• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৬ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৬ পিএম

মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৬ পিএম

যাত্রী পরিবহনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারী-বান্ধব ও নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।


তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এ উদ্যোগ শুধু কয়েকটি রুটে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ ধরনের বাসসেবা চালু করা হবে।


আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কার্যালয়ে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, নারীরা বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময়, বাসে অবস্থানকালে এবং বাস থেকে নামার সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকারের এ উদ্যোগ।


তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশের ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাস সার্ভিস চালু করা।


সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই নারী-বান্ধব এবং নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।


তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি বাস ১৩টি রুটে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে।


ঢাকার জন্য নির্ধারিত বাসগুলোর মধ্যে একটি একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে। চট্টগ্রামে একটি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দু’টি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস চলাচল করবে।


মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ বাস সার্ভিসের রুট আরও বাড়ানো হবে এবং বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে যে সেবা চালু করা হয়েছে, সেটিকে ধীরে ধীরে আরও উন্নত, আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করা হবে।


বিআরটিসির বর্তমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি ট্রাকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তারও বেশি বাস পরিচালনা করছে।


বিআরটিসি বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে। তবে সংস্থাটির মানসম্মত সেবা ও অপারেশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।


শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসিকে আরও যুগোপযোগী, যাত্রীবান্ধব ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গণপরিবহনের রুট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে।


ঢাকার রুট পারমিটের অসংগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক রুটের অস্তিত্ব না থাকলেও সেসব রুটের পারমিট রয়েছে।


আবার অনেক রুটে পারমিট না থাকলেও বাস চলাচল করছে। এসব রুট অনেক আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ঢাকা শহরের যাত্রীদের চাহিদা, যাত্রীর চাপ এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে রুট নির্ধারণ, রুট পারমিট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক করা হবে।


মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বৈদ্যুতিক বাস বা ইভি বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ২০০টি ইভি বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ইভি বাস সংগ্রহ করতে গেলে প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, দরপত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত চালুর লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহন থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ইভি বাস সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু ঢাকা নয়, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিবহন খাতে নতুন মাত্রা তৈরি করা হবে।


নারী চালকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, নারীরা কোনোভাবেই পুরুষের চেয়ে কম সক্ষম নন। তারা দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারেন এবং দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তাই পরিবহন খাতেও নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।


তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।


মন্ত্রী বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আজ যে সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেই সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু উদ্বোধন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অনেক উদ্যোগ অতীতে উদ্বোধনের পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।


তিনি বলেন, নারী বাস সার্ভিসকে টেকসই ও কার্যকর রাখতে বিআরটিসির অপারেশন, ব্যবস্থাপনা ও জনবলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সময়ানুবর্তিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নারী যাত্রীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এই বাসে উঠতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


মন্ত্রী বলেন, এই সেবাকে আরও উন্নত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। সাংবাদিকদেরও এই উদ্যোগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ভুল-ত্রুটি থাকলে তা জানাতে হবে, যাতে দ্রুত সংশোধন করা যায়।


তিনি আরও বলেন, নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে এটিকে ধরে রাখা, টেকসই করা, সেবার মান বাড়ানো এবং নতুন নতুন রুটে সম্প্রসারণ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত রয়েছে।


বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন সচিব বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বগুড়া থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।




অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ এএম

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এসব পার্টিতে যোগ দিতেন অংশগ্রহণকারীরা। আটকদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও রয়েছেন। 


ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াস কবির। ছবি: সংগৃহীত

বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান। 


ইলিয়াস কবির বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।


ডিসি ইলিয়াস কবির আরও দাবি করেন, পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন। তিনি বলেন, সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন। 


গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বলেন, পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এর ওই বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বাড়িটিতে উঠতি বয়সি ছেলে-মেয়েরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাত। ডিজে পার্টির নামে এখানে অসামাজিক ও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলত। এখানে অভিযান চালিয়ে মদ, গাঁজা, কনডম এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া গেছে।


তিনি বলেন, সেখানে মোট পাঁচটি রুম আছে। অনলাইনে বুকিং দেওয়া হতো। একেকটি রুম ১০ জনে ভাড়া নেয়। আবার যদি অতিরিক্ত লোকজন থাকে, জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেয় রেজিস্ট্রেশন ফি। সেখানে পুরো ডিজে পার্টি বসায়। দুপুর ১২টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত চলে এসব কর্মকাণ্ড। মাসে ১৮ থেকে ২০টি প্রোগ্রাম হয়। একেকটি প্রোগ্রামে লাখখানেক টাকা ভাড়া নেয়। 


এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ভাটারা থানা এলাকায় তার সাড়ে ৬ কাঠা জমি কেনার টাকার উৎস নিয়েও। পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অবাধে অপকর্ম চললেও এতদিন প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ-এমন দাবি খোদ পুলিশেরই। 


জানা গেছে, এয়ারবিএনবি হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন। 


ডিবি জানিয়েছে, রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবনসহ মাদকের কারবার পরিচালিত হয়-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এর ওই বাড়িতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য। আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



মদ, ইয়াবা ও কুশ উদ্ধারের দাবি


অভিযানে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামের একটি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া যৌনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে পার্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কক্ষে চলে যান। ভবনটিতে পাঁচটি কক্ষ ছিল। 


মাসে আয় কত, কীভাবে হতো আয়োজন


ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।


এক মাসের কারাদণ্ড ছেলেদের, মেয়েদের ১৫ দিন


আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে, মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনার পর মঙ্গলবার পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল জহিরকে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। 


অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, আমি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে থাকি। কিছু কঠোর নিয়মও আছে। সেখানে কোনো অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই আমার। তবে অসৎ উদ্দেশ্যে আমি বাড়ি ভাড়া দিতাম না। দেশ-বিদেশের অনেকেই এ বাড়িটি ভাড়া নেয়। কেউ ভাড়া নিয়ে কোনো অসামাজিক কাজ করতে চাইলে অতীতে সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। 


তিনি বলেন, এবার একটি জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু তারা যে এগুলো করবে, মদ আনবে সেটা আমি জানি না। 


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে তানভীর জমাদ্দারকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ/ছবি মিরপুর মডেল থানা পুলিশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ এএম

রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা তানভীর জমাদ্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ওই ছাত্রলীগ নেতাও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে তার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন।


ঘটনার ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে খুঁজতে থাকেন। পরে মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অন্যদের পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে যান তানভীর।


এ বিষয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার মিরপুরে ফুটপাত পরিদর্শনে আসেন। এ সময় এক ছাত্রলীগ নেতা তাকে অনুসরণ করেন। ঘটনার ভিডিও যাচাই-বাছাই করে তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ এএম

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।


মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।


তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো— অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।


সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।


এ সময় রাষ্ট্রপতি জানান, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এর আগে, দরবার হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।


রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা সব দর্শনার্থী এবং অতিথির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩২ পিএম

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে আবারও ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৫ অক্টোবর রিয়াদ রুটে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি। এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে দাম্মাম রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।

 

 

বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বিমানের ফ্লাইট। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের হামলাজনিত পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে রিয়াদগামী পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

 

এদিকে, ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এসব ফ্লাইটে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে বিমান।

 

 

জেদ্দা রুটেও ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে। ২২ অক্টোবর ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে একটি করে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে।অন্যদিকে, মদিনা রুটে বিমানের ফ্লাইট নিয়মিত চলছে। এ রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ রুটের ফ্লাইটের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।

 

 

টিকিট কেনা, বুকিং ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের বিমানের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

এর আগে, চলতি মাসের প্রথম দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরে দাম্মাম রুটের ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছিল।  


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ পিএম

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা মিলিয়ে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির বিষয়টি নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট ছুটির তালিকা অনুযায়ী।২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হবে। পরদিন ৮ নভেম্বর রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।


এর আগের দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত টানা তিন দিন সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকতে পারে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি নির্ভর করবে নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার ছুটির উল্লেখ নেই। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ছুটি কার্যকর হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।




  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম

সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন এবং সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা নেতা হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।


স্পিকার বলেন, ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। সংসদে রাজনীতি করার উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি করা যায়নি। তবে ভবিষ্যতে দেশে এমন পরিস্থিতি থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে আল্লাহর রহমতে দেশে সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।


অনুষ্ঠানে হাফিজ উদ্দিন আহমদ দাবি করেন, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ৪০০টি বাড়ি বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বাড়িগুলোর অবস্থান উল্লেখ করে চিঠি দেওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।স্পিকার আরও দাবি করেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুবাইয়ে ১০০টি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০টি এবং কানাডায় ৩০ থেকে ৪০টি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্থ লুট করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে দলটির নেতাকর্মীরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও দাবি করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইংল্যান্ডে অনেক সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


কানাডার বেগমপাড়ায় লুটপাটের অর্থে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ তুলে স্পিকার বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে।