ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দিয়েছে সরকার। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।


অবসরপ্রাপ্ত সাত কর্মকর্তা হলেন র‍্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সৈয়দুজ্জামান, র‍্যাব-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকার আরআরএফের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।


এ আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট সাত কর্মকর্তা সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন।


এদিকে পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পুলিশের ৪৯ জন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অবসর দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত নির্ধারিত ৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করায় সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।




সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন। তাঁর এ সফরকে ঘিরে উভয় দেশের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। নয়াদিল্লি ও ঢাকার সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভােরতের গণমাধ্যম এনডিটিভি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি নয়াদিল্লি সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সফর সম্পন্ন হলে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। এটি দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।


এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, সংযোগ (কানেকটিভিটি), জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 


দুই দিনের এই সফরটিকে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সফরের সময়সূচির বিস্তারিত বিষয় এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। 


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। নয়াদিল্লি আগামী সেপ্টেম্বরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

নাফাখুম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বান্দরবানের দুর্গম ও আকর্ষণীয় একাধিক ভ্রমণ স্থান ও সড়ক সর্বসাধারণ এবং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে পার্বত্য এই জেলার দুর্গম অংশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ আবারো উন্মুক্ত হলো।


জেলা প্রশাসনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১১ আগস্ট আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।


যেখানে আছে থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার তিন্দু পর্যন্ত সড়ক এবং তিন্দুমুখ থেকে নাফাকুম পর্যন্ত পর্যটন এলাকা। এ ছাড়া রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত এবং রিজুক ঝরনা এলাকাও। তবে এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।


তবে দুর্গম এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধি-নিষেধ ও নির্দেশনা কড়াকড়িভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।


দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর জনপ্রিয় এই পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ায় স্থানীয় গাইড, নৌকার মাঝি এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতি আবারো চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদনে ধস নেমেছে। যন্ত্রপাতি চলছে না

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১২ এএম

দেশে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এর ফলে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পকারখানা- সব খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে ভারী শিল্পে। গ্যাস এবং এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় স্টিল, সিরামিক, কাচের মতো গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর উৎপাদনক্ষমতা শূন্যে নেমেছে। 


গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব শিল্পাঞ্চলের ভারী শিল্পের বেশির ভাগ কলকারখানা বন্ধ ছিল। স্থানীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী বড় কয়েকটি শিল্প গ্রুপের প্রায় সব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। 


খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। 


দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের সব কারখানা গত বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। 


জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল গতকাল বলেন, গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো ন্যূনতম গ্যাস মিলছে না। নতুন করে বিদ্যুৎ সংকটও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে গ্রুপের সব মিল-কারখানা বন্ধ রয়েছে। 


মোস্তফা কামাল জানান, উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদিরের কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। বিদ্যুৎমন্ত্রী একটু অপেক্ষা করতে বলেছেন। 


খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে মেঘনা গ্রুপ। এ ছাড়া সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, ফিড, কেমিক্যালসহ গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৭টি। ফ্রেশ, নাম্বার ওয়ান, অ্যাক্টিফিট, পিউর ইত্যাদি নামে এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। 


এর বাইরে সেবা খাতে শিপিং, বীমা ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা রয়েছে মেঘনা গ্রুপের। মেঘনা গ্রুপ বলছে, দেশের মোট পরিবারের অর্ধেকের কাছে এসব পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের বাইরে ৫২টি দেশে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে থাকে তারা।


মোস্তফা কামাল আরও বলেন, জ্বালানি সংকটে তারা পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না, কিন্তু সরবরাহকারী ও গ্রাহকরা তাদের কাছে পণ্যের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে। 


এক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে গ্রুপের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে- এ প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা কামাল জানান, সঠিক তথ্য এ মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে ক্ষতির পরিমাণটা বেশ বড়। বর্তমানে গ্রুপের কর্মকর্তা ও কর্মীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি।


কাঁচামাল সহজে আনা-নেওয়ায় সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অনেক ভারী শিল্প ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাচ কারখানা গড়ে ওঠে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোও বিপদে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠে ভারী শিল্পেও একই পরিস্থিতি। জানতে চাইলে ফতুল্লা স্টিল রি-রোলিং মিলসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, ভারী শিল্পের অবস্থা ভালো না। তাঁর কারখানায় উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। 


টি কে গ্রুপের উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল 


টি কে গ্রুপের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গজারিয়ায় তাদের এসব কারখানায় দুই দিনের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ। 


তিনি প্রশ্ন তোলেন, সার আমদানির সুযোগ আছে। আমদানিও হয়ে আসছে। তাহলে কয়েকটি সার কারখানা চালাতে গিয়ে সরকার কেন শত শত কারখানায় গ্যাস সংকট তৈরি করছে?


আরএফএল গ্রুপের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে

 

আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, তাদের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে, যেখানে তাদের মোট উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়, সেখানে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 


বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব নন-ফুড আইটেম যেমন- প্লাস্টিক, পিভিসি পাইপ, ফুটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।


হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ


দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন হবিগঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্রান্সকম গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সায়হাম গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৭১টি কারখানা রয়েছে এখানে। 


গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক অলস সময় পার করছেন। 


গাজীপুরে ৫২৫টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ

 

৫ আগস্টের এক দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন পর গাজীপুরের শিল্পকারখানায় ফেরেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরেও কাজে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম।


ফলে অলস সময় পার করছেন কোনো কোনো কারখানার শ্রমিকরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তৈরি হচ্ছে বায়ার হারানোর আশঙ্কাও।


গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিল্পকারখানা আছে। এর মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে ১২-১৫ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সে হিসাবে গাজীপুরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ৫২৫টি কারখানায়। বড় কারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেসব কারখানাতেও উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।


শিল্প এলাকার কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও মেশিন বন্ধ, কোথাও সীমিত পরিসরে চলছে উৎপাদন। কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও অনেক শ্রমিককে কাজ না থাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। 


শফিপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত গোমতী টেক্সটাইল কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 


একই এলাকার এস এ স্পিনিং মিলস লিমিটেডেও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারখানাটির ডিজিএম আজিজুল হক বলেন, বুধবার বিকেল ৫টার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। 


বিপর্যয়ের মুখে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প 


শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমলেও কারখানায় শুরু হয়েছে গ্যাসের সংকট। শিল্পোৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভয়াবহ গ্যাস সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 


তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের পর বিদ্যুতের অভাবে শিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান জানান, এফএসআরইউ বয়লার সিস্টেমে অগ্নিদুর্ঘটনার পর যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল তা কিছুটা কমে এসেছিল। গত দুই দিন ধরে আবার একই সমস্যা শুরু হয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। অনেক কারখানাই গতকাল উৎপাদন করতে পারনি। 


তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম আহসান বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে গতকালই বিদ্যুতের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো বেশির ভাগই বন্ধ ছিল। তাঁর নিজের ফতুল্লা গ্রুপের কারখানাটিও বন্ধ রাখতে হয়েছে। 


তিনি জানান, ফেব্রিক্সের অভাবে বিদ্যুৎ থাকলেও কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, ২০২৩ সালে একবার এ রকম সমস্যা হয়েছিল। তবে এত লম্বা সময় ধরে সংকট এর আগে কখনও হয়নি। 


তৈরি পোশাকের ফেব্রিক্সের বড় অংশের জোগান দেয় দেশের বস্ত্রকলগুলো। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সদস্য বেশির ভাগ বস্ত্রকলই গতকাল বন্ধ ছিল। যে কয়েকটি কারখানা খোলা ছিল সেগুলোতেও ৩০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। 


তীব্র গ্যাস সংকট এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে দেশের বড় বড় টেক্সটাইল কারখানাগুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গত কয়েক দিন ধরে হা-মীম গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, স্কয়ার ফ্যাশনস এবং বাদশা স্পিনিংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ডেনিম ও ডাইং খাতের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। 


কারণ ডাইং, ফিনিশিং, স্ট্যান্টিং ও সাইজিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো গ্যাস ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। স্পিনিং মিলগুলো কোনোমতে বিদ্যুৎ দিয়ে চালানোর চেষ্টা করা হলেও, গ্যাস সংকটে চিলার বন্ধ থাকায় কারখানার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদিত সুতার গুণগত মান কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অনেক কারখানা মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় কোনোমতে টিকে আছে।


পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ একটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সংকটময় মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করে কারখানা চালানোর চেষ্টা করা হলেও তা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়। একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল লাগছে, যার দৈনিক খরচ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে মুনাফা করা তো দূরে থাক, কারখানা টিকিয়ে রাখাই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।


এই কর্মকর্তা বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে সেই গ্যাস শিল্প খাতে দেওয়া উচিত। সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই লোকসান টানা সম্ভব হবে না, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি আয়ে। সরকারকে এখনই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমতে পারে


গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুতে ৬৮ কোটি ঘনফুট থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৮৫ ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে দেওয়া হতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট।


জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনরোষ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব মিলে গড়ে শিল্পে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এখন। এই সরবরাহ আরও কমতে পারে। 


জামালপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক অবরোধ 


জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গাড়ির চালকরা। গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ। 


তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জামালপুরের ম্যানেজার দুর্জয় বকসী বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বুধবার রাত ৮টা থেকে জামালপুরে পাইপলাইনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। 


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় এই অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

ঢাকায় লোডশেডিং শুরু

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৬ পিএম

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরী আবহাওয়ায় সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমেছে। 


জ্বালানির এই সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে না পারায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বাইরে তীব্র লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে এখন ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু করা হয়েছে।


জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আজ বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।


আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। 


গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।


বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি।


সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর শুরুর দিকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করেছে সামিট। এরপর সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত সোমবার এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা যায়নি। তাই সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পেট্রোবাংলার নির্দেশে সরবরাহ কমিয়ে দেয় সামিট।


শনিবার বাড়তে পারে গ্যাস সরবরাহ


দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। 


এখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুটের কম। এতে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। গতকালও এটি ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট।


এতে গ্যাস সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা। বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের দিনে চাহিদা ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে তারা সরবরাহ পায় ১৫৫ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমার পর এটি ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গত দুই দিন ১০০ কোটি ঘনফুট করে পাচ্ছিল। আজ সন্ধ্যার পর থেকে এটি আরও কমতে পারে।


খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। আজ দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে সামিট।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে বলেন, আগামীকাল রাতে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার ভোরে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার দুপুরের পর থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে সামিট। শুক্র-শনি ছুটির দিনে বিদ্যুৎ-জ্বালানির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কম হতে পারে।


ঢাকায় ১ ঘণ্টা করে লোডশেডিং


জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।


জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সংকট সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেশি সমস্যায়। দেশে মানুষের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ আছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ যাতে না কমে, পেট্রোবাংলাকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই শিল্পে কমেছে গ্যাসের সরবরাহ। বাসাবাড়িতেও রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে। 


তবে গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ দিতেই ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে রোববার থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির বড় রকমের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো। এ সংস্থা দুটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ১১টা থেকে এটি শুরু হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়। 


গতকাল মধ্যরাতে পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, মণিপুরি পাড়াসহ বেশি কিছু এলাকা থেকে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা। কেউ কেউ বলেছেন, একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে তাঁর এলাকায়।


তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন।


সর্বশেষ সব খবর

জ্বালানি-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

এই সংকটে আমার কিছু করার নেই: মন্ত্রী


ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৬ পিএম

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি সারাতে কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।


তিনি বলেন, ‘এই সংকটের সময় আসলে আমার কিছু করার নেই এখন। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামাতে পারব না। এখন শুধু দিনগোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন এফএসআরইউতে, এছাড়া আমার কিছু করার নেই।’


আজ বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু জিনিস তো বুঝতে হবে, এটা আমাদের নিজের হাতের মধ্যে নেই। এখন এফএসআরইউ খারাপ হয়ে গেছে, আমি তো জোরজবরদস্তি করে বলতে পারব না যে সারিয়ে দাও। ইঞ্জিনিয়াররা যেভাবে আমাদেরকে বলবে, সেভাবেই কাজ করতে হবে।’


তিনি বলেন, মেরামতের জন্য বিদেশ থেকে তার (সরঞ্জাম) আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা সাইটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এফএসআরইউ মেরামত করার মূল দায়িত্ব আমেরিকান কোম্পানির, যারা এর মালিক। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন।


শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


তবে এফএসআরইউ খারাপ হলেও জ্বালানি কেনা বন্ধ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকালও চারটি কার্গো কেনা হয়েছে। এফএসআরইউ সচল হওয়ার পর কার্গোগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে যদি আমরা আনলোড করতে পারি, তাহলে সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।’


এর পাশাপাশি কম লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে শিল্পকারখানাগুলোয় যেন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও সরকার ব্যবস্থাপনা করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। 


এর মধ্যে একটির কার্যাদেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি দুটিরও অর্ডার দেওয়া সম্ভব হবে।


তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সব এফএসআরইউ চট্টগ্রামের দিকে। তাই খুলনার দিকে নতুন টার্মিনাল বসাতে হবে। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টের জায়গাগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে সমীক্ষা চলছে।


মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বড় দল এসেছে, যারা এফএসআরইউতে বিনিয়োগ করতে চায়। তারা আগ্রহ প্রকাশ করলে দ্রুত চিঠি দিতে বলেছি, যাতে আমরা তাদের কাজ দিতে পারি।’


তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্যাস আমদানি করতেই হবে। তবে আমদানির পর তা সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে দিতে শুধু এফএসআরইউ বসালেই হবে না, পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতাও দূর করতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত গ্যাস লাইনের ঘাটতি থাকায় নতুন পাইপলাইন করারও পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ভোলা থেকে গ্যাস এনে ব্যবহারের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।


আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর করে দেশটাকে এই জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘আমদানির জন্য যদি অবকাঠামো ঠিকমতো করা হতো, দুটি এফএসআরইউয়ের জায়গায় যদি চারটি বসানো হতো, তাহলে আজ আমাদের এই সমস্যায় পড়তে হতো না।’


বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে দ্রুত কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আরও দুটি রিগ (খননযন্ত্র) কেনার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান তিনি।


জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এর আগে গুজব রটিয়ে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করা হয়েছিল। তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল বায়ার সিস্টেমের’ কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি কিছু শতাংশ বেসরকারি খাতে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু গুজব ছড়ানো হয় যে বসুন্ধরা গ্রুপকে পুরো তেলের ব্যবসা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, ‘যেটা নিয়ে এখনো কোনো পলিসিই (নীতিমালা) হয়নি, সেটা নিয়ে এমন প্রচার। পলিসি হওয়ার আগেই অমুককে দিয়ে দিয়েছি, তমুককে দিয়ে দিয়েছি-এমন প্রচার হলে সরকারের তো নতুন কিছু করার উৎসাহ বা উদ্যোগই থাকবে না।’


যেকোনো নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আগে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

শাহবাগ মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত ও যন্ত্রচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র ব্যাটারি রিকশা তৈরি বন্ধে নির্ধারিত কিছু কারখানা ঠিক করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।


আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল (এআই সিগন্যাল) ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।


ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব অটোরিকশা বা যন্ত্রচালিত রিকশাকে অনুমতি দেওয়া হবে, সেগুলো যত্রতত্র তৈরি করা যাবে না। ঢাকা শহরের জন্য নির্ধারিত কিছু কারখানা ঠিক করে দেওয়া হবে। এসব কারখানায় রিকশা উৎপাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।


তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কারিগরি সহায়তা দেবে। নির্ধারিত কারখানাগুলোর অনুমোদন ও কারিগরি বিষয়গুলো যাচাইয়ের পর উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া হবে।


ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। সময়সীমার মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।


ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপও কমবে। এ বিষয়ে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।


ঢাকার যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। সরকারকে সময় দিলে ধীরে ধীরে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এর আগে শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে আরও ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এ ধরনের সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর