প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন, সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সেটি হলো, আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে। রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডেপুটি কমিশনারদের (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সুশাসনকে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি। 


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একইসঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন-কানুন ও জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা যেন ব্যবহার না করি; বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সব পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি, যেন জনগণ সময় মতন সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল পেতে পারে।


তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই, সততা মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই জানি। সুতরাং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যদি টিকে থাকতে হয়, তাহলে অবশ্যই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও কিন্তু সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। আমি নিশ্চিত, আপনারা এ বিষয়ে সচেতন আছেন এবং নিজেদের প্রস্তুত করে তুলছেন।



তিনি আরও বলেন, চতুর্থ বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও কীভাবে সময়োপযোগী দক্ষ স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করা যায়, এটি বোধহয় আমাদের এখন চিন্তা করা উচিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা হওয়া উচিত নয়, বরং এটি এমন একটি পরিসর, যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে বা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আপনারা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ইচ্ছেমতো যেন কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা যে টেন্ডেন্সি আমরা দেখি, বিভিন্ন সময় মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা কেউ করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।



প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করা প্রয়োজন অনেকগুলো ক্ষেত্রে। আমি ক্ষেত্রগুলো যেহেতু আগে আলোচনা করেছি, সেজন্য সেখানে আর গেলাম না। বিশেষ করে এখন আরেকটি বিষয়ে আমরা জোর দিতে চাচ্ছি, সেটি নিশ্চয়ই ইনস্ট্রাকশনও আপনাদের সবার কাছে আছে। সেটি হলো, সন্ধ্যা ৭টার পরে আমরা চাইছি যে বিভিন্ন মার্কেট প্লেসগুলোতে যেন বিদ্যুৎ ব্যবহার না হয়। এ বিষয়েও আপনাদের একটু খেয়াল রাখা প্রয়োজন, খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করার জন্য জোর পদক্ষেপ আপনারা দয়া করে নেবেন, যেন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত দমন করা সম্ভব হয়। জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করা এবং সরকারি সেবাকে হয়রানি মুক্ত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমি মনে করি আপনাদের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় অংশ।


তিনি বলেন, সরকারি কার্যালয়ের সেবাপ্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি না হয় কিংবা বিলম্ব বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়েও আপনাদের কঠোর নজর রাখতে হবে। জনগণের যেকোনো ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা আপনারা নেবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যেগুলো আপনাদের ক্যাপাসিটির মধ্যে আছে। বিশেষ করে আবারো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বাল্যবিবাহ, নারী এবং শিশু নির্যাতন দয়া করে এই কয়টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের ব্যক্তি অবস্থান থেকে দয়া করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রশাসনিক অবস্থান আপনাদের আছে, তারপর একজন মানুষ হিসেবে আপনারা বিষয়টিতে নজর রাখবেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এটি।


তিনি আরও বলেন, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এই খাবারটি আপনি খাচ্ছেন, আমি খাচ্ছি, আপনার পরিবারের সদস্য আপনার সঙ্গে থাকছে, তারাও খাচ্ছে। কাজেই এটির প্রতিও আমাদের নজর রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রো-অ্যাক্টিভ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমি মনে করি জনপ্রশাসনকে গণমুখী করা গেলে জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল থেকে নিশ্চয়ই বঞ্চিত হবে না।  


ডেপুটি কমিশনারদের (ডিসি) চার দিনব্যাপী সম্মেলন আজ শুরু হলো। সম্মেলনে উপস্থিত আছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সারা দেশের জেলা প্রশাসকরা। জেলা প্রশাসকদের পাশাপাশি ৮ বিভাগীয় কমিশনারও সম্মেলনে আছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে। সম্মেলনে ৬৪ জেলার ডিসিদের বাৎসরিক এই সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন ডিসিরা। আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত দেয় সরকার।




ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।


এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।


দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।


নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।


এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।


 


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১২ জন মারা গেছে আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০০ জন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৭৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনের শরীরে।


একই সময়ে ৩৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।


এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরে রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৫৭ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫৭, চট্টগ্রামে ৬৮, খুলনায় ৩৮, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ৯৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ পিএম

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং। কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।


২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।


কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।


গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।


সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার  থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।


আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


টোকিওতে এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্সে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২৮ পিএম

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) ক্ষমতার আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ডভিত্তিক টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের টোকিওতে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান। টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। নির্ভরযোগ্যতা, সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।


তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় দেশে জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশীয় উৎপাদন দিয়ে বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানি করা এলএনজি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন। এ চাহিদা পূরণে নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতায় আরও ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন টন যোগ হতে পারে। ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা বাড়িয়ে ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন টনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরবরাহের উৎস ও পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে।


আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর কথাও তুলে ধরেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত এ দরপত্রে মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।


বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী বলেও সম্মেলনে জানান প্রতিমন্ত্রী। 


সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২১ পিএম

ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এ পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।


চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি এবং এর আওতায় বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ হুইপ বলেন, আমরা চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং সেটার ফল অনতিবিলম্বে আপনারা পাবেন।


চিফ হুইপ জানান, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ৯ কার্যদিবস চলেছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস হয়েছে। বিভিন্ন বিধিতে মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।


সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর সংসদের অধিবেশন বসার ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আগামী অধিবেশনও একই ধারায় অনুষ্ঠিত হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৫ পিএম

পবিত্র হজের ২০২৭ সালের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জনের নিবন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


গত ২৭ জুলাই থেকে হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


এরপর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার আবেদন, টিকাদান, হজ প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।


হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।


নিবন্ধন ও হজসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।