দুই সহায়ক মেক্সিকো ও কানাডা। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো ম্যাচ হবে ৪ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর মাঠে গড়াবে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের দল
গোলরক্ষক
ক্রিস ব্র্যাডি (শিকাগো ফায়ার), ম্যাট ফ্রিজ (নিউ ইয়র্ক সিটি এফসি), দিয়েগো কোচেন (লিংবি বোল্ডক্লাব), ব্রায়ান শোয়াকে (ন্যাশভিল এসসি)
ডিফেন্ডার
জর্জ ক্যাম্পবেল (ওয়েস্ট ব্রোমউইচ অ্যালবিয়ন এফসি), সার্জিনো দেস্ত (পিএসভি আইন্দহফেন), অ্যালেক্স ফ্রিম্যান (ভিয়ারিয়াল), পেটন মিলার (নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশন), নিল পিয়ের (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন), ক্রিস রিচার্ডস (ক্রিস্টাল প্যালেস), অ্যান্টনি রবিনসন (ফুলহাম), মাইলস রবিনসন (এফসি সিনসিনাটি), অস্টন ট্রাস্টি (সেল্টিক), ফ্র্যাঙ্কি ওয়েস্টফিল্ড (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন)
মিডফিল্ডার
টাইলার অ্যাডামস (এএফসি বোর্নমাউথ), ম্যাথিস আলবার্ট (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), সেবাস্তিয়ান বারহাল্টার (মিডলসব্রো), জাভিয়ের গোজো (ক্রিস্টাল প্যালেস), আদি মেহমেতি (রেড বুল নিউ ইয়র্ক), ইউনুস মুসাহ (এসি মিলান), ব্রুকলিন রেইন্স (নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশন), জিও রেইনা (আরসি স্ট্রাসবুর আলসাস), মালিক তিলমান (বায়ার লেভারকুসেন)
ফরোয়ার্ড
কাভান সুলিভান (ফিলাডেলফিয়া), কোল ক্যাম্পবেল (এসভি এলভার্সবার্গ), জাস্টিন এলিস (অরল্যান্ডো সিটি এসসি), জুলিয়ান হল ( রেড বুল নিউইয়র্ক), রিকার্ডো পেপি (পিএসভি আইন্দহফেন)
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে কোনো বল মাঠে না গড়িয়েই সেমিফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার জাপানের নাগোয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। কিন্তু সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়।
জানা যায়, টস করতেও নামেননি দুই দলের অধিনায়ক। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় সরাসরি শেষ ৪ জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টি–টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১০ম, চীন ৩৬তম।
নাগোয়ার বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ার কারণে ম্যাচের আগের দিনগুলোতেও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ নারী দল। টুর্নামেন্টের প্রথম দিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় নিশিনের কোরিগি অ্যাথলেটিক পার্কে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে মাঠ খেলার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী, ২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন করা না গেলে সুপার ওভারের মাধ্যমে ফল নির্ধারণের সুযোগ ছিল। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সেটিও আয়োজন করা যায়নি। পরে দুই দলের আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ নারী দলের অবস্থান র্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বরে। বিপরীতে চীনের অবস্থান ৩৭। র্যাঙ্কিংয়ের বড় ব্যবধানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কোনো বল না খেলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় জাপানের মুখোমুখি হবে ভারত। এ ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেট দল এর আগে দুবার রুপা এবং একবার ব্রোঞ্জ জিতেছে।
বাংলাদেশ দলের ব্যাটার সোবহানা মুশতারি চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে পদক নিয়ে দেশে ফেরার আশাবাদ রাখেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো ভিডিও বার্তায়, ‘আমরা প্রথম অনুশীলন করলাম। এর আগে আমরা এশিয়ান গেমসে একটা পদক পেয়েছি (আসলে তিনটি)। আশা করছি, এবারও একটা পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।’
চীনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই সবচেয়ে বড় ম্যাচ ছিল। ২০১০ এশিয়ান গেমস সেমিতে চীনকে ৩৪ রানে অলআউট করে ৭ ওভারে ৯ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই ম্যাচের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। যার অর্থ আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে চীনের বিপক্ষে আজই প্রথম ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টিতে খেলাটা আর হলো না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
আলোচনা হয়েছিল আগেই। বিসিবিও জানিয়েছিল, তারা নেপাল সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক। এবার এল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আগামী মার্চে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে নেপালে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগামী বছর ২৬, ২৮ ও ৩০ মার্চ কাঠমান্ডুতে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজ সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারির মধ্যকার এক বৈঠকে এই সিরিজের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।
রাষ্ট্রদূত ভান্ডারি আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে দেখা করেন। টি-টুয়েন্টি সিরিজ আয়োজন ও দুই দেশের মধ্যে সার্বিক ক্রিকেটীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের।
এই তিন ম্যাচ বাংলাদেশ ও নেপালকে ক্রিকেটের মাধ্যমে একত্র হওয়ার উপলক্ষ হিসেবে দেখছে বিসিবি। বন্যায় বড় ক্ষতি ও শোকের মুহূর্তে বন্ধুত্ব ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নেপালে ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালকে। সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে থাকবে পুরুষ ও নারী দলের সফর বিনিময়, হাই পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।
এখন পর্যন্ত নেপালের বিপক্ষে দুটি টি-টুয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের এই দুটি ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ।
জেমস রুদ্রিগেজ
২০১৪ বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া কলম্বিয়ান তারকা জেমস রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ বছরের দীর্ঘ জাতীয় দল ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা নিশ্চিত করেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন বার্তায় ৩৪ বছর বয়সী রদ্রিগেজ লেখেন, ‘আজ আমি মন থেকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। অনেক বছর, অনেক ম্যাচ এবং আনন্দ আর কঠিন মুহূর্তগুলোর পর আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করার সময় এসেছে: কলম্বিয়ান জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যাত্রা।’
২০১১ সালের অক্টোবরে বলিভিয়ার বিপক্ষে কলম্বিয়ার জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল রদ্রিগেজের। ওই ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেন তিনি। এরপর থেকেই কলম্বিয়ান দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন। দেশের হয়ে ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৩১টি গোলের পাশাপাশি ৪৩টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর নামে।
২০১৪ বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৬ গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের পাশাপাশি শেষ ষোলোতে মহাদেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় ভলি গোলটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ওই আসর মাতানো তরুণ রদ্রিগেজের দিকে নজর পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের, চুক্তিও সেরে ফেলে টুর্নামেন্টের পর।
কলম্বিয়ার হয়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা রদ্রিগেজ বলেছেন, ‘এই জার্সি পরা ছিল একটি স্বপ্ন, পাশাপাশি বিশাল দায়িত্বও ছিল। প্রত্যেকবার যখন আমি মাঠে ঢুকতাম, বুঝতে পারতাম আমি শুধু আমার জন্য খেলছি না। আমার পরিবার, সতীর্থ, হাজারো কলম্বিয়ানের জন্য খেলছিলাম, যারা স্বপ্ন দেখত।’
তিনি আরও বলেন, ‘১০ নম্বর জার্সি পরার সম্মান পেয়েছিলাম আমি এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও পরেছিলাম। সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার তাৎপর্য অনুধাবন করে আমি সবসময় এটি করার চেষ্টা করেছি। ভালো দিন যেমন ছিল, খুব কঠিন দিনও ছিল। কিন্তু এই রঙয়ের গর্ববোধ করা কখনও থামাইনি।’
অবসর ঘোষণার কারণে গত ৭ জুলাই সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া শেষ ষোলোর ম্যাচটি হয়ে থাকল রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় তার অধিনায়কত্বে ফাইনাল খেলেছিল কলম্বিয়া, কিন্তু আর্জেন্টিনা তাদের হারিয়ে ২৩ বছরে প্রথম শিরোপা জেতে।
সম্প্রতি কলম্বিয়ান দল অ্যাতলেটিকো নাসিওনালের সঙ্গে চুক্তি করেছেন রদ্রিগেজ। ক্লাব ক্যারিয়ার আরেকটু লম্বা করতে চান তিনি, ‘আমি শান্ত হৃদয় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। কারণ আমি সবকিছু উজার করে দিয়েছি। প্রত্যেকটি মুহূর্তের জন্য ধন্যবাদ, ধন্যবাদ কলম্বিয়া।’
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল (ফাইল ফটো)
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অংশ নেয়নি। তদন্ত কমিটির এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে ‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’ শিরোনামে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যখ্যা দিয়ে পোস্ট করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আজ মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফেসবুকে পোস্টটি করেন আসিফ নজরুল। পাঠকদের সুবিধার্থে সাবেক এ উপদেষ্টার পোস্টটি তুলে ধরা হলো—
‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’
‘ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।’
‘ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই।’
‘আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মুস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল।’
তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন?’
‘আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।’
‘আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।’
‘সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল।’
আসিফ নজরুল আরও লিখছেন, ‘আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
‘একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নিবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না।’
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বিসিবি।
গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরাসরি কারও নাম মুখে আনতে চাইছিলেন না।
সংবাদমাধ্যমের বারংবার সরাসরি প্রশ্নে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল এক পর্যায়ে বলেন, "তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।"
ফয়সাল জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় তাদের সিদ্ধান্ত। বিসিবি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত করেননি।
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।"
২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।
যুব ও ক্রীড়া সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজোয়ান উজ জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।
তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।
যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমের বক্তব্য এই তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, "যুব ও ক্রীড়া সচিবকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকার পর আসিফ নজরুল নিজেই তার সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে ক্রীড়া সচিব পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যেহেতু বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে সাবেক বিসিবি সভাপতি বুলবুল প্রবল চাপে ছিলেন, যেহেতু তিনি আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছিলেন না। বিসিবির সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত।"
ওই সময়ের বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন তদন্ত কমিটির কাছে বলেন, "ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে সরকার যদি এরকম সিদ্ধান্ত নেয়, ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।"
আসিফ নজরুলের সাড়া না পেয়ে ওই সময়টায় সংবাদমাধ্যমে তার বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমের লেখা, এসবকে তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয় তদন্ত কমিটি।
বিশেষজ্ঞদের বরাতে কিছু পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি, যেখানে আছে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রবেশ, আইসিসি বনাম বিসিবির 'পাওয়ার ইমব্যালান্স' এবং বিসিবির অব্যবস্থাপনা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমস্যা ফুটে ওঠার কথাও বলা হয়।
চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিশ্বকাপে না খেলার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, "রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ, আইসিসির গভর্ন্যান্স সংঘাত, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থ আলোচনা।"
এই অধ্যায়েই 'সম্ভাব্য মূল কারণ' হিসেবে বিভিন্ন কারণগুলোর র্যাঙ্কিং করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভেন্যু বদলে আইসিসির অপারগতা ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ, এসবকে র্যাঙ্কিং করা হয়েছে 'অতি উচ্চ' হিসেবে। বিসিবির কূটনৈতিক দক্ষতার ব্যর্থতাকে বলা হয়েছে 'উচ্চ' কারণ আর যোগাযোগ ভেঙে পড়াকে বলা হয়েছে 'মাঝারি' কারণ।
পরিসমাপ্তিতে বলা হয়েছে, "সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল, ক্রিকেটাররা এবং সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন।" তামিম ইকবালের বরাতে সেখানে উল্লেখ করা হয়, "সমাধান বের করার জায়গা ছিল।"
ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনগনকে ভাবনায় রেখে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কখনও একজন না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত বলে সেখানে বলা হয়।
সবশেষে কিছু সুপারিশও করে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে আছে ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা, বিসিবির স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করা, সংকটকালীন যোগাযোগের দক্ষতাকে উন্নত করা, ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুরক্ষিত করা এবং বিসিবি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ক্রীড়া কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক গড়া।
এই বছরের শুরুর দিকে দেশের ক্রিকেট তথা গোটা দেশে তোলপাড় ছিল বিশ্বকাপে না খেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পরই আসিফ নজরুল ফেইসবুকে পোস্টে বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন ওই পোস্টে। এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে নির্দেশ আসে তথ্য মন্ত্রণালায়ের তরফ থেকে।
পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ । আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি অনুরোধ জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।
এরপর দফায় দফায় বৈঠক হয় দুই পক্ষের। কিন্তু টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে ভেন্যু বদলানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।