খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এদিকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও রোগের কারণে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বহু প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
একইসঙ্গে তিনি এই দুর্যোগের সময়ে নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।
তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন, ‘নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। আমার জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে, যারা এই বিশাল ক্ষতির ভার বহন করছেন। এই দুর্দশার সময়ে নেপালের যে ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে, তা দিতে আমরা প্রস্তুত।’
উল্লেখ্য, পোস্টের সঙ্গে নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকার একটি ছবিও শেয়ার করেন তারেক রহমান। ছবির সৌজন্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘নেপাল টাইমস’।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘নজরুল পদক-২০২৬’ পাচ্ছেন নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদার ও নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী।
আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলজয়ন্তী উদযাপনের বিশেষ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পদকের জন্য আবদুল হাই শিকদার ও শবনম মুশতারীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর নজরুলচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিশিষ্টজনদের ‘নজরুল পদক’ দিয়ে সম্মানিত করে। সাধারণত নজরুলসংগীত ও নজরুল গবেষণা—এই দুই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এবার গবেষণা বিভাগে পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদার। নজরুল গবেষণার পাশাপাশি তিনি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে সংগীত বিভাগে পদক পাচ্ছেন দেশের স্বনামধন্য নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী। দীর্ঘদিন ধরে নজরুলসংগীত চর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নজরুলচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর ধারাবাহিকতায় এ বছরও দুই গুণীজনকে ‘নজরুল পদক-২০২৬’-এর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটাভুটি চলছে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোটদানের নিয়ম ও প্রক্রিয়া অবহিত করেন।
এরপর সংসদের অধিবেশন কক্ষের নির্ধারিত স্থানে রাখা ব্যালটবাক্সে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে একে একে ভোট প্রদান করছেন সংসদ সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, বাতিল বা নষ্ট ভোটের সংখ্যা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে মির্জা ফখরুলের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকবো।
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। এসময় তিনি প্রত্যেকের খোঁজ-খবর নেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহ-সভাপতি স্টার টিভির মাহবুব আলম রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালবেলার শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক বাসসের জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ৭১ টেলিভিশনের আব্দুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক জিটিভির সাজ্জাদ হোসেন ও নারী বিষয়ক সম্পাদক নিউজ টোয়েন্টি ফোর’র মোছা. শিউলী বেগম নাহিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ৭১ টেলিভিশনের নূর তাজমিন নীর, স্টার টিভির ফরহাদ বিন নূর, কালের কণ্ঠের মো. নবাব শরীয়তুল্লাহ (সৌম্য সরকার), সাম্প্রতিক দেশকালের নাসরিন আখতার, যুগান্তরের ইমরান খান, চ্যানেল আইয়ের তাফহিমুল ইসলাম ও নিউজ এজেন্সি এবিপির বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান, প্রথম আলোর তুহিন সাইফুল্লাহ ও বাসসের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
যাত্রী পরিবহনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারী-বান্ধব ও নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এ উদ্যোগ শুধু কয়েকটি রুটে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ ধরনের বাসসেবা চালু করা হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কার্যালয়ে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নারীরা বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময়, বাসে অবস্থানকালে এবং বাস থেকে নামার সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকারের এ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশের ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাস সার্ভিস চালু করা।
সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই নারী-বান্ধব এবং নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি বাস ১৩টি রুটে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে।
ঢাকার জন্য নির্ধারিত বাসগুলোর মধ্যে একটি একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে। চট্টগ্রামে একটি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দু’টি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস চলাচল করবে।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ বাস সার্ভিসের রুট আরও বাড়ানো হবে এবং বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে যে সেবা চালু করা হয়েছে, সেটিকে ধীরে ধীরে আরও উন্নত, আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করা হবে।
বিআরটিসির বর্তমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি ট্রাকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তারও বেশি বাস পরিচালনা করছে।
বিআরটিসি বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে। তবে সংস্থাটির মানসম্মত সেবা ও অপারেশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসিকে আরও যুগোপযোগী, যাত্রীবান্ধব ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গণপরিবহনের রুট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকার রুট পারমিটের অসংগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক রুটের অস্তিত্ব না থাকলেও সেসব রুটের পারমিট রয়েছে।
আবার অনেক রুটে পারমিট না থাকলেও বাস চলাচল করছে। এসব রুট অনেক আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ঢাকা শহরের যাত্রীদের চাহিদা, যাত্রীর চাপ এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে রুট নির্ধারণ, রুট পারমিট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বৈদ্যুতিক বাস বা ইভি বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ২০০টি ইভি বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ইভি বাস সংগ্রহ করতে গেলে প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, দরপত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত চালুর লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহন থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ইভি বাস সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু ঢাকা নয়, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিবহন খাতে নতুন মাত্রা তৈরি করা হবে।
নারী চালকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, নারীরা কোনোভাবেই পুরুষের চেয়ে কম সক্ষম নন। তারা দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারেন এবং দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তাই পরিবহন খাতেও নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
মন্ত্রী বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আজ যে সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেই সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু উদ্বোধন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অনেক উদ্যোগ অতীতে উদ্বোধনের পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।
তিনি বলেন, নারী বাস সার্ভিসকে টেকসই ও কার্যকর রাখতে বিআরটিসির অপারেশন, ব্যবস্থাপনা ও জনবলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সময়ানুবর্তিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নারী যাত্রীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এই বাসে উঠতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এই সেবাকে আরও উন্নত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। সাংবাদিকদেরও এই উদ্যোগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ভুল-ত্রুটি থাকলে তা জানাতে হবে, যাতে দ্রুত সংশোধন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে এটিকে ধরে রাখা, টেকসই করা, সেবার মান বাড়ানো এবং নতুন নতুন রুটে সম্প্রসারণ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত রয়েছে।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন সচিব বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বগুড়া থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে নীতি নির্ধারণ ও সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো মানবসভ্যতার জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ : পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
সেমিনারে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি বা তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার বিষয়টি এখন কেবল সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টেক জায়ান্টদের একার বিষয় নয়। এটি আমাদের সম্পূর্ণ একটি নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাঠামোগত জটিলতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্ম মূলত ব্যবসার উদ্দেশে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের এই ব্যবসায়িক স্বার্থ একত্রে এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। এই ইকোসিস্টেমের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলার মাধ্যম আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আজকাল অনেক পেশাজীবী বা তরুণ নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহারের চেয়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা কাজের মৌলিকত্ব ও সততাকে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তি আমাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কাজের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করবে ঠিকই, তবে তা যেন আমাদের চোরাবালির দিকে নিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আইটি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কান্ডজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদপত্রের বর্তমান রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের মূল মেকানিজমের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ভালো আয় করছে। এই রূপান্তরের যুগে গণমাধ্যম, রাষ্ট্র এবং অরাজনৈতিক অংশীদারদের একযোগে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা আশা করেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।