প্রতীকী ছবি
শিশু নিখোঁজ হলে বা হারিয়ে গেলে কী করা উচিত- এই প্রসঙ্গটি বাংলাদেশে সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে; বিশেষ করে কুমিল্লায় ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর।
পুলিশের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারাদেশে প্রায় ১৬ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়, যাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এই তথ্য জানানো হয়েছিল চলতি মাসের শুরুতে।
আবার বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, বছরের শুরু থেকে অগাস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত ৩৬টি নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সন্তান অপ্রতিমের নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সারাদেশে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। ওই ঘটনায় অপ্রতিমেরই পূর্ব-পরিচিত কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান নিয়ে কাজ করা প্ল্যাটফর্ম মুন অ্যালার্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান জিরো মিসিং ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাদাত রহমান বলছেন, নিখোঁজের পর প্রথম তিন ঘণ্টায় অনেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকে এবং সে কারণে ওই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ডকে শিশুটির উদ্ধারের জন্য কাজে লাগাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা বলছেন, বাচ্চা নিখোঁজ হলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে কল দিয়ে কিংবা স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশকে জানাতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব তথ্য দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে জিডি করতে হবে। পুলিশের একজন মুখপাত্রও একই পরামর্শ দিয়েছেন।
শিশু হারালে কী করবেন
জামালপুরের মাদারগঞ্জে গত ১০ই সেপ্টেম্বর সাত বছরের একটি শিশু স্কুলে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে ওই শিশুর মৃতদেহ তারই এক সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় পায় পুলিশ।
রপর সংবাদ সম্মেলন করে সেখানকার পুলিশ জানিয়েছিল যে ওই শিশুর সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।
গত ১৬ই সেপ্টেম্বর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে নিখোঁজের সাত দিন পর দশ বছর বয়সের এক শিশুর টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবার বাংলাদেশের খুলনার ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ভারত থেকে উদ্ধারের ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছিল; ২০২৫ সালের ২৩শে জুলাই ওই কিশোরীটিকে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাইগাঁও থেকে উদ্ধারের পর ওই শিশু তারও উপর হওয়া নিপীড়নের মর্মস্পর্শী বিবরণ দিয়েছিল।
নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জিরো মিসিং ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাদাত রহমান বলছেন, শিশু হারালে বা নিখোঁজ হলে দ্রুততম সময়েই কিছু পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুটিকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
জিরো মিসিং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্ম মুন অ্যালার্ট নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান নিয়ে কাজ করে। এটি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সামাজিক মাধ্যম ও বিলবোর্ডে নিখোঁজ শিশুর বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অ্যালার্ট দিয়ে থাকে।
সাদাত রহমান বলছেন, এফবিআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের পর প্রথম তিন ঘণ্টায় অনেক শিশু হত্যার শিকার হয় এবং সে কারণে ওই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড শিশুটিকে খুঁজে পেতে কাজে লাগাতে হবে।
'গোল্ডেন আওয়ার' কাজে লাগানো
সাদাত রহমানের মতে, ওই তিন ঘণ্টাই গোল্ডেন আওয়ার, যার প্রতিটি মুহূর্ত শিশুকে খুঁজে পেতে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানাতে বা অ্যালার্ট ইস্যু করতে মুন অ্যালার্টের হটলাইন (১৩২১৯) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি শিশুর বিস্তারিত তথ্য দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে এবং সেক্ষেত্রে থানায় যাওয়া এবং বাংলাদেশের পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯ এ কল করে পুলিশকে অবহিত করা উচিত বলেও মনে করেনি তিনি।
আইনজীবী মিতি সানজানা বলছেন, দ্রুত স্থানীয় থানায় গিয়ে শিশুর বিস্তারিত তথ্য-সহ জিডি করতে হবে। একই সঙ্গে, কারও সাথে পূর্ব-শত্রুতা থাকলে বা সন্দেহভাজন কেউ থাকলে অভিভাবকের উচিত সেটি পুলিশকে অবহিত করা। পাশাপাশি আগের কোনো শত্রুতা বা হুমকি থাকলে তাও পুলিশকে জানাতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালুর ফলে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০। যদিও সাদাত রহমান বলছেন, নিখোঁজের ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করার সুবিধা কাজ করে না। এ ধরনের জিডি করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় যেতে হয়।
আশেপাশে সন্ধান চালানো
চলতি মাসের শুরুতে পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জায় বা ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব কাজ করে।
সাদাত রহমান বলছেন, স্কুলের বাচ্চারা নিখোঁজ হলে শুরুতেই তাদের কোনো বন্ধু-বান্ধবের বাসায় গেলো কি না তার খোঁজ নিতে হবে। ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটি ঘটে এবং তাদের অনেককে পরে পাওয়া যায়। এছাড়া ছোটো শিশুর ক্ষেত্রে বাড়ির আশেপাশের ডোবা নালাসহ বিপজ্জনক জায়গাগুলো ভালো করে দেখতে হবে। বাচ্চারা অনেক সময় পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে যায়। এমন কারও কাছে গিয়েছে কি-না সেটি নিশ্চিত হতে হবে। কনস্ট্রাকশন সাইট কিংবা মাঠ থাকলে সেগুলোতে সন্ধান করতে হবে। তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে অনেকের বাসা থেকে রাগ করে বা পড়াশোনার ভয়ে বের হয়ে যাওয়ার উদাহরণও আছে।
আইনজীবী মিতি সানজানা বলছেন, শিশুটি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা করা যাবে এমন প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কোনো বিলম্ব না করে এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে জানাতে হবে।
আরও যেসব জায়গায় খোঁজ নিতে হবে
শিশুটি কোথায় যেতে পারে- সেই সম্ভাবনা ধরে কাছাকাছি থাকা হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। শিশুর নিয়মিত যাতায়াতের জায়গাগুলোতে ভালো করে সন্ধান চালাতে হবে।
নিখোঁজ বা হারিয়ে যাওয়া শিশু পেলে অনেক সময় আদালতের মাধ্যমে সরকারি শিশু সদনে রাখে পুলিশ। শিশুটি সেখানে আছে কি-না সেই খোঁজের জন্য আদালতের নন-এফআইআর শাখায় খোঁজ নিতে হবে।
শিশুকে যা শেখাবেন
সাদাত রহমান বলছেন, অনেক সময় শিশু হারিয়ে যাওয়ার পর লোকজন পেলেও কোনো তথ্য দিতে পারে না। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে মোবাইল নম্বর মুখস্থ করানোর চেষ্টা করতে হবে।একই সঙ্গে শিশুকে অপরিচিতদের কাছে না যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। পিতামাতাসহ পরিবারের অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি আরও দৃষ্টি দিতে হবে। তারা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
সানজানাও বলছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে সচেতন করে তুলতে হবে অভিভাবকদেরই।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে দুবাইফেরত এক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৪০ কেজি ওজনের ১,৩০০ পিস নিষিদ্ধ Fresh & White Beauty Cream আটক করা হয়েছে। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন। এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই–চট্টগ্রামগামী BG-148 ফ্লাইটে আগত যাত্রী মোহাম্মদ জাহেদ (Mohammed Jahed)-এর ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করে এসব ক্রিম পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিষিদ্ধ এসব প্রসাধনী আমদানি প্রযোজ্য আমদানি নীতি আদেশের বিধান লঙ্ঘন। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব পণ্য দেশে প্রবেশ ও বাজারে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে বিমানবন্দরে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঝুঁকিপূর্ণ ফেস ক্রিমসহ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতীকী ছবি
গাঁজার আসরে মুখ ফসকে কিছু কথা বেরিয়ে যাওয়ার পর জোট খুলেছে প্রায় ৫ বছর আগের এক হত্যা রহস্যের। বেরিয়ে এসেছে ভাড়াটে হত্যাকারীদের তথ্য, যাদের পাঠিয়েছিলেন নিহতেরই আপন বড় ভাই। ২০২১ সালের জুনে মাগুরার সুইপার কলোনিতে মানিক লাল ডোম (৩৫) হত্যার ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটের খসড়া ইতোমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, নিহত মানিকের ছেলে আসন লালের (২১) সঙ্গে অভিযুক্ত এক হত্যাকারীর বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ৫ বছর আগের ওই ঘটনার জট খুলেছে সম্প্রতি।
একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে স্থানীয় মাছ বাজারে কাজ করা মেহেদী হাসান আকাশ (৩০) আসনকে হুমকি দিয়ে বলেন—'তোর বাবার যে অবস্থা করেছি, তোরও একই অবস্থা করব।'
দুজনে গাঁজা সেবনের সময় আকাশ এই হুমকি দিয়েছিলেন। যা পরে সিআইডির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে। অবশেষে স্থানীয় পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে কয়েক বছর ধরে আটকে থাকার পর মামলাটি সুরাহার দিকে যাচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত মানিক মর্গ সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তার বড় ভাই হীরা লাল ডোম (৫০) চারজনকে ভাড়া করে তাকে হত্যা করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে মাগুরার সুইপার কলোনিতে নিজ বাড়িতে ছোট ছেলে সুন বাবুকে নিয়ে ঘুমাতে যান মানিক। পরদিন ভোর ৪টার দিকে শিশুটির পাশে পড়েছিল বাবার রক্তাক্ত মরদেহ।
পরদিন মানিকের স্ত্রী আশা রানি মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে স্থানীয় পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও, পরের বছরের ১২ জানুয়ারি এটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর চেষ্টার পরও পিবিআই কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে পারেনি।
গত বছরের মে মাসে পিবিআই জেলা আদালতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে অবশ্য কোনো আসামির নামই ছিল না, আর এতে ইতি টানা হয় তদন্তের।
তবে, আদালত ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং একই বছরের অক্টোবরে সিআইডির মাগুরা ইউনিটকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এসআই আনিসুর নিহতের ছেলে আসনকে তার বাবার হত্যাকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে আসন বাগবিতণ্ডার সময় আকাশের দেওয়া ওই হুমকির বিষয়টি জানান।
এসআই আনিসুর এ সূত্র ধরে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মাগুরার পুরাতন মাছ বাজার এলাকা থেকে আকাশকে আটক করা হয়।
এসআই আনিসুর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আকাশের ওই মন্তব্যটি আমার মনে সন্দেহ তৈরি করে। আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসি।'
'জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আকাশ সত্য বলে দেন এবং তার ৩ সহযোগীর নাম প্রকাশ করেন। এর পরই তাদের গ্রেপ্তারে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়,' বলেন তিনি।
পরে ওই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হীরা লালসহ মোট ৫ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সিআইডি।
অপর অভিযুক্তরা হলেন—লিয়াকত আলী ওরফে ঝন্টু (৬৯), শিকল সাঁইজি ওরফে লিটন পাগলা ওরফে রুবেল (৪০) ও নিরঞ্জন কুমার দাস (৪৩)।
তৎকালীন র্যাব-৪ (বর্তমান এসআরবি-৪)-এর সহায়তায় গত ১৫ জুলাই ঢাকার শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, মানিক ও হীরা লালের মা-বাবা সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মৃত্যুর পর হীরা পুরো পেনশনের টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ওই টাকা নিয়েই দুই ভাইয়ের বিরোধ ছিল।
সিআইডির তদন্ত থেকে জানা যায়, মা-বাবার রেখে যাওয়া এক টুকরো জমি নিয়ে তাদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। আর এসব বিরোধ নিয়ে মানিক প্রায়ই হীরাকে অপমান করতেন।
সেই অপমানের বদলা হিসেবেই হীরা তার ভাইকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান কর্মকর্তারা।
এরপর তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য ৪ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাদের সঙ্গে মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মানিকের ওপর আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, একবার ঝগড়ার সময় মানিক আসামি ঝন্টুকে চড়ও মেরেছিলেন।
আদালতে অভিযুক্ত আকাশ ও রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে সিআইডি জানায়, ঘটনার দিন ভোরে চার ভাড়াটে হত্যাকারী মানিকের শোবার ঘরে প্রবেশ করে। আকাশ মানিকের পা চেপে ধরেন এবং রুবেল ও নিরঞ্জন তার হাত ও বুক চেপে ধরে রাখেন। লিয়াকত মুখ চেপে ধরে মানিককে মেঝেতে টেনে নামান এবং একটি ভারী দা দিয়ে তার গলা কেটে দেন।
মানিকের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পাঁচ অভিযুক্তই এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের দুজনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। সিআইডিও অতি সম্প্রতি তাদের তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনিসুর ডেইলি স্টারকে জানান, 'আদালতে জমা দেওয়ার আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য চার্জশিটের একটি খসড়া ইতোমধ্যে সিআইডি সদরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।'
টেকনাফের রঙ্গিখালী গ্রামের গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান
কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সেনাসদস্য তিতাস। অভিযানে মানব পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনি বিবাহিত ছিলেন। তিতাস টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টেকনাফের লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের উদ্ধারে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়।
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।
সেনাবাহিনী এক শোকবার্তায় নিহত তিতাস শেখের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
ছবিঃ সংগৃহীত
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছয়টি ‘সোনর ডিম’ জব্দ করার তথ্য দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিগামী একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীকে নামিয়ে এনে তার সহযোগিতায় প্রথমে তিনটি ‘সোনার ডিম’ জব্দ করা হয়। পরে বিমানবন্দরের বোডিং ব্রিজ থেকে আরও তিনটি ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিআইআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, আবুধাবি থেকে এসব ‘সোনার ডিম’ দেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু এখানে ‘কাঙ্ক্ষিত দাম’ না পেয়ে আবার ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
মোট ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম ওজনের ছয়টি সোনার ডিম জব্দ করার তথ্য দিয়ে অধিদপ্তর বলেছে, এগুলোর বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের যাত্রী মোহাম্মদ মিনহাজকে সন্দেহভাজন হিসেবে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হয়।
পরবর্তীতে তার সহযোগিতায় তিনটি ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম।
এছাড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা আরও তিনটি ‘সোনার ডিম’ জব্দ করেন, যার ওজন আগের তিনটির সমান।
সিআইআইডি বলছে, স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে তারা।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে অধিদপ্তর।
কে এম তাহসিফ সাউরি
রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার এক আত্মীয়কে খবর দেয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তার পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের ভিডিও তাহসিফ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে আলোচনা আছে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ নিশ্চিত করেনি।
রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে।
ডিবি সূত্র বলছে, বাড়িটিতে ডিজে পার্টি চলতো এবং মাদকের আসর বসত। সেখান থেকে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই ২৬ জন নারী।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এজন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ম্যান্টেনেইন্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তার বাড়িতে মাদকের কারবারের অভিযোগে ডিবির অভিযানের বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।