ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।


তিনি বলেছেন, পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে টার্মিনাল বসানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীও খোঁজা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে একটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে এভাবে আগুন লাগার বিষয়টি সরকার ‘কল্পনাও’ করেনি।


“এফএসআরওতে আগুন লেগেছে। লাগার পরে থেকে তো আমাদের এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে,” বলেন তিনি।


ওই ঘটনায় ক্ষতি আরও বড় হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, টার্মিনালের পাশে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ ছিল। আগুন লাগার পর সেটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া গেছে।


তিনি বলেন, দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। অন্যটি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।


ফলে ওই সময় গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু নাই।”


তবে লোডশেডিং যাতে কম হয় এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন জ্বালানিমন্ত্রী।


গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানান মন্ত্রী। টার্মিনাল সচল হলে দ্রুত এসব কার্গো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানোর আশা করছেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দিয়েছে। আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।


“পায়রা, তারপর মোংলা এবং হিরণ পয়েন্টের এই জায়গাগুলো আমরা স্টাডি করছি এবং ইনভেস্টরদেরকে আমরা ইনভাইট করছি।”


২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্য ধরার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে না, সেজন্য সঞ্চালন লাইনও দরকার হবে।


চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ বসালেও বিদ্যমান পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ সীমিত।


এ জন্য সমুদ্রের নিচ দিয়ে নতুন পাইপলাইন করে বাখরাবাদ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। বাপেক্সকে দিয়ে নতুন কূপ খনন শুরু করার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির জন্য আরও দুটি রিগ কেনার অর্ডার দেওয়ার কথা তিনি বলেন।


মন্ত্রী বলেন, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ভোলার গ্যাস কনটেইনারে করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেজন্য একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ৩০টি কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে কনটেইনারে গ্যাস সরবরাহের প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে কনটেইনার সরবরাহ করতে হলে সেগুলো চীনে তৈরি করে আনতে হবে।


এই ব্যবস্থা চালু করা গেলে শিল্পে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।


রাতেও বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা


অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে বিদ্যুতের চাহিদার ‘ধরন’ বদলে যাওয়ার কথা বলেন।


তিনি বলেন, আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকত। এখন মধ্যরাতেও চাহিদা বেশি থাকে। আগের দিন রাত ১২টার দিকে দেশে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল জানিয়ে এর কারণ হিসেবে রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার প্রবণতার কথা বলেন মন্ত্রী।


এসব বাহনকে ‘গরিবের টেসলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতে চার্জে বসে। এসব চার্জিংয়ের বড় অংশ অবৈধ সংযোগে চলে।”


অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।


ব্যবসায়ীদের ‘কষ্ট’


আলোচনায় শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বাড়তি ডিজেল খরচ এবং ব্যাংকঋণের চাপের কথা তুলে ধরেন।


জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও একসময় শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তাই কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে যাওয়ার চাপ তিনি বোঝেন।


“আমি তো আপনাদেরই একজন। আপনাদের কষ্টটা আমার চেয়ে বেশি কে বোঝে?”


কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ যে বন্ধ থাকে না এবং শ্রমিকের যে বেতন দিতে হয়, সে কথা স্বীকার করে ব্যবসায়ীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান জ্বালানি মন্ত্রী।


তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।


মন্ত্রী বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি যদি না চলে, তাহলে আমার ইকোনমির গ্রোথ হবে কই থেকে?”


তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।


বেসরকারি তেল আমদানির নীতিমালা হয়নি


বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আলোচনা নিয়ে নানা প্রচারের কথাও মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।


তিনি বলেন, সরকার কোনো কোম্পানিকে তেল আমদানির ব্যবসা দিয়ে দেয়নি। এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিমালা হয়নি।


“পলিসি হওয়ার আগে অমুককে দিয়ে দিয়েছি, তমুককে দিয়ে দিয়েছি, এই যে প্রচার…।”


মন্ত্রী বলেন, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই বেসরকারি খাতে তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বাজারজাতের নীতি করা হবে।





  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৫ পিএম

৫৭টি ভুয়া বিল পাস করায় পঞ্চগড়ের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেহেতু আব্দুল ফাত্তাহ (সাময়িক বরখাস্ত), জেলার হিসেবে ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মকালীন ওই কারাগারের ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের আর্থিক বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ তছরুপ ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।


এতে আরও বলা হয়েছে, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তর ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেন।


দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালে তিনটি ভুয়া (বাবা মায়ের দোয়া, নূর স্টোর, শুভ স-মিল) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।


এসব অপরাধের দায়ে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি

আয়াসসহ চারজন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় আটক চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। আজ রোববার শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।


গতকাল শনিবার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে যান রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াসসহ কয়েকজন। এ সময় তাদের আটক করে পুলিশ।  


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।


৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। পরে দেয়ালসংলগ্ন ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৮০ জনের শরীরে। রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১৬২। এর মধ্যে, নিশ্চিত হামে ১০৪ ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৪২১ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ পিএম


যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘেরাও যুবশক্তির

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ পিএম

‎‎প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘেরাও করেছেন যুবশক্তির নেতাকর্মীরা। 


আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে তারা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে এসব দাবি জানায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি।

‎

‎যুবশক্তির পাঁচ দাবির মধ্যে রয়েছে- যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং ভাইভার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা।

‎

‎যুবশক্তির নেতাকর্মীরা তাদের দাবির পক্ষে ‘প্রশ্নফাঁস বন্ধ করো, মেধার অধিকার নিশ্চিত করো’ স্লোগান দেন। দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পরে বেলা পৌনে ১টার দিকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে তারা ঘেরাও কর্মসূচি শেষ করেন।

‎

জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল শনিবার প্রশ্নফাঁসের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, বর্তমান সরকার কিংবা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যুবকদের নিয়ে ভাবছে না। বরং তারা নিয়োগ বাণিজ্য করছে। এত বড় একটি ঘটনার পরও যুব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ব্যর্থতায় তার পদত্যাগসহ নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দেশটি অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।


রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১০ অক্টোবরের এই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


বাংলাদেশ নিহত বাংলাদেশিসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহত সকলের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’


বাংলাদেশ হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদিতে বিমানবন্দরে হামলা

ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ এএম

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের পর রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতে বলা হয়, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে বিমানের নির্ধারিত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা ফ্লাইট ‘বিজি৩৩৯’ এবং ‘বিজি৩৪০’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতে থাকবে।


ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে এবং এসব ফ্লাইটের পুনর্নির্ধারণ বা অবস্থা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত তথ্য আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।


বিমান বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য বিমান কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিকটতম বিমান বিক্রয় অফিসে যেতে পারেন।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে বিমানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ হামলায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। হামলার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।



শনিবারের এ হামলার বিষয়ে জানেন, এমন তিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এ হামলার ঘটনা ঘটল। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। 



নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানচিত্রদেখুন




চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চান তিনি। এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে।




এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে সৌদি যুদ্ধবিমান। হুতিদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।




রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, সৌদি বাহিনী বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।