ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নতুন সদ্য শপথ নেওয়া রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপ্রধান। এরপর তিন বাহিনীর তরফে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।


নতুন রাষ্ট্রপতি সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে সইয়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণও করেন।


রাষ্ট্রপ্রধান সেখান থেকে সরাসরি মিন্টু রোডের বাসায় ফিরবেন। তিনি রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।


দেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেন দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব সামলানো মির্জা ফখরুল। এর আগের দিন সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৬ এএম

বিএনপি সরকারের গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে আসা এই রদবদলে নির্বাহী দায়িত্বে তিনি আনলেন নতুন ছয় মুখ।


নির্বাহী বিভাগের পুনর্গঠনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে বাদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী; তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে দপ্তর পাল্টে তার জায়গায় পদোন্নতি দিয়ে আনা হয়েছে রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে; এতদিন ওই মন্ত্রণালয়ে রিতার জুনিয়র মন্ত্রী ছিলেন তিনি।


প্রায় দুই দশক বিরতির পর বেশিরভাগ নতুন মুখ নিয়ে আসা বিএনপি সরকারের জন্য এমন পরিবর্তনকে স্বাভাবিকই মানছেন বিশ্লেষকরা।


আবার কারও কাছে মাত্র ছয় মাসে এই রদবদল ‘অবাক করা’।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।


মন্ত্রীদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরে স্পিকারের দায়িত্ব পান। আর প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কায়সার কামাল গত মার্চে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পান।


হাফিজ উদ্দিনের জায়গায় মন্ত্রিসভায় আসেন আহমেদ আযম খান। আর ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদও শূন্য হয়। আর শুক্রবারের রদবদলে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন।


ফলে সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সরকারে মন্ত্রীর সংখ্যা হল ২৬ জন, আর প্রতিমন্ত্রী থাকলেন ২৪ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এবং জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী থেকে উপদেষ্টা হওয়ায় উপদেষ্টাদের মোট সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হল না।


৫১ জন সদস্য নিয়ে মন্ত্রিসভার এই পুনর্গঠনকে কুঁড়েঘরের ‘খুঁটি পাল্টানোর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার।


ছয় মাসের কাজ দেখে দায়িত্বে এমন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে এই বিশ্লেষক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন বলা যায়। আবার তার মন্ত্রিসভায় অধিকাংশই ছিলেন নতুন মুখ। এখন তিনি কাজ দেখলেন, নাড়াচাড়া করে দেখে খুঁটিতো বদলাতে হয়।”


প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একানব্বইয়ের সরকারের শুরু দিকেও মন্ত্রিসভায় এমন পরিবর্তন আসার কথা তুলে ধরে সাবেক এই সচিব বলেন, “দীর্ঘ বিরতির পর কোনো দল ক্ষমতায় এলে এটা স্বাভাবিকভাবে করতে হয়।


“কারণ, আগে সরকারে থাকা সিনিয়র অনেক নেতা মারা যান এবং কেউ কেউ বার্ধ্যক্যজনিত কারণে কর্মক্ষম থাকেন না।”


তবে, আরেক বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেছেন, “রদবদল তো সবসময় মন্ত্রিসভায় হয়। তবে ছয় মাসের মধ্যে রদবদল হয়তো মানুষকে একটু অবাক করে দিয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে ছয় মাসের মধ্যেই যে বিষয়টি হচ্ছে সরকার এবং বিএনপি দল অনেকটাই কাছাকাছি চলে আসছে। যে কারণে রাজনীতির দল হিসেবে বিএনপির আলাদা যে গুরুত্ব, আলাদা যে অবস্থান সেটি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।


“বিলীন হওয়ার কারণে যেটা হচ্ছে যে নতুন সদস্যদের মন্ত্রীর জায়গায় অন্তর্ভুক্তি এবং এখন পর্যন্ত আপনার, আমরা দেখেছি যে হয়তো আরো সামনে মন্ত্রিপরিষদে নতুন অন্তর্ভুক্ত হবে।”


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, “এখন বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ থেকে অন্তর্ভুক্তিগুলো করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দলের যারা তরুণ তারাও আছেন, আবার যারা অভিজ্ঞ, তারাও আছেন।


“তো একটি হল যে সমন্বয়, আরেকটি হল আমার কাছে মনে হচ্ছে যে এক ধরনের বিএনপির অভ্যন্তরের রাজনীতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং দল ও সরকার দুটোর মধ্যে একটা সমঝোতা করার চেষ্টা। পাশাপাশি নানারকম চাপ থাকতে পারে।”


কার ভাগে কোন মন্ত্রণালয়


তারেক রহমানের সরকারে যুক্ত হয়েছেন চারজন নতুন মন্ত্রী, তাদের একজন আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আর নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দুজন, তাদের একজন আগে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।


মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।


আর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।


শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পরপরই তিনি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান।


রাতেই তাদের দপ্তর বণ্টনের তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। পরে জারি করা হয় প্রজ্ঞাপন।


মির্জা ফখরুলের ছেড়ে আসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা আবদুল মঈন খান। তিনি নরসিংদী-২ আসনের এমপি।


খালেদা জিয়ার ১৯৯১-৯৬ মেয়াদের সরকারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মঈন খান। পরে ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে প্রথমে তথ্য এবং পরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলন।


আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


বর্তমানে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।


গত আড়াই মাস ধরে খালি থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিং প্রু জেরী।


এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি এমপি হয়েছিলেন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পাওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়েরই মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।


নতুন প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।


আর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবিরকে পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।


কিন্তু ওই মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এক মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকলে তো অসুবিধা নেই।”


একই মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী থাকলে কোনো অসুবিধা না থাকার কথা বলেছেন সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদারও।


এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতার ক্রম, কে কোথায় যাবেন, কোন মন্ত্রণালয়ে কতজন প্রতিমন্ত্রী থাকবেন- এগুলো একেবারেই এবং পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এখানে কার্যবিধিমালার কোনো ব্যত্যয় হবে বলে মনে হয় না।


পরিবর্তনে ইঙ্গিত কী


নতুনদের দিয়ে শুরু করা সরকারে মন্ত্রীদের ‘পারফরমেন্স’ দেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার।


তিনি বলেন, “প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান সরকারে একেবারে নতুন এবং দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। সরকার গঠনের পরপরই তিনি বিভিন্ন আলোচনায় কিন্তু বলেছেন, মন্ত্রীদেরও ‘পারফরমেন্স’ বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।


“আর মন্ত্রিসভায় যারা এসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগও ছিলেন অনভিজ্ঞ ও নতুন। এখন ছয় মাস পার এসে তিনি দেখেছেন, কোথায় কোথায় পরিবর্তন করা দরকার এবং সেভাবে পরিবর্তন করছেন।”


তথ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের কারণ প্রকাশ পেলে অন্যরাও সতর্ক হবেন বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান।


তিনি বলেন, “এই পরিবর্তনের মূল কারণটা যেটা আসবে বা প্রকাশ পাবে, সেটার ভিত্তিতে অন্যদের কাছেও বার্তা যাবে। নেতিবাচক কারণে পরিবর্তন হলে অন্য মন্ত্রীরাও সাবধান হবেন।”


রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জায়গায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মঈন খানের যাওয়াকে ‘যথার্থ’ বলেই মানছেন অধ্যাপক কাজী মাহবুব।


জোটসঙ্গী বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেটা এখনও স্পষ্ট না হওয়ার কথা তুলে ধরে এই বিশ্লেষক বলেন, “হয়ত তিনি আউটস্পোকেন হওয়ায় সরকারের পক্ষে বক্তব্য দিতে পারবেন এবং জনমত তৈরি করতে পারবেন।”


দলীয় কাজে জহির উদ্দিন স্বপনকে আরও বেশি পরিমাণে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে তাকে উপদেষ্টা করা হয়েছে, ধারণা এই বিশ্লেষকের।


সরকারে নতুন গতিবেগ দেওয়ার দেওয়ার এই পরিবর্তন আনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না যে, কারও অদক্ষতা বা ব্যর্থতার কারণে এই রদবদল করা হয়েছে বা সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কি-না। গুরুত্বপূর্ণ ছিল কাকে কোথায় কাজে লাগানো যায় সেই বিবেচনা।


“সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে গতি বা মাত্রা বাড়ানো যায় কি-না, সেই চিন্তা করা হয়েছে। এই পুনর্গঠনের বড় রকমের প্রভাব সরকারে উপর পড়বে বলে মনে হয় না। দল এবং সরকারের প্রয়োজনে কিছু জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।”


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম

গত কয়েক দিনে বৃষ্টির তোড়জোড় কম থাকায় বাতাসে জমেছে জলীয় বাষ্প। দিনে তো বটেই, রাতেও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসী। তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকলেও গরম অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরে না থেকে বারান্দায় বসে থাকছেন অনেকেই। শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ; যা একই সময়ে চট্টগ্রামে ৭৪, রংপুরে ৮৫, ময়মনসিংহে ৭৫, সিলেটে ৭৯, খুলনায় ৮০ এবং বরিশালে ৭৪ শতাংশ দেখা যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, দেশজুড়ে গড়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ।


অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘বর্তমানে দক্ষিণমুখী বাতাস বইছে। বৃষ্টি না থাকায় পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। শরীর ঘামলেও সেই ঘাম সহজে শুকাচ্ছে না।


তাপমাত্রার চেয়ে গরমের অনুভূতি দুই থেকে তিন ডিগ্রি বেশি হচ্ছে।’ তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরও চার থেকে পাঁচ দিন থাকতে পারে বলে সমকালকে জানালেন এই আবহাওয়াবিদ। 


আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মাদ আবুল কালাম মল্লিক জানালেন, বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি না হলে গরমের অনুভূতি বেড়ে যায়। আবার পরিবেশে সুপ্ত তাপ থেকে যায় বলে বৃষ্টি হলেও অনেক সময় তাপমাত্রা দ্রুত কমে না; বরং গরমের অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। 


তিনি বলেন, ‘দিনের বেলায় বাতাসের আর্দ্রতা ৬০ শতাংশের বেশি হলে তা গরমের অনুভূতি বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বাতাসের গতিও তুলনামূলক কম। ফলে পরিবেশের তাপ ও জলীয় বাষ্প দ্রুত সরে যেতে পারছে না। তাতে গরমের অস্বস্তি আরও তীব্র হচ্ছে।’ ড. মল্লিকের মতে, ‘জ্বালানি পোড়ানো, ডিজেল, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কুলিংসহ নগরজীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণেও ঢাকার পরিবেশে তাপ জমছে। এর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাতের প্রভাব যুক্ত হয়েছে।’


তবে দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টির দেখা মিলবে বলে আশ্বস্ত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ শনিবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। 


শুক্রবার বিকেল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির খবর এসেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টি হলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমবে।


নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ এএম

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও নাইজেরিয়াও নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।


অভিনন্দন বার্তাগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে।


ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের প্রত্যাশা


ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক অভিনন্দনবার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান।


তিনি বলেন, জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তাঁর নতুন দায়িত্বকে সফল করবে বলে তিনি আশাবাদী। দ্রৌপদী মুর্মু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে অনন্য হিসেবে উল্লেখ করেন।


অভিন্ন ইতিহাস, আত্মত্যাগ, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে উল্লেখ করে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে তিনি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।


একই সঙ্গে নতুন রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।


পাকিস্তানের আমন্ত্রণ


মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেন।


জারদারি আশা প্রকাশ করেন, মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।


বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের জন্য মির্জা ফখরুলকে আমন্ত্রণ জানান জারদারি। তাঁর মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে।


বন্ধুত্ব আরও জোরদার করতে চায় নেপাল


নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুক্রবার পাঠানো অভিনন্দনবার্তায় তিনি মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান গভীর যোগাযোগকে আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পৌডেল বলেন, ঐতিহাসিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ বাংলাদেশ ও নেপাল ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।


চীনের বার্তায় নতুন যুগের সহযোগিতা


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানায় চীন।


ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় চীন।


নতুন যুগে যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এর মাধ্যমে দুই দেশ ও দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় যুক্তরাজ্য


বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশন। শুক্রবার দেওয়া এক বার্তায় হাইকমিশন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা জানায়।


ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।


ফ্রান্সের শুভেচ্ছা


মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে ফ্রান্সও। ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্স দূতাবাসের বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়।


বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গভীর করতে ফ্রান্স প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়।


সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির অভিনন্দন


রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডের ঢাকাস্থ দূতাবাস। দূতাবাসের বার্তায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।


একইভাবে জার্মান দূতাবাস মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। নতুন দায়িত্বে তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে জার্মানি-বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে দেশটি।


নাইজেরিয়ার অভিনন্দন


বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকারও।


শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর বিয়াঙ্কা ওদুমেগউ-ওজুকউ ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান।


নাইজেরিয়া মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে আগ্রহ


সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের অভিনন্দনবার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।


বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের বার্তায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে চীন, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো এবং আফ্রিকার নাইজেরিয়ার শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা উঠে এসেছে।


ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিসরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত হয়-সেদিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।


নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ এএম

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টায় তার শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্মৃতিসৌধে পৌঁছে প্রথমে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবেন তিনি।


এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেবে। পাশাপাশি বিউগলে বেজে উঠবে করুণ সুর।


শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি মিন্টু রোডের বাসভবনে ফিরবেন। পরে গুলশানে তার বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।


হুময়ুন কবির ও শামীম কায়সার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করছেন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫৮ পিএম

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও দুইজন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেন। এর পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।


প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার এমপি।


এর আগে, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর আসার পর তার প্রেস সচিব বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। 


শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তারেক রহমান ২৩-২৫ অগাস্ট দিল্লি সফর করতে পারেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে।


রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই এ সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে এল।


চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। জুলাই আন্দোলন দমাতে নিপীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গেল নভেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে দিল্লিকে বারবার অনুরোধ করে আসছে ঢাকা। ভারত বলছে, তারা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি পরীক্ষা করছে।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেছেন, “দিল্লি সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”


তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।


শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলার মতো কোনো মন্তব্য নেই।


এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে টানাপড়েন এবং তারেক রহমানের সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের এমন কাণ্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকার শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তার সম্ভাব্য নয়া দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দিয়েছিল, সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।


গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।


এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।


গেল ১৪ অগাস্ট ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।


তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে।


ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো তখন বলছিল, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।


গেল ১০ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার (যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পান) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে তখন ধারণা করা হয়।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।


এর মধ্যে গত ৫ অগাস্ট জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়া দিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। তিনি সেখানে বলেছেন, ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন।


সেদিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর ঢাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামির প্রত্যর্পণের শর্ত দেয়।