• প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা শুরুর ১৩দিন পরও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। এ অবস্থায় প্রচার-প্রচারণার অভাবে ক্রেতা না আসায় লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। অবশ্য বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসায় মেলার মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মেলাটি উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান।


সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠের এক পাশে গত ১ আগস্ট সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে। এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করার কথা ছিল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলায় লাখ লাখ টাকা খরচ করে অনেকে স্টল দিয়েছেন। কিন্তু প্রচারণা ও উদ্বোধন না হওয়ায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কোনো পদচারণা নেই। এ অবস্থায় বেচাকেনা নেই বললেই চলে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনও করেন ব্যবসায়ীরা। সিলেট নার্সারী মালিক কল্যাণ সংস্থার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। 


এছাড়া বক্তব্য রাখেন মেলায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নার্সারি ব্যবসায়ী। উদ্বোধন না হওয়া ও প্রচার-প্রচারণার ঘাটতিতে শুরু থেকেই দর্শনার্থী সংকটে ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।


বন্ধু নার্সারির স্বত্বাধিকারী জালাল আহমদ জানান, অনেক আশা নিয়ে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে মেলায় স্টল নিয়েছি। কিন্তু শুরু থেকেই প্রচার-প্রচারণা কম থাকায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। ফলে আমাদের বিক্রিও কম হচ্ছে। দ্রুত মেলার উদ্বোধন করে ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সিলেট নার্সারির মলয় লাল ধর মনে করেন, বৃক্ষমেলার সামাজিক গুরুত্বও এবার উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, বৃক্ষমেলা শুধু গাছ বিক্রির জায়গা নয়, মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিরও একটি মাধ্যম। 


আগের বছরগুলোতে র‍্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকত। এবার তেমন আয়োজন না থাকায় মেলায় মানুষের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। বাকি সময়টুকুতে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। শ্যামল উদ্যান নার্সারির নুরুল কাদের সিদ্দিকি সজল জানান, স্টল বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তার তুলনায় বিক্রি হচ্ছে না প্রত্যাশিত হারে। স্টল নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবহন, কর্মচারী ও রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু দর্শনার্থী কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হচ্ছে না। এতে আমরা লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছি। 


আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়া ও মেলার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘মেলার উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল গত ১ আগস্ট। কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যস্ত থাকার কারণে সেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। যার ফলে উদ্বোধন ছাড়াই মেলাটি শুরু হয়ে যায়।’


তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে মেলায় সংশ্লিষ্টরা জেলা প্রশাসককে বিষয়টা জানালে তিনি আমাকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই আলোকে আমি বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করলে আগামী ১৫ আগস্ট তিনি উপস্থিত থেকে মেলাটি উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া উনার সফরসূচিতে বৃক্ষমেলার উদ্বোধনের বিষয়টি অন্তভুক্তি করা হয়েছেও বলে আমাকে নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু ব্যবসায়ীরা লোকসানের কথা বলছেন, সেজন্য আমরা মেলার সময় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে দিয়েছি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী একটি তেল ট্যাংকারের সঙ্গে নোঙর করে থাকা আরেকটি জাহাজের (বাল্ক ক্যারিয়ার) সংঘর্ষ হয়েছে। 


সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষের এক পাশে প্রায় এক বর্গমিটার ফাটল সৃষ্টি হয়ে পানি ঢুকেছে। এতে জাহাজটিতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ-বিপর্যয়ও ঘটে। তবে ডিজেল রাখা কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত রয়েছে। কোনো তেলও সাগরে ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।


আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এমটি সি স্পাইক নামের তেলবাহী ট্যাংকারটির সঙ্গে নোঙর করে থাকা এমভি সান শাইন নামের বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়। তীব্র স্রোতের কারণে তেলবাহী জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সি স্পাইকের সব কার্গো ট্যাংক অক্ষত আছে। কোনো ট্যাংকে পানি ঢোকেনি। জাহাজ থেকে তেল নিঃসরণের ঘটনাও ঘটেনি। তবে সংঘর্ষে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষের বাঁ পাশের পেছনের দিকে প্রায় এক বর্গমিটার ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ওই ফাটল দিয়ে পানি ঢোকার পর জাহাজটিতে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিপর্যয় ঘটে। জরুরি ব্যাটারির সাহায্যে জাহাজটির বেতার যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙর ফেলা হয়েছে। 


বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী ভাটার সময়েও জাহাজটি নিরাপদে ভেসে থাকার কথা।


জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে যোগ দেয়। বন্দরের টাগবোট ‘কান্ডারি-৮’ দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে জাহাজে থাকা ডিজেল দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নিতে শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফাটল মেরামত ও জাহাজ উদ্ধারে একটি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানকেও কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ দুর্ঘটনার কারণে বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচলেও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৪ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শিবলুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএসডিএম বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়ন্ত কুমার বসাক।


এ সময় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রতিমা সরকার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সোহেল খান, সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা সনেট, সহকারী অধ্যাপক নিগার সুলতানা ও সহকারী অধ্যাপক সজীব আহমেদসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষাজীবন শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আজীবন থাকবে। পেশাগত জীবনে তারা যেখানেই থাকুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করবে।


তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি বিষয়। উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে নোয়াখালীর মানুষকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পেশাগত জীবনের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণেও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।


এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য।


অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে বিদায়ী ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সংবর্ধনা জানানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

দেশে এলো ৩ মরদেহ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।


আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের মরদেহ পৌঁছায়। একই দিন বাদ মাগরিব কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।


নিহতরা হলেন, চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি শুক্রবার বিকেলে মরদেহের সঙ্গে প্রামের বাড়িতে পৌঁছে জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


গত ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাদের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।


নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। বাবুল দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।


এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি এবং দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। পরে নিরাপত্তাশঙ্কার কথা জানিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানায় ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।


নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

নিরাপদ খাদ্য আইনে দায়ের করা মামলায় ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আরও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত) এ রায় ঘোষণা করেন।


মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. সামছুল ইসলাম রমিজ নিরাপদ খাদ্য আইনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ‘রসের মিষ্টি’র মালিক মো. এনামুল হককে ৪ লাখ টাকা এবং ‘ধামরাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিকের স্ত্রী হেমন্তকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।




আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ আদালতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।


অন্যদিকে, একই মামলায় ‘নকল তেল রজনী’র মালিক মোহাম্মদ পলাশ শুনানির দিন আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যে ভেজাল, অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে আদালতের এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ‘বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে’ ৮ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। শুক্রবার সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউজ কিপিংয়ের কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।


জাহাজটির একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের ঘটনা দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা এগিয়ে যায়। তাদের কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়লে পাঠানো হয় হাসপাতালে।


চট্টগ্রাম মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান দুপুরে জানান, এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। একজন চিকিৎসাধীন আছেন।


ডা. ইশতিয়াক বলেন, “তাদের শরীরে বিস্ফোরণজনিত আঘাত এবং গ্যাস ইনহেলেশন জনিত প্রভাব পেয়েছি। জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি।”


সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর বলেন, সবশেষ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ২ জনের মরদেহ ছিল। তাদের বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মেডিকেল নিহত ৬ জন ছিল। মোট ৮ জন নিহত হয়েছেন।


“আমরা পৌঁছার আগেই আহত কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মোট কতজন আহত তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”


হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা আঙ্গুর মিয়া বলেন, “শ্রমিকরা জাহাজ কাটার কাজ করছিল। তখন গ্যাস ট্যাংকিতে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। নিহতদের মধ্যে আমি দুজনকে চিনি। তারা গাইবান্ধা জেলার মানুষ।”


নিহতদের একজন মনছুরের স্ত্রীর ভাই মহিউদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। এখনো মালিকপক্ষের কেউ আসেনি। মনছুর ও নাছির দুই ভাই মারা গেছেন। তারা ভাটিয়ারির বাসিন্দা।”


ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, “আজ বন্ধের দিন। আমাদের শিপ কাটিং ছিল না। গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।


“গ্যাস লিকেজ দেখতে পেয়ে শিফট ইনচার্জসহ তিনজন অফিসার এগিয়ে গেলে তারা অসুস্থ হয়ে যান। তাদের দেখে আরো চারজন এগিয়ে গেলে তারাও অজ্ঞান হয়ে পড়েন।”


কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, “জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নিগর্মনে ১০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। সকালে এ ঘটনা ঘটে।


“কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত জানতে পারিনি। গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না তা পরিদর্শনের পর জানাতে পারব।”


ফায়ার সার্ভিসের সীতাকুণ্ড স্টেশনের স্টেশন অফিসার আল মামুন বলেন, “আমরা শিপ ইয়ার্ডের ভেতরে। উদ্ধার কাজ চলছে।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুর রহিমকে (৪৮) দীর্ঘ ৯ বছর পর ফেনীর দাগনভূঞা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা মিষ্টি মুখ সুইটসের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার রহিম সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার মৃত আবদুল বারিকের ছেলে।


র‍্যাব জানায়, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার শেষে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে ৯ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকার সময় আসামি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের স্থায়ী ঠিকানাও পরিবর্তন করেন। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


র‍্যাব-১১-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চরজব্বর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর