পুলিশ-জনতার আস্থার বন্ধনে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়
“পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ওপেন হাউস-ডে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কোতোয়ালি থানা কক্ষে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় এলাকার মাদক, অনলাইন জুয়া, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যার কথা তুলে ধরেন স্থানীয়রা। সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোকারম হোসেন, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. সুমন, ইন্সপেক্টর ইন্টেলিজেন্স মো. আব্দুর রাজ্জাক, এসআই মো. আরিফ হোসেন, এসআই মো. গোলাম মোস্তফা, এএসআই মো. শাকিল আহমেদসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা।
এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসু খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, দিনাজপুর পৌর তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় কোতোয়ালি থানার এসআই, এএসআই, কনস্টেবল, গ্রাম পুলিশ এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের বাসিন্দাদের উপস্থিতি ছিল।
ওপেন হাউস-ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ মানুষের সরাসরি বক্তব্যের সুযোগ। কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই স্থানীয়রা তাদের এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
চেহেলগাজী ইউনিয়নের মাজাডাঙ্গা এলাকার এক বাসিন্দা বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবী জানান। তিনি বলেন, এলাকায় মাদক কেনাবেচা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছে তথ্য থাকলেও তা কার্যকরভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছানো এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে জমি দখল নিয়ে বিরোধ, অসহায় মানুষের হয়রানি এবং পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের বিষয়। ছোটখাটো বিরোধ যেন অযথা মামলা-মোকদ্দমায় গড়ায় না যায়, সে ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ওই বাসিন্দা আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন ও অনলাইনভিত্তিক জুয়ার বিস্তার পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তারা মনে করছেন। এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধের উৎস শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্য এক বক্তা চেহেলগাজী ইউনিয়নের রানীগঞ্জ মোড় এলাকায় মাদকসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে মাদকসেবীদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার অভিযোগগুলো যাচাই করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপরাধের তথ্য দিতে গিয়ে স্থানীয় তথ্যদাতারা যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণকে পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজে লাগিয়ে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত অন্যান্য নাগরিক ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। মাদক, জুয়া, চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, সামাজিক বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত প্রতিকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সঠিক তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই দর্শনকে সামনে রেখে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওপেন হাউস-ডের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের প্রকৃতি ও সমস্যাগুলো সরাসরি জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। মাদক, জুয়া, কিশোর অপরাধ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও পুলিশের জবাবদিহিমূলক সেবার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ওপেন হাউস-ডের আলোচনা শেষ হয়।
শরীয়তপুরে জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও অসহায় মানুষের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি আল আসমাউল হুসনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা কৃষক দলের সভাপতি হাজী বিএম হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডামুড্যা পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোশারেফ তালুকদার।
কর্মসূচিতে এসময় উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নুরজাহান বেগম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা হক মনি, নড়িয়া উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম, সহ-সভাপতি আছিয়া বেগম, নড়িয়া পৌরসভা মহিলা দলের আহবায়ক শাহনাজ বেগম, জাজিরা পৌরসভা মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক রেখা ইসলাম, শরীয়তপুর পৌরসভা মহিলা দলের সদস্য সালমা বেগম, গোসাইরহাট উপজেলা মহিলা দল নেত্রী রানী সহ জেলা, বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আল আসমাউল হুসনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার এক বিশাল জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা এই কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। এটা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মহিলা দলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী বিএম হারুন অর রশিদ বলেন, “বৃক্ষ আমাদের জীবন ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং গাছের পরিচর্যা করতে হবে। পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষের কল্যাণে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে।”
পরে অতিথিরা শহীদ মিনার চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ শিক্ষার্থীদের মাঝে ১ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
রবিবার (৯ আগস্ট) নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, নাটোর ১ , ( লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন।
মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইসমত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন: লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ হারুন-অর রশিদ (পাপ্পু), গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সহ - সভাপতি ও সাপ্তাহিক লালপুর বার্তার সম্পাদক আব্দুল মোতালেব রায়হান, যুগ্ম সম্পাদক ফজলুর রহমান, যুগ্ম সজিবুল ইসলাম হৃদয় দপ্তর সম্পাদক মিঠু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শিমুল আলী প্রমুখ।
ঝালকাঠির নলছিটিতে গাছের সঙ্গে গলায় কোমড়ের বেল্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বুলবুল হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ৬ নম্বর কুশংগল ইউনিয়নের ৫ নং পশ্চিম কুশাঙ্গল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম কুশাঙ্গল এলাকার নূর আলম হাওলাদারের বাড়ির দক্ষিণ পাশে কাঁচা রাস্তার পাশে একটি কাফুলা গাছের সঙ্গে গলায় কোমড়ের বেল্ট (দড়ি) দেওয়া অবস্থায় বুলবুলের গলায় অপর প্রান্তে কাফুলা গাছের ডালের সাথে বাঁধা অবস্থায় নিচে কাঁচা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আজ সকালে নূর আলম হাওলাদারের মেয়ে ইতি (১৮) প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় মরদেহটি দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
নিহত বুলবুল হাওলাদার একই এলাকার তৈয়ব আলী হাওলাদার ও পারুল বেগমের ছেলে।
এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, খবর পেয়ে নলছিটি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বৃদ্ধ বয়সে একটু স্বচ্ছলভাবে জীবন কাটাবেন, এই আশায় দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে কষ্ট করে তিলে তিলে টাকা জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। কিন্তু সেই সঞ্চয়ের ২ লাখ টাকা উইপোকা কেটে টুকরো-টুকরো করে ফেলেছে। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দম্পতি।
ক্ষতিগ্রস্ত তোফাজ্জল হোসেন ওই গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করে আসছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান তোফাজ্জল। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমও ঢাকায় অন্যের বাসায় কাজ করতেন। কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের খরচ মেটানোর পর যা কিছু অবশিষ্ট থাকত, সেখান থেকেই অল্প অল্প করে টাকা জমাতেন তারা।
স্বামী-স্ত্রীর এই দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের পেছনে ছিল একটি স্বপ্ন, বৃদ্ধ বয়সে যেন অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। ভবিষ্যতে গ্রামের বাড়িতে কিছু জমি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ কিংবা অন্য কোনো কাজে লাগিয়ে জীবনের শেষ সময়টা একটু স্বস্তিতে কাটাবেন। তাদের রয়েছে তিন কন্যাসন্তান। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা পরিকল্পনা ছিল এই দম্পতির।
সম্প্রতি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী। তাদের পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘদিনের জমানো টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে ঘরে রাখা সঞ্চয়ের বাক্সটি খুলে টাকা বের করতে যান তারা।
কিন্তু বাক্স খুলতেই তাদের চোখ কপালে ওঠে। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের প্রায় পুরো টাকাই উইপোকা কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। কোথাও নোটের অংশবিশেষ, কোথাও আবার ছোট ছোট কাগজের টুকরো, এমন দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন তারা।
যে টাকা নিয়ে তারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই টাকাই মুহূর্তে তাদের কাছে পরিণত হয়েছে মূল্যহীন কাগজের টুকরোয়। দীর্ঘ বছরের শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তোফাজ্জল হোসেনের মতো একজন শ্রমজীবী মানুষের জন্য ২ লাখ টাকা জমানো সহজ বিষয় নয়। ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করা অর্থ থেকে সংসারের খরচ চালিয়ে সামান্য সামান্য করে টাকা জমিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার স্ত্রীও গার্মেন্টসে শ্রম দিয়ে সংসারের সচ্ছলতার জন্য অবদান রেখেছেন।
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছালে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অতিথি আপ্যায়ন কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে মোবারকবাদ জানায়। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
প্রবীণ ইসলামী পণ্ডিত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। এতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিশেষ প্যান্ডেল তৈরি করা হয়।
সিলেটের ওসমানীনগরে মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহতের ঘটনায় ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে এই দুই বাসের মালিক ও চালককে পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজির হয়ে দুর্ঘটনার ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার রাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিআরটিএর সিলেটের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুই বাসের চালক এবং মালিকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে ধানক্ষেতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের সাত যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
এদিকে, এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। শনিবার দুপুরে গঠিত এ কমিটিকে ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।আর সকালে ওসমানী হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে গিয়ে মহাসড়কে বেপরোয়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় হতাহতদের পরিবাররকে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বিআরটিএর পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া পঙ্গুত্ব বরণকারীদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা এবং আহতদের এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে বিআরটিএর সিলেটের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহত পরিবারগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে শিগগিরই তাদেরকে এ অর্থ দেওয়া হবে। পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং আহতদের আবেদন ফরম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের আবেদনগুলোও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সহায়তা দেওয়া হবে।
বিআরটিএ সিলেট কার্যলয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন (রেজি নং ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩) এবং সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের (রেজি নং ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৮৭) সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ নয় জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিলেট বিআরটিএর পক্ষ থেকে বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য ঢাকা মেট্রোতে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংঘর্ষের সময় মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি কিংবা চালকের ঘুমিয়ে পড়ার মতো বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও কারণকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, বাস দুটির চলাচল, চালকদের ভূমিকা এবং সড়কের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। এরপর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও দায় থাকলে তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।