ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েই চলেছে
সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েই চলেছে এমন নয়; বরং তা মারাত্মক মাত্রা ছুঁয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স। মার্চে মশার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার দেখা যায়- কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। এর মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তারই বেশি। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ও জাপানি এনসেফালাইটিস হয়।
তবে এ দুটি রোগ দেশে ততটা প্রকট নয়। এডিসের কামড়ে ডেঙ্গু ও অ্যানোফিলিসের কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।
আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জাপানি এনসেফালাইটিসে মৃত্যুর অনুমিত হার ২৫ শতাংশ। এ রোগে রাজশাহী, রংপুর ও পার্বত্য অঞ্চলে অতীতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে দেশে এ রোগ বেশি দেখা যায় না। কারণ, এখানে শূকরের পালন খুব বেশি মাত্রায় নেই।
গবেষকেরা বলছেন, তিন কারণে এবার মশার প্রকোপ বেড়েছে। প্রথমত, এবার শীতের মাত্রা কম আর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু আগেই শীত বিদায় নিয়েছে। আবার এ বছর মশার প্রকোপ আগেই শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এগোচ্ছে না।
গবেষণায় যে সতর্কবার্তা
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার ২৬ বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। সর্বশেষ জরিপে তাঁর দল দুই ভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে- মশার লার্ভা বা শূককীটের ঘনত্ব ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি গণনা করে।
লার্ভা পরীক্ষা করতে বিভিন্ন জলাশয় থেকে ২৫০ মিলিলিটার পানি তুলে তাতে লার্ভার সংখ্যা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সংগৃহীত পানিতে গড়ে ৮৫০টি লার্ভা পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ১ হাজার ২৫০-এ।
প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি যাচাইয়ের পদ্ধতিটিও চমকে দেওয়ার মতো। একজন মানুষের হাঁটু পর্যন্ত পা ও বাহু উন্মুক্ত রেখে এক ঘণ্টায় কতটি মশা কামড়াতে আসে, তা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৮৫০।
অধ্যাপক বাশারের আশঙ্কা, মার্চে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই বিশ্বমানে তা বেশি। সেখানে ঢাকায় ৮৫০টি, এটি কেবল সংখ্যা নয়, এটি একটি বিপৎসংকেত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পাঁচ এলাকায় মশা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এখানে মশা বেড়ে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টানা মশার ফাঁদ রেখে এ গবেষণা করা হয়। গত ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা পাওয়া যায়।
আর ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। ওই পাঁচ এলাকা হলো উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২ -এ ডিএনসিসির ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১-এর পুরাতন ভান্ডার শাখা অফিস, মিরপুর ১-এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিস।
কোথায় বেশি, কোথায় কম
ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় কবিরুল বাশার ও তাঁর দলের করা গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর সর্বত্র সমানভাবে মশা নেই। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী-সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ ও পরীবাগের মতো মধ্য রাজধানী এলাকায় তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।
রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুমনা হক বলেন, বারান্দায় দাঁড়ানো যায় না। বিকেল হলেই মশার আক্রমণ শুরু হয়। কলাবাগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, ‘পড়ার টেবিলে বসতে গেলেই মশা ঘিরে ধরে। অ্যারোসল ছিটালে কিছুক্ষণ কমে, তারপর আবার আগের মতো।
কেন বাড়ছে কিউলেক্স
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া ও দূষণ- দুটোই কিউলেক্স বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জি এম সাইফুর রহমান বলেন, অতীতে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিউলেক্সের উপদ্রব বাড়লেও এ বছর তা ফেব্রুয়ারি থেকেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী কালবৈশাখের আগমন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
সাইফুর রহমান বলেন, চলতি বছর শীতকালের ব্যাপ্তি কম ছিল এবং গরম তাড়াতাড়ি শুরু হয়েছে। কিউলেক্স সাধারণত আগস্ট থেকে বংশবিস্তার শুরু করে। শীতে তাপমাত্রা কমে গেলে মশার শরীরে হরমোন ও এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে মশার লার্ভা বৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি স্ত্রী মশার রক্তপানের আগ্রহও কমে যায়।
কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে এই প্রক্রিয়া উল্টো হয়, অর্থাৎ দ্রত জীবন চক্র সম্পন্ন করে এবং স্ত্রী মশার রক্তপানের চাহিদা বাড়ে। ঘনঘন ও বেশি পরিমাণে ডিম উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রোটিন রক্তপান থেকে সঞ্চয় করে। ডিম দেওয়ার এ বাড়তি ক্ষমতা মশার দ্রুত বংশবিস্তার নিয়ামক ভূমিকা পালন করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ও গড় তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কিউলেক্সের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তাপমাত্রার পাশাপাশি দূষণও বড় কারণ। আবর্জনা, বদ্ধ জলাশয় ও নর্দমা কিউলেক্সের প্রধান প্রজননক্ষেত্র।
ব্যবস্থাপনার সমস্যা
ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় আট হাজার বিঘা জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ের বড় অংশ মশার উৎপত্তিস্থল। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, একবার পরিষ্কার করলে দ্রুতই আবার আবর্জনায় ভরে যায়। জলাশয় ব্যবস্থাপনা সত্যিই খুব জটিল। তাঁর মতে, অনেক এলাকায় খোলা নর্দমা, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকার ফলে কিউলেক্সের বংশবিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশা নিধনের ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অনেক জলাশয়ে মাছের চাষ হয়। সেখানে সিটি করপোরেশনকে কাজ করতে দেওয়া হয় না। এমন সমস্যাও রয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এলাকার লোকজনকে মোটামুটি চেনেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা লোকজনকে বোঝাতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের চেষ্টার ত্রুটি না থাকলেও সব ক্ষেত্রে তাঁরা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হন না।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানার পিছনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর আরও কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মালিবাগে শপিংমলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সন্ধ্যার দিকে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনের কাছাকাছি এবং মহাখালী এলাকায় পৃথক এ বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, বাবুবাজার ব্রিজসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
মহাখালী এলাকায় সন্ধ্যার দিকে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। প্রায় একই সময় আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবন সংলগ্ন এলাকায় সড়কের ওপর আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে জুমার পর মালিবাগের ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ওই ঘটনায়ও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওইদিন প্রথমে জগন্নাথ হল গেট এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসি এলাকায় আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর ঢাবি ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও ওইদিন দুপুরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে তাদের আটকের পর তেজগাঁও থানায় নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আটকরা সেখানে গোপন বৈঠক করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
আটকরা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তাৎক্ষণিকভাবে তা জানায়নি পুলিশ।
ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আটকদের শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিটিটিসি ও এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) কর্মকর্তারা সেখানে আছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসলাফিল রতন বলেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সহকারী প্রক্টররা গিয়েছেন। ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
এ ঘটনায় কারও আহত হওয়ার তথ্য এখনও পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তর। এসব হাতবোমা কারা ফাটিয়েছে কিংবা একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ আছে কি না সেটিও এখনও বলতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ।
প্রক্টর কার্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী দলের প্রধান ইউসুফ হারুন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ককটেল ফাটার সময় কেউ এদিকে গাড়িতে করে যায়নি।
তিনি বলেন, ধারণা করছি- কেউ হয়ত জগন্নাথ হলের উপর থেকে মেরেছে। অন্যদিকে টিএএসির পাশে মেট্রোরেল সংলগ্ল রাস্তায় যে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা বাইকে করে কেউ মেরে দিয়ে চলে গেছে।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ
রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। অপরাধীরা যাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সোমবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে।
আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনের সময় যেন এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গুলশানে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৪০ জনকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এর আগে গতকাল শনিবার মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল ডিএমপি। তিনি বলেছিলেন, ‘এ ঘটনায় ১১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অজ্ঞাত ৮০ থেকে ১০০ জন’ যারা সরাসরি ককটেল বিস্ফোরণসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত ছিল।’
এছাড়া মিছিলের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছিল গুলশান থানা পুলিশ। অর্থাৎ এ নিয়ে মোট ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শুক্রবার দুপুরে গুলশান–১ এ আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. আরাফাত (২০) ও আ. রহিম (৪৯)।
পুলিশ জানায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান–১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা চালান। পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ সদস্য গুলশান এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। এ সময় নিকেতন এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক উপপরিদর্শক তাদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে পাঁচটি তাজা ককটেল ফেলে পালিয়ে যান।
ওসি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে তারা স্লোগান দেন মিছিলে। মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকশ’ লোক একটি মিছিল বের করেছেন। সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।